এরপর উমর (রাঃ) আসলেন। আমি বললাম, আপনি স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে আসি। (অনুমতি প্রার্থনা করলে) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকে আসার অনুমতি দাও এবং জানাতের সুসংবাদ দাও। তিনি এসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাম দিকে বসলেন এবং তিনি নিচের অংশ অনাবৃত করে উভয় পা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। এতে কূপের পোস্তা পরিপূর্ণ হয়ে গেল এবং সেখানে বসার আর কোন স্থান অবশিষ্ট রইল না।
এরপর উসমান (রাঃ) আসলেন। আমি বললাম, আপনি স্বস্থানে অপেক্ষো করুন, যতক্ষন আমি আপনার জন্য অনুমতি নিয়ে না আসি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাঁকে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে বিপদাক্রান্ত হওয়াসহ জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি প্রবেশ করলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে বসার কোন স্থান পেলেন না। ফলতঃ তিনি বিপরীত দিকে এসে তাদের মুখোমুখী হয়ে কুয়ার পাড়ে বসে গেলেন এবং হস্তদ্বয়ের নিচের অংশ অনাবৃত করে উভয় পা কুয়ার অভ্যন্তরে ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তখন আমার অপর এক ভাই এর (আগমন) কামনা করছিলাম এবং আল্লাহর নিকট দোয়া করছিলাম যেন সে (এ মুহূর্তে) আগমন করে।
ইবনু মূসাইয়্যাব বলেন, আমি এ ঘটনার মর্মার্থ এভাবে গ্রহণ করেছি যে, তা হল তাদের তিনজনের কবরের নমুনা যা এখানে একসঙ্গে হয়েছে। আর উসমান (রাঃ)-র ভিন্ন স্থানে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬১৭ | 6617 | ٦٦۱۷
পরিচ্ছদঃ ২৯৯৩. সমুদ্রের তরঙ্গের ন্যায় ফিত্না তরঙ্গায়িত। ইব্ন উয়ায়না (রহঃ) খালফ্ ইব্ন হাওশাব (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববর্তী লোকেরা নিম্নোক্ত কবিতার দ্বারা ফিত্নার উপমা পেশ করতে পছন্দ করতেন। যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থা যুবতীর মত, যে তার রূপ-লাবণ্য দিয়ে অপরিণামদর্শীর উদ্দেশ্যে ছুটাছুটি করে। কিন্তু যখন যুদ্ধের দাবানল দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে এবং তার ফুল্কিগুলো হয় পূর্ব যৌবনা, তখন সে বৃদ্ধা বিধবার ন্যায় পালিয়ে যায়, যার চুল অধিকাংশই সাদা হয়ে গেঠে, রঙ হয়ে গেছে ফিকে ও পরিবর্তিত, যার ঘ্রাণ নিতে ও চুমু খেতে ঘৃণা লাগে
৬৬১৭। বিশর ইবনু খালিদ (রহঃ) … আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসামা (রাঃ) কে বলা হল আপনি কি এ ব্যাপারে কিছু বলবেন না? তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে বলেছি, তবে এমন পন্থায় নয় যে, আমি তোমার জন্য একটি দ্বার (ফিতনার) উন্মোচিত করব যাতে আমিই হব এর প্রথম উন্মোচনকারী এবং আমি এমন ব্যাক্তি নই যে, কোন লোক দুই ব্যাক্তির আমীর নিযুক্ত হওয়ার পর তার সম্পর্কে বলব, আপনি উত্তম। কেননা, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে (কিয়ামতের দিন) এক ব্যাক্তিকে নিয়ে আসা হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর তাকে গাঁধা দিয়ে চাকা ঘুরিয়ে যেমন গম পিষা হয়, সেরূপ পিষে ফেলা হবে। দোযখবাসীরা তার পাশে এসে সমবেত হবে এবং বলবে, হে অমুক! তুমিই কি আমাদের ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে না? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, আমি ভাল কাজের আদেশ করতাম, তবে আমি নিজে তা করতাম না এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতাম, তবে আমি নিজেই তা করতাম।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬১৮ | 6618 | ٦٦۱۸
পরিচ্ছদঃ ২৯৯৪. পরিচ্ছেদ নাই
৬৬১৮। উসমান ইবনু হায়সাম (রহঃ) … আবূ বাকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি কথা দ্বারা আল্লাহ তা’আলা জঙ্গে জামাল (উষ্ট্রের যুদ্ধ) এর সময় আমাকে বড়ই উপকৃত করেছেন। (সে কথাটি হল) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যখন এ সংবাদ পৌছলে যে, পারস্যের লোকেরা কিসরার কন্যাকে তাদের শাসক নিযুক্ত করেছে তখন তিনি বললেনঃ সে জাতি কখনই সফলকাম হবে না যারা তাদের শাসনভার কোন রমনীর হাতে অর্পণ করে।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬১৯ | 6619 | ٦٦۱۹
পরিচ্ছদঃ ২৯৯৪. পরিচ্ছেদ নাই
৬৬১৯। আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) … আবূ মারিয়াম আবদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ আসাদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তালহা, যুবায়র ও আয়িশা (রাঃ) যখন বসরার দিকে গমন করলেন, তখন আলী (রাঃ) আম্মার ইবনু ইয়াসির ও হাসান ইবনু আলী (রাঃ) কে প্রেরণ করলেন। তাঁরা আমাদের কুফায় আগমন করলেন এবং (মসজিদের) মিম্বরে উপবেশন করলেন। হাসান ইবনু আলী (রাঃ) মিম্বরের সর্বোচ্চ ধাপে উপবিষ্ট ছিলেন, আর আম্মার (রাঃ) হাসান (রাঃ) এর নিচের ধাপে দণ্ডায়মান ছিলেন। আমরা এসে তার নিকট সমবেত হলাম। এ সময় আমি শোনলাম, আম্মার (রাঃ) বলছেন, আয়িশা (রাঃ) বসরা অভিমুখে রওনা হয়ে গেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের (আমাদের) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এ কথা স্পষ্ট করে জেনে নেওয়ার জন্য তোমাদের পরীক্ষায় ফেলেছেন যে, তোমরা কি তাঁরই আনুগত্য কর, না তার অর্থাৎ আয়িশা (রাঃ) এর আনুগত্য কর।
হাদিস নম্বরঃ ৬৬২০ | 6620 | ٦٦۲۰
পরিচ্ছদঃ ২৯৯৪. পরিচ্ছেদ নাই
৬৬২০। আবূ নুআয়ম (রহঃ) … আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আাম্মার (রাঃ) কুফার (মসজিদের) মিম্বরে দণ্ডায়মান হলেন এবং তিনি আয়িশা (রাঃ) ও তার সফরের কথা উল্লেখ করলেন। এরপর তিনি বললেন, তিনি [আয়িশা (রাঃ)] ইহলোক ও পরলোকে তোমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পত্নী। কিন্তু বর্তমানে তোমরা তাঁকে নিয়ে ভীষণ পরীক্ষার মুখোমুখী হয়েছ।
