ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যে পর্যন্ত না তোমরা ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। এমনকি কোন ইয়াহুদী পাথরের আড়ালে আত্মগোপন করে থাকলে, পাথর বলবে, হে মুসলিম, আমার পেছনে ইয়াহুদী রয়েছে, তাকে হত্যা কর।
হাদীস নং ২৭২৬
আবু নুমান রহ………আমর ইবনে তাগলিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের আলামত সমূহের একটি এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে করবে, যারা পশমের জুতা পরিধান করবে। কিয়ামতের আর একটি আলামত এই যে, তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখ হবে চাওড়া, যেন তাদের মুখমণ্ডল পিটানো চামড়ার ঢাল।
হাদীস নং ২৭২৭
সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, তোমরা এমন তুর্ক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের চোখ ছোট, চেহারা লাল, নাক চেপটা এবং মুখমণ্ডল পেটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়। আর ততদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না তোমরা এমন এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের।
হাদীস নং ২৭২৮
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে যাদের জুতা হবে পশমের। আর কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে পিটানো চামড়ার ঢালের ন্যায়। সুফিয়ান রহ. বলেন, আরাজ সূত্রে আবু হুরায়রা রা. থেকে আবু যযিনাদ এই রেওয়ায়তে অতিরিক্ত বর্ণনা করেন; তাদের চোখ হবে ছোট, নাক হবে চেপ্টা, তাদের চেহারা যেন পিটানো ঢালের ন্যায়।
হাদীস নং ২৭২৯
আমর ইবনে খালিদ রহ………বারা রা. থেকে বর্ণিত, তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, হে আবু উমারা! হুনায়নের যুদ্ধে আপনারা কি পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না, আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পলায়ন করেননি। বরং তাঁর কিছু সংখ্যক নওয়াজোয়ান সাহাবী হাতিয়ার বিহীন অবস্থায় অগ্রসর হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বানূ হাওয়াযিন ও বানূ নাসর গোত্রের সুদক্ষ তীরন্দাজের সম্মুখীন হন। তাদের কোন তীরই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। তারা এদের প্রতি এমনভাবে তীর বর্ষণ করলে যে, তাদের কোন তীরই ব্যর্থ হয়নি। সেখান থেকে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এস উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর শ্বেত খচ্চরটা পিঠে ছিলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিব তাঁর লাগাম ধরে ছিলেন। তখন তিনি অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন। এরপর তিনি বলেন, আমি নবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি আবদুল মুত্তালিবের পৌত্র। এরপর তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন।
হাদীস নং ২৭৩০
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……..আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করেন, আল্লাহ তাদের (মুশরিকদের) ঘর ও কবর আগুনে পূর্ণ করুন। কেননা তারা আসরের সালাত থেকে আমাদের ব্যতিব্যস্ত রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়।
হাদীস নং ২৭৩১
কাবীসা রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনূতে নাযিলায় এই দু’আ করতেন, ইয়া আল্লাহ! আপনি সালামা ইবনে হিশামকে নাজাত দিন। ইয়া আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনে ওয়ালীদকে নাজাত দিন। ইয়া আল্লাহ! আয়্যাশ ইবনে আবী রাবী-কে নাজাত দিন। ইয়া আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদের নাজাত দিন। ইয়া আল্লাহ মুযার গোত্রকে সমূলে ধ্বংস করুন। ইয়া আল্লাহ! (মুশরিকদের উপর) ইউসুফ আ.-এর সময়কালের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ নাযিল করুন।
হাদীস নং ২৭৩২
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহযাবের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে মুশরিকদের বিরুদ্ধে দু’আ করেছিলেন যে, হে কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ! ইয়া আল্লাহ! তাদের সকল দলকে পরাজিত কর। ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের পরাভূত করুন এবং পর্যুদস্ত করুন।
হাদীস নং ২৭৩৩
আবদুল্লাহ ইবনে আবু শায়বা রহ……….আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার ছায়ায় সালাত আদায় করছিলেন। তখন আবু জাহল ও কুরাইশদের কিছু লোক পরামর্শ করে। সেই সময় মক্কার বাইরে, একটি উট যবেহ হয়েছিল। কুরাইশরা একজন পাঠিয়ে সেখান থেকে এর গর্ভথলি নিয়ে এল এবং তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিঠে ঢেলে দিল। তারপর ফাতিমা রা. এসে এটি তাঁর থেকে সরিয়ে দিলেন। এই সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে দু’আ করেন, ইয়া আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের ধ্বংস করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের ধ্বংস করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি কুরাইশদের ধ্বংস করুন। অর্থাৎ আবু জাহল, ইবনে হিশাম, উতবা ইবনে রবীআ, শায়বা ইবনে রবীআ, ওয়ালীদ ইবনে উতবা, উবাই ইবনে খালফ এবং উকবা ইবনে আবী মুআইত (তাদের ধ্বংস করুন)। আবদুল্লাহ রহ.বলেন, এরপর আমি তাদের সকলকে বদরের একটি পরিত্যক্ত কূপে নিহত দেখেছি। আবু ইসহাক রহ. বলেন, আমি সপ্তম ব্যক্তির নাম ভূলে গিয়েছি। শুবা রহ. বলেন, উমাইয়া অথবা উবাই। তবে সহীহ হল উমাইয়া। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ইউসুফ ইবনে আবু ইসহাক রহ. আবু ইসহাক রহ. সূত্রে উমাইয়া ইবনে খালফ।
