হাদিস নম্বরঃ ৬৭৩২ | 6732 | ٦۷۳۲
পরিচ্ছদঃ ৩০৫৯. আকাঙ্ক্ষা করা এবং যিনি শাহাদাত প্রত্যাশা করেন
৬৭৩২। সাঈদ ইবনু উফায়র (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! যদি কিছু লোক আমার সঙ্গে শরীক না হয়ে পিছনে থেকে যাওয়াটা অপছন্দ না করত, আর সবাইকে বাহন (যুদ্ধ সরঞ্জাম) সরবরাহ করতে আমি অক্ষম না হতাম, তাহলে আমি কোন যুদ্ধ থেকেই পিছনে থাকতাম না। আমার বড়ই কামনা হয় যে, আমাকে আল্লাহর পথে শহীদ করা হয়, আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয় আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয় আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয়।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৩৩ | 6733 | ٦۷۳۳
পরিচ্ছদঃ ৩০৫৯. আকাঙ্ক্ষা করা এবং যিনি শাহাদাত প্রত্যাশা করেন
৬৭৩৩। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! আমি কামনা করি যেন আল্লাহর পথে যুদ্ধ করি। এতে আমাকে শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয় আবার শহীদ করা হয়। আবার জীবিত করা হয় আবার শহীদ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, বাক্যটি তিনি তিনবার বলেছের। এ ব্যাপারে আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৩৪ | 6734 | ٦۷۳٤
পরিচ্ছদঃ ৩০৬০. কল্যানের প্রত্যাশা করা। রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এর বাণীঃ যদি ওহুদ পাহাড় আমার জন্য স্বর্নে পরিনত হতো
৬৭৩৪। ইসহাক ইবনু নাসর (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যদি ওহুদ (পাহাড়) পরিমাণ স্বর্ণ আমার কাছে থাকত, তাহলে আমি মনে করতাম যে, তিন রাতও এরূপ অবস্থায় অতিবাহিত না হোক যে ঋন, আদায় করার জন্য ব্যতীত একটি দ্বীনারও আমার কাছে থাকুক যা গ্রহণ করার মত লোক পাই।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৩৫ | 6735 | ٦۷۳۵
পরিচ্ছদঃ ৩০৬১. রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এর বাণীঃ কোন কাজ সম্পর্কে যা পরে জানতে পেরেছি, তা যদি আগে জানতে পারতাম
৬৭৩৫। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়য় (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার এ ব্যাপারে যদি আমি পূর্বে জানতাম যা পরে জানতে পেরেছি তাহলে আমি হাদী (কুরবানীর পশু) সঙ্গে আনতাম না এবং লোকেরা যখন হালাল হয়েছে, তখন আমিও (ইহরাম) ছেড়ে হালাল হয়ে যেতাম।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৩৬ | 6736 | ٦۷۳٦
পরিচ্ছদঃ ৩০৬১. রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এর বাণীঃ কোন কাজ সম্পর্কে যা পরে জানতে পেরেছি, তা যদি আগে জানতে পারতাম
৬৭৩৬। হাসান ইবনু উমর (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম এবং আমরা হাজ্জের তালবিয়া পাঠ করলাম। তারপর যিলহাজ্জ মাসের চারদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমরা মক্কায় এসে পৌছলাম তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে এবং সাফা ও মারওয়ার সায়ী করতে আদেশ দিলেন এবং এটাকে উমরা বানাতে ও ইহরাম খুলে হালাল হতে বললেন। তবে যাদের সাথে হাদী ছিল তাদের এ হুকুম দেননি। জাবির (রাঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তালহা (রাঃ) ছাড়া আমাদের আর কারো সাথে হাদী ছিল না। এ সময় আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে আসলেন। তাঁর সাথে হাদী ছিল। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রূপ ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও সেরূপ ইহরাম বেধেছি।
সাহাবা কিরাম (রাঃ) বললেন, আমরা মিনার দিকে যাচ্ছি অথচ আমাদের কারো কারো পুরুষাঙ্গ বীর্য টপকাচ্ছে তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আমার এ বিষয়ে যদি পুর্বে জানতাম যা আমি পরে জানতে পেরেছি, তাহলে আমি হাদী সঙ্গে আনতাম না। আর আমার সঙ্গে যদি হাদী না থাকত তাহলে আমি অবশ্যই হালাল হয়ে যেতাম। রাবী বলেন, পরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরা-ই-আকাবাতে কংকর নিক্ষেপ করছিলেন, এমতাবস্থায় তার সাথে সুরাকা ইবনু মালিক (রাঃ) সাক্ষাৎ করলেন। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটা কি শুধু আমাদের জন্যই? তিনি বললেনঃ না, বরং এটা চিরদিনের জন্য।
জাবির (রাঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ) ঋতুমতী অবস্থায় মক্কায় পৌছে ছিলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নির্দেশ দিলেন যে, হাজ্জের (হজ্জ) যাবতীয় কাজকর্ম যথারীতি করে যাও, তবে পবিত্র হওযার আগ পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করো না এবং সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করো না। তারা যখন বুতহা নামক স্থানে অবতরণ করলেন, আয়িশা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনারা একটি হাজ্জ (হজ্জ) ও একটি উমরা নিয়ে ফিরলেন। আর আমি কি শুধুমাত্র একটি হাজ্জ (হজ্জ) নিয়ে ফিরব? জাবির (রাঃ) বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর সিদীক (রাঃ) কে তাকে তানঈমে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। পরে আয়িশা (রাঃ) যিলহাজ্জ্ব মাসে হাজ্জের (হজ্জ) দিনগুলোর পরে একটি উমরা আদায় করেন।
