হাদীস নং ২৭১৫
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের সময় তাঁর বর্মটি ত্রিশ সা’-এর বিনিময়ে এক ইয়াহুদীর কাছে বন্ধক ছিল। মুআল্লা আবদুল ওয়াহিদ রহ. সূত্রে আমাশ রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লৌহবর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। আর ইয়ালা রহ. আমাশ রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, বর্মটি ছিল লোহার।
হাদীস নং ২৭১৬
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির উদাহরণ এমন দু’ ব্যক্তির ন্যায়, যারা লৌহবর্ম পরিহিত। বর্ম দু’টি এত আঁটসাট যে, তাদের উভয়ের হাত কব্জায় আবদ্ধ রয়েছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে, তখন বর্মটি তার শরীরের উপর প্রসারিত হয়, এমনকি তা তার পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ ব্যক্তি যখন দান করতে ইচ্ছা করে তখন বর্মের কড়াগুলো পরস্পর গলে গিয়ে তার শরীরকে আকড়ে ধরে এবং তার উভয় হাত কণ্ঠের সাথে লেগে যায়। তারপর আবু হুরায়রা রা. বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, সে হাত দুটিকে প্রসারিত করতে চেষ্টা করে; কিন্তু প্রসারিত করতে পারে না।
হাদীস নং ২৭১৭
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……… মুগীরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন (প্রাকৃতিক) হাজত পূরণের জন্য গেলেন। সেখান থেকে ফিরে এলে আমি তাঁর কাছে পানি নিয়ে গেলাম। তিনি তা দিয়ে উযূ করেন। তাঁর পরিধানে ছিল শামী জোব্বা। তিনি কুলি করেন, নাকে পানি দেন ও মুখমণ্ডল ধৌত করেন। এরপর তিনি জামার আস্তিন গুটিয়ে দুটি হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু আস্তিন দুটি ছিল খুবই আঁটসাট। তাই তিনি ভেতর দিক দিয়ে হাত বের করে উভয় হাত ধুলেন এবং মাথা মসেহ করলেন এবং উভয় মোজার উপর মসেহ করলেন।
হাদীস নং ২৭১৮
আহমদ ইবনে মিকদাম রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান ইবনে আওফা রা. ও যুবাইর রা.-কে তাদের শরীরে চুলকানি থাকার কারণে রেশমী জামা পরিধান করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
হাদীস নং ২৭১৯
আবুল ওয়ালিদ ও মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, আবদুর রাহমান ও যুবাইর রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উকুনের অভিযোগ করলে তিনি তাদের রেশমী পোষাক পরিধানের অনুমতি দেন। আনাস রা. বলেন, আমি যুদ্ধে তাদের শরীরে তা দেখেছি।
হাদীস নং ২৭২০
মুসাদ্দাদ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রাহমান ইবনে আওফ ও যুবাইর ইবনুল আওয়ামকে রেশমী বস্ত্র পরিধানের অনুমতি দেন।
হাদীস নং ২৭২১
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত যে, শরীরে চুলকানির জন্য তাদের দু’জনকে (আবদুর রাহমান ও যুবাইর) রেশমী বস্ত্র পরিধানের অনুমতি দিয়েছিলেন বা দেয়া হয়েছিল।
হাদীস নং ২৭২২
আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আমর ইবনে উমায়্যা যামরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে (বকরীর) বাহু থেকে কেটে কেটে খেতে দেখেছি। তারপর তাকে সালাতের জন্য ডাকা হলে তিনি সালাত আদায় করলেন; কিন্তু তিনি উযূ করেননি। আবুল ইয়ামান রহ. শুয়াইব সূত্রে যুহরী রহ. থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুরি রেখে দিলেন।
হাদীস নং ২৭২৩
ইসহাক ইবনে ইয়াযীদ দিমাশকী রহ………উমাইর ইবনে আসওয়াদ আনসী রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি উবাদা ইবনে সামিত রা.-এর কাছে আসলেন। তখন উবাদা রা. হিমস উপকূলে তাঁর একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন উম্মে হারাম। উমাইর রহ. বলেন, উম্মে হারাম রা. আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, আমার উম্মাতের মধ্যে প্রথম যে দলটি নৌ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে তারা যেন জান্নাত অনিবার্য করে ফেলল। উম্মে হারাম রা. বলেন, আমি কি তাদের মধ্যে হবে? তিনি বললেন, তুমি তাদের মধ্যে হবে। উম্মে হারাম রা. বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মাতের প্রথম যে দলটি কায়সার (রোম সম্রাট) এর রাজধানী আক্রমণ করবে, তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত। তারপর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি তাদের মধ্যে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না।
হাদীস নং ২৭২৪
ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ফারবী রহ…………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমনকি তাদের কেউ যদি পাথরের আড়ালে আত্মগোপন করে তাহলে পাথরেও বলবে, হে আল্লাহর বান্দা! আমার পেছনে ইয়াহুদী রয়েছে, তাকে হত্যা কর।
হাদীস নং ২৭২৫
