হাদীস নং ২১১৬
হাজ্জাজ ও আলী রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার দুজন প্রতিবেশী রয়েছে, তাদের মধ্যে কাকে আমি হাদিয়া দিব? তিনি বললেন, উভয়ের মধ্যে যার দরজা তোমার বেশী কাছে।
ইজারা অধ্যায় (২১১৭-২১৪১)
হাদীস নং ২১১৭
মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……..আবু মূসা আশআরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমানতদার খাজাঞ্চি, যাকে কোন কিছু আদেশ করা হলে সন্তুষ্টচিত্তে তা আদায় করে, সে হল দানকারীদের একজন।
হাদীস নং ২১১৮
মুসাদ্দাদ রহ………আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাযির হলাম, আমার সঙ্গে আশআরী গোত্রের দু’জন লোক ছিল। তিনি বলেন, আমি বললাম, আমি জানতাম না যে, এরা কর্ম প্রার্থী হবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি কর্ম প্রার্থী হয়, আমরা আমাদের কাজে তাকে কখনো নিয়োজিত করি না অথবা বলেছেন কখনো করব না।
হাদীস নং ২১২৯
সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ কুরাইশী রহ……..আবু মাসউদ আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাদকা করার নির্দেশ দিলে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বাজারে চলে যেত এবং বোঝা বহন করে এক মুদ (খাদ্য) মজুরী হিসাবে পেত (এবং তা থেকে দান করত) আর তাদের কারো কারো এখন লক্ষ মুদ্রা রয়েছে। (বর্ণনাকারী শাকীক) বলেন, আমার ধারণা, এর দ্বারা তিনি (আবু মাসউদ) নিজেকে ইঙ্গিত করেছেন।
হাদীস নং ২১৩০
মুসাদ্দাদ রহ………..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণিজ্যিক কাফেলার সাথে সাক্ষাৎ করা থেকে নিষেধ করেছেন, এবং শহরবাসী, গ্রামবাসীর পক্ষে বেচা-কেনা করবে না। (রাবী তাউস রহ.) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে ইবনে আব্বাস, শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষে বেচা-কেনা করবে না-এর কথার অর্থ কি ? তিনি বললেন, শহরবাসী গ্রামবাসীর পক্ষে দালাল হবে না।
হাদীস নং ২১৩১
আমর ইবনে হাফস রহ…….খাব্বাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একজন কর্মকার ছিলাম। আমি আস ইবনে ওয়ায়িলের তরবারি বানিয়ে দিলাম। তার নিকট আমার পাওনা কিছু মজুরী জমে যায়। আমি পাওনা টাকার তাগাদা দিতে তার কাছে গেলাম। সে বলল, আল্লাহর কসম ! আমি তোমাকে টাকা দিব না, যে পর্যন্ত না তুমি মুহাম্মদকে অস্বীকার করবে। আমি বললম, আল্লাহর কসম, আমি তা করব না, যে পর্যন্ত না তুমি মৃত্যুবরণ করবে, তারপর পুনরুত্থিত হবে। সে বলল, আমি কি মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হব ? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, তাহলে তো সেখানে আমার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিও হবে । তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করে দিব। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করলেন। আপনি কি সে ব্যক্তিকে দেখেছেন, যে আমার নিদর্শন সমূহ অস্বীকার করে এবং বলে আমাকে (পরকালে) অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেওয়া হবে (২ : ৭৭)।
হাদীস নং ২১৩২
আবু নুমান রহ………আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবী কোন এক সফরে যাত্রা করেন। তারার এক আরব গোত্রে পৌছে তাদের মেহমান হতে চাইলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল।সে গোত্রের সরদার বিচ্ছু দ্বারা দংশিত হল। লোকেরা তার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করল। কিন্তু কিছুতেই কোন উপকার হল না। তখন তাদের কেউ বলল, এ কাফেলা যারা এখানে অবতরণ করেছে তাদের কাছে তোমরা গেলে ভাল হত। সম্ভাবত, তাদের কারো কাছে কিছু থাকতে পারে। ওরা তাদের নিকট গেল এবং বলল, হে যাত্রীদল ! আমাদের সরদারকে বিচ্ছু দংশন করেছে, আমরা সব রকমের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুতেই উপকার হচ্ছে না। তোমাদের কারো কাছে কিছু আছে কি ? তাদের একজন বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম আমি ঝাড়-ফুক করতে পারি। আমরা তোমাদের মেহমানদারী কামনা করেছিলাম, কিন্তু তোমরা আমাদের জন্য মেহমানদারী করনি। কাজেই আমি তোমাদের ঝাড়-ফুক করব না, যে পর্যন্ত না তোমরা আমাদের পারিশ্রমিক নির্ধারণ কর। তখন তারা এক পাল বকরীর শর্তে তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হল। তারপর তিনি গিয়ে আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন (সূরা ফাতিহা) পড়ে তার উপর ফু দিতে লাগলেন। ফলে সে (এমনভাবে নিরাময় হল) যেন বন্ধন থেকে মুক্ত হল এবং সে এমনভাবে চলতে ফিরতে লাগল যেন তার কোন কিছু ছিল না। (বর্ণনাকারী বলেন, ) তারপর তারা তাদের স্বীকৃত পারিশ্রমিক পুরোপুরি দিয়ে দিল। সাহাবীদের কেউ কেউ বলেন, এগুলো বন্টন কর। কিন্তু যিনি ঝাড়-ফুক করেছিলেন, তিনি বললেন এটা করব না, যে পর্যন্ত না আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তাকে এই ঘটনা জানাই এবং লক্ষ্য করি তিনি আমাদের কি হুকুম দেন। তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি বলেন, তুমি কিভাবে জানলে যে, সূরা ফাতিহা একটি দু’আ ? তারপর বলেন, তোমরা ঠিকই করেছ। বন্টন কর এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটা অংশ রাখ। এ বলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং শুবা রহ. বলেন, আমার নিকট আবু বিশর রহ. বর্ণনা করেছেন যে, আমি মুতাওয়াক্কিল থেকে এ হাদীস শুনেছি।
