ঋতি বলল, “ফেসবুকে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দেব ট্যাগ করে?”
দীপ বলল, “ইয়েস। গো অ্যাহেড।”
ঋতি বলল, “রাখছি। স্ট্যাটাসটা দিয়েই ঘুমোতে যাব। সকালে রিঅ্যাকশনগুলো দেখব।”
দীপ হাসল, “বেশ। গুড নাইট।”
ফোনটা রেখে দীপ সবার আগে ফেসবুক খুলে ব্লক করার জন্য চিত্রলেখার ফেসবুক প্রোফাইল খুঁজল। পেল না। বুঝল চিত্রলেখা প্রোফাইল আবার ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিয়েছে।
কয়েক মিনিট পরেই দেখল ঋতি তাকে ট্যাগ করেছে। ট্যাগটা অ্যাক্সেপ্ট করল সে। মিনিট দশেকের মধ্যেই ফেসবুকে কনগ্র্যাচুলেশন আসতে শুরু করল। নোটিফিকেশনের ঠেলায় দীপ নেট অফ করে দিল।
খানিকক্ষণ এপাশ ওপাশ করার পরে তার ঘুম এসে গেল।
ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়েছিল সে, ফোন রিং হবার শব্দে ঘুম ভাঙল তার। ভেবেছিল চিত্রলেখা ফোন করছে, ফোনে চোখ পড়তে ভুলটা ভাঙল। ঋতি। সে ধরল, “বলো।”
“তুমি এটা কী করলে দীপ?”
ওপাশ থেকে ঋতির গলা গম্ভীর।
দীপ অবাক হল, “কী করলাম?”
ঋতি বলল, “তুমি এত বড়ো মিথ্যাবাদী আমি আগে বুঝলাম না কেন?”
দীপের একটা হার্টবিট মিস হল, “কেন?”
ঋতি বলল, “এইমাত্র চিত্রলেখার সঙ্গে আমার কথা হল। তুমি ওর সঙ্গে রিলেশনে ছিলে? আর আমাকে সারাদিন ধরে এতগুলো মিথ্যে কথা বলে গেলে?”
দীপের মুখ থেকে নিজে থেকেই বেরিয়ে এল, “হোয়াট দ্য ফাক।”
ঋতি কেঁদে ফেলল, “আমি ভাবতেই পারছি না তুমি আমার সঙ্গে এত বড়ো একটা… জাস্ট…”
দীপ কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে আক্রমণাত্মক হল, “দ্যাখো ঋতি, আমি তোমাকে সব বলতেই যাচ্ছিলাম। চিত্রলেখা যা বলছে তার সবটা মিথ্যা। বিলিভ মি।”
ঋতি বলল, “পরে কথা বলছি। কিংবা আদৌ আর কোনও দিন তোমার সঙ্গে কথা বলব নাকি ভাবব। আমাকে আর ফোন কোরো না। বাই।”
ফোনটা কেটে গেল। দীপ সঙ্গে সঙ্গে কল ব্যাক করতে গিয়ে দেখল ঋতি ফোনটা অফ করে দিয়েছে। সে বেশ খানিকক্ষণ উঠে চুপচাপ বসে থাকল। মাথায় আগুন জ্বলছিল তার। চিত্রলেখাকে ফোন করল সে। ফোন বাজছিল। চিত্রলেখা ফোন ধরছিল না।
সাত-আটবার টানা রিং করে যাবার পরে অবশেষে চিত্রলেখা ফোন ধরল, বলল, “বলো।”
দীপ বলল, “তুমি যখন বুঝলে আমি তোমায় ফোন করছি না, আশা করি তখনই বুঝে গেছিলে তোমায় আমি চাইছি না।”
চিত্রলেখা হাসল অনেকক্ষণ ধরে। হাসতে হাসতে কেঁদে দিল শেষমেশ।
দীপ চাপা গলায় গর্জন করল, “ন্যাকামি করবে না চিত্রলেখা। একদম ন্যাকামি করবে না।”
চিত্রলেখা বলল, “তা তো করবই না। সম্পর্কে থাকতে থাকতে আর-একজনকে পেয়েই আমাকে ভুলে গেলে একটু ন্যাকামি করব না তা কি হয়? কী ভাগ্যে ফেসবুকটা ডিঅ্যাক্টিভেট করা ছিল। আর কী ভাগ্যেই না অসাবধানতাবশত লগ ইন করলাম। নইলে এত বড়ো যাত্রাপালাটা দেখার সৌভাগ্যই হত না।”
দীপের মাথায় আগুন জ্বলছিল। সে ফোনটা কেটে দিল।
ফেসবুক খুলে দেখল ঋতি তাকে ব্লক করে দিয়েছে।
২৪
“কি রে তোদের খবর কী?”
ঘরে ঢুকে প্রশ্নটা ছুড়ে দিল বাবা।
মানালি বলল, “সব ঠিকঠাক। নাগপুর কেমন ছিল?”
বাবা বলল, “ভালো। খাওয়াদাওয়া কদিন বাইরে হল এই যা।”
মা বলল, “হ্যাঁ, তোমার তো ভালোই। ঘরের খাবার তো তোমার আবার মুখে রোচে না।”
বাবা বলল, “সে বললে হবে? বাইরে থাকলে বোঝা যায় ঘরের খাবারের আসল দাম। যাক গে, মানির বিয়ে ফাইনাল করে ফেলেছ নিশ্চয়ই? আমি বেরোনোর আগে তো অনেক আশার কথা শোনালে।”
মা কড়া চোখে বাবার দিকে তাকাল, “সবই তো জানো। জেনেশুনে কেন অ্যাক্টিং করছ?”
মানালি অবাক হয়ে মার দিকে তাকাল, “মানে? তোমার সবটাই প্রি-প্ল্যানড ছিল?”
মা ব্যাজার মুখে বলল, “সে যাই থাক, তুই তো আর সেসব দিনের আলো দেখতে দিলি না। কোন না কোন একটা ছেলে ধরে নিয়ে আসবি কে জানে!”
বাবা মানালির দিকে তাকাল, “কই রে, দেখালি না তো! আমাকে তো অ্যাটলিস্ট দেখাতে পারতিস ছেলেটাকে।”
মানালি বিরক্ত হয়ে বলল, “তোমরা একটু থামবে প্লিজ? আমার একদম এসব কথা ভালো লাগছে না। অফিস নিয়ে এমনিতেই ভীষণ টেনশনে আছি।”
বাবা অবাক হল, “কেন? কী হল আবার অফিসে?”
মা গজগজ করতে করতে বলল, “ও অফিস করার কী মানে বুঝি না বাপু! ফেরার ঠিক নেই, যাওয়ার ঠিক নেই, আজ এখানে যাচ্ছে, কাল ওখানে যাচ্ছে। কী দরকার আছে তোর চাকরিটা করার?”
মানালি বাবার দিকে তাকাল, “আমি বেরোই বাবা। পরে কথা বলব।”
মা রেগে গেল, “দেখলে? যেই আসল কথাটা বললাম মেয়ের ঝাল লেগে গেল। তুই তো বলেছিলি আজ ছুটি নিবি।”
মানালি উঠে পড়ল, “ঘরে আর কুড়ি মিনিট থাকলে দেখতে পাব বিকেলের মধ্যে তুমি আমার বিয়ে দিয়ে দিয়েছ। আমার এমনিতেই অনেক প্রেশার আছে। বেরোলাম। রাতে কথা হবে।”
ঘরে গিয়ে স্নান করে চেঞ্জ করে চার্জার আর ফোন নিয়ে মানালি বেরোল।
মা রান্না বসিয়েছিল। বাবা তাকে দেখে ফিসফিস করে বলল, “তাড়াতাড়ি ফিরিস। সন্ধেয় আমরা চাইনিজ খেতে যাব।”
মানালি রেগে ছিল, বলল, “তুমি মাকে বলো সর্বক্ষণ একই ক্যাসেট রিওয়াইন্ড না করে যেতে। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি জাস্ট।”
বাবা বলল, “বলব বলব। সাবধানে যা। তাড়াতাড়ি ফিরিস।”
বাড়ি থেকে বেরিয়ে মানালি ঠোঁট কামড়াল।
যখনই মনে পড়ছিল অফিস গেলেই আবার গোটা কন্ট্রোভার্সিটা সামলাতে হবে তাকে, তখনই গায়ে জ্বর চলে আসছিল। রাস্তায় খানিকটা পথ উদ্দেশ্যহীনভাবে হেঁটে একটা বাসে চড়ে বসল। ঠিক করল কোনও একটা শপিং মলে গিয়ে সারাদিন সিনেমা দেখবে, নিজের সাথে সময় কাটাবে একা একা। চাকরি করার আগে এভাবে সময় কাটাত সে। সব সময় সঙ্গী দরকার পড়ে না। একা ঘোরারও একটা আলাদা মজা আছে।
