হাদীস নং ২৪১২
আবু মামার রহ……….আযরা ইবনে সাবিত আনসারী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন ছুমামা ইবনে আবদুল্লাহ রহ.-এর কাছে গেলাম, তিনি আমাকে সুগন্ধি দিলেন এবং বললেন, আনাস রা. কখনো সুগন্ধি দ্রব্য ফিরিয়ে দিতেন না । তিনি আরো বলেন, আর আনাস রা. বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুগন্ধি ফিরিয়ে দিতেন না।
হাদীস নং ২৪১৩
সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ……….মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. ও মারওয়ান রা. থেকে বর্ণিত যে, তারা বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। তখন তিনি লোকদের সামনে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে আল্লাহ পাকের যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। এরপর বললেন, তোমাদের ভাইয়েরা আমদের কাছে তাওবা করে (মুসলমান হয়ে) এসেছে। আমি তাদেরকে ফেরত দিয়ে তাদের যুদ্ধবন্দীদের দেওয়া সংগত মনে করছি। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে করতে চায় তারা যেন তা করে। আর যে নিজের অংশ রেখে দিতে চায়, এভাবে প্রথম যে ফায় আল্লাহ আমাদের দান করবেন সেখান থেকে তার হিসসা আদায় করে দিব। (সে যেন তা করে) তখন সকলেই বললেন, আমরা আপনার সন্তুষ্টির জন্য তা করলাম।
হাদীস নং ২৪১৪
মুসাদ্দাদ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিয়া কবুল করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ওয়াকী ও মুহাযির রহ. হিশাম তার পিতা সূত্রে আয়িশা রা. থেকে উল্লেখ করেননি।
হাদীস নং ২৪১৫
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….নুমান ইবনে বাশীর রা. থেকে বর্ণিত যে, তার পিতা তাকে নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলেন এবং বললেন, আমি আমার এই ছেলেকে একটি গোলাম দান করেছি। তখন (তিনি) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি তুমি এরূপ দান করেছ। তিনি বললেন, না (তা করিনি) তিনি বললেন, তবে তুমি তা ফেরত নাও।
হাদীস নং ২৪১৬
হামীদ ইবনে উমর রহ……..আমির রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নুমান ইবনে বশীর রা.-কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছি যে, আমার পিতা আমাকে কিছু দান করেছিলেন। তখন (আমার মাতা) আমরা বিনতে রাওয়াহা রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সাক্ষী রাখা ছাড়া (এ দানে) সম্মত নই। তখন তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হাযির হয়ে আরয করলেন, আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার পুত্রকে কিছু দান করেছি। কিন্তু ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে আমকে বলেছে, আপনাকে সাক্ষী রাখতে। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি এ ধরনের দান করেছ? তিনি বললেন, না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তবে আল্লাহকে ভয় কর এবং আপন সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা কর (নুমান রা.) বলেন, এরপর তিনি ফিরে এসে তার দান প্রত্যাহার করলেন।
হাদীস নং ২৪১৭
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তার কষ্ট বেড়ে গেল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রীগণের কাছে আমার ঘরে সেবা-শুশ্রূষা লাভের ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। তারা তাকে সম্মতি দিলেন। তারপর একদিন দু’ব্যক্তির উপর ভর করে বের হলেন, তখন তার উভয় কদম মুবারক মাটি স্পর্শ করছিল । তিনি আব্বাস রা. ও আরেক ব্যক্তির মাঝে ভর দিয়ে চলছিলেন। উবায়দুল্লাহ রহ. বলেন, আয়িশা রা. যা বললেন, তা আমি ইবনে আব্বাস রা. -এর কাছে আরয করলাম, তিনি তখন আমাকে বললেন, জানো, আয়িশা রা. যার নাম উল্লেখ করলেন, না তিনি কে ? আমি বললাম, না, (জানিনা) তিনি বললেন, তিনি হলেন আলী ইবনে আবু তালিব রা.।
হাদীস নং ২৪১৮
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে তার দান ফেরত নেয়, সে ঐ কুকুরের ন্যায় যে বমি করে এরপর পুনরায় খায়।
হাদীস নং ২৪১৯
আবু আসিম রহ………আসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যুবায়ের রা. আমার কাছে যে ধন-সম্পদ রাখেন, সেগুলো ছাড়া আমার নিজস্ব কোন ধন-সম্পদ নেই। এমতাবস্থায় আমি কি (তা থেকে) সাদকা করব ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, সাদকা করতে পার। লুকিয়ে রাখবে না। তাহলে তোমার ক্ষেত্রে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) লুকিয়ে রাখা হবে।
হাদীস নং ২৪২০
উবায়দুল্লাহ ইবনে সঈদ রহ………..আসমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (আল্লাহর পথে) খরচ কর, আর হিসাব করতে যেওনা, তাহলে আল্লাহ তোমার বেলায় হিসাব করে দিবেন। লুকিয়ে রাখবে না, তবে আল্লাহও তোমার লুকিয়ে রাখবেন।
হাদীস নং ২৪২১
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….মায়মূনা বিনতে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুমতি না নিয়ে তিনি আপন বাদীকে আযাদ করে দিলেন। তারপর তার ঘরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থানের দিন তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি জানেন আমি আমার বাদী আযাদ করে দিয়েছি? তিনি বললেন, তুমি কি তা করেছ? মায়মূনা রা. বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, শুনো! তুমি যদি তোমার মামাদেরকে এটা দান করতে তাহলে তোমার জন্য তা অধিক পুণ্যের হত। অন্য সনদে বাকর ইবনে মুযার রহ………কুরায়ব রহ. থেকে বর্ণিত যে, মায়মূনা রা. গোলাম আযাদ করেছেন।
