হাদিস নম্বরঃ ৬৬১৪ | 6614 | ٦٦۱٤
পরিচ্ছদঃ ২৯৯২. নবী (সাঃ) এর বাণী ফিতনা পূর্ব দিক থেকে শুরু হবে
৬৬১৪। ইসহাক আল ওয়াসেতী (রহঃ) … সাঈদ ইবনু যুবায়র (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) আমাদের নিকট আসলেন। আমরা আশা করছিলাম যে, তিনি আমাদের একটি উত্তম হাদীস বর্ণনা করবেন। এক ব্যাক্তি তার দিকে আমাদের চেয়ে অগ্রসর হয়ে বলল, হে আবূ আবদুর রহমান! ফিতনার সময় যুদ্ধ করা সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন। কেননা, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ তাদের সাথে যুদ্ধ কর, যাবত ফিতনার অবসান ঘটে। তখন তিনি বললেনঃ তোমার মা তোমার জন্য বিলাপ করুক। ফিতনা কাকে বলে জানো কি? মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো যুদ্ধ করতেন মুশরিকদের বিরুদ্ধে। কেননা, তাদের শিরকের মধ্যে থাকাটাই মুলত ফিতনা। কিন্তু তা তোমাদের রাজ্য নিয়ে লড়াইর মতো ছিল না।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬১৫ | 6615 | ٦٦۱۵
পরিচ্ছদঃ ২৯৯৩. সমুদ্রের তরঙ্গের ন্যায় ফিত্না তরঙ্গায়িত। ইব্ন উয়ায়না (রহঃ) খালফ্ ইব্ন হাওশাব (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববর্তী লোকেরা নিম্নোক্ত কবিতার দ্বারা ফিত্নার উপমা পেশ করতে পছন্দ করতেন। যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থা যুবতীর মত, যে তার রূপ-লাবণ্য দিয়ে অপরিণামদর্শীর উদ্দেশ্যে ছুটাছুটি করে। কিন্তু যখন যুদ্ধের দাবানল দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে এবং তার ফুল্কিগুলো হয় পূর্ব যৌবনা, তখন সে বৃদ্ধা বিধবার ন্যায় পালিয়ে যায়, যার চুল অধিকাংশই সাদা হয়ে গেঠে, রঙ হয়ে গেছে ফিকে ও পরিবর্তিত, যার ঘ্রাণ নিতে ও চুমু খেতে ঘৃণা লাগে
৬৬১৫। উমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) … হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, এক সময় আমরা উমর (রাঃ) এর নিকট বসা ছিলাম। হঠাৎ তিনি বললেন, ফিতনা সম্পর্কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে স্মরণ রেখেছে? হুযায়ফা (রাঃ) বললেন, (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন) মানুষ নিজের পরিবার, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও প্রতিবেশী সংক্রান্ত ব্যাপারে যে ফিতনায় নিপতিত হয় সালাত (নামায/নামাজ), সাদাকা, সৎকাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ তার সে পাপকে মোচন করে দেয়। তিনি বললেন, আমি তোমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিনি এবং সে ফিতনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছি যা সাগর লহরীর মত ঢেউ খেলবে।
হুযায়ফা (রাঃ) বললেনঃ হে আমীরুল মুমিনীন! সে ফিতনায় আপনার কোন অসুবিধা হবে না। কেননা, সে ফিতনা ও আপনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। উমর (রাঃ) বললেন, দরজাটি কি ভেঙ্গে ফেলা হবে, না খুলে দেওয়া হবে? তিনি বললেন, না বরং ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমর (রাঃ) বললেনঃ তা হলে তো সেটা আর কখনো বন্ধ করা যাবে না। (হুযায়ফা বলেন) আমি বললাম, হ্যাঁ। (আকীক বলেন) আমরা হুযায়ফা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, উমর (রাঃ) কি দরজাটি সম্পর্কে জানতেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যেরুপ আমি সুনিশ্চিতভাবে জানি যে আগামী দিনের পর রাত আসবে। কেননা আমি তাকে এরূপ একটি হাদীস বর্ননা করেছিলাম যা ভ্রান্তিমুক্ত।
(শাকীক বলেন) দরজাটি কে সে সম্পর্কে হুযায়ফা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম, তাই আমরা মাসরুককে জিজ্ঞাসা করতে বললাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, দরজাটি কে? উত্তরে তিনি বললেনঃ উমর (রাঃ) (নিজেই)।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬১৬ | 6616 | ٦٦۱٦
পরিচ্ছদঃ ২৯৯৩. সমুদ্রের তরঙ্গের ন্যায় ফিত্না তরঙ্গায়িত। ইব্ন উয়ায়না (রহঃ) খালফ্ ইব্ন হাওশাব (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববর্তী লোকেরা নিম্নোক্ত কবিতার দ্বারা ফিত্নার উপমা পেশ করতে পছন্দ করতেন। যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থা যুবতীর মত, যে তার রূপ-লাবণ্য দিয়ে অপরিণামদর্শীর উদ্দেশ্যে ছুটাছুটি করে। কিন্তু যখন যুদ্ধের দাবানল দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে এবং তার ফুল্কিগুলো হয় পূর্ব যৌবনা, তখন সে বৃদ্ধা বিধবার ন্যায় পালিয়ে যায়, যার চুল অধিকাংশই সাদা হয়ে গেঠে, রঙ হয়ে গেছে ফিকে ও পরিবর্তিত, যার ঘ্রাণ নিতে ও চুমু খেতে ঘৃণা লাগে
৬৬১৬। সাঈদ ইবনু আবূ মারিয়াম (রহঃ) … আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজনবশত মদিনার (দেয়াল ঘেরা) বাগানসমূহের কোন একটি বাগানের উদ্দেশ্যে বের হলেন আমি তার পিছনে গেলাম। তিনি যখন বাগানে প্রবেশ করলেন আমি এর দরজায় বসে রইলাম এবং মনে মনে বললাম, অদ্য আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রহরীর কাজ আঞ্জাম দিব। অবশ্য তিনি আমাকে এর নির্দেশ দেননি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিতরে গেলেন এবং স্বীয় প্রয়োজন সেরে নিলেন। এরপর একটি কূপের পোস্তার উপর বসে পড়লেন এবং হাঁটুর নিচের অংশের কাপড় তুলে নিয়ে উভয় পা কুপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন।
এমন সময় আবূ বকর (রাঃ) এসে তার নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। আমি বললাম, আপনি অপেক্ষা করুন, যতক্ষন না আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসছি। তিনি অপেক্ষা করলেন। আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর নাবী! আবূ বকর (রাঃ) আপনার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইছেন। তিনি বললেনঃ তাকে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের শুভ সংবাদ দাও। আবু বকর (রাঃ) প্রবেশ করলেন এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডান পার্শ্বে গিয়ে বসলেন। এরপর তিনিও হাঁটুর নিচের অংশ অনাবৃত করে উভয় পা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন।
