হাদীস নং ২৪৩৫
মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট বয়সের একটি উট ধার নিয়েছিলেন। কিছুদিন পর উটের মালিক এসে তাগাদা দিল। সাহাবীগণও তাকে কি বললেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পাওনাদারদের কিছু বলার অধিকার আছে। তারপর তিনি তাকে তার (দেওয়া) উটের চেয়ে উত্তম উট পরিশোধ করলেন এবং বললেন, ভালভাবে ঋণ পরিশোধকারী ব্যক্তিই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।
হাদীস নং ২৪৩৬
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন এবং তখন তিনি (ইবনে উমর) উমর রা. -এর একটি অবাধ্য উটে সাওয়ার ছিলেন। উটটি বারবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগে যাচ্ছিল। আর তা পিতা উমর রা. তাকে বলছিলেন, হে আবদুল্লাহ ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগে আগে চলা কারো জন্য উচিত নয়। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, এটা আমার কছে বিক্রি কর। উমর রা. বললেন, এটাতো আপনার । তখন তিনি সেটা খরিদ করে বললেন, হে আবদুল্লাহ ! এটা (এখন থেকে) তোমার। কাজেই এটা দিয়ে তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার।
হাদীস নং ২৪৩৭
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. মসজিদের দ্বারা প্রান্তে একজোড়া রেশমী বস্ত্র (বিক্রি হতে) দেখে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এটা যদি আপনি খরিদ করে নেন এবং তা জুমআর দিনে ও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ে পরিধান করতেন। তখন তিনি বললেন, এ তো সেই পরিধান করে, আখিরাতে যার কোন হিসসা নেই। পরে (কোন এক সময়) কিছু রেশমী জোড়া আসলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে উমর রা.-কে এক জোড়া দান করলেন। তখন উমর রা. বললেন, আপনি এটা আমাকে পরিধান করতে দিলেন অথচ (কয়েক দিন আগে) রেশমী কাপড় সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তো এটা তোমাকে পরিধান করার জন্য দেইনি। তখন উমর রা. তা মক্কায় বসবাসকারী তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।
হাদীস নং ২৪৩৮
মুহাম্মদ ইবনে জাফর রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফাতিমার ঘরে গেলেন। কিন্তু ভিতরে প্রবেশ না করে (ফিরে এলে) আলী রা. ঘরে এলে তিনি তাকে ঘটনা জানালেন। তিনি আবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বিষয়টি আরয করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তার দরজায় নকশা করা পর্দা ঝুলতে দেখেছি। দুনিয়ার চাকচিক্যের সঙ্গে আমার কি সম্পর্ক? আলী রা.-এর কাছে এসে ঘটনা খুলে বললেন। (সব শুনে) ফাতিমা রা. বললেন, তিনি আমাকে এ সম্পর্কে যা ইচ্ছা নির্দেশ দিন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অমুক পরিবারের অমুকের কাছে এটা পাঠিয়ে দাও, তাদের বেশ প্রয়োজন আছে।
হাদীস নং ২৪৩৯
হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন। আমি তা পরিধান করলাম। তাঁর মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টির ভাব দেখতে পেয়ে আমি আমার (আত্মীয়) মহিলাদের মাঝে তা ভাগ করে দিয়ে দিলাম।
হাদীস নং ২৪৪০
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে একটি রেশমী জুব্বা হাদিয়া দেওয়া হল। অথচ তিনি রেশমী কাপড় ব্যবহারে নিষেধ করতেন। এতে সাহাবীগণ খুশী হলেন। তখন তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, জান্নাতে সাদ ইবনে মুআযের রুমালগুলো এর চেয়ে উৎকৃষ্ট। সাঈদ রহ. কাতাদা রহ.-এর মাধ্যমে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন যে দুমার উকাইদর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাদিয়া দিয়েছিলেন।
হাদীস নং ২৪৪১
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহাব রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ইয়াহুদী মহিলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে বিষ মিশানো বকরী নিয়ে এল। সেখান থেকে কিছু অংশ তিনি খেলেন এবং মহিলাকে হাযির করা হল। তখন বলা হল, আপনি কি একে হত্যার আদেশ দিবেন না? তিনি বললেন, না। আনাস রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (মুখ গহবরের) তালুতে আমি বরাবরই বিষক্রিয়ার আলামত দেখতে পেতাম।
হাদীস নং ২৪৪২
আবু নুমান রহ……..আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (কোন এক সফরে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আমরা একশ ত্রিশজন লোক ছিলাম। সে সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন , তোমাদের কারো সাথে কি খাবার আছে ? দেখা গেল, এক ব্যক্তির সঙ্গে এক সা’ কিংবা তার কমবেশী পরিমাণ খাদ্য আছে। সে আটা গোলানো হল। তারপর দীর্ঘ দেহী এলোমেলো চুল বিশিষ্ট এক মুশরিক এক পাল বকরী হাকিয়ে নিয়ে এল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, বিক্রি করবে, না উপতার দিবে? সে বলল, না, বরং বিক্রি করব। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছ থেকে একটা বকরী কিনে নিলেন। সেটাকে যবেহ করা হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর কলিজা ভুনা করার আদেশ দিলেন। আল্লাহর কসম ! একশ ত্রিশ জনের প্রত্যেককে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই কলিজার কিছু কিছু করে দিলেন। যে উপস্থিত ছিল, তাকে হাতে দিলেন; আর যে অনুপস্থিত ছিল তার জন্য তুলে রাখলেন। তারপর দুটি পাত্রে তিনি গোশত ভাগ করে রাখলেন। সবাই তৃপ্তির সাথে খেলেন। আর উভয় পাত্রে কিছু উদ্ধৃত্ত থেকে গেল। সেগুলো আমরা উটের পিঠে উঠিয়ে নিলাম। অথবা রাবী যা বললেন।
