আবদুল্লাহ (রহঃ) লাইহের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করতে فعلم رسول الله صلى الله عليه وسلم (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিযয়টি অনুধাবন করলেন) এর স্থলে فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে গেলেন) বর্ণনা করেছেন।
হিজাযের আলেমরা বলেন, শাসক তার জ্ঞানানুসারে বিচার করবে না, চাহে তা দায়িত্বকালে প্রত্যক্ষ করে থাকুক, কিংবা তার পূর্বেই। তাদের কারো কারো মতে যদি বাদী বিবাদীর কোন এক পক্ষ অপর পক্ষের হক সম্পর্কে বিচার চলাকালে তার সস্মুখেও স্বীকার করে তবুও তার ভিত্তিতে ফয়সালা করা যাবে না, যতক্ষন পর্যন্ত দু’জন সাক্ষী ডেকে সে ব্যাক্তির স্বীকারোক্তির সময় তাদের উপস্থিত না রাখবেন। কোন কোন ইরাকী আলেম বলেন, বিচার চলাকালে যা কিছু শুনবে বা দেখবে সে অনুযায়ি ফায়সালা করবে। তবে অন্য স্থানে যা কিছু টনবে বা দেখবে দু’জন সাক্ষী ছাড়া ফায়সালা করতে পারবে না। তাদের অন্যরা বলেন বরং সে ভিত্তিতে ফায়সালা করতে পারবে। কেননা সে তো বিশ্বস্ত। আর সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্য তো প্রকৃত সত্যকে অনুধাবন করা।
সুতরাং তার জানা (সাক্ষীর) সাক্ষ্যের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য। তাদের অন্য কেউ বলেন যে, মাল সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারক তার নিজের জানার ভিত্তিতে ফায়সালা করবে। তবে অন্য ব্যাপারে নয়। কাসেম (রহঃ) বলেন যে, অন্যের সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া শাসকের নিজের জ্ঞানানুসারে ফয়সালা করা উচিত নয় যদিও তার জানা অন্যের সাক্ষীর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য তবুও। এতে মুসলিম জনসাধারণের কাছে নিজেকে অপবাদের সন্মুখীন হতে হয় এবং তাদেরকে (মিথ্যা) সন্দেহে ফেলা হয়। কেননা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্দেহ করাকে পছন্দ করতেন না। এজন্যই তিনি পথচারীকে ডেকে বলে দিয়েছেনঃ এ হচ্ছে (আমার স্ত্রী) সাফিয়্যা।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬৮৩ | 6683 | ٦٦۸۳
পরিচ্ছদঃ ৩০২৫. বিচারক নিজে বিবাদের সাক্ষী হলে, চাই তা বিচারকের পদে সমাসীন থাকাকালেই হোক কিংবা তার পূর্বে। বিচারক শুরায়হকে এক ব্যক্তি তার পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার আবেদন করলে তিনি বললেন, তুমি শাসকের কাছে যাও, সেখানে আমি তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিব। ইকরামা (রহঃ) বলেন যে, উমর (রাঃ) আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) কে বললেন, যদি তুমি শাসক হও, আর তুমি নিজে কোন ব্যক্তিকে হদের কাজ যিনা বা চুরিতে লিপ্ত দেখ (তাহলে তুমি কি করবে?) উত্তরে তিনি বললেন (আপনি শাসক হওয়া সত্ত্বেও) আপনার সাক্ষ্য একজন সাধারন মুসলমানের সাক্ষ্যের মতোই। তিনি [উমর (রাঃ)] বললেন, তুমি ঠিকই বলেছ। উমর (রাঃ) বলেন, যদি মানুষ এরূপ বলবে বলে আশংকা না হতো যে, উমর আল্লাহর কিতাবে নিজের পক্ষ থেকে বৃদ্ধি করেছে, তাহলে আমি নিজ হাতে রজমের আয়াত লিখে দিতাম। মায়েয রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এর কাছে চারবার যিনার কথা স্বীকার করেছিলেন, তখন তাকে রজম করার নির্দেশ দেন। আর এরূপ বর্ননা পাওয়া যায়না যে, রাসূলূল্লাহ (সাঃ) উপস্থিত ব্যক্তিদের থেকে সাক্ষ্য গ্রহন করেছেন। হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, বিচারকের নিকট কেউ একবার স্বীকার করলে তাকে রজম করা হবে। আর হাকাম (রহঃ) বলেন, চারবার স্বীকার করতে হবে
৬৬৮৩। আবদুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … আলী ইবনু হুসাইন (রহঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মুল মু’মিনীন সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসেছিলেন। যখন তিনি প্রত্যাবর্তন করছিলেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে সাথে হাটছিলেন। এমতাবস্থায় দু’জন আনসারী ব্যাক্তি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করল। তিনি তাঁদেরকে ডাকলেন এবং বললেনঃ এ হচ্ছে সাফিয়্যা। তাঁরা (অবাক হয়ে) বলল, সুবহানাল্লাহ (আমরা কি আপনার ব্যাপারে সন্দেহ করতে পারি?) তিনি বললেনঃ শয়তান বনী আদমের ধমনীতে বিচরণ করে থাকে।
শুআয়ব … সাফিয়্যা (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬৮৪ | 6684 | ٦٦۸٤
পরিচ্ছদঃ ৩০২৬. দু’জন আমীরের প্রতি শাসনকর্তার নির্দেশ, যখন তাদের কোন স্থানের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়, যেন তারা পরস্পরকে মেনে চলে, বিরোধিতা না করে
৬৬৮৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) … আবূ বুরদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতা ও মু’আয ইবনু জাবালকে ইয়ামানে পাঠালেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা সহজ আচরণ করো, কঠোরতা প্রদর্শন করো না, তাদের সুসংবাদ শোনাও, ভীতি প্রদর্শন করো না এবং একে অপরকে মেনে চলো। তখন আবূ মূসা (রাঃ) তাকে বললেন, আমাদের দেশে ‘বিত’ নামক এক প্রকার পানীয় প্রস্তুত করা হয় (যা মধুর সিরকা থেকে তৈরি)। উত্তরে তিনি বললেনঃ প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম।
নাযর আবূ দাঊদ, ইয়াযিদ ইবনু হারুন, ওকী (রহঃ) … সাঈদ এর দাদা আবূ মূসা (রাঃ) সুত্রে এ হাদীসটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬৮৫ | 6685 | ٦٦۸۵
পরিচ্ছদঃ ৩০২৭. প্রশাসকের দাওয়াত কবুল করা। উসমান (রাঃ), মুগীরা ইবন শুবা (রাঃ) এর গোলামের দাওয়াত কবুল করেছিলেন।
৬৬৮৫। মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বন্দীদের মুক্ত কর, আর দাওয়াতকারীর দাওয়াত কবুল কর।
