হাদিস নম্বরঃ ৬৬৭৭ | 6677 | ٦٦۷۷
পরিচ্ছদঃ ৩০২১. প্রশাসক ও প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভাতা। বিচারপতি শুরায়হ্ (রঃ) বিচার কার্যের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহন করতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, (ইয়াতীমের) তত্ত্বাবধানকারী সম্পদ থেকে তার পারিশ্রমিকের সমপরিমান খেতে পারবেন। আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) (রাষ্ট্রীয় ভাতা) ভোগ করেছেন।
৩০২০. অনুচ্ছেদ: লোক কখন বিচারক হওয়ার যোগ্য হয়। হযরত হাসান (রঃ) বলেন, মহান আল্লাহ্ তা’আলা বিচারকদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, তারা যেন কখনও প্রবৃত্তির অনুসরন না করেন, মানুষকে ভয় না করেন এবং স্বল্প মূল্যের বিনিময়ে মহান আল্লাহর আয়াতকে বিক্রয় না করেন। এরপর তিনি (এর প্রমান হিসাবে পড়লেন। ইরশাদ হলো: হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি। অতএব তুমি লোকদের মধ্যে সুবিচার কর এবং খেয়াল-খুশীর অনুসরন করবে না। কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। যারা মহান আল্লাহর পথ পরিত্যাগ করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। কারন তারা বিচার দিবসকে বিস্মৃত হয়ে আছে। (৩৮: ২৬) তিনি আরো পাঠ করলেন, (মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন এর বানী) আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম। এতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো। নবীগন, যারা আল্লাহর অনুগত ছিল, তারা ইহুদীদের তদনুসারে বিধান দিত, আরো বিধান দিত রাব্বানীরা এবং বিজ্ঞানীরা, কারন তাদের করা হয়েছিল মহান আল্লাহর কিতাবের রক্ষক ….. মহান আল্লাহ্ তা’আলা যা অবতীর্ন করেছেন তদনুসারে যারা বিধান দেয়না তারাই সত্য প্রত্যাখ্যানকারী। (৫: ৪৪) এবং আরো পাঠ করলেন (মহান আল্লাহ্ তা’আলার বানী) স্মরন কর দাউদ ও সুলায়মানের কথা, যখন তারা বিচার করেছিল শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে, এতে রাতে প্রবেশ করেছিল কোন সম্প্রদায়ের মেষ, আমি প্রত্যক্ষ করছিলাম তাদের বিচার এবং সুলায়মানকে এ মিমাংসা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। আমি তাদের প্রত্যেককে দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান…..(২১: ৭৮-৭৯)
(মহান আল্লাহ্ তা’আলা) সুলায়মান (আঃ) এর প্রশংসা করেছেন, তবে দাউদ (আঃ) এর তিরস্কার করেননি। যদি মহান আল্লাহ্ তা’আলা দু’জনের অবস্থাকেই উল্লেখ না করতেন, তাহলে মনে করা হতো যে, বিচারকরা ধ্বংস হয়ে গেছেন। তিনি তাঁর (সুলায়মানের) ইলমের প্রশংসা করেছেন এবং (দাউদকে) তাঁর (ভুল) ইজতিহাদের জন্য ক্ষমা করে দিয়েছেন।
মুযাহিম ইবন যুফার (রঃ) বলেন, উমর ইবন আবদুল আযীয (রঃ) আমাদের বলেছেন যে, পাঁচটি গুন এমন যে, কাযীর মধ্যে যদি একটিরও অভাব থাকে তা হলে সেটা তার জন্য দোষ বলে গন্য হবে। তাকে হতে হবে বুদ্ধিমান, ধৈর্যশীল, পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও জ্ঞানী, জ্ঞানের অনুসন্ধিৎসু।
৬৬৭৭। আবুল ইয়ামান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু সা’দী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, উমর (রাঃ) এর খিলাফতকালে তিনি একবার তার কাছে আসলেন। তখন উমর (রাঃ) তাকে বললেন, আমাকে কি এ মর্মে অবগত করা হয়নি যে তুমি জনগণের অনেক দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে থাক। অথচ যখন তোমাকে এর পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়, তখন তুমি তা গ্রহণ কবাকে অপছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। উমর (রাঃ) বললেন, কি উদ্দেশ্যে তুমি এরূপ কর। আমি বললাম, আমার বহু ঘোড়া ও গোলাম রয়েছে এবং আমি ভাল অবস্থায় আছি। সুতরাং আমি চাই যে, আমার পারিশ্রমিক মুসলমান জনসাধারগের জন্য সাদাকা হিসাবে পরিগণিত হোক।
উমর (রাঃ) বললেনঃ এরূপ করো না। কেননা, আমিও তোমার মত এরূপ ইচ্ছা পোষণ করতাম। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে কিছু দিতেন, তখন আমি বলতাম, আমার চেয়ে যার প্রয়োজন বেশি তাকে প্রদান করুন। এতে একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার চেয়ে এ মালের প্রয়োজন যার বেশি তাকে দিন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একে গ্রহণ করে মালদার হও এবং বৃদ্ধি করে তা থেকে সাদাকা কর। আর এই মাল সম্পদের যা কিছু তোমার নিকট এভাবে আসে, তুমি যার প্রত্যাশী নও বা প্রার্থী নও তা গ্রহণ করো। অন্যথায় তাহলে তার পিছনে নিজেকে নিরত করো না।
যুহরী আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) সুত্রে বলেন, তিনি উমর (রাঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে যখন কিছু দান করতেন- তখন আমি বলতাম আমার চেয়ে যার প্রয়োজন বেশি তাকে দিন। এভাবে একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার চেয়ে যার প্রয়োজন বেশি তাকে প্রদান করুন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ একে গ্রহন কর এবং বৃদ্ধি করে তা থেকে সাদাকা কর। আর এই প্রকার মালের যা কিছু তোমার কাছে এমতাবস্থায় আসে যে তুমি তার প্রত্যাশীও নও এবং প্রার্থীও নও তাহলে তা গ্রহণ করা তবে যা এভাবে আসবে না তার পিছনে নিজেকে ধাবিত করো না।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬৭৮ | 6678 | ٦٦۷۸
পরিচ্ছদঃ ৩০২২. যে ব্যক্তি মসজিদে বসে বিচার করে ও লি’আন করে। উমর (রাঃ) রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এর মিম্বরের সন্নিকটে লি’আন করিয়েছেন। মারওয়ান যায়িদ ইবন সাবিত (রাঃ) এর উপর রাসূলূল্লাহ (সাঃ) এর মিম্বরের কাছে কসম করার রায় দিয়েছিলেন। শুরায়হ্, শাবী, ইয়াহইয়া ইবন ইয়ামার মসজিদে বিচার করেছেন। হাসান ও যুরারাহ্ ইবন আওফা (রঃ) মসজিদের বাইরের চত্বরে বিচার করতেন।
৬৬৭৮। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমি দু’জন (স্বামী-স্ত্রী) লিআনকারীকে প্রত্যক্ষ করেছি, তাদের বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। তখন আমার বয়স ছিল পনের বছর।
