সুরুজ সিগ্রেটে টান দিয়া বলল, হ। কামডা হেয় শেষ করল না ক্যা?
আতাহার বলল, কেমতে করবো? ধুমাইয়া কাম করল রাইত দিন। দেড়-দুইমাস করল তাও শেষ করতে পারল না। মাওয়ার ঘাট তরি যাওনের আগেঐ ম্যাগ বিষ্টি আরম্ব অইয়া গেল। ম্যাগ বিষ্টিতে তো মাডির কাম করন যায় না।
নিখিল বলল, তার লেইগা রাস্তার কাম পিছাইয়া গেল। ওই মিহি দেখগা কোলাপাড়া তরি রাস্তার ইটা বিছাইন্না শেষ। ছিন্নগর তরি রাস্তা পাকা অইয়া গেছে। ওইটারে কয় কারপেটিং। কারপেটিং অইয়া গেছে। আর আমগো এই মিহি আইয়া আমরা রইলাম। আটকাইয়া। ইটাঐ বিছাইন্না অইলো না।
সেন্টু বলল, মাডির কাম না অইলে ইটা বিছাইন্না অইবো কেমতে?
তার অর্থ হইল শীতের দিনের আগে আর কাম শুরু অইতাছে না।
হ।
সিগ্রেট টানতে টানতে উঠে দাঁড়াল আতাহার। ল একখান কাম করি।
আলমগীর বলল, কী?
পুক কুমারবুগ যাই।
সুরুজ বলল, কার বাইত্তে?
কনটেকদার সাবের বাইত্তে।
নিখিল বলল, আথকা তার বাইত্তে যাবি ক্যা?
যাই ইট্টু আড্ডা চাডামি মাইরাহি। তার ইট্টু খোঁজখবরও লইলাম। কাম বন্দ দেইক্কা আমগো লগে যোগাযোগ দুস্তি বেবাকঐ বন্দ কইরা দিল। ঘটনা কী ইট্টু বুইজ্জাহি।
আলমগীর বলল, আমি যামু না রে?
ক্যা?
কনটেকদাররে আমার তেমুন পছন্দ অয় না।
ক্যা হেয় তর কী করছে?
হালায় ইট্টু বেশি ট্যাটন।
সুরুজ বলল, আমরাও কম ট্যাটন না।
তুমি আমার বালের ট্যাটন। তুমি হালায় অইলা ভোদাই। বালও বোজো না।
বুজি সবঐ। কই না আর কী!
সিগ্রেটে টান দিয়া আতাহার বলল, এত প্যাচাইলের কাম নাই বেডা। ল যাই, দেইক্কাহি কনটেকদাররে। অর বাইত্তে তো কোনওদিন যাই নাই, দেহি হালায় খাতির করে কেমুন? দোফরে ভাত ভোত খাওয়ায়নি?
নিখিল বলল, যুদি না খাওয়ায়?
না খাওয়াইলে না খাওয়াইবো। আমরা কোনও দোকানপাটে বইয়া চা বিসকুট আর নাইলে বনরুটি কেলা খাইয়া লমু। আমরা কি ফকিন্নি নিরে বেড়া। জেবে টেকা আছে না? আলইম্মা, কথা কইচ না। ল।
প্যান্টের পকেট থেকে চায়ের দাম দেওয়ার জন্য মানিব্যাগ বের করল আতাহার। চারকাপ চায়ের দাম আট টাকা। একটা দশটাকার নোট সেন্টুর দিকে বাড়িয়ে দিল সে। সেন্টুদাদা, চায়ের দাম রাখেন।
টাকাটা ধরল না সেন্টু। হাসিমুখে বলল, না আইজ চায়ের দাম নিমু না।
ক্যা?
তোমার মুখ দেইখা আমি বুজছি, তুমি আমার চাড়া যেমুন আশা করছিলা হেমুন আইজ অয় নাই। তাও আমারে খুশি করনের লেইগা চা ভাল কইছো। এই চা’র দাম আমি নিমু না। আরেকদিন আইয়ো। ফাসকেলাস চা তোমগো বানাইয়া খাওয়ামুনে। হেদিন দাম দিয়ো।
আরে না, এইডা কোনও কথা অইলো নি!
এইডাঐ কথা। যাও দাদারা, যাও। যতই হাদো আইজকার চায়ের দাম আমি কিছুতেই নিমু না।
সেন্টুর মুখের দিকে তাকিয়ে হাসল নিখিল। ঠিকই আছে। আইজকার চায়ের দাম আপনের না নেওনঐ উচিত সেন্টুদাদা। আইজকার চা আপনের সত্যঐ ভাল অয় নাই।
নিখিলের একথায় ওই যে আতাহারের পকেট থেকে সিগ্রেটের প্যাকেট বের করায় যেমন অবাক হয়েছিল সবাই তেমন অবাক হল। সেন্টুর দোকান থেকে বের হতে হতে আতাহার বলল, নিখিলা আমি তো বিশ্বাস করতে পারতাছি না।
কী বিশ্বাস করতে পারতাছস না?
তর কথাবার্তা।
কী কইলাম আমি?
এই যে সেন্টুদাদার চায়ের কথা কলি!
চা ভাল না অইলে কমু না!
আলমগীর বলল, তুই তো কোনওদিন এত সাফকথা কচ না। আইজ পয়লা দেখলাম।
সুরুজ বলল, হালায় কেমুন জানি বদলাইয়া গেছে।
আতাহার বলল, ভাল বদলান বদলাইছে। সাহস বাইড়া গেছে। ভাল রে দোস্ত। সাহস বাড়ন বহুত ভাল।
আলমগীর বলল, অইছে, বাদ দে এই প্যাচাইল। অহন কনটেকদারের বাইত্তে যাবি কেমতে? নৌকা কো?
আতাহার বলল, তুই নৌকা লইয়া আহছ নাই?
হ। আমি আমগো নাও লইয়া আইছি। সুরুজ আইছে আমার লগে। তয় হেই নাও তো আমি সারাদিন রাকতে পারুম না। বাইত্তে পাড়ায় দেওন লাগবো। আমগো কামলা হজু বইয়া রইছে নাওয়ে।
তয় তারে যাইতে ক গা। আমগো নাওয়ে কইরা চাইরজনে যামু নে। হাফিজদ্দি নাও বাইয়া যাইবো। অরেও কনটেকদারের বাইত্তে খাওয়াইয়া লমু নে।
আলমগীর বলল, তয় ল ওইভাবেঐ যাই।
মাওয়ার বাজারে আসার নৌকাগুলি এই দিনে মালেক দরবেশের বাড়ির ওদিকটায়। থাকে। ওরা চারজন পা চালিয়ে দরবেশ বাড়ির সামনের মাঠটায় এল। এসে দেখে ততক্ষণে আরও অনেক নাও সেদিকটায়। চারদিককার গ্রামের বাজারি লোকরা যে যার নাও নিয়া বাজারে আসছে। কামলা গোমস্তারা আছে নাও পাহারায়, গিরস্তরা গেছে বাজারে। আলমগীরদের নৌকা আর আতাহারদের নৌকা কোন ফাঁকে পাশাপাশি দাঁড়িয়েছে। হজু আর হাফিজদ্দি জমিয়ে গল্প করছিল। চারবন্ধুকে হেঁটে আসতে দেখে গল্প বন্ধ করে নাও ছাড়ার জন্য তৈরি হল তারা। হজুকে আলমগীর বলল, তুই বাইত্তে যাগা হজু। মা’রে কইচ আমি আতাহারের লগে আছি। পুব কুমারবুগ যামু কনটেকদার সাবের বাইত্তে। আইতে আইতে বিয়াল অইবো।
চার বন্ধু তারপর আতাহারদের নৌকায় চড়ল।
.
মান্নান মাওলানার পাতে বড় একটা কইমাছ তুলে দিয়ে পারু বলল, ঘটক আইছিল ক্যা?
উস্তা ভাজি দিয়ে কয়েক লোকমা ভাত মুখে দিয়েছেন মান্নান মাওলানা। পারু কইমাছ তুলে দেওয়ার সময়ও তাঁর মুখে ভাত। কোনওরকমে ভাতটা গিললেন তিনি, একটু থতমত খেলেন, তবে পারুকে বুঝতে দিলেন না কিছুই। খুবই স্বাভাবিক গলায় বললেন, আজাহারের বিয়ার একখান প্রস্তাব লইয়া আইছে।
