হাদিস নম্বরঃ ৬৬৭৯ | 6679 | ٦٦۷۹
পরিচ্ছদঃ ৩০২২. যে ব্যক্তি মসজিদে বসে বিচার করে ও লি’আন করে। উমর (রাঃ) রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এর মিম্বরের সন্নিকটে লি’আন করিয়েছেন। মারওয়ান যায়িদ ইবন সাবিত (রাঃ) এর উপর রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এর মিম্বরের কাছে কসম করার রায় দিয়েছিলেন। শুরায়হ্, শাবী, ইয়াহইয়া ইবন ইয়ামার মসজিদে বিচার করেছেন। হাসান ও যুরারাহ্ ইবন আওফা (রঃ) মসজিদের বাইরের চত্বরে বিচার করতেন।
৬৬৭৯। ইয়াহইয়া (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) বনূ সাঈদার ভ্রাতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, এক আনসারী ব্যাক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, আপনার কি রায়? যদি কোন ব্যাক্তি তার স্ত্রীর সাথে অন্য কোন পুরুষকে দেখতে পায় তাহলে কি সে তাকে হত্যা করবে? পরে সে ব্যাক্তি ও তার স্ত্রীকে মসজিদে লি’আন করানো হয়েছিল, তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬৮০ | 6680 | ٦٦۸۰
পরিচ্ছদঃ ৩০২৩. যে ব্যক্তি মসজিদে বিচার করে। পরিশেষে যখন ‘হদ’ কার্যকর করার সময় হয়, তখন দন্ডপ্রাপ্তকে মসজিদ থেকে বের করে হদ্ কার্যকর করার নির্দেশ দেয়। উমর (রাঃ) বলেন, তোমরা দু’জন একে মসজিদ থেকে বাইরে নিয়ে যাও। আলী (রাঃ) থেকেও এরুপ বর্ননা পাওয়া যায়।
৬৬৮০। ইয়াহইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এল। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। লোকটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ডেকে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি যিনা করে ফেলেছি। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে সে যখন নিজের ব্যাপারে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করল, তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি পাগল? লোকটি বলল, না। তখন তিনি বললেনঃ একে নিয়ে যাও এবং রজম (পাথর মেরে হত্যা) কর।
ইবনু শিহাব বলেন জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে যিনি শুনেছেন, তিনি আমাকে বলেছেন যে, যারা তাকে জানাযা পড়ার স্থানে নিযে রজম করেছিলেন আমি তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ইউনুস, মা’মার ও ইবনু জুরায়জ (রহঃ) জাবির (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রজম সম্পর্কে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬৮১ | 6681 | ٦٦۸۱
পরিচ্ছদঃ ৩০২৪. বিচারকের বিবাদমান পক্ষকে উপদেশ দেয়া
৬৬৮১। আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমিও মানুষ ছাড়া কিছু নই। তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে এসে থাক। হয়ত তোমাদের কেউ অন্যের তুলনার প্রমাণ উপস্থাপনের ব্যাপারে অধিক স্পষ্টবাদী। আর আমি তো যেরূপ শুনি সে ভিত্তিতেই বিচার করে থাকি। সুতরাং আমি যদি কারোর জন্য তার অপর কোন ভাইয়ের হক সম্পর্কে কোন ফায়সালা দেই, তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে। কেননা, আমি তার জন্য যে অংশ নির্ধারিত করলাম তা তো এক টুকরা অগ্নি মাত্র।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬৮২ | 6682 | ٦٦۸۲
পরিচ্ছদঃ ৩০২৫. বিচারক নিজে বিবাদের সাক্ষী হলে, চাই তা বিচারকের পদে সমাসীন থাকাকালেই হোক কিংবা তার পূর্বে। বিচারক শুরায়হকে এক ব্যক্তি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার আবেদন করলে তিনি বললেন, তুমি শাসকের কাছে যাও, সেখানে আমি তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিব। ইকরামা (রহঃ) বলেন যে, উমর (রাঃ) আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) কে বললেন, যদি তুমি শাসক হও, আর তুমি নিজে কোন ব্যক্তিকে হদের কাজ যিনা বা চুরিতে লিপ্ত দেখ (তাহলে তুমি কি করবে?) উত্তরে তিনি বললেন (আপনি শাসক হওয়া সত্ত্বেও) আপনার সাক্ষ্য একজন সাধারন মুসলমানের সাক্ষ্যের মতোই। তিনি [উমর (রাঃ)] বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ। উমর (রাঃ) বলেন, যদি মানুষ এরূপ বলবে বলে আশংকা না হতো যে, উমর আল্লাহর কিতাবে নিজের পক্ষ থেকে বৃদ্ধি করেছে, তাহলে আমি নিজ হাতে রজমের আয়াত লিখে দিতাম। মায়েয রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এর কাছে চারবার যিনার কথা স্বীকার করেছিলেন, তখন তাকে রজম করার নির্দেশ দেন। আর এরূপ বর্ননা পাওয়া যায়না যে, রাসূলূল্লাহ (সাঃ) উপস্থিত ব্যক্তিদের থেকে সাক্ষ্য গ্রহন করেছেন। হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, বিচারকের নিকট কেউ একবার স্বীকার করলে তাকে রজম করা হবে। আর হাকাম (রহঃ) বলেন, চারবার স্বীকার করতে হবে
৬৬৮২। কুতায়বা (রহঃ) … আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন শক্রপক্ষের কোন নিহত ব্যাক্তিকে হত্যা করার ব্যাপারে যার সাক্ষী আছে, সেই তার পরিত্যক্ত সম্পদ পাবে। (রাবী বলেন) আমি আমার কর্তৃক নিহত ব্যাক্তির সাক্ষী তালাশ করতে লাগলাম। কিন্তু আমার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিবে এমন কাউকে দেখতে পেলাম না, সুতরাং আমি বসে গেলাম। তারপর আমার খেয়াল হল। আমি তার হত্যার বিষয়টিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলাম। তখন তাঁর নিকট উপবিষ্ট ব্যাক্তিদের মধ্যে একজন বলল, যে নিহত ব্যাক্তির আলোচনা হচ্ছে তার হাতিয়ার আমার কাছে রয়েছে অতএব আপনি তাকে আমার পক্ষ হয়ে সন্তুষ্ট করে দিন। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, কখনো না। আপনি এই পাংশু কুরাইশকে কখনো দিবেন না। আল্লাহ ও রাসুলের পক্ষে যে আল্লাহর সিংহ যুদ্ধ করছে, তাকে আপনি বঞ্চিত করবেন। রাবী বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টি অনুধাবন করলেন এবং তা (হাতিয়ার ইত্যাদি) আমাকে প্রদান করলেন। আমি তা দিয়ে একটি বাগান খরিদ করলাম। এটাই ছিল আমার প্রথম-সম্পদ, যা আমি মূলধন হিসাবে সংরক্ষন করেছিলাম।
