হাদীস নং ২১০৫
কুতাইবা রহ……….শায়বানী রহ. থেকে বর্ণিত যে, রাবী বলেন, গম, যব ও কিসমিসে (সলম করতেন)। আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ রহ. সুফিয়ান রহ. সূত্রে শায়বানী রহ.-এর বর্ণনায় রয়েছে এবং যায়তুনে।
হাদীস নং ২১০৬
আদম রহ………আবুল বাখতারী তাঈ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে খেজুরে সলম করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর খাবার যোগ্য এবং ওযন করার যোগ্য হওয়ার আগে বিক্রি করা নিষেধ করেছেন। ঐ সময় এক ব্যক্তি বলল, কী ওযন করবে ? তার পাশের এক ব্যক্তি বলল, সংরক্ষিত হওয়া পর্যন্ত । মুআয রহ. সূত্রে শুবা রহ. থেকে আমর রা. বর্ণিত, আবুল বাখতারী রহ. বলেছেন, ইবনে আব্বাস রা.-কে বলতে শুনেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ (করতে) নিষেধ করেছেন।
হাদীস নং ২১০৭
আবুল ওয়ালীদ রহ………আবুল বাখতারী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে খেজুর সলম করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, খেজুর আহারযোগ্য হওয়ার আগে তা বিক্রি করা নিষেধ করা হয়েছে, আর নগদ রূপার বিনিময়ে বাকী রূপা বিক্রয় করতেও (নিষেধ করা হয়েছে)। আমি ইবনে আব্বাস রা.-কে খেজুরে সলম করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়ার যোগ্য এবং ওযনের যোগ্য হওয়ার আগে খেজুর বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।
হাদীস নং ২১০৮
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবুল বাখতারী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর রা.-কে খেজুর সলম করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আহারযোগ্য হওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে উমর রা. নিষেধ করেছেন এবং তিনি নগদ সোনা বা রূপার বিনিময়ে বাকীতে সোনা বা রূপা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আমি এ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়ার যোগ্য এবং ওযনের যোগ্য হওয়ার আগে খেজুর বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। আমি বললাম, এর ওযন করা কি? তখন তার নিকটে বসা একজন বলে উঠল, (অর্থাৎ) সংরক্ষণ পর্যন্ত।
হাদীস নং ২১০৯
মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইয়াহুদীর কাছ থেকে বাকীতে খাদ্য খরিদ করে তাঁর লৌহ নির্মিত বর্ম ইয়াহুদীর কাছে বন্ধক রেখেছেন।
হাদীস নং ২১১০
মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব রহ………আমাশ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সলম ক্রয়-বিক্রয়ে বন্ধক রাখা সম্পর্কে ইবরাহীমকে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেন, আমাকে আসওয়াদ রহ. আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইয়াহুদীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে বাকীতে খাদ্য খরিদ করে তার নিকট নিজের লৌহ নির্মিত বর্ম বন্ধক রেখেছেন।
হাদীস নং ২১১১
আবু নুআইম রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন তারা (মদীনাবাসী) দু’ ও তিন বছরের মেয়াদে ফলের বিক্রয়ে সলম করত। তিনি বলেন, তোমরা নির্দিষ্ট মাপে ও নির্দিষ্ট মেয়াদে সলম করবে। আবদুল্লাহ ইবনে ওয়ালীদ রহ……ইবনে আবু নাজীহ রহ. সূত্রে বর্ণিত, আর তিনি বলেন নির্দিষ্ট মাপে ও নির্দিষ্ট ওযনে।
হাদীস নং ২১১২
মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……..মুহাম্মদ ইবনে আবু মুজালিদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বুরদা ও আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রহ. আমাকে আবদুর রহমান ইবনে আবযা ও আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা.-এর নিকট পাঠালেন। আমি সলম (পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়) সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা উভয়ে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে (জিহাদে) আমরা মালে গনীমত লাভ করতাম, আমাদের কাছে সিরিয়া থেকে কৃষকগণ আসলে আমরা তাদের সঙ্গে গম, যব ও যায়তুন নির্দিষ্ট মেয়াদে সলম করতাম । তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তাদের কাছে সে সময় ফসল মওজুদ থাকত, কি থাকত না? তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করিনি।
হাদীস নং ২১১৩
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ (ইবনে উমর রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা (মুশরিকরা) গর্ভবতী উটনীর বাচ্চার বাচ্চা প্রসব করার মেয়াদে ক্রয়-বিক্রয় করত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ থেকে নিষেধ করলেন। (রাবী) নাফি রহ.-এর ব্যাখ্যা করেছেন, উটনী তার পেটের বাচ্চা প্রসব করবে।
শুফআ অধ্যায় (২১১৪-২১১৬)
হাদীস নং ২১১৪
মুসাদ্দাদ রহ……..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা হয়নি, তাতে শুফআ এর ফায়সালা দিয়েছেন। যখন সীমানা নির্ধারিত হয়ে যায় এবং রাস্তাও পৃথক হয়ে যায়, তখন শুফআ এর অধিকার থাকে না।
হাদীস নং ২১১৫
মাক্কী ইবনে ইবরাহীম রহ……….আমর ইবনে শারীদ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-এর কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রা. এসে তাঁর হাত আমার কাঁধে রাখেন। এমতাবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলাম আবু রাফি রা. এসে বললেন, হে সাদ ! আপনার বাড়িতে আমার যে দুটি ঘর আছে, তা আপনি আমার থেকে খরিদ করে নিন। সাদ রা. বললেন, আল্লাহর কসম, আমি সে দুটি খরিদ করব না। তখন মিসওয়ার রা. বললেন, আল্লাহর কসম, আপনি এ দুটো অবশ্যই খরিদ করবেন। সাদ রা. বললেন, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে কিস্তিতে চার হাজার (দিরহাম)-এর অধিক দিব না। আবু রাফি রা. বললেন, এই ঘর দুটির বিনিময়ে আমাকে পাঁচশ দীনার দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। আমি যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে না শুনতাম যে, প্রতিবেশী অধিক হকদার তার নৈকট্যের কারণে, তাহলে আমি এ দুটি ঘর আপনাকে চার হাজার (দিরহাম)-এর বিনিময়ে কিছুতেই দিতাম না। আমাকে এ দুটি ঘরের বিনিময়ে পাঁচশ দীনার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তারপর তিনি তা তাকে (সাদকে) দিয়ে দিলেন।
