তোমগো ছাড়া বাইত্তে।
লগে লগে দেলোয়ারার দিকে তাকাল এনামুল। হাসল। ছাড়া বাড়িডা আমগো না। আমার মা খালার।
মোতালেব আগ বাড়িয়ে বলল, মা খালার বাড়ি আর তোমগো বাড়ি তো মিয়া একঐ।
না এক না।
মোতালেব তারপর দেলোয়ারার দিকে তাকাল। বুজি কী কয়?
দেলোয়ারা নরম গলায় বললেন, আমিও হেইডা কই।
তারপর চশমা চোখে পরলেন।
মান্নান মাওলানা বললেন, মজজিদের ব্যাপার তো। মুখ দিয়া খালি কইলেঐ অইবো না। হয় খালার কাছ থিকা বাড়িডা কিন্না নিতে অইবো এনামুলের, নাইলে দেলোয়ারারা দুই বইনে মিল্লা মজজিদের নামে বাড়িডা লেইক্কা দিবো।
এনামুল বলল, তাইলে তো মজজিদ আমার একলা অইলো না। আমার মা খালায় দিলো জাগা আমি উডাইলাম বিন্ডিং।
মোতালেব বলল, হ। তাতে অসুবিধা কী?
এবার মোতালেবকে ছোটখাট একটা ধমক দিল এনামুল। এই মিয়া আপনে চুপ করেন তো। কথার মইদ্যে কথা কইয়েন না।
মোতালেব একটু থতমত খেল কিন্তু এনামুল তা গ্রাহ্য করল না। মান্নান মাওলানার দিকে তাকিয়ে বলল, আমার একখান নীতি আছে মাওলানা সাব। বেবাক কামেঐ নীতিডা আমি মাইন্না চলি।
মান্নান মাওলানা সামান্য গলা খাকারি দিলেন। কী নীতি?
যেই কামঐ করি, একলা করতে চাই। নিজের ক্ষমতায় করতে চাই।
এইডাঐত্তো ভাল।
যেইডা করুম, একলা কম। অন্যরে লইয়া করুম না। ছোড করি আর বড় করি, আমি একলা করুম। নাম অউ বদলাম অউক আমার একলা অইবো। নিজের কামে অন্য কেঐরে জড়ামু না।
দেলোয়ারা নরম গলায় বললেন, মা খালারা কি তোমার পরনি?
খালার দিকে তাকিয়ে হাসল এনামুল। কথা কইলাম তা না আম্মা। কথাডা কইলাম অন্য। একখান মজজিদ যহন আমি করুম, একলাঐ করুম। আপনেগো ঐ ছাড়া বাড়িডা যুদি না থাকতো তারবাদেও যুদি গেরামে মজজিদ আমি করতে চাইতাম, কেমতে করতাম? কোনও একখান বাড়ি নাইলে জাগা কিন্না, মাডি উড়াইয়া, বাড়ি বাইন্দা তারবাদে করতাম না
হ তাতো করতাঐ।
অহন করলেও অমতে করুম।
জাগা কিন্না?
হ।
জাগা পাইবা কই?
এনামুল হাসল। জাগা তো আছেঐ।
কোনহানে?
আপনেগো ছাড়াবাড়ি
অনেকক্ষণ চুপচাপ ছিল মোতালেব। আর পারল না। বলল, মা খালার কাছ থিকা বাড়ি কিন্না লইবা মামু?
মোতালেবের কথায় এবার আর রাগল না এনামুল। হাসল। হ। লেইজ্জ (ন্যায্য) দাম যা অয় তা দিয়াঐ কিনুম। তারবাদে মজজিদ করুম।
আবার দেলোয়ারার দিকে তাকাল এনামুল। কী আম্মা, বাড়ি বেচবেন না আমার কাছে।
দেলোয়ারা বললেন, আমার কিছু কওয়ার নাই। তোমার মায় যা কইবো তাই অইবো।
মায় আমার কথা হালাইবো না।
হেইডা আমি জানি। তয় তোমারে আমি আরেকখান কথা কই বাজান, তোমার মায় দেউক না দেউক আমার অংশ আমি তোমারে দিয়া দিলাম।
একথায় এনামুলের চেয়ে মান্নান মাওলানা বেশি মুগ্ধ হলেন। মোতালেবের দিকে তাকিয়ে বললেন, দেকছো মিয়া, খালা কারে কয়! খালা অইলে এমুনঐ অইতে অয়। মুখের কথায় লাকটেকার সমপিত্তি বইনপোরে দিয়া দিল।
মোতালেব কথা বলবার আগেই এনামুল বলল, আমার মায়ও এই কথাই কইবো আমারে।
এবার মোতালেব আর চুপ করে থাকতে পারল না। বেশ একটা গর্ব নিয়ে বলল, এনামুলের মা খালারা কোন বাড়ির মাইয়া হেইডা দেকতে অইবো না? কাগো (কাদের) বইন হেইডা দেকতে অইবো না? আমার বইনতো মিয়া, বুজলেন না!
মোতালেবের কথা শুনে অন্যদিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন মান্নান মাওলানা।
এনামুল বলল, মজজিদ করনের লেইগা ঐ ছাড়াবাড়িডা সব থিকা ভাল।
মান্নান মাওলানা বললেন, হ বড় সড়কের এক্কেরে লগে। সড়ক দিয়া হাজার হাজার মানুষ যাইবো আর চাইয়া চাইয়া মজজিদ দেকবো। দেইক্কা মাইনষেরে জিগাইবো, মেদিনীমণ্ডল গেরামে এত সোন্দর মজজিদখান কেডা করলো? মাইনষে কইবো, এনামুল সাবে করতাছে। মাইনষের মুখে মুখে তোমার নাম ছড়াইয়া যাইবো।
মোতালেব বলল, তয় ঐ বাড়ি থিকা কইলাম সড়ক দেড় দুইকানি অইবো।
অইলে কী অইছে, রাস্তা আছে না?
আছে, তয় ভাল রাস্তা না। আইল (আলপথ)।
এনামুল বলল, ঐ আইল থাকবো না। বড় সড়ক থিকা মজজিদ তরি ঐ আইল বাইন্দা আমি হালট (সড়ক) বানাইয়া দিমু। সড়ক তার বাড়ির লেবেল অইবো এক। হালটের লেবেল অইবো এক।
মোতালেব বলল, তাইলে তো মাডি উডান লাগবো?
উডামু।
কই থিকা?
ছাড়াবাড়ির পশ্চিমে পুকঐর আছে না! ঐ পুকর থিকা মাডি উড়াইয়া বাড়িডারেও ঠিক মতন বান্দন লাগবো, হালটও বান্দন লাগবো।
মান্নান মাওলানা বললেন, হ এই হগল কাম আগে করন লাগবো।
এনামুল হাসিমুখে বলল, অইয়া যাইবো। চিন্তা কইরেন না। কাইল ঢাকা যামু আমি। গিয়া মার লগে কথা কমু। আম্মার লগে কথা তো অইয়া গেল। কহেক (কয়েক) দিনের মইদ্যে বাড়িডা আমার নামে রেস্টারি (রেজিষ্ট্রি) কইরা হালামু। তারপর মাডির কাম লাগাইয়া দিমু। বাড়ি আর হালট বান্দা অইলে বিল্ডিংয়ের কাম ধরুম। আইচ্ছা হোনেন মাওলানা সাব, ইট সিমিটি (সিমেন্ট) রড এইসব আনুম কেমতে? বাইষ্যাকাল অইলে তো নৌকায় কইরা আনন যাইতো।
অহন আনবা টেরাকে।
টেরাক আইবো?
আইবো না ক্যা? ছিন্নগর তরি তত আহেঐ। আইজ রিকশা আইছে গেরামে। তোমার কাম কাইজ শুরু করতে মাস দেড়মাস লাগবো না।
হ তা তো লাগবোঐ।
হেতদিনে মেদিনীমণ্ডল তরি টেরাক আইয়া পড়বো।
তয় তো কোনও চিন্তা নাই। টেরাক ভইরা মাল পাডামু। সামনের বাইষ্যার আগেঐ মজজিদ অইয়া যাইব।
