জিনিয়া বলল, “না, ঠিক আছে।”
উদ্দালক ফ্রেশ হল। স্টাডিরুমে গিয়ে তক্তপোশে শুল।
জিনিয়া ঘরের বাইরে এসে বলল, “আসতে পারি?”
উদ্দালক তড়িঘড়ি উঠে বসল, “আসুন।”
জিনিয়া ঘরে ঢুকে বলল, “আপনার একটা ডায়েরি ও ঘরে পেলাম। পড়ে ফেলেছি, সরি।”
উদ্দালক হাসল, “ওহ, ওটা কিছু না। পড়লেও অসুবিধা নেই।”
জিনিয়া বলল, “আপনি ডায়েরি লেখেন?”
উদ্দালক বলল, “হ্যাঁ লিখি। আপনি লেখেন নাকি?”
জিনিয়া বলল, “নাহ। লেখাপড়ার অভ্যাসটাই চলে গেছে এখন।”
উদ্দালক বলল, “লিখলে অনেকটা হালকা হওয়া যায়। যাক গে, আপনি চা খাবেন? করব তাহলে।”
জিনিয়া বলল, “আমি করছি। আপনি বসুন।”
উদ্দালক হাসল, “বেশ।”
জিনিয়া চা করে নিয়ে এল। উদ্দালক চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, “বাহ। ভালো হয়েছে।”
জিনিয়া বলল, “আচ্ছা, আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করব?”
উদ্দালক বলল, “নিশ্চয়ই। করুন।”
জিনিয়া বলল, “আপনি আদৌ এ জায়গা ছেড়ে কোথাও যাবেন? আমার কেন জানি না মনে হয় আপনি কোথাও যাবেন না। এখানেই দিব্যি সেটল করে যাবেন।”
উদ্দালক মাথা নাড়ল, “জানি না। নিশ্চিন্ত জীবন ছেড়ে কোথাও যাওয়া তো, নাও যেতে পারি। কেন বলুন তো?”
জিনিয়া বলল, “এমনিই। সারাদিন ধরে একগাদা প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে শুরু করে যার কোনও মানে হয় না। এর মধ্যে পল্টু এসে ডাব দিয়ে গেল, আচার দিয়ে গেল। আন্তরিকতা আছে জায়গাটার।”
উদ্দালক বলল, “প্রতিটা মানুষের মতো প্রতিটা জায়গাই স্পেশাল। কেউ খারাপ না। শুধু ভালোটা দেখে নিতে হয়। এই যেমন আপনার আজকে রেস্টটা দরকার ছিল দিব্যি বুঝতে পারছি। ঘুমিয়ে আপনাকে ফ্রেশও লাগছে।”
জিনিয়া বলল, “হতে পারে। আবার কখন মনখারাপটা চলে আসবে সেটা ভেবেও ভয় লাগে। বিয়ের দুনিয়ায় আমাকে বোধহয় কেউ বিয়ে করত না। আমি ডিসপুটেড মেটিরিয়াল। আমার হাজারখানেক সমস্যা আছে। নিজেও বুঝি, আমার মানসিক সমস্যাও আছে। ভাগ্যিস আপনি এমন একটা প্রস্তাব দিলেন। আর আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। মুড অফ থাকলে আমি যা নয় তাই বলতে থাকি। নিজের মধ্যে থাকি না তখন আর।”
উদ্দালক বলল, “কোনও অসুবিধা নেই। বলে যদি হালকা হতে পারেন, একশোবার বলবেন। কন্ট্র্যাক্ট টার্মিনেট করতে হলেও বলবেন। আমার কোনও প্রবলেম নেই।”
জিনিয়া বলল, “প্রবলেম হবে না? আপনি সত্যিই এতটা কোল্ড হার্টেড লোক?”
উদ্দালক বলল, “ভীষণ। আমি ভীষণ স্বার্থপরও বটে। নিজেরটা ছাড়া আমি কারোটা বুঝি না।”
জিনিয়া বলল, “রিয়ালি?”
উদ্দালক বলল, “রিয়ালি। তবে আমি লাজুক টাইপের সেলফিশ লোক। এই যেমন আমার এখন ঘুমোতে ইচ্ছা করছে, আপনার সঙ্গে বকবক করতে ইচ্ছে করছে না, কিন্তু আপনি বসে আছেন বলে ভদ্রতার খাতিরে বলতেও পারছি না, ব্যাপারটা সেরকমই আর কী!”
জিনিয়া বলল, “এক্সট্রিমলি সরি। আমার বোঝা উচিত ছিল। আমি আসছি।”
উদ্দালক বলল, “থ্যাংক ইউ।”
জিনিয়া উদ্দালকের ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। তার হঠাৎ খুব কান্না পেল।
এত রূঢ়ভাবে কথাটা বলতে পারল?
সে বেডরুম থেকে আবার উদ্দালকের ঘরে গিয়ে নক করল, “শুনুন।”
উদ্দালক চোখ বুজেছিল। সে অবস্থাতেই বলল, (এরপর উদ্দালকের কথা থাকার কথা। তারপর জিনিয়ার।) “আপনি আমার সঙ্গে ব্যবহারটা ভালো করলেন না। খারাপ লাগল। সৌপ্তিক থাকলে কখনও এরকম করত না।”
উদ্দালক বলল, “সরি। তবে প্রতিটা মানুষ এক হয় না। আমিও তেমন সৌপ্তিক নই। আপনাকে ভালোও বাসি না। এটা আপনাকে বুঝতে হবে।”
জিনিয়ার চোখ ফেটে জল আসছিল। তবু সে বলল, “আপনি মানুষটা মোটেও ভালো নন। আপনার প্রায় সবটাই লোকদেখানো।”
উদ্দালক বলল, “সেটাও হতে পারে। আর কিছু না বলার থাকলে দরজাটা বন্ধ করে যাবেন।”
জিনিয়া কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে শব্দ করে দরজা বন্ধ করে তার রুমের দিকে রওনা দিল।
১৪
জিনিয়ার মাথা গরম হয়ে ছিল। ঠিক কেন গরম হচ্ছিল সে বুঝতে পারছিল না।
কিছুক্ষণ টিভি দেখে ভালো লাগল না। চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকল আরও কিছুক্ষণ। সৌপ্তিকের ছবির দিকে তাকাল।
সৌপ্তিক হাসি হাসি মুখে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
জিনিয়া বলল, “ভালো লাগছে না তোর? খুব মজা পাচ্ছিস বল আমি এভাবে কষ্ট পাচ্ছি দেখে? পা। তাতে যদি ভালো থাকিস তো থাক।”
ফোন বেজে উঠল। জিনিয়া দেখল সুলগ্না ফোন করছে, ধরতে ইচ্ছা করল না প্রথমে।
সুলগ্না ছাড়ার মেয়ে না। আবার ফোন করা শুরু করল।
এবারে ধরল জিনিয়া, “বল।”
সুলগ্না বলল, “তুই কি এখনও আমার উপর রাগ করে আছিস?”
জিনিয়া বলল, “কেন রাগ করব? কী হয়েছে?”
সুলগ্না বলল, “কাল অফিস থেকে বেরিয়ে গেলি। আন্টি ফোন করেছিলেন আমাকে। আমি তো বুঝেছিলাম তুই সৌপ্তিকের বাড়ি গেছিস, কিন্তু কাল আমার ওভাবে তোকে বলা উচিত হয়নি। আই অ্যাম রিয়েলি সরি ভাই।”
জিনিয়া বলল, “ঠিক আছে। রাখ এখন। ভালো লাগছে না।”
সুলগ্না বলল, “সে নাহয় রাখব। তোর শরীর ঠিক আছে তো?”
জিনিয়া বলল, “হুঁ।”
সুলগ্না বলল, “কাল অফিস আসবি?”
জিনিয়া বলল, “আসব। রাখি এবার?”
সুলগ্না বলল, “আমি সত্যিই সরি রে। আমি বুঝতে পারছি তুই ভীষণ রেগে আছিস।”
জিনিয়া বলল, “বারবার এক কথা বললে আমি আরও রেগে যাব। রাখ ফোনটা। আমার কাজ আছে।”
সুলগ্না বলল, “কী কাজ রে? সংসারের কাজ? এই তুই বাসন মাজিস? কাপড় কাচিস?”
