হাদীস নং ২৪৪৩
খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. জনৈক ব্যক্তিকে রেশমী কাপড় বিক্রি করতে দেখে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, এ জোড়াটি খরিদ করে নিন। জুমুআর দিন এবং যখন আপনার খিদমতে কোন প্রতিনিধি দল আসে, তখন তা পরিধান করবেন। তিনি বললেন, এসব তো তারই পরিধান করে, যাদের আখিরাতে কোন হিসসা নেই। পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কয়েক জোড়া রেশমী কাপড় এল। সেগুলো থেকে একটি জোড়া তিনি উমর রা.-এর কাছে পাঠালেন। তখন উমর রা. বলেন, এটা আমি কিভাবে পরিধান করব। অথচ এ সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছেন। এতে তিনি বললেন, এটা তোমাকে আমি পরিধান করার জন্য দেইনি। হয় এটা বিক্রি করে দিবে, নয় কাউকে দিয়ে দিবে। তখন উমর রা. সেটা মক্কায় বসবাসকারী তাঁর এক (দুধ) ভাইকে ইসলাম গ্রহণের আগে হাদিয়া পাঠালেন।
হাদীস নং ২৪৪৪
উবাইদ ইবনে ইসমাঈল রহ……..আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় আমার আম্মা মুশরিক অবস্থায় আমার কাছে এলেন। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে ফাতওয়া চেয়ে বললাম তিনি আমার প্রতি খুবই আকৃষ্ট, এমতাবস্থায় আমি কি তার সাথে সদাচরণ করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে সদাচরণ করবে।
হাদীস নং ২৪৪৫
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : দান করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ ব্যক্তির মতই, যে বমি করে তা আবার খায়।
হাদীস নং ২৪৪৬
আবদুর রহমান ইবনে মুবারক রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নিকৃষ্ট উপমা দেওয়া আমাদের জন্য শোভনীয় (তবু বলতে হয়) যে দান করে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে তা আবার খায়।
হাদীস নং ২৪৪৭
ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ………উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে আমি আমার একটি ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় আরোহণের জন্য দান করলাম। ঘোড়াটি যার কাছে ছিল, সে তার চরম অযত্ন করল। তাই সেটা আমি তার কাছ থেকে কিনে নিতে চাইলাম। আমার ধারণা ছিল যে, সে তা কম দামে বিক্রি করবে। এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এক দিরহামের বিনিময়েও যদি সে তোমাকে তা দিতে রাযী হয় তবু তুমি তা কিনবে না। কেননা, সাদকা করার পর যে তা ফিরিয়ে নেয়, সে ঐ কুকুরের মত, যে বমি করে আবার তা খায়।
হাদীস নং ২৪৪৮
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আবু মুলায়কা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে জুদআনের আযাদকৃত গোলাম সুহাইবের সন্তান দুটি ঘর ও একটি কামরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহাইব রা.-কে দান করেছিলেন বলে দাবী জানান। (মদীনার গভর্নর মারওয়ান রহ. তখন বললেন, এ ব্যাপারে তোমাদের পক্ষে কে সাক্ষী দিবে? তারা বলল, ইবনে উমর রা. (আমাদের হয়ে সাক্ষী দিবেন) মারওয়ান রহ. তখন ইবনে উমর রা.-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি এ মর্মে সাক্ষী দিলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুহাইব রা.-কে দুটি ঘর ও একটি কামরা দান করেছিলেন। তাদের স্বপক্ষে ইবনে উমরের সাক্ষী অনুযায়ী মারওয়ান ফায়সালা করলেন।
হাদীস নং ২৪৪৯
আবু নুআঈম রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা (বস্তু) সম্পর্কে ফায়সালা দিয়েছেন যে, যাকে দান করা হয়েছে সেই- মালিক হবে।
হাদীস নং ২৪৫০
হাফস ইবনে উমর রা. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : উমরা জায়েয। আতা রহ. বলেন, জাবির রা. আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস শুনিয়েছেন।
হাদীস নং ২৪৫১
আমদ রহ………কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস রা.-কে বলতে শুনেছি, মদীনায় একবার শত্রুর আক্রমণের ভয় ছড়িয়ে পড়ল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবু তালহা রা.-এর কাছ থেকে একটি ঘোড়া ধার নিলেন এবং তাঁতে সাওয়ার হলেন। ঘোড়াটির নাম ছিল মানূদব। তারপর (মদীনা টহল দিয়ে) ফিরে এসে তিনি বললেন, কিছুই তো দেখতে পেলাম না, তবে এই ঘোড়াটিকে আমি সমুদ্রের তরঙ্গের মত পেয়েছি।
হাদীস নং ২৪৫২
আবু নুআঈম রহ……….আয়মান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশা রা.-এর নিকট আমি হাযির হলাম। তাঁর গায়ে তখন পাঁচ দিরহাম মূল্যের মোটা কাপড়ের কামিজ ছিল। তিনি আমাকে বললেন, আমার এ বাদীটার দিকে চোখ তুলে একটু তাকাও, ঘরের ভিতরে এটা পরতে সে অপছন্দ করে। অথচ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় মদীনার মেয়েদের মধ্যে আমারই শুধু কামিজ ছিল। মদীনায় কোন মেয়েকে বিয়ের সাজে সাজাতে গেলেই আমার কাছে কাউকে পাঠিয়ে ঐ কামিজটি চেয়ে নিত (সাময়িক ব্যবহারের জন্য)।
হাদীস নং ২৪৫৩
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মানীহা হিসাবে অধিক দুধেল উটনী ও অধিক দুধেল বকরী কতইনা উত্তম, যা সকালে বিকালে, পাত্র ভর্তি দুধ দেয়।
