এই উক্তি দ্বারা হারুন তাঁর ভাই মুসার ঐকান্তিক ইচ্ছার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন মাত্র। মুসার ইচ্ছার নিহিতার্থ ছিলো উম্মতের ” বিশ্বাসের” একতা। এই আয়াতের মূল বক্তব্যে সেই ” ইচ্ছারই ” প্রকাশ ঘটানো হয়েছে। মূল বক্তব্যে ইসরাঈলী উম্মতের একতার উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সামিরীকে অপরাধ সংঘটক রূপে চিত্রিত করা হয়েছে, যে ইসরাঈলী সম্প্রদায়ের মাঝে বিভেদের বীজ বপন করেছিলো।
আয়াতঃ 020.095
মূসা বললেন হে সামেরী, এখন তোমার ব্যাপার কি?
[Mûsa (Moses)] said: ”And what is the matter with you. O Samiri? (i.e. why did you do so?)”
قَالَ فَمَا خَطْبُكَ يَا سَامِرِيُّ
Qala fama khatbuka ya samiriyyu
YUSUFALI: (Moses) said: “What then is thy case, O Samiri?”
PICKTHAL: (Moses) said: And what hast thou to say, O Samiri?
SHAKIR: He said: What was then your object, O Samiri?
KHALIFA: He said, “What is the matter with you, O Samarian?”
৯৫। মুসা বলেছিলো, ” হে সামিরী ! তোমার ব্যাপার কি ?” ২৬২০।
২৬২০। এবারে মুসা হারুনকে ত্যাগ করে সামিরীর দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করলেন। মুসার প্রশ্নের উত্তরে সামিরী বক্তব্যের উত্থাপন করেছিলো যার মাধ্যমে তার চরিত্রের বিশেষ দিক উন্মোচিত হয়। সম্পূর্ণ ঘটনার যে চিত্র এখানে তুলে ধরা হয়েছে তা প্রতীকধর্মী। যাদের ঈমানের ভিত্তি মজবুত নয় তারা অনুকূল পরিবেশে সত্যে বিশ্বাসী এবং আল্লাহ্র অনুগত থাকে। কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশে বা সুযোগ পেলেই তারা আল্লাহ্র বিরুদ্ধাচারণ করতে দ্বিধা বোধ করে না । এ সব লোক ফেরাউনের মত অহংকারী উদ্ধত ব্যক্তির থেকে কোন অংশে কম নয়। এরা ফেরাউনের মতই নেতা হিসেবে জাতিকে দুর্ভোগ ও দুর্যোগের পথে পরিচালিত করে।
আয়াতঃ 020.096
সে বললঃ আমি দেখলাম যা অন্যেরা দেখেনি। অতঃপর আমি সেই প্রেরিত ব্যক্তির পদচিহেßর নীচ থেকে এক মুঠি মাটি নিয়ে নিলাম। অতঃপর আমি তা নিক্ষেপ করলাম। আমাকে আমার মন এই মন্ত্রণাই দিল।
(Samiri) said: ”I saw what they saw not, so I took a handful (of dust) from the hoof print of the messenger [Jibrael’s (Gabriel) horse] and threw it [into the fire in which were put the ornaments of the Fir’aun’s (Pharaoh) people, or into the calf]. Thus my inner-self suggested to me.”
قَالَ بَصُرْتُ بِمَا لَمْ يَبْصُرُوا بِهِ فَقَبَضْتُ قَبْضَةً مِّنْ أَثَرِ الرَّسُولِ فَنَبَذْتُهَا وَكَذَلِكَ سَوَّلَتْ لِي نَفْسِي
Qala basurtu bima lam yabsuroo bihi faqabadtu qabdatan min athari alrrasooli fanabathtuha wakathalika sawwalat lee nafsee
YUSUFALI: He replied: “I saw what they saw not: so I took a handful (of dust) from the footprint of the Messenger, and threw it (into the calf): thus did my soul suggest to me.”
PICKTHAL: He said: I perceived what they perceive not, so I seized a handful from the footsteps of the messenger, and then threw it in. Thus my soul commended to me.
SHAKIR: He said: I saw (Jibreel) what they did not see, so I took a handful (of the dust) from the footsteps of the messenger, then I threw it in the casting; thus did my soul commend to me
KHALIFA: He said, “I saw what they could not see. I grabbed a fistful (of dust) from the place where the messenger stood, and used it (to mix into the golden calf). This is what my mind inspired me to do.”
৯৬। সে উত্তর দিয়েছিলো, ” আমি যা দেখেছিলাম তারা তা দেখে নাই : সুতারাং আমি সেই দূতের পদচিহ্ন থেকে একমুঠি [ ধূলা ] নিয়ে তা [ গোবৎসের ] উপর নিক্ষেপ করেছিলাম। এ ভাবেই আমার আত্মা আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলো ২৬২১। ”
২৬২১। হযরত মুসার প্রশ্নের জবাবে সামিরী যে উত্তর দান করে তা ছিলো, মিথ্যা ওজর দ্বারা সত্যকে এড়ানোর এক ধৃষ্টতাপূর্ণ নির্লজ্জ্ব অপচেষ্টা মাত্র। সে এমন এক ভানের আশ্রয় গ্রহণ করলো যাতে মনে হতে পারে সে সাধারণ অশিক্ষিত জনসাধারণের থেকে উন্নত চরিত্রের অধিকারী। সে যা প্রত্যক্ষ করতে পারে, সাধারণ অশিক্ষিত জনসাধারণ তা পারে নাই। সে দাবী করে যে সে এক অলৌকিক দৃশ্য অবলোকন করেছে। সে দেবদূতের অবতরণ প্রত্যক্ষ করেছে, যা সাধারণ লোক করে নাই। ” রাসুল ” [ রসুলের বহুবচন শব্দটি এখানে দেবদূতের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে যা এক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে [ ১১: ৬৯, ৭৭ ] এবং [ ৩৫ : ১ ] আয়াতে। এখানে ” রাসুল ” শব্দটি দ্বারা জিবরাঈলকে বোঝানো হয়েছে। যদি এখানে রাসুল শব্দটি দ্বারা আল্লাহ্র দূত হিসেবে হযরত মুসাকে উল্লেখ করা হয়, তবে এর অর্থ দাঁড়াবে সামিরী হযরত মুসার পদচিহ্নে অলৌকিক রহস্যের সন্ধান পান। সে কারণেই সে তাঁর পদচিহ্নের ধূলি ব্যবহার করে। হতে পারে তা ধূর্ত সামিরীর এক কূট কৌশল মাত্র। সম্ভবতঃ সে মনে করেছিলো যে, তোষামোদ দ্বারা সে মুসার মন আর্দ্র করতে পারবে ও ক্ষমা লাভ করবে। মুসার পবিত্র পদচিহ্নের ধূলিও পবিত্র , তাই সোনার গোবৎস নিম্নস্বরে হাম্বা রব করে। সে এ ভাবেই বক্তব্যের উপস্থাপন করেছে যেনো দূতদের বা মুসার পদচিহ্নের ধূলার অলৌকিক ক্ষমতাই আসল বস্তু। মূল অভিযোগ যে আল্লাহ্ ব্যতীত সোনার গোবৎসের পূঁজা , তা সে কৌশলে এড়িয়ে যায়। মূল অভিযোগের সে কোনও উত্তরই দেয় নাই। তবে শেষ পর্যন্ত সে ধৃষ্টতার সাথে উত্তর দান করে যে, ” এ ভাবেই আমার আত্মা আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলো।”
