হাদিস নম্বরঃ ৬৭২৬ | 6726 | ٦۷۲٦
পরিচ্ছদঃ ৩০৫৫. খলীফা বানানো
৬৭২৬। ইবরাহীম ইবনু মূসা (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমর (রাঃ) এর দ্বিতীয় ভাষণটি শুনেছেন যা তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পরদিন মিম্বরে বসে দিয়েছিলেন। তিনি ভাষণ শুরু করলেন, তখন আবূ বকর (রাঃ) কোন কথা না বলে চুপ রয়েছেন। তিনি বলেন, আমি তো আশা করছিলাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন এবং আমাদের পিছনে যাবেন। এ থেকে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যে, তিনি সবার শেষে ইন্তেকাল করবেন। তবে মুহাম্মাদ যদিও ইন্তেকাল করেছেন, তবে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের মাঝে এমন এক নূর রেখেছেন, যার দ্বারা তোমরা হেদায়াত পাবে। আল্লাহ তা’আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (এ নুর দিয়ে) হেদায়াত করেছিলেন।
আর আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন তাঁর সঙ্গী এবং দু’জনের দ্বিতীয় জন। তোমাদের এ দায়িত্ব বহনের জন্য মুসলমানদের মধ্যে তিনই সর্বোত্তম। সুতরাং তোমরা উঠ এবং তার হাতে বায়’আত গ্রহণ কর। অবশ্য এক জামাআত ইতিপূর্বে বনী সাঈদা গোত্রের ছায়ানীড়ে তার হাতে বায়’আত গ্রহণ করেছিল। আর সাধারণ বায়’আত হয়েছিল মিম্বরের উপর। যুহরী (রহঃ) আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি সেদিন উমর (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি আবূ বকর (রাঃ)-কে বলছেন, মিম্বরে আরোহণ করুন। তিনি বারবার এ কথা বলতে বলতে অবশেষে আবূ বকর (রাঃ) মিম্বরে আরোহণ করলেন। অতঃপর তাঁর কাছে লোকেরা সাধারণ বায়’আত গ্রহণ করল।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭২৭ | 6727 | ٦۷۲۷
পরিচ্ছদঃ ৩০৫৫. খলীফা বানানো
৬৭২৭। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … যুবায়র ইবনু মুতঈম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক স্ত্রীলোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আসল এবং কোন এক ব্যাপারে তার সাথে কথা বলল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে পুনরায় আসার নির্দেশ দিলেন। স্ত্রীলোকটি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি পুনরায় এসে যদি আপনাকে না পাই? স্ত্রীলোকটি এ বলে (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) ইন্তেকালের কথা বোঝাতে চাইছিল। তিনি বললেনঃ যদি আমাকে না পাও, তাহলে আবূ বকরের কাছে আসবে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭২৮ | 6728 | ٦۷۲۸
পরিচ্ছদঃ ৩০৫৫. খলীফা বানানো
৬৭২৮। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবূ বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বুযাখা প্রতিনিধিদলকে বলেছিলেন যতদিন না আল্লাহ তাআলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খলীফা ও মুহাজিরীনদের এমন একটা পথ দেখিয়ে দেন যাতে তারা তোমাদের ওযর গ্রহন করেন, ততদিন পর্যন্ত তোমরা উটের লেজের পিছনে লেগে থাকবে (অর্থাৎ যাযাবর জীবন যাপন করবে)।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭২৯ | 6729 | ٦۷۲۹
পরিচ্ছদঃ ৩০৫৬. পরিচ্ছেদ নাই
৬৭২৯। মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, বারজন আমীর হবে। এরপর তিনি একটি কথা বলছিলেন যা আমি শুনতে পারিনি। তবে আমার পিতা বলেছেন যে, তিনি বলেছিলেন সকলেই কুরাইশ গোত্র থেকে হবে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৩০ | 6730 | ٦۷۳۰
পরিচ্ছদঃ ৩০৫৭. বিবাদমান সন্দেহযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাপারে জ্ঞান লাভ করার পর তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া। আবু বকর (রাঃ) এর বোনকে মৃত ব্যক্তির উপর বিলাপ করার কারনে ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন
৬৭৩০। ইসমাঈল (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ করে বলছি! আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি জালানি কাঠ সংগ্রহের নির্দেশ দেই। তারপর সালাত (নামায/নামাজ) এর আযান দেওয়ার জন্য হুকুম করি এবং একজনকে লোকদের ইমামত করাতে বলি। এরপর আমি জামায়াতে আসে নাই সেসব লোকদের কাছে যাই আর তাদেরসহ তাদের ঘরগুলো জালিয়ে দেই। আমার প্রাণ যে সত্তার হাতে তার শপথ করে বলছি, যদি তারা জানত যে, একটি গোশতবহুল হাড় কিংবা দুটি বকরীর ক্ষুর পাবে তাহলে তারা এশার জামাআতে অবশ্যই হাযির হত।
মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ আবদুল্লাহ (বুখারী) (রহঃ) বলেনঃ مِرْمَاةٌ অর্থ বকরীর ক্ষুরের মধ্যবর্তী গোশত। ছন্দগতভাবে مِنْسَاةٍ وَمِيضَاةٍ এর ন্যায় مِرْمَاةٌ এর মীম বর্ণটি যেরযুক্ত।
হাদিস নম্বরঃ ৬৭৩১ | 6731 | ٦۷۳۱
পরিচ্ছদঃ ৩০৫৮. শাসক আসামী ও অপরাধীদেরকে তার সাথে কথা বলা, দেখা-সাক্ষাৎ ইত্যাদি থেকে বারন করতে পারবেন কিনা?
৬৭৩১। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আবদুর রহমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আবদুল্লাহ ইবনু কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ), কা’ব (রাঃ) অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সন্তানদের থেকে তিনি তাঁকে (কা’ব) পথ দেখাতেন। তিনি বলেন, আমি কা’ব ইবনু মালিক (রাঃ) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন যে, যখন তিনি তাবুকের যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে যোগদান না করে রয়ে গেলেন। তারপর তিনি পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করে বললেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদেরকে আমাদের সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দিলেন। ফলে পঞ্চাশ রাত আমরা এভাবে অবস্থান করলাম। এরপর আল্লাহ তাআলা আমাদের তওবা কবুল করেছেন বলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়ে দিলেন।
