কেমতে কইবো? হোনছে ইট্টু আগে। আমি আইতাছি এইঘরের মিহি, মা’রে দেহি ভাবিছাবের ঘরে যাইতাছে। ডাক দিয়া কইলাম।
হুইন্না কী কয়?
জিনিসটা য্যান হের গায়েই লাগে নাই এমুন একহান ভাব করলো। আমার পিঠটা দোয়াই দিয়া কইলো পুরানা শাট লুঙ্গি চোরে নিছে কী অইছে। তর কি আল্লায় দিলে শাট লুঙ্গি কম আছেনি?
মান্নান মাওলানা হাসলেন। তর মা’য় আছে ফুর্তিতে। পারুরে তর কাছে বিয়া দিবো হেই ফুর্তি। শইল যে এত খারাপ, ভাব দেইখা, চলাফিরা দেইখা মনে অয় না। জুয়ান বসসের লাহান চলাফিরা করতাছে, কামকাইজ করতাছে। এর মইদ্যে দুইদিন আমারে কইছে বসির ঘটকরে খবর দিয়া আজাহারের লেইগা মাইয়া দেকতে কন। আজাহাররে চিডি লেইক্কা বেক কিছু জানান। আতাহারে যে পারুরে বিয়া করতে রাজি অইছে এই হগল জানাইয়া দেন। আইয়া পড়তে কন।
আতাহার এসব কথার ধার দিয়া গেল না। চিন্তিত গলায় বলল, তয় শাট লুঙ্গিড়া আমার কী অইলো বাবা? মুকসেইদ্দা যুদি চুরি না কইরা থাকে তয় কে করলো? বাইত থিকা আপনা আপনি হাওয়া অইয়া গেল?
হ কথা তো ঠিক। রহির ভাস্তি, হাসু না কী জানি নাম ছেমড়ির, না কইয়া যে আমগো বাইত থিকা গেছে গা, ওই ছেমড়ি লইয়া যায় নাই তো?
ও শাট লুঙ্গি দা কী করবো? এতদিন ধইরা আমগো বাইত্তে আহে যায়, কোনওদিন এমুন কিছু অর দেহি নাই।
দেহচ নাই কী অইছে। সবাব মাইনষের বদলাইতে পারে না? ছেমড়ি যাওনের সময় আমারে আর তর মা’রে কইয়া যায়। এইবার কইয়া যায় নাই। যাওনের অর কথাও না। ও মউচ্ছামান্দ্রা থিকা এক্কেরে আইয়া পড়ছিলো! অরে এই বাইত্তে কামে রাকছিলাম আমি!
কী?
হ। রহির কথায় অরে আমি রাইক্কা দিছিলাম!
তয় এমতে গেল গা ক্যা?
হেইডাঐত্তো কই!
খানিক কী চিন্তা করল আতাহার তারপর বলল, আমার অহন ওই ছেমড়িরেঐ সন্ধ অইতাছে। ও কি মউচ্ছাঐ গেছে না অন্য কোনওহানে এইডা আমার জানোন লাগবো।
অন্য কই যাইবো?
মনে হয় কোনও বেডা বোডাগো লগে ভাগছে। দেশগেরামে অহন নানান পদের মানুষ। কার লগে খাতির অইছে, কার লগে পলাইছে কে জানে। মনে অয় ওই বেডার লেইগাঐ শাট লুঙ্গি লইয়া গেছে!
হ এইডা অইতে পারে! রহিরে তো এই হগল জিগাইতে অয়।
রহিরে জিগাইয়া কী অইবো?
ও কিছু কইতে পারে কি না বোজনের চেষ্টা করি।
না অহন জিগাইয়েন না। আগে মউচ্ছার ওই বাইত্তে আমি খবর লইয়া লই। আগে দেহি ছেমড়ি ওই বাইত্তে আছেনি?
আইচ্ছা দেক।
অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল আতাহার। এবার এগিয়ে এসে মান্নান মাওলানার পায়ের কাছে, পালঙ্কে বসল। এনামুল দাদায় বলে বাইত্তে আইছিলো।
হ।
কথাবার্তা অইছে আপনের লগে?
অইছে।
কী কইলো? কবে মজজিদ উঠাইবো?
এনামুলের লগে কী কী কথা হয়েছে, কবে কীভাবে কাজ শুরু হবে, আজ মোতালেবকে কীভাবে কাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, সবই ছেলেকে খুলে বললেন মান্নান মাওলানা।
মোতালেবের ব্যাপারটা শুনে খুশি হল আতাহার। এইডা একহান কামের কাম করছেন! ওই চোরারে কোনও মতেঐ মজজিদের কামে ভিড়ান যাইবো না। কাম যা করনের আপনে করবেন। আর আমি তো আছিঐ।
হ এই হগল চিন্তা কইরাঐ কায়দা কইরা এনামুলরে ফিরাইলাম। কামডা আমার হাতে থাকলে ওহেন থিকা রুজি রোজগারও কিছু অইবো। কিছু কী, ভালঐ অইবো।
আমার মনে অয় না।
ক্যা?
এনামুইলাও কম ধাউর না।
কেমতে বুজলি?
ঢাকার টাউনে কনটেকটারি কইরা খায়, হাজার হাজার মানুষ চরায়, লাক লাক টেকা রুজি করে। ধাউর না অইলে এইডা সম্ভবপর না।
মান্নান মাওলানা চিন্তিত গলায় বললেন, মন্দ কচ নাই কথা। কনটেকদার আর মোদি দোকানদাররা অইলো একরকম। পিঁপড়ার গোয়ায় চিমটি দিয়া মিডাই রাইক্কা দেয়।
হ। মজজিদের কাম শুরু অইলে দেকবেন কেমুন হিসাবি মানুষ এনামুল। একহান পয়সাও এইমিহি ঐমিহি অইতে দিবো না।
না দিলে না দেউক। ওই পয়সার থিকাও মজজিদের ইমাম অওনডা আমার বেশি দরকার। মাসে মাসে মায়না পামু আর ক্ষমতাও অহনকার থিকা বাড়বে। অহনও কেঐ কেঐ মোকের সামনে বেদ্দপি করে, ইমাম অইলে হেইডা করনের সাহস পাইবো না।
হেইডা বোজলাম। তয় এনামুল আবার মতলব বদলায় কি না দেহেন।
মান্নান মাওলানা চিন্তিত হলেন। কেমুন মতলব বদলাইবো?
আপনের জাগায় যুদি অন্য ইমাম আনে!
আরে না! এত সোজা না।
ধাউর মানুষগো পক্ষে সব কিছু সোজা।
তয় তুই এইডাও জানচ, আমি এনামুইলার থিকা বড় ধাউর। আমার লগে ধাউরামি কইরা ও পারবো না। তুই কি মনে করছচ ও এমুন আথকা কীর লেইগা দেশে আইছিলো, কীর লেইগা আমার লগে কথাবার্তা কইয়া ঢাকা গেল, কীর লেইগা আমার কথায় মোতালেইব্বারে সরাইলো, এই হগল কামের পিছে অর কী উদ্দিশ্য হেইডা আমি বুজি নাই? বুজছি।
আমিও বুজছি। আপনেরে ও হাতে রাখবো। মজজিদ বানাইতে দেরি অইতাছে ক্যান এই হগল কথা কেঐ উডাইলে আপনে য্যান এনামুলের পক্ষ লইয়া জব দেন। কেঐ য্যান ওই হগল লইয়া কথা কইতে না পারে।
হ ঠিকঐ বোজছচ।
তয় আমার মনে অয় পউষ মাগ মাসেও মজজিদের কাম হেয় ধরবো না।
ক্যা?
আরও দেরি করবো।
দেরিডা করবো কীর লেইগা?
টেকাপয়সার লেইগা। হেয় কনটেকদার মানুষ। আথকা চাইর-পাঁচলাক ক্যাশ টেকা খাপাইয়া হালাইলে অসুবিদা না তার! এর লেইগা যতদিন পারে দেরি করবো।
মান্নান মাওলানা বিরক্ত হলেন। করুগগা যা ইচ্ছা।
