মাডির কামে আমার কী অইবো?
এনামুল হাসল। আপনে লেবার কনটেকদারি করবেন।
লেবারগো দেখাশুনা করুম, কনটেকদারি করুম না।
ক্যা?
কনটেকদারি অর্থ অইলো টেকা পয়সা এদিক ওদিক করন। কামে ফাঁকি দিয়া টেকা বাঁচানো। কম কাম কইরা বেশি কাম দেহাইয়া টেকা রুজি করন।
হ।
মজজিদের কামে এইডা আমি করুম না।
কন কী?
হ। আমারে তুমি মাডির দায়িত্ব দিছো ওইডা আমি করুম ঠিকঐ, তয় এক পয়সাও এদিক ওদিক করুম না। কম মাইট্রাল লইয়া বেশি দেহামু, রোজ বেশি দেহামু এইডি আমি করুম না।
আগে তো আপনে এমতেঐ করতে চাইছিলেন।
হ আগে চাইছি।
তয় আথকা চিন্তা বদলাইলেন ক্যা?
মরণের ডর আছে না মিয়া? মরুম না একদিন? আল্লারঘরের কাম থিকা চুরি কইরা হাশরের দিন কী জব দিমু? মজজিদের কামে আমার কাছে কোনও দুই নম্বরি তুমি পাইবা না। ওই হগল আমি করুম না।
সত্য?
সত্য মানি। একশোবার সত্য।
দেলোয়ারা হাসলেন। তুই তো মানুষ অইয়া গেছস রে মোতালেবইব্বা। তোর মুখে এইরকম কথা তো ইহজিন্দেগিতে হুনি নাই।
মান্নান মাওলানা বললেন, মানুষ বদলায় বইন। কুনসুম কে যে কেমুন কইরা বদলায় কেঐ কইতে পারে না।
এনামুল উজ্জ্বল মুখ করে বলল, বহুত খুশি অইলাম মামু আপনের কথা হুইন্না। বহুত খুশি অইলাম। যুদি আপনে আপনের কথা মতন চলেন, যুদি খাস দিলে মাডির কামড়া করেন, মজজিদের অন্য কাম কাইজও খাস দিলে দেহাশুনা করেন তয় আপনেরেও আমি মাসে মাসে বেতন দিমু। মাওলানা সাবরে যত দিমু অতো দিমু না আপনেরে। তয় মাওলানা সাবের পরঐ মজজিদের দায়িত্ব থাকবো আপনের উপরে। হেয় যহন থাকবো না, অর্থাৎ কোনও একদিন হেয় যুদি অন্য কোনও কামে যায়, অসুক বিসুকে পড়ে তয় তার জাগায় আপনে।
মোতালেব মহাখুশি। ঠিক আছে মামু, ঠিক আছে।
তয় আমার আরেকখান কথা আছে।
কও মামু, কও।
কাইল থিকা নমজ ধরবেন। পাঁচওক্ত নমজ পড়বেন। মজজিদের কাম করবেন, মাথায় টুপি দিয়া চলবেন। কী ঠিক আছে?
একদম ঠিক আছে, একদম ঠিক।
মাওলানা সাবের লাহান পোেষমাসের পয়লা তারিখ থিকা আপনেরও বেতন ধরুম। কত ধরুম অহন কমু না। তয় যা কইলাম ওইভাবে চলতে হইবো।
তুমি দেইখোনে চলি কি না। কথার কোনও লড়চড় হইবো না মামু।
ঠিক আছে। তয় বেবাকঐ ফাইনাল অইলো। বিয়াল অইয়া আইতাছে আমার যাওনের সমায় অইলো। অহন আরেকখান কাম আছে হেই কামডা সারি।
কী কাম?
বহেন না, আপনের সামনেঐত্তো সারুম।
এনামুল মান্নান মাওলানার দিকে তাকাল। মাওলানা সাব, একটা বিষয়ে আপনের লগে কথা কমু। আপনে কিছু মনে করবেন না। আপনে যুদি আমগো মজজিদের দায়িত্ব না লইতেন তয় এই হগল লইয়া আপনের লগে কথা আমি কইতাম না। অহন বাধ্য হইয়া কইতাছি। কারণ আপনে অহন আমার লোক।
মান্নান মাওলানা লগে লগে মাথা নাড়লেন। হ বাজান হ, আমি অবশ্যই তোমার লোক। কও, কী কইবা কও।
যুদিও ব্যাপারটা আপনের ব্যক্তিগত তবু আমি মনে করি আপনেরে আমার এইডা কওন উচিত।
অইলো, কও।
আপনে বসির ঘটকরে দবির গাছির বাইত্তে পাডাইছিলেন?
মান্নান মাওলানা মাথা নিচা করে বললেন, হ।
দবিরের মাইয়া নূরজাহানের লেইগা বিয়ার পোরাসতাব দিছেন?
হ।
মোতালেব এনামুলের মুখের দিকে তাকাল একবার, দেলোয়ারার মুখের দিকে তাকাল। তারপর তাকাল মান্নান মাওলানার মুখের দিকে। নূরজাহানের লেইগা কবে বিয়ার পোরোসতাব পাডাইছে হুজুরে? আতাহারের? শেষ তরি গাছির মাইয়া বিয়া করবো আতাহারে?
এনামুল বলল, আরে না মিয়া। হুজুর নিজের লেইগাঐ পোরোসতাব পাডাইছে।
কও কী?
হ।
যেই ছেমড়ি হুজুরের লগে এই কাম করছে হেই ছেমড়িরে হুজুরে বিয়া করতে চায়? হায় হায় এইডা কোনও কথা অইলোনি? আর ছেমড়ি তো হুজুরের নাতিনের থিকাও ছোড। অহনতরি সাবালিকা অয় নাই।
মান্নান মাওলানা চোখ তুলে এনামুলের দিকে তাকালেন। না না নূরজাহান সাবালিকা হইছে। আমি খবর পাইছি। মাইয়াডা না বুইজ্জা আমার লগে একটা বেপি কইরা। হালাইছিল। আমি বহুতবার কইছি, নাদান মাইয়া, অরে আমি মাপ কইরা দিলাম। আতাহারের মায় মইরা গেছে, আমার বয়স অইছে, এই বয়সে সেবাযত্নের লেইগা একজন লাগে। এইডা চিন্তা কইরা…। ভাবলাম দউবরা গরিব গাছি। অর মাইয়া বিয়া করলে ওরও ঝামেলা মিটে। মাইয়ার বিয়া লইয়া চিন্তা করন লাগে না। মাইয়া আমার বাইত্তে। সুখে থাকবো। আল্লাহ খোদার নাম লইবো, নমজ রোজা করবো, আমার সেবা করবো। দউবরার সংসার চলনের লেইগা বিলে এককানি জমিন দিয়া দিমু নে আমি। অগো দিন কাইটা গেল। আমি কইলাম খারাপ চিন্তা কইরা পোরোসতাবটা পাঠাই নাই। অগো ভাল চাইছি দেইক্কাঐ পাডাইছি। এইডা লইয়া দউবরা তোমার কাছে নালিশ দিবো…
না না আমার কাছে কেঐ নালিশ দেয় নাই। গাছি আইয়া আম্মারে কইছে, আম্মায় কইছে আমারে। হুইন্না আমি মনে করলাম আপনের লগে কথা কই।
হোনো মিয়া, আমি পোরোসতাব দিছি, অরা তো পোরোসতাব বাতিলও কইরা দিতে পারে। ঘটকারে সোজা কইয়া দিলেই অইতো, না আমরা রাজি না। ঘটনা শেষ অইয়া যাইতো। এইডা লইয়া এত দরবাদরবির কী আছে!
দেলোয়ারা বললেন, না অরা কোনও দরবাদরবি করে নাই। নূরজাহান বিরাট একখান। অন্যায় করছিল আপনের লগে। হেই ঘটনার পর আপনে পাডাইছেন পোরোসতাব, অরা গেছে ডরাইয়া। ডরাইয়াঐ আইছে আমার কাছে। নিজেরা না করনের সাহস পায় নাই। যুদি আপনে চেইত্তা যান।
