রুকু – ৫
১৩৯। সেরূপ আমার প্রেরিতদের মধ্যে ইউনুস ছিলো অন্যতম ৪১১৯।
৪১১৯। ইউনুস নবীর বিশদ বিবরণের জন্য দেখুন [ ২১ : ৮৭-৮৮ ] আয়াত ও টিকা ২৭৪৪ এবং [ ৬৮ : ৪৮- ৫০ ] আয়াত। ইউনুস নবীকে প্রেরণ করা হয় নিনেভা নগরীতে, যার অধিবাসীরা ছিলো দুষ্টের শিরোমণি। তারা ইউনুস নবীর ধর্মোপদেশ গ্রহণে অস্বীকার করে ফলে তিনি ক্রুদ্ধভাবে তাদের উপরে আল্লাহ্র শাস্তিকে আহ্বান করেন। ফলে ইউনুস নবী ক্রুদ্ধ ভাবে সে স্থান ত্যাগ করেন। তিনি ভুলে গিয়েছিলেন যে আল্লাহ্ সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাকারী ও দয়ালু। আল্লাহ্র করুণা ও ক্ষমা পাপী ও পূণ্যাত্মা সবার জন্য সমভাবে প্রবাহমান। দেখুন পরবর্তী টিকা ও আয়াত [১০ :৯৮ ] ও টিকা ১৪৭৮।
আয়াতঃ 037.140
যখন পালিয়ে তিনি বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন।
When he ran away (like a slave from captivity) to the ship (fully) laden,
إِذْ أَبَقَ إِلَى الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ
Ith abaqa ila alfulki almashhooni
YUSUFALI: When he ran away (like a slave from captivity) to the ship (fully) laden,
PICKTHAL: When he fled unto the laden ship,
SHAKIR: When he ran away to a ship completely laden,
KHALIFA: He escaped to the loaded ship.
১৪০। যখন সে [ বন্দী ক্রীতদাসের মত ] পলায়ন করে বোঝাই নৌযানে পৌঁছুলো ৪১২০,
৪১২০। ইউনুস নবীর উম্মতগণ তাঁর ধর্মোপদেশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর ফলে তিনি মর্মাহত হন এবং আল্লাহ্র আযাব আসতে কিছুটা বিলম্ব হওয়াতে ক্ষুব্ধ হন এবং কাউকে কিছু না বলে দেশ ত্যাগ করেন। ক্রীতদাসেরা যে ভাবে মনিবের নিকট থেকে পলায়ন করেন, তিনি সেভাবেই পলায়ন করেছিলেন। তাঁর উচিত ছিলো অকৃতকার্যতা সত্বেও আল্লাহ্ প্রদত্ত দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি একনিষ্ঠভাবে নিবেদিত থাকা। কিন্তু তিনি তা না করে তাড়াহুড়ো করে নৌযানে আরোহণ করেন। তাঁর এই মনোভাবকে এ ভাবে ব্যাখ্যা করা যায় যেনো তিনি আল্লাহ্র পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে চেয়েছিলেন এবং শাস্তিকে এড়িয়ে যাবেন।
উপদেশ : আল্লাহ্ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষকে কিছু না কিছু কর্তব্য কর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন। এই কর্তব্য সুষ্ঠ ভাবে পালন করাই তার ধর্ম। মেধা, মননশক্তি , প্রতিভা, সৃজন ক্ষমতা সবই এই কর্তব্যকে সঠিকভাবে অনুশীলনের জন্য দান করা হয়। সাফল্য বা ব্যর্থতা আসতে পারে কিন্তু কোনও অবস্থাতেই কর্তব্য কর্ম থেকে চ্যুত হওয়া চলবে না। ইউনুস নবীর জীবনীর মাধ্যমে আল্লাহ্ আমাদের এই শিক্ষাই দিয়েছেন যে আল্লাহ্র পরিকল্পনা ব্যর্থ করার ক্ষমতা কারও নাই।
আয়াতঃ 037.141
অতঃপর লটারী (সুরতি) করালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন।
He (agreed to) cast lots, and he was condemned:
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنْ الْمُدْحَضِينَ
Fasahama fakana mina almudhadeena
YUSUFALI: He (agreed to) cast lots, and he was condemned:
PICKTHAL: And then drew lots and was of those rejected;
SHAKIR: So he shared (with them), but was of those who are cast off.
KHALIFA: He rebelled and thus, he joined the losers.
১৪১। তখন সে লটারীতে যোগ দান করতে সম্মত হলো, এবং সে দোষী সাব্যস্ত হলো ৪১২১
৪১২১। যাত্রী এবং বাণিজ্য সম্ভারে পরিপূর্ণ নৌযানটি যাত্রাপথে প্রতিকূল আবহাওয়ার সম্মুখীন হয়। জাহাজের নাবিকেরা তাদের কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাসের দরুন বিশ্বাস করতো কোনও পালতক ব্যক্তির কারণে তারা দুযোর্গের সম্মুখীন হয়েছে। নাবিকেরা তাকে খুঁজে বের করার জন্য লটারীর সাহায্য নেয়।লটারীতে ইউনুস নবীর নাম উঠলে তারা তাকে পানিতে নিক্ষেপ করে।
আয়াতঃ 037.142
অতঃপর একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলল, তখন তিনি অপরাধী গণ্য হয়েছিলেন।
Then the big Fish did swallow him, and he had done acts worthy of blame.
فَالْتَقَمَهُ الْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ
Failtaqamahu alhootu wahuwa muleemun
YUSUFALI: Then the big Fish did swallow him, and he had done acts worthy of blame.
PICKTHAL: And the fish swallowed him while he was blameworthy;
SHAKIR: So the fish swallowed him while he did that for which he blamed himself
KHALIFA: Consequently, the fish swallowed him, and he was the one to blame.
১৪২। অতঃপর একটি বিশাল মৎস্য তাকে গিলে ফেললো , ৪১২২ এবং সে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলো ৪১২৩।
৪১২২। মেসোপটেমিয়ার নদীতে বিশাল বিশাল মাছ থাকে। এখানে ‘Hut’ যে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তার শাব্দিক অর্থ সম্ভবতঃ মাছ অথবা কুমীর। যদি তা নদীর মোহনার উম্মুক্ত সমুদ্র হয়ে থাকে তবে তা হবে তিমি মাছ। প্রকৃত স্থান কোরাণ শরীফে উল্লেখ নাই। ওল্ড টেস্টামেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী ইউনুস নবী সদুদ্রগামী জাহাজে আরোহণ করেন Joppa [ now Jaffa ] বন্দর থেকে , যার অবস্থান হচ্ছে ভূমধ্যসাগরের কূলে [Jonah i : 3 ]। বন্দরটি নিনেভা শহর থেকে কমপক্ষে ৬০০ মাইল দূরে অবস্থিত। কোন কোনও তফসীরকারের মতে জলপথটি ছিলো তাইগ্রীস নদী কারণ তাইগ্রীস নদীতে বিশাল বিশাল মাছের অস্তিত্ব বিরাজ করে।
