হাদীস নং ২৪২২
হিব্বান ইবনে মূসা রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরের ইচ্ছা করলে স্ত্রীদের মাঝে কুরআর প্রক্রিয়া গ্রহণ করতেন । যার নাম আসত তিনি তাকে নিয়েই সফরে বের হতেন। এছাড়া প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য একদিন একদিন এক রাত নির্ধারিত করে দিতেন। তবে সাওদা বিনতে যামআ রা. নিজের অংশের দিন ও রাত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা রা.-কে দান করেছিলেন। এর দ্বারা তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সন্তুষ্টি কামনা করতেন।
হাদীস নং ২৪২৩
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার দু’জন প্রতিবেশী আছে। এ দু’জনের কাকে আমি হাদিয়া দিব? তিনি বললেন, এ দুয়ের মাঝে যার দরজা তোমার অধিক নিকটবর্তী।
হাদীস নং ২৪২৪
আবুল ইয়ামান রহ……..আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী সাআব ইবনে জাছছামা লাইছী রা.-কে বলতে শুনেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি একটি বন্য গাধা হাদিয়া দিয়েছিলেন। তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় আবওয়াহ কিংবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তাই তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন। সাআব রা. বলেন, যখন তিনি আমার চেহারায় ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি বললেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি। এ কারণ ব্যতীত তোমার হাদিয়া ফিরিয়ে দেওয়ার কোন কারণ নেই।
হাদীস নং ২৪২৫
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু হুমাইদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আযদ গোত্রের ইবনে উতবিয়া নামক এক ব্যক্তিকে সাদকা সংগ্রহের কাজে নিয়োগ করেছিলেন। তিনি ফিরে এসে বললেন, এগুলো আপনাদের (অর্থাৎ সাদকার মাল) আর এগুলো আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তার বাবার ঘরে কিংবা তার মায়ের ঘরে কেন বসে থাকল না? তখন সে দেখত, তাকে কেউ হাদিয়া দেয় কিনা? যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম, সাদকার মাল থেকে সামান্য পরিমাণও যে আত্মসাৎ করবে, সে তার কাধে করে কিয়ামতের দিন হাযির হবে। সে মাল যদি উট হয় তাহলে তা তরা আওয়াজে, আর যদি গাভী হয় তাহলে হাম্বা হাম্বা করে আর যদি বকরী হয় তাহলে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে (আওয়াজ করতে থাকবে)। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দু’হাত এতটুকু উত্তোলন করলেন যে, আমরা তাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি তিনবার বললেন, হে আল্লাহ ! আমি কি পৌছে দিয়েছি? হে আল্লাহ আমি কি পৌছে দিয়েছি?
হাদীস নং ২৪২৬
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত ,তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, বাহরাইন থেকে মাল এসে পৌঁছলে তোমাকে আমি এভাবে তিনবার দিব, কিন্তু বাহরাইনের মাল আসার পূর্বেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হল। পরে আবু বকর রা.-এর নির্দেশে জনৈক ঘোষক ঘোষণা দিল; নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কারো জন্য কোন প্রতিশ্রুতি থাকলে কিংবা কারো কোন ঋণ থাকলে সে যেন আমার কাছে আসে। এ ঘোষণা শুনে আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বাহরাইনের সম্পদ এলে কিছু) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তখন তিনি আমাকে অঞ্জলী ভরে তিনবার দান করলেন।
হাদীস নং ২৪২৭
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…………মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কিছু কবা (পোষাক বিশেষ) বন্টন করলেন। কিন্তু মাখরামাকে তা থেকে একটিও দিলেন না। মাখরামা রা. তখন (ছেলেকে) বললেন, প্রিয় বৎস ! আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে নিয়ে চল। (মিসওয়ার রা. বলেন) আমি তার সঙ্গে গেলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, যাও, ভেতরে গিয়ে তাকে আমার জন্য আহবান জানাও। (মিসওয়ার রা.) বলেন, এরপর আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আহবান জানালাম। তিনি বেরিয়ে এলেন। তখন তাঁর কাছে একটি করা ছিল। তিনি বললেন, এটা আমি তোমার জন্য হিফাযত করে রেখে দিয়েছিলাম। মাখরামা রা. সেটি তাকিয়ে দেখলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মাখরামা খুশী হয়ে গেছে।
হাদীস নং ২৪২৮
মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল এবং বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তা কি? সে বলল, রমাযানে (দিবাভাগে) আমি স্ত্রী সহবাস করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কোন গোলামের ব্যবস্থা করতে পারবে ? সে বলল, না, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি একাধারে দু’মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তাহলে তুমি কি ষাটজন মিসকিনকে খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। বর্ণনাকারী বলেন, ইতিমধ্যে জনৈক আনসারী এক আরক খেজুর নিয়ে হাযির হল। আরক হল নির্দিষ্ট মাপের খেজুর পাত্র। তখন তিনি বললেন, যাও, এটা নিয়ে গিয়ে সাদকা করে দাও। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের চেয়ে অধিক অভাবগ্রস্ত কাউকে সাদকা করে দিব? যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম কংকরময় মরুভূমির মধ্যবর্তী স্থানে আমাদের চেয়ে অভাবগ্রস্ত কোন ঘর নেই । শেষে তিনি বললেন, আচ্ছা, যাও এবং তা তোমার পরিবার-পরিজনদের খাওয়াও।
