ইয়াযীদ ইবনু আবূ উবায়দুল্লাহ বর্ণনা করেন যে, যখন উসমান ইবনু আফফান (রাঃ) নিহত হলেন, তখন সালমা ইবনু আকওয়া (রাঃ) ‘রাবাযা’য় চলে যান এবং সেখানে তিনি এক মহিলাকে বিয়ে করেন। সে মহিলার ঘরে তার কয়েকজন সন্তান জন্মলাভ করে। মৃত্যুর কয়েক দিন পূর্বে তিনি মদিনায় আগমন করেন। এর পূর্ব পর্যন্ত তিনি সেখানেই বসবাসরত ছিলেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬০৯ | 6609 | ٦٦۰۹
পরিচ্ছদঃ ২৯৯০. ফিতনার সময়ে বেদুঈন সুলভ জীবনযাপন করা বাঞ্ছনীয়
৬৬০৯। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে এমন এক সময় আসবে যখন মুসলমানদের সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ হবে ছাগল। ফিতনা থেকে দ্বীন রক্ষার্থে পলায়নের জন্য তারা এগুলো নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় এবং বারিপাতের স্থানসমূহে গিয়ে আশ্রয় নেবে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬১০ | 6610 | ٦٦۱۰
পরিচ্ছদঃ ২৯৯১. ফিত্না থেকে আশ্রয় প্রার্থনা
৬৬১০। মু’আয ইবনু ফাযালা (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, লোকেরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে প্রশ্ন করত। এমন কি প্রশ্ন করতে করতে তারা তাঁকে বিরক্ত করে তুলত। একদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বললেনঃ তোমরা (আজ) আমাকে যাই প্রশ্ন করবে, আমি তারই উত্তর প্রদান করব। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি ডানে বামে তাকাচ্ছিলাম। দেখতে পেলাম প্রত্যেকেই আপন বস্ত্রে মাথা গুজে কাঁদছে। তখন এমন এক ব্যাক্তি পারস্পরিক বাকবিতণ্ডার সময় যাকে অন্য এক ব্যাক্তির (যে প্রকৃতপক্ষে তার পিতা নয়) সন্তান বলে সন্মোধন করাতে উঠে জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর নাবী! আমার পিতা কে? তিনি বললেনঃ হুযাফা তোমার পিতা।
এরপর উমর (রাঃ) সম্মুখে এলেন আর বললেনঃ আমরা রব হিসেবে আল্লাহকে, দ্বীন হিসাবে ইসলামকে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রাসুল হিসেবে মেনে পরিতূষ্ট। ফিতনার অনিষ্ট থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এরপর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আজকের মত এত উত্তম বস্তু এবং এত খারাপ বস্তু আমি আর কখনো প্রত্যক্ষ করিনি। আমার সম্মুখে জান্নাত ও জাহান্নাম পেশ করা হয়েছে। এমনকি আমি সে দুটোকে এ দেয়ালের পাশেই দেখতে পাচ্ছিলাম। কাতাদা বলেন, উপরে বর্ণিত হাদীসটি নিন্নোক্ত আয়াত প্রসঙ্গে বলে উল্লেখ করা হয়। ইরশাদ হলোঃ হে যারা ঈমান এনেছ, তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে। (৫ঃ ১০১)।
আব্বাস নারসী (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে পূর্বোক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ সুত্রে আনাস (রাঃ) كُلُّ رَجُلٍ رَأْسُهُ فِي ثَوْبِهِ يَبْكِي এর স্থলে كُلُّ رَجُلٍ لاف رَأْسُهُ فِي ثَوْبِهِ يَبْكِي (প্রত্যেক ব্যক্তি তার মাথায় কাপড় দিয়ে আচ্ছাদিত করে কাঁদছিল) বলে উল্লেখ করেছেন। এবং نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ سُوءِ الْفِتَنِ এর স্থলে عَائِذًا بِاللَّهِ مِنْ سُوءِ الْفِتَنِ অথবা أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ سُوءِ الْفِتَنِ উল্লেখ করেছেন।
ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, খালীফা (রহঃ) … আনাস (রাঃ) এর বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পূর্বোক্ত হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। এ সুত্রে তিনি عَائِذًا بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ الْفِتَنِ বলেছেন।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬১১ | 6611 | ٦٦۱۱
পরিচ্ছদঃ ২৯৯২. নবী (সাঃ) এর বাণী ফিতনা পূর্ব দিক থেকে শুরু হবে
৬৬১১। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … সালিমের পিতা আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদা তিনি (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরের পাশে দণ্ডায়মান হয়ে বলেছেনঃ ফিতনা এ দিকে, ফিতনা সে দিকে যেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে। কিংবা বলেছিলেনঃ সূর্যের মাথা উদিত হয়।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬১২ | 6612 | ٦٦۱۲
পরিচ্ছদঃ ২৯৯২. নবী (সাঃ) এর বাণী ফিতনা পূর্ব দিক থেকে শুরু হবে
৬৬১২। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পূর্ব দিকে মুখ করে বলতে শুনেছেন, সাবধান! ফিতনা সে দিকে যে দিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬১৩ | 6613 | ٦٦۱۳
পরিচ্ছদঃ ২৯৯২. নবী (সাঃ) এর বাণী ফিতনা পূর্ব দিক থেকে শুরু হবে
৬৬১৩। আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের সিরিয়ায় বরকত দাও। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের ইয়ামানে বরকত দাও। লোকেরা বলল, আমাদের নজদেও। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের সিরিয়ায় বরকত দাও। হে আল্লাহ আমাদের জন্য বরকত দাও আমাদের ইয়ামানে। লোকেরা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের নজদেও। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয়, তৃতীয়বারে তিনি বললেনঃ সেখানে তো কেবল ভূমিকস্প আর ফিতনা। আর তথা হতে শয়তানের শিং উদিত হবে।
