হাদিস নম্বরঃ ৬৩৬৫ | 6365 | ٦۳٦۵
পরিচ্ছদঃ ২৮৪৬. কেউ শাস্তির স্বীকারোক্তি করল অথচ বিস্তারিত বলেনি, তখন ইমামের জন্য তা গোপন রাখা বৈধ কি?
৬৩৬৫। আবদুল কুদ্দুস ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। তখন এক ব্যাক্তি তার কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! ঘটনা আমি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে ফেলেছি। তাই আমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করুন। কিন্তু তিনি তাকে অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন না। আনাস (রাঃ) বলেন। তখন সালাত (নামায/নামাজ) এর সময় এসে গেল। সে ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করল। যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করলেন, তখন সে ব্যাক্তি তার কাছে গিয়ে দাঁড়াল এবং বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে ফেলেছি। তাই আমার উপর আল্লাহর বিধান প্রয়োগ করান। তিনি বললেনঃ তুমি কি আমার সঙ্গে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করনি? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমার গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। অথবা বললেনঃ তোমার শাস্তি (মাফ করে দিয়েছেন)।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৬৬ | 6366 | ٦۳٦٦
পরিচ্ছদঃ ২৮৪৭. স্বীকারোক্তিকারীকে ইমাম কি এ কথা বলতে পারে যে, সম্ভবত তুমি স্পর্শ করেছ অথবা ইশারা করেছ?
৬৩৬৬। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ জু’ফী (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, যখন মায়িয ইবনু মালিক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল তখন তাকে বললেন সম্ভবত তুমি চুম্বন খেয়েছ অথবা ইশারা করেছ অথবা (কু দৃষ্টিতে) তাকিয়েছ? সে বলল, না, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেনঃ তাহলে কি তার সাথে তুমি সঙ্গম করেছ? কথাটি অস্পষ্ট করে বলেন নি। সে বলল হ্যাঁ। তখন তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৬৭ | 6367 | ٦۳٦۷
পরিচ্ছদঃ ২৮৪৮. স্বীকারোক্তিকারীকে ইমামের প্রশ্ন ‘তুমি কি বিবাহিত’?
৬৩৬৭। সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এল। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। এসে তাকে ডাক দিল হে আল্লাহর রাসুল! আমি যিনা করেছি, সে নিজেকেই উদ্দেশ্য করেছে। তখন তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কিন্তু সে ঐদিকেই সরে দাঁড়াল, যে দিকটি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে সন্মুখে করলেন, এবং বলল, হে আল্লাহর রাসুল আমি যিনা করেছি। তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন, আর সে এদিকেই এল যে দিকে তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। লোকটি যখন স্বীয় নফসের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করল তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার মধ্যে পাগলামী আছে কি? সে বলল, না, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, তা হলে তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল। তিনি বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং রজম করো।
ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আমাকে এ হাদীস এমন ব্যাক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, তার রজমকারীদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমরা তাকে ঈদগাহে বা জানাযা আদায়ের স্থানে রজম করেছি। পাথরের আঘাত যখন তাকে ব্যাকুল করে তুলল, তখন সে দ্রুত দৌড়াতে লাগল। অবশেষে আমরা হাররা নামক স্থানে তার নাগাল পাই এবং তাকে রজম করি।
হাদিস নম্বরঃ ৬৩৬৮ | 6368 | ٦۳٦۸
পরিচ্ছদঃ ২৮৪৯. যিনার স্বীকারোক্তি
৬৩৬৮। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা ও যায়িদ ইবনু খালিদ (রাঃ) থেকে বর্নিত। তারা বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে ছিলাম। জনৈক ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে বলল, আমি আপনাকে (আল্লাহর) কসম দিয়ে বলছি আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব মত ফায়সালা করুন। তখন তার প্রতিপক্ষ লোকটি দাঁড়াল। আর সে তার চেয়ে বুদ্ধিমান ছিল। তাই সে বলল, আপনি আমাদের ফায়সালা আল্লাহর কিতাব অনুযাযী-ই করে দিন। আর আমাকে অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ বল।
সে বলল, আমার ছেলে ঐ ব্যাক্তির অধীনে চাকর ছিল। সে তার স্ত্রীর সাথে যিনা করে ফেলে। আমি একাশ ছাগল ও একজন গোলামের বিনিময়ে তার সাথে আপোস করে নেই। তারপর আমি আলিমদের অনেককে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা আমাকে বললেন, আমার ছেলের শাস্তি একশ কশাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। আর রজম হল তার স্ত্রীর শাস্তি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কসম ঐ সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই আমি কিতাবুল্লাহ অনুযায়ী তোমাদের উভয়ের ফায়সালা করব। একশ- ছাগল ও গোলাম তোমার কাছে ফেরত যাবে। আর তোমার ছেলের উপর একশত কষাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন। হে উনাইস! তুমি প্রত্যূষে ঐ ব্যাক্তির স্ত্রীর কাছে যাবে। যদি সে স্বীকার করে তরে তাকে রজম করবে।
পরদিন প্রত্যূষে তিনি তার কাছে গেলেন। অরে সে স্বীকার করল। ফলে তাকে রজম করলেন। আমি সুফিয়ান (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, ঐ ব্যাক্তি কি এ কথা বলেনি যে, লোকেরা আমাকে বলেছে যে, আমার ছেলের ওপর রজম হবে। তখন তিনি বললেন, যুহরী (রহঃ) থেকে এ কথা জেনেছি কিনা, এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ ররেছে। তাই কখনো এ কথা বর্ণনা করি। আর কখনো চুপ থাকি।
