• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
সোমবার, জুন 22, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

আরেকটা কলকাতা – সুপ্রিয় চৌধুরী

Arekta Kolkata By Supriya Chowdhury

আজ থেকে বছর দশেক আগেও দেখেছি ওদের। ভর দিনের বেলাতেও মাঝে মাঝেই এসে ঢুলুঢুলু চোখে গম্ভীর দার্শনিকের মতো মুখ করে বসে থাকত ভেন্টিলেটরের গর্তে। লক্ষ্মী-প্যাঁচা। ইংরেজিতে মিল্কি আউল। দুধসাদা গায়ের রং। মুখটা হালকা বাদামি। থ্যাবড়া বাঁকানো ঠোঁট। দেখলে মনে হয় সব সময় ঢুলছে নয়তো ঘুমোচ্ছে। মোটেই তা নয়। আসলে চোখের আকারটাই অন্যরকম। সরু আর চেরা ধরনের। ফলে ওরকমটা মনে হয়। এসে বসতে দেখলেই দুনিয়ার কাকের দল উড়ে এসে কা কা শব্দে পাড়া মাথায় তুলে ব্যতিব্যস্ত করত পাখিটাকে। শোনামাত্র একতলার ফ্ল্যাটের জেঠিমা প্রচণ্ড চিৎকার চ্যাঁচামেচি শুরু করতেন— “ভাগা, ভাগা, কাউয়াগুলিরে ঢ্যালা মাইরা ভাগা… লক্ষ্মী উইড়্যা যাইব।” নামে লক্ষ্মী হলেও কাজে যে মোটেই লক্ষ্মী নয় সেটা টের পেয়েছিলাম গরমকালের এক রাতে। জানলার ধারে শুতাম। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল একদিন। জানলার ধারে এসে দাঁড়ালাম। এখনও মনে আছে রাতটা ছিল পূর্ণিমা। চোখ গেল নীচে বাগানে। একটা ধেড়ে ইঁদুর। ইতিউতি ঘুরে বেড়াচ্ছে বাগানে, বোধহয় খাবারের সন্ধানে। হঠাৎই সামনে শিমুল গাছটার ডাল থেকে কী যেন একটা উড়ল ইঁদুরটাকে তাক করে। শরীরের দু’পাশে সমান্তরালভাবে ছড়িয়ে দেওয়া দুধসাদা এক জোড়া ডানা। ঝকঝক করছে পূর্ণিমা চাঁদের আলোয়। উড়ে এল না বলে যেন ভেসে এল বলা ভাল। দক্ষ পেশাদার গ্লাইডারের মতো। মুহূর্তের মধ্যে বিশাল দুই ছড়ানো ডানা আর শরীরের তলায় ঢেকে গেল ইঁদুরটা। ‘ক্রিচ!’— একটা আর্ত চিৎকার। সামান্য ঝটাপটি। ঘাড় ধরে দুয়েকটা মোচড় আর ঝাঁকুনি। ঠোঁটের ডগায় শিকার নিয়ে ফের শিমুলগাছের মগডালে গিয়ে বসল লক্ষ্মীপ্যাঁচা। বোধহয় আশি সালের কথা। মোবাইল ফোন তখনও দূর গ্রহের কোনও প্রাণী। হাতের কাছে ক্যামেরাও নেই, তাই ধরে রাখতে পারিনি দৃশ্যটা। সে আফশোস যায়নি আজও।

অনেকদিন হল লক্ষ্মীপ্যাঁচারা আর এসে বসে না ফ্ল্যাটের ভেন্টিলেটারে। তবে বেহালায় মামাবাড়িতে শুনেছি এখনও তেনাদের দেখা পাওয়া যায় কালেভদ্রে। শুনলেই একটা চরম স্বস্তি অনুভব করি মনে মনে— ‘যাক! সবকিছুই তা হলে’ ‘হারানো প্রাপ্তি-নিরুদ্দেশের’ তালিকায় চলে যায়নি এখনও। আশার কথা এইটুকুই।

তবে সবচেয়ে রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছিল আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে বাড়ির সামনে এই বাগানেই। সকালবেলা। দশটা সাড়ে দশটা মতো হবে। বাজার সেরে ফিরছি। বাগানের সামনে ছোটখাটো একটা জটলা। আমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে রয়েছেন উদ্বিগ্ন মুখে। সামনে উপুড় করে রাখা বড় একটা বেতের ঝুড়ি। ঝুড়ির ওপর চাপা দেওয়া একটা আধলা ইট। আমাকে দেখেই উদ্বিগ্ন গলায় বলে উঠলেন— “দ্যাখো তো কী একটা পাখি, গায়ে কালো ছিট ছিট মতো… উড়ে এসে পড়েছে বাগানে। মনে হয় ঠিক মতো উড়তে পারছে না। কী করব বুঝতে না পেরে ঝুড়ি চাপা দিয়ে রেখে দিয়েছি। অর্ধাঙ্গিনীর হাতে বাজারের ব্যাগটা ধরিয়ে দিয়ে উপুড় হয়ে ঝুঁকে পড়লাম ঝুড়ির সামনে। বেতের ফাঁক দিয়ে চোখ চালালাম। আধো অন্ধকার ভেতরটা। আবছা দেখা যাচ্ছে ধূসর পালকে ঢাকা একটা কিছু, সারা গায়ে ছিট ছিট দাগ। কাছাকাছি কারও উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্র ‘ফ্যাঁস্ স্!’ ভয়ংকর বিরক্ত এবং ক্রুদ্ধ গর্জন ভেতর থেকে। সতর্ক হয়ে গেলাম মুহূর্তে। ঝুড়ির মধ্যে যিনি রয়েছেন, আর যাই হোক খালি হাতে তেনাকে ধরতে গেলে যে সমূহ বিপদের সম্ভাবনা সেটা বুঝে ফেলতে সময় লাগল না একটুও। ঝুড়ির সামনে থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ফোন করলাম এন্টালিতে বার্ড লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রাজুদাকে। একাধিক ডানা ভাঙা চিলকে শুশ্রূষা করে ফের ছেড়ে দিয়েছে মুক্ত আকাশে। বাড়ি থেকে পালানো কাকাতুয়াকে (পোষ মানা ও কথা বলার জন্য বিখ্যাত হলেও ক্রুদ্ধ অবস্থায় প্রচণ্ড ধারালো ঠোঁটের আঘাতে ফালা ফালা করে দেওয়ার কুখ্যাতিও রয়েছে সমপরিমাণে) ফের পাকড়াও করে খাঁচায় ঢোকাতে দেখেছি নিজের চোখে। অতএব একমাত্র ভরসা রাজুদা। ফোন পেয়ে হাজির আধঘণ্টার মধ্যে। এসেই চেয়ে নিল একটা বড় মোটা কাপড়। অতঃপর হাতে কাপড় পেঁচিয়ে ঝুড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে কী দুঃসাহসিক দক্ষতায় প্রাণীটার ঘাড় চেপে ধরে পুরনো পাখির খাঁচায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল, ভাবলে হাড় হিম হয়ে যায় আজও। কারণ খাঁচায় ঢোকানো মাত্র পালক ফুলিয়ে লড়াকু যোদ্ধার কায়দায় ফ্যাঁস করে উঠেছিল প্রাণীটা। একটা প্যাঁচা। কিন্তু সাধারণ লক্ষ্মীপ্যাঁচার মতো দেখতে নয় মোটেই। ধূসর গায়ে কালো ছিট ছিট। বাঁকানো হাঁসুয়ার মতো ধারালো ঠোঁট। ফুটখানেকের মতো উচ্চতা। লড়াকু মোরগের চেয়েও মোটা দুটো পায়ে ছুরির মতো ধারালো আর বাঁকানো চারটে করে নখ। বড় মার্বেল গুলির মতো হলুদ একজোড়া চোখ। আড়াআড়ি সরু আর চেরা দু’চোখের মণি। রক্ত জল করে দেওয়া দৃষ্টি। (প্রিয় পাঠক, সত্যজিৎ রায়ের এক ডজন গল্পে ‘বৃহচঞ্চু’র সেই প্রাগৈতিহাসিক অ্যান্ডাল গ্যালার্নিস পাখির চোখ দুটোর কথা স্মরণ করুন। ধারণাটা পরিষ্কার হবে)। কোণঠাসা গুলবাঘের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে খাঁচার এককোণে। মাঝে মাঝেই একশো আশি ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিচ্ছে সামনে পিছনে, পাক্কা মার্শাল আর্ট যোদ্ধার কায়দায়, কোনওদিক থেকে কোনও আক্রমণ নেমে আসছে কি না, কী লড়াকু, হিংস্র আর রাজকীয় দাঁড়াবার ভঙ্গি। ধরবার সময় হিসেবের একচুল এদিক ওদিক হলে রাজুদাকে যে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হত সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রাজুদা, যেন কিছুই হয়নি এরকম একটা নিস্পৃহ মুখে খাঁচার ভেতরে চোখ চালিয়ে বলল— “বাঁদিকের ডানায় একটু চোট লেগেছে। তাই মাটিতে পড়ে গেছে… তেমন কিছু নয়। সামান্য চুন-হলুদ আর মাংসের কিমার সঙ্গে মিশিয়ে দু’-তিনটে পেইনকিলার… তা হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা নেই। চিন্তা তো নেই কিন্তু আপাতত কী গতি হবে এই ক্ষণিকের অতিথির। একমাত্র সমাধান সল্টলেকে বন্যপ্রাণী দপ্তর। কিন্তু তাদের ফোন নম্বর তো হাতের কাছে নেই। হঠাৎই মনে পড়ল ক’দিন আগে ওদের একটা হোর্ডিং চোখে পড়েছিল গুরুসদয় দত্ত রোডের মোড়ে। রাজুদারই স্কুটারে চেপে দেখে আসা হল হোর্ডিংয়ের তলায় লেখা ফোন নম্বর দুটো। ফোন করা হল দপ্তরের অফিসে। এবং কিমাশ্চর্যম! সরকারি কাজকর্মের ধীরগতি এবং গয়ংগচ্ছ মনোভাবের প্রবাদপ্রতিম সমস্ত ধারণাকে নস্যাৎ করে দিয়ে মিনিট চল্লিশের মধ্যে বাড়ির দরজায় হাজির বন্যপ্রাণী দপ্তরের গাড়ি। তিন-চারজন কর্মী। ওদের মধ্যে একজন মহিলা। হাতে পুরু মজবুত অ্যাসবেসটাসের গ্লাভস। ছোট খাঁচাটার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বের করে এনে নিজেদের বড় খাঁচায় ঢুকিয়ে দিলেন পাখিটাকে। জানালেন চিকিত্সার পর সুস্থ করে ফের ছেড়ে দেওয়া হবে প্রকৃতিতে। কথাবার্তার মাঝখানে গিয়ে বুক সেল্ফ থেকে নামিয়ে এনেছিলাম ড. সেলিম আলির ‘কমন বার্ডস’ আর অজয় হোমের ‘বাংলার সাধারণ পাখি’ বই দুটো। বই বলছে পাখিটার নাম ‘খুরলে প্যাঁচা’ বা ‘কুটরে প্যাঁচা’ (বার্ন আউল/স্পটেড আউলেট)। ঘন ঝোপঝাড় আর গাছের কোটরে থাকে। নিশাচর শিকারি পাখি। সম্পূর্ণ মাংসাশী। ব্যাঙ, ইঁদুর, গিরগিটি, পোকামাকড়, পাখির বাচ্চা এমনকী ছোটখাটো সাপও রয়েছে খাদ্যতালিকায়। অতঃপর অতিথি বিদায়ের পালা, গাড়িতে ওঠার আগে ওই একই কায়দায় পুরো ঘাড়টা ঘুরিয়ে তাকিয়েছিল পিছনে। শ্যেনদৃষ্টিটা চোখে লেগে রয়েছে আজও।

এফ-সিক্সটিন

কলকাতার পুরনো পাড়া বিশেষ করে উত্তরে অত্যন্ত পরিচিত দৃশ্য এটা। পুরনো বাড়ির ছাদে বাঁশের খুঁটিতে মাথা উঁচিয়ে থাকা পায়রার ব্যোম (বসবার জায়গা) আর ছোট ছোট খোপওয়ালা কাঠের বাক্স। বিকেলবেলা, নীল আকাশে ঝাঁক বেঁধে উড়ছে শয়ে শয়ে পায়রা। একদৃষ্টে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন পায়রাদের মালিক। পুরনো কলকাতার ভাষায় ‘লক্কাবাজ’, ‘পায়রাবাজ’ বা ‘কবুতরবাজ’। হাতের মুঠোয় লম্বা বাঁশের লাঠি। লাঠির ডগায় বাঁধা কাপড়ের লাঠিটা জোরে জোরে নাড়াচ্ছেন এদিক থেকে ওদিক। ‘হ্যা ট্যা ট্যা’ চিৎকার করছেন, তীক্ষ্ন শিস ঠোঁটে। উত্সাহ পেয়ে উঁচু থেকে উঁচুতে উঠে যাচ্ছে পায়রার ঝাঁক, হঠাৎই ছন্দপতন! ছাদে এসে মুখ থুবড়ে পড়ল একটি পায়রা। নরম বুকটা ধারালো নখের আঘাতে ফালাফালি নয়তো কণ্ঠনালি চিরে গেছে তীক্ষ্ন ঠোঁটের আঘাতে। দেখামাত্র পারাবত পালকের তীব্র অভিসম্পাত মিশ্রিত হাহাকার— “নির্ঘাৎ শালা শিকরে মেরেছে! ওর…” বাকিটা অশ্রাব্য গালাগাল। যার উদ্দেশে এই পিতৃমাতৃকুল উদ্ধারকারী গালিবর্ষণ, সে আসলে একটি ছোট পাখি। আকারে পায়রারই সমান। কিন্তু পৃথিবীর সবক’টি শিকারি প্রজাতির পাখির মধ্যে সাহস ও ক্ষিপ্রতায় অন্যতম— শিকরে বাজ! কমন এশিয়ান ফ্যালকন। পিঠের রং নীলচে ধূসর। পেটের কাছে সাদার ওপর বাদামি ডোরা আর বাদামি লেজের ওপর ছিট ছিট দাগ। বাসস্থান মূলত গ্রামাঞ্চলে গাছপালা ভরতি নির্জন জায়গা হলেও লোকালয়ে হানা দেয় প্রায়ই। আক্রমণ বা শিকারের মূল লক্ষ্য পায়রা। উপরোক্ত যে দৃশ্যটির কথা এখানে বর্ণনা করলাম সেই পায়রার মালিক অত্যন্ত ভাগ্যবান, তিনি তবু তাঁর মৃত পোষ্যটিকে চোখের দেখাটুকু দেখতে পেয়েছিলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সবার কপালে সে সুযোগটুকুও জোটে না। নিরীহ পায়রাটিকে আকাশেই হত্যা করে নখের ডগায় গেঁথে উড়িয়ে নিয়ে চলে যায় শিকরে বাজ। তারপর কোনও নির্জন গাছের ডালে বসে ধারালো ঠোঁটের সাহায্যে ছিঁড়ে খায়। গ্রামাঞ্চলে পায়রা ছাড়াও মুরগির বাচ্চা এদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য। পাখি ছাড়াও খাদ্যতালিকায় রয়েছে ইঁদুর, গিরগিটি, সাপ, ব্যাঙ, গঙ্গাফড়িং বা পঙ্গপালের মতো বড় পোকামাকড়। এদেরই একজনের শিকার ধরার অনবদ্য কৌশল দেখেছিলাম আজ থেকে বেশ কয়েকবছর আগে। সালটা ঠিক মনে নেই। বাইপাসের ধারে জলাভূমি ও কৃষিজমি বুজিয়ে শুরু হয়ে গেছে ব্যাপক নগরায়ণ। গড়িয়ার কাছে হাইল্যান্ড পার্কের আকাশ ঝাড়ু দেওয়া বহুতলগুলো সম্পূর্ণ হয়নি তখনও কিন্তু কাঠামোটা দাঁড়িয়ে গেছে। মনে আছে বহুতলের আশেপাশে বেশ কিছু গরিবগুরবো ঝুপড়িবাসী মানুষজনের বসবাস ছিল, তখনও হয়তো বা তাদেরই কারও একটা মুরগি তার গোটা পাঁচেক ছানাপোনা নিয়ে চরে বেড়াচ্ছিল দুটো বহুতলের মাঝখানে এবড়ো খেবড়ো জমিতে। এটা ওটা খুঁটে খাচ্ছিল এদিক ওদিক। এর মধ্যে একটা ছানা দলছুট হয়ে মায়ের থেকে পিছিয়ে পড়েছিল কয়েক পা। ঠিক এই সময় বহুতলের ছাদ থেকে একটা কিছু ঝাঁপ দিল আকাশে। এফ সিক্সটিন বম্বার প্লেনের মতো গোৎ খেয়ে তিরবেগে নেমে আসতে লাগল দুটো হাইরাইজের মাঝখান দিয়ে। প্রথমে ভেবেছিলাম চিল। পরমুহূর্তেই ভুল ভাঙল। চিলের চেয়ে আকারে অনেক ছোট, প্রায় একটা পায়রার সমান। শিকরে বাজ! ডানা জোড়াকে শরীরের সঙ্গে প্রায় মুড়ে ফেলে কী অনায়াস দক্ষতায় অতটা উঁচু থেকে সোজা নেমে আসছিল পাখিটা। হুবহু F-১৬ বোমারু বিমানের কায়দায়। পলক ফেলার আগেই ছানাটাকে নখের ডগায় উঠিয়ে একই কায়দায় পাক মেরে ফিরে গেল ঠিক যেভাবে নেমে এসেছিল। যেখানে ঘটনাটা ঘটেছিল আজ সেখানে আকাশ ফুঁড়ে মাথা তুলেছে বিশাল সব হাইরাইজ, শপিং মল, মাল্টিপ্লেক্স… শিকরে বাজরাও পরিস্থিতির সামনে হার মেনে পালিয়েছে এলাকা ছেড়ে। এখনও মাঝেমধ্যে দুয়েকটাকে উড়তে দেখা যায় বাইপাসের ধারে যেখানে আজও খানিকটা সবুজ টিকে আছে। তবে চিনতে হলে চাই বন্যপ্রাণ সম্পর্কে অপরিসীম আগ্রহ আর অবশ্যই খানিকটা পর্যবেক্ষণ শক্তি। তবু আর কতদিন শহরের বুকে মুক্ত পরিবেশে দেখা যাবে পাখিটাকে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ শুধু প্রকৃতিপ্রেমিক এবং ঈষৎ খ্যাপাটে মানুষজন ছাড়াও আরও একদলের আনাগোনা রয়েছে ওইসব অঞ্চলে। আঠা-সুতোর ফাঁদে ফাঁসিয়ে ধরে এনে বাজারের থলেয় ভরে বিক্রি করা হয় গ্যালিফ স্ট্রিট, গড়িয়া আর বানতলার পাখির হাটে। বন্যপ্রাণ দপ্তর থেকে মাঝে মাঝে রুটিন রেইড হয়। তবে ওই অবধিই। কাজের কাজ কিছু হয় না। এরকম চলতে থাকলে শহরের আকাশ থেকে এই দুর্দান্ত সুন্দর শিকারি পাখিটার হারিয়ে যাওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

ওৎ পেতে ওই আছি বসে…

দৃশ্যটা চোখে পড়েছিল বছর পনেরো আগে। ইডেন গার্ডেনের মাঝখানে পাকা রাস্তাটা ধরে চলেছি হাইকোর্টের দিকে। হঠাৎই চোখ আটকে গেল হাতের বাঁদিকে প্যাগোডার সামনে পুকুরটার ওপর ঝুঁকে পড়া একটা গাছের ডালে। একটা মাছরাঙা (লেসার ব্লু কিং ফিশার), পালকে উজ্জ্বল ভেলভেট নীল আর লাল রঙের অপূর্ব মিশেল। পার্পল রঙা লম্বা ঠোঁট। আকারে ল্যাজসুদ্ধ বড়জোর ইঞ্চিছয়েক। পাথরের মতো স্থির, বসে রয়েছে গাছটার সরু ডালে। দৃষ্টি নিবদ্ধ পুকুরের জলে। চোখে পড়া মাত্র দাঁড়িয়ে পড়লাম কী ঘটে দেখতে। এভাবে কাটল মিনিট পাঁচেক। হঠাৎই গাছের নীচে পুকুরের জলে ছোট্ট দুয়েকটা বুড়বুড়ি। চোখের পলক পড়ার আগে সেটাকে তাক করে বিদ্যুত্গতিতে জলে ঝাঁপ দিল মাছরাঙা। বৃত্তাকারে একটা ছোট আলোড়ন সৃষ্টি হল জলে। সেকেন্ড পাঁচেকের মধ্যে জল ফুঁড়ে উঠে এল পাখিটা। ডানা ঝটপটিয়ে ফের গিয়ে বসল গাছের ডালে। লম্বা ঠোঁটের আগায় ছটফট করছে এই এতটুকু একটা ল্যাটা মাছের বাচ্চা। মাটিতে পা জমিয়ে দেবার মতো দৃশ্য। ব্যস! ওই শুরু। প্রকৃতি আর বন্যপ্রাণের আকর্ষণে এরপর থেকে বারবার ফিরে গেছি ইডেন গার্ডেনে। একবারও আমাকে নিরাশ করেনি দেড় শতক পেরিয়ে যাওয়া এই স্বর্গোদ্যান। পরবর্তীতে এই বাগানেই একাধিক বার দেখা পেয়েছি মাছরাঙার আরেক জাতভাইয়ের। স্পটেড বা পাইড কিংফিশার। সাধারণ মাছরাঙার চেয়ে আকারে অনেকটা বড়। পায়রার চেয়ে সামান্য ছোট। সারা গায়ে সাদার ওপর অজস্র ছিটছিট দাগ। এদেরও শিকার করে মাছ খেতে দেখেছি ইডেনের পুকুরে। শিকার ধরবার কায়দাটাও হুবহু সাধারণ মাছরাঙার মতো।

Page 19 of 65
Prev1...181920...65Next
Previous Post

সম্পাদকের বৈঠকে – সাগরময় ঘোষ

Next Post

গভীর নির্জন পথে – সুধীর চক্রবর্তী

Next Post

গভীর নির্জন পথে – সুধীর চক্রবর্তী

বাউল ফকির কথা – সুধীর চক্রবর্তী

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In