ঘটকালির কামে গেছেন। গাছির মাইয়া ডাঙ্গর অইছে তার বিয়ার সমন্দ লইয়া গেছেন।
হ এইডা ঠিকঐ আছে। তয় পাত্র কে জানচ?
না হেইডা জানি না দাদা। কে? কার লেইগা সমন্দ লইয়া গেলেন?
মান্নান মাওলানা।
ফইজু আঁতকে উঠল। কী?
আরে হ বেড়া। নূরজাহানরে বিয়া করতে চায় শালার পো শালায়। আমারে দিছে ঘটকালির কাম।
কন কী?
হ।
হায় হায় এইডা কোনও কথা হইলো? অতডু একটা মাইয়া! হুজুরের নাতনির থিকাও ছোড়।
কীর লেইগা করতে চায় হেইডা তুই বুজছস?
না।
আরে বেড়া ওই যে নূরজাহান তার মুখে ছ্যাপ দিছিল…
বুজছি বুজছি হেইডার শোদ লওনের লেইগা।
এইত্তো বুজছস।
এবার ফইজুও মান্নান মাওলানাকে বসিরের মতন করেই গালি দিল। শালার পো শালায় তো আসলেই মানুষ না। তহন হুনছি হেয় নূরজাহানরে মাপ কইরা দিছে, আর অহন…
শালার পো শালায় কঠিন মাল। ঘুরাইয়া পাচাইয়া কোনও না কোনওভাবে নূরজাহানের উপরে শোদ লইবো। বিয়া একবার করতে পারলে তো বোজচঐ, যতদিন শালায় বাঁইচ্চা থাকবো হেতদিন অইত্যাচার করবো মাইয়াডার উপরে। আমার প্রস্তাব হুইন্না এর লেইগাইত্তো গাছিদাদায় ওদিন আমার নাওয়ে আর ওডে নাই। সাঁতরাইয়া বাইত্তে গেছে।
ফইজু চিন্তিত গলায় বলল, তয় আপনে অহন কী করবেন? দুইহান খুবঐ খারাপ কামের মইদ্যে তো পইড়া গেছেন।
হ হেইডা পড়ছি। তয় আমি আমার তরিকা বাইর কইরা ফালাইছি। আমি শালার পো শালারে নাকে রসি দিয়া ঘুরামু। আতাহারের লেইগা ওয়াজদ্দি সাবের মাইয়া কমলার কথা কইয়া দুই-চাইর মাস ঘুরামু, নূরজাহানের কথা কইয়াও ঘুরামু। খালি মিছাকথা কমু আর খালি টেকা খামু। ওই হালায় যতবড় ধাউর অর থিকা বড় ধাউর অইলাম আমি। অর আমরক্ত আমি বাইর কইরা হালামু।
ফইজুর তখন শুধুই পারুর কথা মনে পড়ছে। আহা এত ভাল মাইয়াডা পড়ছে এমুন। দুইডা শয়তানের হাতে!
পারুর জন্য ফইজুর আবার একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল।
.
দুলালের সেলুনের সামনের বেঞ্চে বসে উদাস হয়ে বিড়ি টানছে নিখিল।
মালেক দরবেশের বাড়ির ওদিককার চকটুকু পার হয়ে মাওয়ার বাজারের রাস্তায় উঠে, দূর থেকেই নিখিলকে দেখতে পেল আতাহার। পুরানা জিনসের প্যান্ট আর হাফহাতা আকাশি রঙের শার্ট পরে বসে সিগ্রেট টানছে।
দ্রুত হেঁটে নিখিলের সামনে এসে দাঁড়াল আতাহার। কী রে নিখিলা, এহেনে বইয়া রইছস ক্যা?
নিখিল হাসল। খেরি করুম, মুকহানও বানামু (চুল কাটানো এবং শেভ করা)।
আতাহার তীক্ষ্ণচোখে নিখিলের মাথার দিকে তাকাল। হ চুল ভালই বড় হইছে। তয় বড়চুলে নিখিলারে মন্দ লাগে না। মুখের দাড়ি মোচও বড় অইছে। তাতেও নিখিলারে দেখতে খারাপ লাগে না।
বলল, তুই বাইত্তে মুক বানাছ না?
বানাই। তয় আইজ কয়দিন ধইরা বানাই নাই। ভাবছিলাম একলগেই খেরি করুম আর মুখ বানামু। এর লেইগাঐ আইজ বাজারে আইছি। নাইলে তগো বাড়ি মিহি যাইতাম।
নাও লইয়া আইছস?
না, জাউলা বাড়ির পবনার নাওয়ে আইছি।
তয় আমগো বাইত্তে যাইতি কেমতে?
কোনও না কোনও ব্যবস্থা কইরা যাইতাম। চাইলে নাও জোগাড় অইয়া যায়।
না আইজ ভেরি করনের কাম নাই।
ক্যা?
ল আমার লগে।
কই যামু?
আরে উট বেড়া। কই যামু কইতাছি।
আমার যে খেরিডা করান দরকার দোস্ত, মাথাহান মুখহান বানান দরকার।
ক্যা ডারলিংয়ের লগে দেহা করতে যাইবানি?
নিখিল হাসল। ডারলিং তো আমার নাই দোস্ত, আছে তোমার।
হেই ডারলিং আমি বাদ দিতাছি।
কী?
ওই তুই উট তো। অহন এত প্যাচাইল পাড়তে পারুম না।
সিগ্রেটে শেষ টান দিয়া ছুঁড়ে ফেলল নিখিল। তারপর উঠল। দোকানের ভিতর একজনের চুল কাটছে দুলাল। তার কাটা হলেই নিখিলেরটা কাটবে। নিখিল তাকে বলল, আইজ চুল কাডামু না রে দুলাল। আমার দোস্তে আইয়া পড়ছে। কাইল পশশু আইয়া কাডামু নে।
দুলাল হাসিমুখে বলল, আইচ্ছা দাদা।
আতাহার তখন পকেট থেকে সিগ্রেট বের করেছে। নিজে সিগ্রেট ধরিয়ে নিলিখকে বলল, খাবিনি আরেকখান?
না রে দোস্ত। পরে খামুনে। তয় তুই মেলা দিলি কই?
সিগ্রেটের ধুমা ছেড়ে আতাহার বলল, ল আগে বাজারে যাই। সেন্টুর দোকানে গিয়া বহি। চা খাই। আলইম্মা সুরজা অরাও আইবো। ইট্টু আড্ডা চাডামি মারি।
হ ল। কয়দিন ধইরা তো আমরা চাইর দোস্তে একলগে অইতেই পারি না।
হ যেই ম্যাগ বিষ্টি নামে। বাইত থনে বাইরঐ অওন যায় না।
সেন্টুর দোকানের দিকে হাঁটতে হাঁটতে নিখিল বলল, ডারলিংয়ের কথা কইতে কইতে থাইম্মা গেলা দোস্ত! ডারলিংরে বাদ দিতাছো অর্থ কী?
অর্থডা অহনতরি কেঐরে কই নাই। আলইম্মা আর সুরজারে তো কমুঐ না। তরে কইতে পারি।
অগো না কইলে আমারে কবি ক্যা?
অগো থিকা তরে আমি অনেক বেশি বিশ্বাস করি।
ক্যা এত বিশ্বাস করছ ক্যা আমারে?
আমি জানি, তর পেডে বোম মারলেও গোপন কথা কেঐ বাইর করতে পারবো না।
হ এইডা ঠিক। আমি কেঐর কথা কেঐরে কই না।
এর লেইগাঐ তরে কওন যায়।
তয় ক।
আতাহার আবার সিগ্রেটে টান দিল। পারুরে অহন আর আমার ভাল্লাগে না।
নিখিল একেবারে কেঁপে উঠল। কচ কী?
হ। এতদিন ধইরা একজনের লগে সহবাসে আমি আরাম পাই না।
পারু এত সোন্দর মাইয়া তারবাদেও তুই কচ এই কথা।
হ। আমি অন্য জাগায় বিয়া করুম। ল্যাংড়া আমার লেইগা সমন্দ ঠিক করতাছে।
তর মা’য় মরণের আগে আমারে না একদিন কইলি তোর মা’য় চাইতাছে পারুর লগেই তর বিয়া পড়াইয়া দিবো। তর বাপের লগেও আলাপ করছে।
