চোক্কের পানি পুইচ্ছা তরে আমি কুলে লইলাম। তুই তহন বেভোর ঘঘামে। অনেকক্ষুন তরে কুলে লইয়া বইয়া রইলাম। এই ফাঁকে তর মায় আমার লেইগা আবার ভাত রানলো, ঘোপায় জিয়াইন্না কইমাচ রানলো। তারবাদে আমারে সামনে বহাইয়া খাওয়াইলো। তার ব্যাভারে আমি আর ভাত খাইতে পারি না, আমার চোক্কে খালি পানি আহে। তর মায় যে আমার ভাইর বউ হেইডা আর মনে অয় না। মনে অয় হেয় আমার মা। বহুদিন আগে মইরা গেছিলো তারবাদে য্যান আবার ফিরত আইছে। ছোডকালে আমারে যেমুন সামনে বহাইয়া ভাত খাওয়াইছে অহনও যেমুন হেমুন কইরাঐ খাওয়াইতাছে। বিয়ালবেলা আমি কইলাম, অহন যাইগা ভাবিছাব। ম্যালা দূরের পথ, যাইতে যাইতে হাজ অইয়া যাইবো। হুইন্না ভাবীছাব য্যান আসমান থিকা পড়লো। হায় হায় কন কী? কই যাইবেন আপনে? না না আপনে আর যাইতে পারবেন না। আপনে অহন থিকা এই বাইত্তেঐ থাকবেন। আমি খাইলে আপনে খাইবেন, আমি না খাইলে আপনেও খাইবেন না। আর বাইত্তে কোনও কামও আপনের করন লাগবো না। আপনে খালি ভাস্তিরে কুলে লইয়া বইয়া থাকবেন, বেবাক কাম আমি একলা করুম।
হাসু বলল, তারবাদেও তুমি থাকো নাই?
তিনদিন রইছিলাম। দইল্যাদার ব্যাভারে থাকতে পারি নাই।
কী করলো হেয়?
খালি ভাবিছাবের লগে পিসপিস পিসপিস। একদিন দেহি ভাবিছাবে চুপ্পে চুপ্পে কানতাছে। আহা রে আমার লেইগা একজন মানুষ স্বামীর গঞ্জনা সইতাছে। আপনা ভাই পর অইয়া গেছে, পর অইয়া গেছে আমার আপন। ভাবিছাবরে বুজাইয়া বাজাইয়া তিনদিনের দিন আমি আবার এই বাইত্তে আইলাম। তয় তারবাদেও বচ্ছর-দুইবচ্ছরে একবার যাইতাম বাইত্তে। তরে দেকতে, ভাবিছাবরে দেকতে। তারবাদে মানুষটা মরলো। তর বাপে বিয়া করলো একটা দজ্জালনিরে। তরে আইন্না আমি কামে দিলাম মউচ্ছামান্দ্রা।
হাসু দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আইচ্ছা ফুবু আমারে একখান কথা কও তো, বদ বেডাগো লগে খালি ভাল বেডিগো বিয়া অয় ক্যা? এইডা আল্লার কেমুন বিচার? ভাল মাইনষের কপাল বাইন্দা দেয় খাচ্চড় বেড়াগো লগে। যেমুন আমার বাপের লগে দিছিলো আমার মা’রে। এই বাইত্তে হুজুরের লগে দিছে হুজরানিরে। হুজুর যত বদ, হুজরানি তত ভাল।
হ এইডা ঠিকঐ কইছস। তয় হুজুর যে কীরকম বদ এইডা আমার থিকা ভাল আর কেঐ জানে না। হেই হগল কথা জিন্দেগিতে কেঐরে আমি কইতে পারুম না। যেই পেডের লেইগা জামাইর ঘর আমি করতে পারি নাই, জামাই আমারে তালাক দিছে, মাইয়া মাইনষের জীবনের সব থিকা বড় সুখ মা অওন, যেই পেডের লেইগা আমি কোনওদিন মা অইতে পারি নাই, এই বাইত্তে আহনের কয়দিন পর থিকাঐ আল্লার কাছে আমি খালি শুকুর করছি, আল্লাহ পেড়হান এমুন কইরা তুমি আমারে বাঁচাইয়া দিছো। নাইলে যে কী আছিলো আমার কপালে! বচ্ছর বচ্ছর খালি জাউরা পোলাপান অইতো আমার পেডে। মাইনষেরে আমি মোক দেহাইতে পারতাম না। তুই ডাঙ্গর মাইয়া, তুই আমার কথা বোজছচ। এর থিকা বেশি কিছু তরে আমি আর কইতে পারুম না। গিরস্ত ঘরের যেই মাইয়া একদিন। স্বামীর সংসারে গিয়া পোলাপান লইয়া সুখের সংসার করনের স্বপ্ন দেখছিলো হেই মাইয়া কপালের ফ্যারে অইয়া গেল এক বাড়ির দাসীবান্দি। যেই দাসীবান্দির দিনে অইলো এক কাম রাইত্রে আরেক কাম। হুজুরের ইশারায় হারারাইত ঘরের দুয়ার আবজাইয়া রাখন লাগে, কুনসুম হুজরানি ঘোমে বেভোর অইবো, কুনসুম হেয় আইয়া আমার লগে হুইবো। এই কইরা কইরা জীবনডা গেল আমার। কী জীবন কী অইয়া গেল!
রহিমা আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আর একহান কথা আইজ তরে আমি কই। আমার মনে। অয় আমার পেডহান বাজা না।
যেন আচমকা কাটার খোঁচা খেয়েছে হাসু, এমন করে চমকাল। কী?
হ। জামাই বাইত্তে যেই দেড়বচ্ছর আছিলাম হেই দেড়বচ্ছর কিছু অয় নাই। এই বাইত্তে আইয়া যহন হুজুরের লগে থাকতে আরম্ব করলাম, তিন-চাইরবার কইলাম আমার মনে অইছিল আমার পেড অইছে।
গভীর বিস্ময়ের গলায় হাসু বলল, কও কী তুমি?
হ। পয়লাবার পাক্কা সাড়ে তিনমাস হায়েজ বন্দ। দেড়-দুইমাসের মইদ্যে দেহি ইট্টু ইট্টু মাথা ঘুরায়, উকাল আহে। কেঐরে কিছু বোজতে দেই নাই। একমিহি ডরে কইলজা হুগাইয়া যায়, আরেকমিহি মনে জানি কেমুন ফুর্তি লাগে। একমিহি মনে অয়, সত্য যুদি হুজুরের পোলাপান আইয়া থাকে আমার পেডে তাইলে তো মাইনষে খানকি কইবো, আরেকমিহি মনে অয় তাইলে তো আমার পেডহান বাজা না। এক রাইত্রে হুজুররে কইলাম, হুইন্না হুজুরেও ডরাইয়া গেল। হায় হায় কচ কী! তর ফুবায় যে কইছিলো তুই বাজা দেইক্কা জামাই তরে তালাক দিছে! অহন তাইলে এই ভেজাল কেমতে অইলো? আগে জানলে তো অন্য বেবস্তা করতাম আমি!
কইলাম, আমিও জানতাম আমি বাঁজা। এমুন তো কোনওদিন হয় নাই।
দুইজনেই তারবাদে আমরা চিন্তায় চিন্তায় থাকি। সাড়ে তিনমাসের মাথায় একদিন শইল খারাপ অইলো আমার। তয় হেই শইল খারাপটা সব সময়কার লাহান না। কেমুন। জানি অন্যরকম। মনে অইলো পেড থিকা খালি রক্তঐ বাইর অইলো না রক্তর লগে যেন আরও কিছু বাইর অইলো?
আগের মতই বিস্ময়ের গলায় হাসু বলল, আর কী বাইর অইবো?
তুই বোজচ নাই?
না। পোয়াতি মাইয়াছেইলাগ পেড নষ্ট অয় না, আমার মনে অইলো আমারও য্যান পেড নষ্ট অইয়া গেল।
হ এইবার বুজছি।
তারও দুই বচ্ছর পর আরেকবার এমুন অইলো। হেইবারও হায়েজ বন্ধ থাকল দুই তিন মাস। তারবাদে আবার অমুন অইলো। এই জীবনে মোটমাট চাইরবার এমুন অইছে আমার। তারবাদে আইজ সাত-আষ্ট বচ্ছর পুরাপুরিঐ বন্ধ।
