হাদীস নং ২৭০৯
আবুল ইয়ামান রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে নাজদের দিকে কোন এক যুদ্ধে বের হয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যাবর্তন করলে তিনিও তাঁর সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করেন। তারা যখন কন্টকাকীর্ণ বৃক্ষরাজীতে ঢাকা এক উপত্যকায় উপস্থিত হলেন তখন তাদের দিবা বিশ্রামের সময় এল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে অবতরণ করেন। লোকেরা ছায়ার আশ্রয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বাবলা গাছের নীচে অবতরণ করেন এবং তাতে তাঁর তরবারি ঝুলিয়ে রাখলেন। তারপর আমরা সকলেই ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ এক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ডাকতে লাগলেন। দেখলাম তাঁর পার্শ্বে একজন গ্রাম্য আরব। তিনি বললেন, আমার নিদ্রাবস্থায় এই ব্যক্তি আমারই তরবারি আমারই উপর বের করে ধরেছে। জেগে উঠে দেখতে পেলাম যে, তার হাতে খোলা তরবারি। সে বলল, আমার থেকে তোমাকে কে রক্ষা করবে, আমি বললাম, আল্লাহ! আল্লাহ! তিনবার। এবং তার উপর তিনি কোন প্রতিশোধ নেননি, অথচ সে সেখানে বসে আছে।
হাদীস নং ২৭১০
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……….সাহল রা. থেকে বর্ণিত যে, তাকে উহুদের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আঘাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখমণ্ডল আহত হল এবং তাঁর সামনের দুটি দাঁত ভেঙ্গে গেল, তাঁর মাথার শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে গেল। ফাতিমা রা. রক্ত ধুইতে ছিলেন আর আলী রা. পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। তিনি যখন দেখতে পেলেন যে, রক্তক্ষরণ বাড়ছেই, তখন একটি চাটাই নিয়ে তা পুড়িয়ে ছাই করলেন এবং তা ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিলেন। তারপর রক্তক্ষরণ বন্ধ হল।
হাদীস নং ২৭১১
আমর ইবনে আব্বাস রহ………..আমর ইবনে হারিস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুই রেখে যাননি, শুধু তাঁর অস্ত্র, একটি সাদা খচ্চর ও একখণ্ড জমি, যা তিনি সাদকা করে গিয়েছিলেন।
হাদীস নং ২৭১২
আবুল ইয়ামান ও মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের দুপুরের বিশ্রামের সময় হল এমন একটি উপত্যকায় যাতে কাঁটাযুক্ত প্রচুর বৃক্ষ ছিল। লোকেরা কাঁটাযুক্ত বৃক্ষরাজির ছায়ায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বৃক্ষের নীচে অবতরণ করেন এবং একটি বৃক্ষে তাঁর তরবারি ঝুলিয়ে সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন। তিনি জেগে উঠলেন এবং হঠাৎ তাঁর পার্শ্বে দেখতে পেলেন যে, একজন লোক, অথচ তিনি তার সম্পর্কে টের পাননি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই লোকটি হঠাৎ আমার তরবারিটা উচিয়ে বলল, কে তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে? আমি বললাম, আল্লাহ! তখন সে লোক তলোয়ারটি কোষবদ্ধ করল। আর এই সে লোক, এখানে বসা, কিন্তু তিনি তাকে কোন শাস্তি দেননি।
হাদীস নং ২৭১৩
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত যে, একবার তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলেন। মক্কার পথে কোন এক স্থানে পৌঁছার পর আবু কাতাদা রা. কতিপয় সঙ্গীসহ তাঁর পেছনে রয়ে গেলেন। সঙ্গীরা ছিলেন ইহরাম অবস্থায় আর তিনি ছিলেন ইহরাম বিহীন। এ সময় তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পান এবং (তা শিকারের উদ্দেশ্যে) তাঁর ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের তাঁর চাবুকটি উঠিয়ে দিতে বলেন ; কিন্তু তারা তা দিতে অস্বীকার করলেন। আবার তিনি তাঁর বর্শাটি উঠিয়ে দিতে বলেন। তারা তাও দিতে অস্বীকার করলেন। তখন তিনি নিজেই তা উঠিয়ে নিলেন। এরপর গাধাটির উপর আক্রমণ চালালেন এবং তাকে হত্যা করলেন। সাথীরা কেউ কেউ এর গোশত খেলেন এবং কেউ কেউ তা খেতে অস্বীকার করলেন। তারপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছে এ সম্পর্কে তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, এটি একটি আহার্য বস্তু, যা আল্লাহ তা’আলা তোমাদের আহারের জন্য দিয়েছেন। যায়িদ ইবনে আসলাম রহ. আবু কাতাদা রা. থেকে আবু নাযর রা.-এর অনুরূপ বন্য গাধা সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের সাথে তার কিছু গোশত আছে কি?
হাদীস নং ২৭১৪
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন একটি গুম্বুজ রাজি তাঁবুতে অবস্থান কালে দুআ করছিলেন, ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার প্রতিজ্ঞা ও ওয়াদার দোহাই দিয়ে বলছি, আপনি যদি চান, তাহলে আজকের পরে আর আপনার ইবাদাত করা হবে না। এ সময় আবু বকর রা. তাঁর হাত ধরে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যথেষ্ট হয়েছে। আপনি বার বার মিনতির সঙ্গে আপনার রবের কাছে দু’আ করেছেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ম পরিহিত ছিলেন। এরপর তিনি এই আয়াত পাঠ করতে বেরিয়ে এলেন: শীঘ্রই দুশমনরা পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে অধিকন্তু কিয়ামত শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হবে কঠিনতর ও তিক্ততর। (৫৪: ৪৫. ৪৬) ওহাইব রহ. বলেন, খালিদ রহ. বলেছেন, ‘বদরের দিন’।
