হাদীস নং ২১৬২
ইসহাক রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিলাল রা. কিছু বরনী খেজুর নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন : এগুলো কোথায় পেলে ? বিলাল রা. বললেন, আমাদের নিকট কিছু নিকৃষ্ট মানের খেজুর ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে তা দু’ সা’ বিনিময়ে এক সা’ কিনেছি। একথা শুনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হায় ! হায় ! এটাতো একেবারে সূদ ! এটাতো একেবারে সূদ ! এরূপ করো না। যখন তুমি উৎকৃষ্ট খেজুর কিনতে চাও, তখন নিকৃষ্ট খেজুর ভিন্নভাবে বিক্রি করে দাও। তারপর সেই মূল্যের বিনিময়ে উৎকৃষ্ট খেজুর কিনে নাও।
হাদীস নং ২১৬৩
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……….আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর রা. -এর সাদকা সম্পর্কিত লিপিতে ছিল যে, মুতাওয়াল্লী নিজে ভোগ করলে এবং তার বন্ধু-বান্ধবকে আপ্যায়ন করালে কোন গুনাহ নেই : যদি মাল সঞ্চয় করার উদ্দেশ্যে না থাকে। ইবনে উমর রা. উমর রা.-এর সাদকার মুতাওয়াল্লী ছিলেন। তিনি যখন মক্কাবাসী লোকদের নিকট অবতরণ করতেন, তখন তাদেরকে সেখান থেকে উপঢৌকন দিতেন।
হাদীস নং ২১৬৪
আবুল ওয়ালিদ হর……….যায়েদ ইবনে খালিদ ও আবু হুরায়রা রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে উনাইস (ইবনে যিহাক আসলামী) সে মহিলার কাছে যাও । যদি সে (অপরাধ) স্বীকার করে তবে তাকে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা কর।
হাদীস নং ২১৬৫
ইবনে সালাম রহ……….উকবা ইবনে হারিছ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নুআইমানকে অথবা ইবনে নুআইমানকে নেশাগ্রস্ত্র অবস্থায় আনা হল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে উপস্থিত লোকদেরকে তাকে প্রহার করতে আদেশ দিলেন। রাবী বলেন, যারা তাকে প্রহার করেছিল, তাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। আমরা তাকে জুতা দিয়ে এবং খেজুরের ডাল দিয়ে প্রহার করেছি।
হাদীস নং ২১৬৬
ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আমরা বিনতে আবদুর রাহমান রা. থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা রা. বলেন, আমি নিজ হাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর জন্তুর জন্য হার পাকিয়েছি। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নজি হাতে তাকে হার পরিয়ে (আমার পিতা) আবু বকর রা.-এর সঙ্গে পাঠিয়েছেন। কুরবানীর জন্তু যবেহ করার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উপর কোন কিছু হারাম থাকেনি, যা আল্লাহ তাঁর জন্য হালাল করেছেন।
হাদীস নং ২১৬৭
ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনায় আনসারদের মধ্যে আবু তালহাই সবচেয়ে বেশী ধনী ছিলেন এবং তাঁর সম্পদের মধ্যে বায়রুহা তাঁর সবচাইতে প্রিয় সম্পদ ছিল, এটা মসজিদের (নববীর) সম্মুখে অবস্থিত ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথায় যেতেন এবং এতে যে উৎকৃষ্ট পানি ছিল তা পান করতেন। যখন এ আয়াত নাযিল হল : “তোমরা যা ভালোবাস, তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না”(৩ : ৯২) তখন আবু তালহা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এসে দাঁড়ালেন এবং বললন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন : “তোমরা যা ভালোবাস, তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পূণ্য লাভ করবে না”। আর আমার সম্পদের মধ্যে বায়রুহা আমার কাছে সবচাইতে প্রিয় সম্পদ। আমি ওটা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করে দিলাম। এর সাওয়াব ও প্রতিদান আমি আল্লাহ নিকট প্রত্যাশা করছি। কাজেই ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি ওটাকে যেখানে ভালো মনে করেন, খরচ করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : বেশ। এটাতো চলে যাবার মত সম্পদ, এটা তো চলে যাওয়ার মত সম্পদ। তুমি এ ব্যাপারে যা বললে, আমি তা শুনলাম এবং আমি এটাই সংগত মনে করি যে, এটা তুমি তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বন্টন করে দিবে। আবু তালহা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তাই করবো। তারপর আবু তালহা রা. তার নিকটাত্মীয় ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। ইসমাঈল রহ. মালিক রহ. থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনায় ইয়াহইয়া রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। রাওহা মালিক রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, এতে তিনি ‘রায়িহুন’ স্থলে ‘রাবিহুন’ বলেছেন। এর অর্থ হল, লাভজনক।
হাদীস নং ২১৬৮
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বিশ্বস্ত কোষাধ্যক্ষ যে ঠিকমত ব্যয় করে, অনেক সময় বলেছেন : যাকে দান করতে বলা হয় তাকে তা পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্টচিত্তে দিয়ে দেয়। সেও (কোষাধ্যক্ষ) দানকারীদের একজন।
বর্গাচাষ অধ্যায় (২১৬৯-২১৯৫)
হাদীস নং ২১৬৯
কুতাইবা ইবনে সাঈদ ও আবদুর রাহমান ইবনে মুবারক রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে কোন মুসলমান ফলবান গাছ রোপণ করে কিংবা কোন ফসল ফলায় আর তা থেকে পাখি কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায় তবে তা তার পক্ষ থেকে সাদকা বলে গণ্য হবে। মুসলিম রহ……..আনাস রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
