হাদীস নং ২১৭০
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু উমামা বাহিলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লাঙ্গলের হাল এবং কিছু কৃষি যন্ত্রপাতি দেখে বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি এটা যে সম্প্রদায়ের ঘরে প্রবেশ করে, আল্লাহ সেখানে অপমান প্রবেশ করান। রাবী মুহাম্মদ (ইবনে যিয়াদ রহ.) বলেন, আবু উমামা রা.-এর নাম হল সুদাই ইবনে আজলান।
হাদীস নং ২১৭১
মুআয ইবনে ফাযালা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি শস্য খেতের পাহাড়া কিংবা পশুর হিফাযতের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে কুকুর পোষে, প্রতিদিন তার নেক আমল থেকে এক কীরাত পরিমাণ কমতে থাকবে। ইবনে সীরীন ও আবু সালিহ রহ. আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। বকরী অথবা ক্ষেতের হিফাযত কিংবা শিকারের উদ্দেশ্য ছাড়া । আবু হাযিম রহ. আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, শিকার ও পশুর হিফাযত করার কুকুর।
হাদীস নং ২১৭২
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………সুফিয়ান ইবনে আবু যুহাইর রা. থেকে বর্ণিত, যিনি আযদ-শানুআ গোত্রের লোক, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এমন কুকুর পোষে যা ক্ষেত ও গবাদী পশুর হিফাযতের কাজে লাগে না, প্রতিদিন তার নেক আমল থেকে এক কীরাত পরিমাণ কমতে থাকে। আমি বললাম, আপনি কি এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এ মসজিদের রবের কসম (আমি তাঁর কাছেই শুনেছি)।
হাদীস নং ২১৭৩
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এক ব্যক্তি একটি গরুর উপর সাওয়ার ছিল, তখন গরুটি সে ব্যক্তির দিকে লক্ষ্য করে বলল, আমাকে এ কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। আমাকে চাষাবাদ তথা ক্ষেতের কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি আবু বকর ও উমর রা. এটা বিশ্বাস করি। তিনি আরো বললেন : এক নেকড়ে বাঘ একটি বকরী ধরেছিল, রাখাল তাকে ধাওয়া করল। নেকড়ে বাঘটা তাকে বলল, সেদিন হিংস্র জন্তুর প্রাধান্য হবে, যেদিন আমি ছাড়া কেউ তার রাখাল থাকবে না, সেদিন কে তাকে রক্ষা করবে? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : আমি আবু বকর ও উমর রা. এটা বিশ্বাস করি। আবু সালামা রা. বলেন, তারা দু’জন (আবু বকর ও উমর রা.) সেদিন মজলিসে হাযির ছিলেন না।
হাদীস নং ২১৭৪
হাকাম ইবনে নাফি রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনসাররা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমাদের এবং আমাদের ভাই (মুহাজির)-দের মধ্যে খেজুরের বাগান ভাগ করে দিন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : না। তখন তাঁরা (মুহাজিরগণকে) বললেন, আপনারা আমাদের বাগানে কাজ করুন, আমরা আপনাদেরকে ফলে অংশীদার করব। তাঁরা বললেন, আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।
হাদীস নং ২১৭৫
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনূ নাযির গোত্রের বুওয়াইরা নামক (স্থানে অবস্থিত বাগানটির খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দিয়েছেন এবং বৃক্ষ কেটে ফেলেছেন। এ সম্পর্কে হাসসান রা. (তাঁর রচিত কবিতায়) বলেছেন, বুওয়াইরা নামক স্থানে অবস্থিত বাগানটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে আর বনূ লূয়াই গোত্রের সর্দাররা তা সহজে মেনে নিল।
হাদীস নং ২১৭৬
মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ………রাফি ইবনে খাদিজ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনাবাসীদের মধ্যে বেশী যমীন আমাদের ছিল। আমরা ভাগে যমীনে চাষ করতে দিতাম এবং সে ক্ষেতের এক নির্দিষ্ট অংশ জমির মালিকের জন্য নির্ধারিত করে দিতাম। তিনি বলেন, কখনো এ অংশের উপর দুর্যোগ আসতো, অন্য অংশ নিরাপদ থাকতো। আবার কখনো অন্য অংশের উপর দুর্যোগ আসতো আর এ অংশ নিরাপদ থাকতো। আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিল। আর সে সময় সোনা রূপার (বিনিময়ে জমি চাষ করার) প্রচলন ছিল না।
হাদীস নং ২১৭৭
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারবাসীদের উৎপাদিত ফল বা অর্ধেক ভাগের শর্তে জমি বর্গা দিয়েছিলেন। তিনি নিজের সহধর্মিণীদেরকে একশ ওসক দিতেন, এর মধ্যে আশি ওসক খুরমা ও বিশ ওসক যব। উমর রা. (তাঁর খিলাফতকালে খায়বারের) জমি বন্টন করেন। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণীদের ইখতিয়ার দিলেন যে, তাঁরা জমি ও পানি নিবেন, না কি তাদের জন্য ওটাই চালু থাকবে, যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় ছিল। তখন তাদের কেউ জমি নিলেন আর কেউ ওসক নিতে রাযী হলেন আয়িশা রা. জমিই নিয়েছিলেন।
হাদীস নং ২১৭৮
