After these- the course turns towards the east again and sailing with the ocean to the right and the shore remaining beyond to the left, the Ganges comes into view, and near it the very last land towards the east, Chryse. There is a river near it called the Ganges…. on its bank is a market-town which has the same name as the river Ganges. Through this place are brought malabathrum and Gangetic spikenard and pearls and muslins of the finest sorts which are called Gangitic. It is said that there are gold-mines near these places and there is a gold coin which is called castis…..
কৃষিদ্রব্য : তেজপাতা, পিপ্পলি । মুক্তা ও স্বর্ণের প্রাসঙ্গিক উল্লেখ
এই সমুদ্রতীরবর্তী গঙ্গাবিধৌত দেশ যে বাঙলাদেশ, তাহা সুস্পষ্ট। এই দেশকেই গ্ৰীক ঐতিহাসিকেরা বলিয়াছেন। গঙ্গারাষ্ট্র বা Gangaridae, এই গঙ্গা-বন্দরের (তাম্রলিপ্ত হইতে পৃথক) রপ্তানি দ্রব্যগুলির প্রথমেই পাইতেছি। malabathrum বা তেজপাতা। Ptolemy বলেন, Kirrhadae বা কিরাত দেশেই সবচেয়ে ভাল তেজপাতা উৎপন্ন হইত। উত্তর-বঙ্গের কোনও কোনও স্থানে, শ্ৰীহট্টে এবং আসামের কোনও কোনও জায়গায়, সাধারণভাবে পূর্ব-বিহারের পার্বত্য জনপদগুলিতে এখনও প্রচুর তেজপাতা উৎপন্ন হয়, এবং তাহার ব্যবসাও খুব বিস্তৃত। ইহার পরেই দেখিতেছি, গাঙ্গেয় পিপ্পলির উল্লেখ; ইহারও উৎপত্তিস্থল বোধহয় ছিল বাঙলার উত্তরে পার্বত্য সানুদেশ। রোমদেশীয় বণিকেরা Nelcynda হইতে যে প্রচুর পিপ্পলি পাশ্চাত্ত্য দেশগুলিতে লইয়া যাইতেন, তাহার অধিকাংশই যে এই গঙ্গা বন্দর হইতে যাইত, তাহাতে সন্দেহ নাই। কিছু কিছু মালাবার অঞ্চল হইতেও যাইত, কিন্তু দক্ষিণ-ভারতের পিপ্পলি (গ্ৰীক, পেপেরি = অধুনা pepper) গঙ্গা-বন্দরের পিপ্পলির মতন এত বড় বা ভালো, হইত না। এই পিপ্পলির ব্যবসায়ে দেশে প্রচুর অর্থগম হইত, সে কথা ব্যাবসা-বাণিজ্য আলোচনা প্রসঙ্গে জানা যাইবে। পিপ্পলির পরেই পাইতেছি, মুক্তার উল্লেখ। এই মুক্তা যে গাঙ্গেয় মুক্তা, সে সম্বন্ধে সন্দেহ নাই, এবং খুব ভালো মুক্তা না হইলেও ইহার কিছু কিছু পশ্চিম এশিয়ায়, ইজিপ্ট, গ্ৰীসে, রোমে রপ্তানি হইত। কিন্তু সর্বাপেক্ষা মূল্যবান রপ্তানি দ্রব্য হইতেছে। Gangetic musin অর্থাৎ গাঙ্গেয় সূক্ষ্ম বস্ত্ৰ-সম্ভার। সর্বশেষ উল্লেখ পাইতেছি স্বর্ণখনির। Schoff সাহেব অনুমান করেন, এই স্বর্ণ আসিত. Erannaboas (সংস্কৃত হিরণ্যবাহ) বা বর্তমান সোন নদ বাহিয়া। কিন্তু Herodotus হইতে আরম্ভ করিয়া প্লিনি পর্যন্ত তিব্বতের যে aint-gold-এর কথা বলিতেছেন, Periplus-এ যে তাহার উল্লেখ নাই সে কথা কে বলিবে? কিন্তু এ দুয়ের কোনওটিই বাঙলাদেশের নয়। বহু দিন পরে টেভারনিয়ারের ভ্রমণবৃত্তান্তে কিন্তু পাইতেছি, আসাম ও উত্তরব্রহ্মের নদী বাহিয়া কিছু কিছু সোনা ত্রিপুরাদেশের ভিতর দিয়া বাঙলায় আসিত। এই সোনার পরিমাণ ছিল যথেষ্ট, যদিও স্বরূপ খুব উৎকৃষ্ট ছিল না। ত্রিপুরার যে-সব বণিক ঢাকায় বাণিজ্য করতে আসিতেন, তাঁহারা টুকরা টুকরা সোনার পরিবর্তে লইয়া যাইতেন প্রবাল, অয়স্কান্ত মণি, কুর্মাবরণের এবং সামুদ্রিক শঙ্খের বালা। রাঢ়ের দক্ষিণ-সমুদ্রে যে প্রচুর মুক্তা পাওয়া যাইত তাহার একটু ইঙ্গিত আছে রাজেন্দ্ৰ চোলের তিরুমালয় লিপিতে। তাহা ছাড়া, নিম্ন-বঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিমে সুবর্ণরেখা নদী, ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার সোনারং, সোনারগা বা সুবৰ্ণগ্রাম, সুবর্ণবীথি, সোনাপুর প্রভৃতি প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় স্থান-নামগুলিও আমার কাছে একেবারে নিরর্থক মনে হয় না। এইসব জনপদের নদীগুলিতে একসময় dust gold পাওয়া যাইত, তাহারই স্মৃতি হয়তো নামগুলির মধ্য থাকিয়া গিয়াছে।
যাহা হউক, কার্পাসবস্ত্র ও অন্যান্য বস্ত্রশিল্পের উল্লেখ অর্থশাস্ত্র বা Periplus ছাড়াও অন্যত্র অনেক জায়গায় আছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ ইবন খুর্দদবা নামক আরব ভৌগোলিকের (দশম শতক) নাম করা যাইতে পারে। ইনি রহমি বা রহমা নামে একটি দেশের নাম করিতেছেন : এই রহনি বা রহুম দেশকে Eliot সাহেব মোটামুটি বঙ্গদেশের সঙ্গে অভিন্ন বলিয়া মনে করেন। আমার মনে হয়, Eliot সাহেবের এই অনুমান যথার্থ নয়; রহ্মি বা রহমা প্রাচীন আরাকান (রহম=রহন-রখন=আরাকান)। ইবন খুর্দদবা বলিতেছেন, “জলপথে জাহাজের সাহায্যে রহমি দেশের রাজা অন্যান্য দেশের রাজাদের সঙ্গে সম্বন্ধ রক্ষা করেন। তাহার। পাচ হাজার হাতি আছে, এবং তাহার দেশে কার্পােসবন্ত্র এবং অগুরু কাঠ উৎপন্ন হয়৷ ” এই রহমি দেশ সম্বন্ধেই আরবদেশীয় সওদাগর সুলেমান (নবম দশক) বলিতেছেন, এ দেশে একপ্রকার সূক্ষ্ম ও সুকোমল বস্ত্ৰ উৎপন্ন হইত, অন্য কোনও দেশে এমন সূক্ষ্ম বস্ত্ৰ উৎপন্ন হইত না; এ বস্ত্র এত সূক্ষ্ম ও কোমল ছিল যে একটা আংটির ভিতর দিয়া তাহাকে চালাইয়া দেওয়া যাইত। সুলেমান আরও বলেন যে, এ বস্ত্র ছিল কাপাসের তৈরি, এবং তেমন বস্ত্ৰ তিনি নিজের চোখে দেখিয়াছেন। ত্রয়োদশ শতকের প্রথম ভাগে চীন-পরিব্রাজক চাও-জু-কুয়া পিং কলো বা বাংলাদেশ সম্বন্ধে বলিতেছেন, এ দেশে খুব ভালো দুমুখো তলোয়ার তৈরি হয়, এবং কার্পাস এবং অন্যান্য বস্ত্ৰ উৎপন্ন হয়। ত্রয়োদশ শতকেরই শেষের দিকে (১২৯০) মার্কো পোলো, গুজরাট, কাম্বে, তেলিঙ্গানা, মালাবার ও বঙ্গদেশে কার্পাস উৎপাদন ও কার্পাস বস্ত্রশিল্পের কথা বলিয়াছেন। বঙ্গদেশ সম্বন্ধে তিনি বলিতেছেন,
