বউর বদলাম কী?
এইডা কি আপনেরে কওন লাগবো? বড়ভাইর বউর লগে মাজারো ভাইর সম্পর্ক। তিনহান পোলাপান হইছে। আতাহারের লগে পারুরও তো বদলাম। যেহেনেঐ বিয়ার কথা কইতে যামু, তারা যহন আতাহারের খোঁজখবর লইবো তহনঐত্তো এই হগল কথা উঠবো।
মান্নান মাওলানা চায়ে বড় করে চুমুক দিয়া বললেন, তুই কোন বালের ঘটক।
ক্যা আমার অসুবিদা কী?
ঘটকালির কামে দিনরে রাইত কইরা কাম করতে হয়।
আমি তো হেইডাঐ করতাছি। ওয়াজদ্দি সাবের মাইয়ার লগে আপনের পোলার বিয়া আমি দিয়া দিতে পারুম।
তয়?
তয় কথা হইলো, হে হে, দেওর ভাবীর ইটিস পিটিস সম্পর্ক অইলো গুয়ের লাহান। যত ঘোঁটবেন হেতো গন্দ ছুটবো। এর লেইগা কইছিলাম, পারু বিরাট সুন্দরী বউ। রেডিমেড তিনহান পোলাপানও পাইলো আপনের পোলায়, আসলে তো অরঐ পোলাপান। সবকিছুই জায়েজ অইয়া গেল। এক, গু ঘোটতে অইলো না। দুই, সুন্দরী বউ পাইলেন, তিন, তিনহান নাতি নাতকুড় জায়েজ অইলো।
ফুরুক করে চায়ে বড় একখান চুমুক দিলেন মান্নান মাওলানা। রাগী গলায় বললেন, চ্যাডের (পুরুষাঙ্গ) কথা কইছ না। দুনিয়াতে এমুন সম্পর্ক বহুত থাকে। জুয়ান বয়সের দেওর ভাবি বহুত জাগায় এমুন সমন্দ রাখে। হেতে কথাও অয় না। আতাহাররে বিয়া করাইয়া আমি খাট পালং আলমারি আর সোনাদানা তো ঘরে আনুমই, কমপক্ষে পাঁচলাখ টেকাও আনুম। হ পারুর লগে আতাহারের বিয়ায় আমি রাজি আছি, পাঁচলাখ টেকা দিবি তুই।
হে হে, কী যে কন হুজুর।
তয় এত বালের প্যাচাল পারচ ক্যা?
ওই যে কইলাম, পারু আমার চোক্কে লাইগ্যা রইছে।
চায়ে শেষ চুমুক দিয়া বসির বলল, আইচ্ছা হুজুর, পারুর বাপের বাড়ির অবস্থা কেমুন?
আছে, খারাপ না। বাপে পুতেরা রুজি রোজগার করে, এক বইনজামাইয়ের বিরাট অবস্থা। জাগাসম্পত্তি আছে ভাল।
তয়?
তয় কী?
পারুর বাপের বাইত্তে আমি যাই।
ক্যা?
গিয়া আতাহারের লগে পারুর বিয়ার প্রস্তাব দেই। পাঁচলাখ টেকার কথাও কই।
ক্যা পারুরে লইয়া তর এত চিন্তা ক্যা?
চিন্তাডা হুজুর আপনের হওন উচিত আছিল। হে হে। এত কম বসে ব্লাড়ি অইছে। মাইয়াডা। বাকি জীবন কাটাইবো কেমতে? যার লগে সম্পর্ক হেও যুদি অন্য জাগায় বিয়া কইরা হালায় তয় জিন্দেগিড়া ছারখার অইয়া যাইবো মাইয়াডার।
অর জিন্দেগি লইয়া তর চিন্তা করনের কাম নাই। দিন পোনরোর মইদ্যে ওয়াজদ্দি সাবের মাইয়া আমরা দেকতে যামু, ব্যবস্থা কর।
আইচ্ছা করতাছি। হে হে। তয় আইজ টেকা দিবেন পাঁচশো।
পাঁচশো টাকার কথা শুনে আঁতকে উঠলেন মান্নান মাওলানা। ক্যা পাঁচশো টেকা দিমু ক্যা?
কেরায়া নাও লইয়া গাঐদ্দা যাওন আহন লাগবো। নাও ভাড়াই যাইবো গা আড়াই তিনশো টেকা। আর আমারে শ দুয়েক দিবেন না?
না না এত দিতে পারুম না। দুইশো দিমু নে। তুই কাম শুরু কর। তয় পাঁচলাখ লইয়া দেওন লাগবো কইলাম।
কইয়া লাব নাই। পাঁচশোর কমে গাঐদ্দা যাইয়া আইয়া এই কামে আমার পোষাইবো হুজুর।
তয় তিনশো দিতাছি। পরে আবার দিমুনে।
না হুজুর, পারুম না।
তুই তো বেডা বিরাট ঠ্যাটা।
আমার তো মনে হইতাছে আপনে আমার থিকা বড় ঠ্যাটা। নিজের বিয়ার কথা উডাইলেন না, পোলার বিয়া লইয়াঐ দামাদামি আরম্ব করলেন। আরে আপনের বিয়ার লেইগা তো বিরাট খরচা আছে। হেইডা তো আইজঐ করন লাগবো। আতাহারের লেইগা পাঁচশো দিবেন আর নিজেরডার লেইগা দিবেন পাঁচশো। পুরা একহাজার আগে গণেন। আমার হাতে দেন তারবাদে ওয়াজদ্দির মাইয়া কমলা অইবো আপনের পোলার বউ, আর দবির গাছির মাইয়া নূরজাহান হইবো আপনের বউ।
নূরজাহান নামটা শোনার লগে লগে চেহারা অন্যরকম হয়ে গেল মান্নান মাওলানার। মনে হল যেন এখনই তাঁর মুখের সামনে দাঁড়ায়া মুখে যত ছ্যাপ ছিল সব ছ্যাপ তাঁর মুখে ছিটাইয়া দিল নূরজাহান। মুখটা শক্ত হয়ে গেল মান্নান মাওলানার। টাকা পয়সার কথা ভুলে ল্যাংড়া বসিরের মুখের দিকে তাকালেন তিনি। দউবরারে প্রস্তাব দিছস?
হে হে, দিছি মাইনি? এমুন দেওয়া দিছি। হাতড়াইয়া বাইত্তে গেছে।
কী?
ঘটনাটা বলল বসির। কীভাবে দবিরকে বাড়ি থেকে মাওয়ার বাজারে নিয়া গেছে, সেন্টুর দোকানে বসাইয়া চা রসোগোল্লা আর সিগ্রেটের পর সিগ্রেট খাওয়াইছে, শেষমেশ প্রস্তাব শুনে দবির কী করছে সব শুনে মান্নান মাওলানা হাসলেন। এইডা আমার জাননের কাম আছিল।
জানলেন তো। অহন কী করবেন?
আমি কিছু করুম না, করবি তুই। আমার সাফ কথা, দইবরার মাইয়ারে আমি বিয়া করুম, ব্যবস্থা করবি তুই।
কামডা বহুত কঠিন।
টেকাও কঠিনঐ পাবি। একদিকে ওয়াজদ্দি সাবের মাইয়া কমলারে আইন্না দিবি আতাহারের লেইগা। শাওন মাস তো শেষ অইয়া আইলো, তারবাদে চাইর-পাঁচটা মাস। পৌষ নাইলে মাগ মাসে আতাহাররে বিয়া করামু। তারবাদে এই ধর আরও তিন-চাইর মাস, বৈশাখমাসে দউবরার মাইয়ারে আইন্না দিবি আমার লেইগা। তর কারবার ফিনিশ। আর ওর মইদ্যে যুদি আমার ছোডপোলায় রাজি অইয়া যায়, যুদি দেশে আহে তয় অর বিয়ার ঘটকালিও তুই করবি। এক বাইত্তে এতডি বিয়া, তর বচ্ছরের কামাই রুজি অইয়া যাইবো।
ওই কামাই রুজি থিকা আইজ একহাজার দেন।
এই না কইলি পাঁচশো।
এইডা তো আতাহারের লেইগা। আপনের লেইগাও পাঁচশো দেন। গাছির বাইত্তে আবার যাওন লাগবো না!
মান্নান মাওলানা একেবারে অন্য রকম একটা কথা বললেন। দউবার মাইয়াডা তর কেমুন লাগছে?
