হাদিস নম্বরঃ ৬৩৬০ | 6360 | ٦۳٦۰
পরিচ্ছদঃ ২৮৪২. ব্যভিচারীর জন্য পাথর
৬৩৬০। আবুল ওয়ালীদ (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ও ইবনু যামআ (রাঃ) ঝগড়া করলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবদ ইবনু যামআ! এ সন্তান তোমারই। সন্তান শয্যাধিপতির। আর হে সাওদা! তুমি তার থেকে পর্দা কর। কুতায়বা (রহঃ) লায়স (রহঃ) থেকে আমাদেরকে এ বাক্যটি বেশি বলেছেন যে, ব্যভিচারীর জন্য পাথর।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৬১ | 6361 | ٦۳٦۱
পরিচ্ছদঃ ২৮৪২. ব্যভিচারীর জন্য পাথর
৬৩৬১। আদম (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিছানা যার সন্তান তার। আর ব্যভিচারীর জন্য পাথর।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৬২ | 6362 | ٦۳٦۲
পরিচ্ছদঃ ২৮৪৩. সমতল স্থানে রজম করা
৬৩৬২। মুহাম্মদ ইবনু উসমান (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এক ইহুদী পুরুষ ও এক ইহুদী নারীকে হাযির করা হল। তারা উভয়েই যিনা করেছে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, এ ব্যাপারে তোমরা তোমাদের কিতাবে কি পাচ্ছ? তারা বলল, আমাদের পদ্রীরা চেহারা কালো করার ও উভয়কে গাধার পিঠে বিপরীতমুখী বসিয়ে প্রদক্ষিণ করানোর প্রথা চালু করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদেরকে তাওরাত নিয়ে আসতে বলুন। এরপর তা নিয়ে আসা হল।
তাদের একজন রজমের আয়াতের উপর নিজের হাত রেখে দিল এবং এর অগ্র-পাশ্চাৎ পড়তে লাগল। তখন ইবনু সালাম (রাঃ) তাকে বললেন, তোমার হাত উঠও। (হাত উঠাতে দেখা গেল) তার হাতের নিচে রয়েছে রজমের আয়াত। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উভয়ের সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন, উভয়কে রজম করা হল। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, তাদের উভয়কে সমতল স্থানে রজম করা হয়েছে। তখন ইহুদী পুরুষটাকে দেখেছি ইহুদী নারীটির উপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৬৩ | 6363 | ٦۳٦۳
পরিচ্ছদঃ ২৮৪৪. ঈদগাহ্ ও জানাযা আদায়ের স্থানে রজম করা
৬৩৬৩। মাহমুদ (রহঃ) … জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে হাযির হয়ে যিনার স্বীকারোক্তি করল। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে সে নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি কি পাগল? সে বলল, না। তিনি তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন। তখন তাকে ঈদগাহে রজম করা হল। পাথর যখন তাকে অসহনীয় যন্ত্রণা দিচ্ছিল তখন সে পালাতে লাগল। তারপর তাকে ধরা হল ও রজম করা হল। অবশেষে সে মারা গেল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সমন্ধে ভালো মন্তব্য করলেন ও তার সালাতে জানাযা আদায় করলেন।
ইউনুস ও ইবনু জুরাইজ (রহঃ) যুহরী (রহঃ) থেকে فَصَلَّى عَلَيْهِ বাক্যটি বলেননি। আবূ আবদুল্লাহ বুখারী (রহঃ) কে প্রশ্ন করা হয়েছে صَلَّى عَلَيْهِ বর্ণনাটি কি বিশুদ্ধ? তিনি বললেনঃ এটিকে মা’মার বর্ননা করেছেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো এটিকে মা’মার ব্যতীত অন্যরা বর্ণনা করেছে কি? তিনি বললেনঃ না।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৬৪ | 6364 | ٦۳٦٤
পরিচ্ছদঃ ২৮৪৫. যে ব্যক্তি এমন অপরাধ করল যা হদ এর আওতাভুক্ত নয় এবং সে ইমামকে অবগত করল। তবে তওবার পর তার উপর কোন শাস্তি প্রয়োগ হবে না, যখন সে ফতোয়া জানার জন্য আসে। আতা (রহঃ) বলেন, নবী (সাঃ) এমন ব্যক্তিকে শাস্তি দেননি। ইবন জুরায়জ (রহঃ) বলেন, শাস্তি দেননি ঐ ব্যক্তিকে, যে রমযানে স্ত্রী সঙ্গম করেছে এবং উমর (রাঃ) শাস্তি দেননি হরিণ শিকারীকে। এ ব্যাপারে আবু উসমান (রহঃ) ইবন মাসউদ (রাঃ) সুত্রে নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা রয়েছে।
৬৩৬৪। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যাক্তি রমযানে আপন স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সংযোগ করে ফেললো। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ফতোয়া জানতে চাইল। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, একটি গোলাম আযাদ করার সামর্থ্য তোমার আছে কি? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি দু’মাস সিয়াম পালন করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও।
লায়স (রহঃ) এর সুত্রে আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত আছে যে, জনৈক ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মসজিদে আসল। তখন সে বলল, আমি ধংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ তা কার সাথে? সে বলল, আমি রমযানের মধ্যে আমার স্ত্রীর সাথে সংগম করে ফেলেছি। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তুমি সাদকা কর। সে বলল, আমার কাছে কিছুই নেই। সে বসে রইল। এমতাবস্থায় এক ব্যাক্তি একটি গাধা হাকিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এল। আর তার সাথে ছিল খাদ্যদ্রব্য।
আবদুর রহমান (রহঃ) বলেনঃ আমি অবগত নই যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কি আসল? অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যাক্তিটি কোথায়? সে বলল, এই তো আমি। তিনি বললেনঃ এগুলো নিয়ে সাদকা করে দাও। সে বলল আমার চেয়ে অধিক অভাবী লোকদের? আমার পরিবারের কাছে সামান্য আহার্যও নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে তা তোমরাই খেয়ে নাও।
