২. কেন দুঃখ প্রকাশ করছেন, সেই কারণটা জ্ঞাপন করলে খুবই ভালো হয়। নিচের কোনটা বললে ভালো সেটা আপনারা পড়লেই বুঝতে পারবেন।
| অপশন ১ | অপশন ২ |
| আমি স্যরি। | আমার না জানিয়ে বইটা নেয়া উচিত হয়নি। বইটা হঠাৎ না বলে নিয়ে গিয়ে তোমাকে চিন্তায় ফেলে দিতে আমি চাইনি। আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। আমি স্যরি। সামনে থেকে আমার দরকার পড়লে জিজ্ঞাসা না করে কখনই নেব না। |
৩) আসলেই অপরাধবোধ থাকলে স্যরি বলেন। অপরাধবোধ ছাড়া স্যরি বললে কিন্তু মানুষ ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পারে সেটা আপনি যতই
৪) সুন্দর করে বলেন না কেন। a অন্যের ভুলের বোঝা নিজের উপর নিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে ছোট করবেন না।
*
নিজের ভ্যালু কমে যায়
একটা চাকরি মেলাতে (Job Fair) কারা যায়? যারা চাকরি চায় তারা নিশ্চয়ই। এখন এই জায়গায় সবাই চাকরি চাইতে গিয়েছে কিন্তু চাকরি অফার করছে মাত্র কয়েকজন। এমন জায়গায় আপনি যদি চাকরি খুঁজতে যান, তাহলে আপনাকে আরও অনেকের দলে মিশিয়ে ফেলা হবে। আপনি হয়ে যাবেন অনেকের মধ্যে আরেকজন। এর চেয়ে, যেখানে ভিড় কম, সেখানে মানুষকে ভদ্র এবং পেশাদারভাবে অ্যাপ্রোচ করুন। ফেসবুকে যেখানে সবাই ব্যক্তিগত জীবনের প্যাচাল শেয়ার করে বারোটা বাজিয়ে। রেখেছে, সেখানে আপনি একদম পেশাদার কাজগুলো শেয়ার করে সম্ভাব্য চাকরিদাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।
বক্তৃতার পর সবাই যখন সেলফির জন্য আর নাম্বারের জন্য ভিড় করছে, তখন বক্তার কাছে যাবেন না। বক্তার জন্য যে ক্রেস্টটা আছে, কিংবা বক্তা যদি কোনো জিনিস নিজের সাথে এনে থাকেন, সেটা নিয়ে তাকে গাড়িতে পর্যন্ত এগিয়ে দিন। গাড়িতে উঠার সময় যখন আশপাশে কেউ থাকবে না, তখন আপনার কথা বলুন।
শিক্ষা হলে, ভিড়ের মধ্যে কথা বলে নিজের গুরুত্ব না কমিয়ে, এমন সিচুয়েশন তৈরি করেন যেখানে আপনি একান্তভাবে মনোযোগ পাবেন।
*
দুপুর ১২টা নাকি রাত ১২টা?
Send the file over by 12PM
কয়টার সময় ফাইলটা পাঠাতে হবে? দুপুর ১২টা? নাকি রাত ১২টা? আপনি হয়তোবা জানেন যে 12PM মানে দুপুর ১২টা। কিন্তু, আপনি জানলেই তো খালি হবে না। অন্য মানুষটি যদি দুপুর ১২টায় না পাঠিয়ে রাত ১২টায় ফাইল পাঠায়? তাহলে তো পুরো একটা দিন গ্যাপ হয়ে যাবে।
তাই, অন্য পাশের মানুষটি বুঝতে পারবে এই অনুমান বাদ দিয়ে একদম ভেঙ্গে বলাটাই সবচেয়ে ভালো। তাহলে কীভাবে বলা যায়?
উদাহরণ ১ : Send the file over by 11 :59AM in the early hour.
উদাহরণ ২ : Send the file over by 12PM noon.
উদাহরণ ৩ : বেলা ১২০০ ঘটিকার মধ্যে ফাইলটি পাঠিয়ে দিয়েন।
*
কাজটা কেন জরুরি
মানুষকে যখন কাজ দেবেন, সমস্যা না হলে পারলে তাদেরকে একটু বলে দিবেন যে কাজটা কিসের জন্য। এটা খুবই সহজ শোনালেও এর গুরুত্ব কতটা বেশি তা সাইমন সিনেক (Simon Sinek) এর একটা টেড টকে বুঝতে পেরেছিলাম। তিনি একটা ছোট্ট উদাহরণ দিয়েছিলেন।
মনে করেন, আপনাকে রুমের এক কোণায় দাঁড় করানো হল। এখন বলা হল সোজা হাঁটেন। আপনি সোজা হাঁটা শুরু করলেন। মাঝপথে আপনার। সামনে একটা বক্স বসিয়ে দেয়া হল। আপনি হয়তোবা দাঁড়িয়ে থাকবেন, কারণ আপনাকে সোজা হাঁটতে বলা হয়েছে।
এখন মনে করেন, সোজা হাঁটতে না বলে আপনাকে বলা হল, রুমের অপর কোণায় চলে যান। এবারও আপনি কোণাকোণি হাঁটা শুরু করলেন। কিন্তু, এবার পথের মাঝে যখন বক্স বসানো হলো, তখন আপনি পাশ দিয়ে হেঁটে কোণায় পৌঁছে গেলেন। কারণ, এবার আপনাকে কাজের শেষে কী হবে তার। পরিষ্কার ধারণা দেয়া ছিল। প্রোগ্রামিং-এর ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে চোখে পড়ে।
মূল বিষয় হল, মানুষকে কাজের উদ্দেশ্য বললে তারা নিজেদের থেকে কাজটা সমাধান করার সুযোগটা পায়। আপনি হয়তোবা কাউকে বললেন, দোকান থেকে একটা কাঁচি আনো। কাঁচি না পেলে সে শূন্যহাতে ফেরত আসবে। আপনি যদি বরং বলেন, আমাকে এই কাগজগুলো কেটে দাও তো। তাহলে কাচি না পেলেও সে বসে থাকবে না। হয়তোবা ব্লেড কিংবা আন্টিকাটার নিয়ে এসে কাজটা সেরে ফেলবে।
*
অবচেতন মনে কমিউনিকেশন
মানসিকতা গড়ার জন্য এই যুগে অনেক ট্রেইনিং প্রোগ্রাম আছে। অনেক ট্রেইনিং-এ ইতিবাচক মানসিকতা ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করার জন্য কিছু স্ট্র্যাটিজিক শব্দ ব্যবহার করা হয়।
যেমন : ফিটনেস গোল সেট করার সময়, ৫ কেজি ওজন লুস করবো। না বলে ৫ কেজি ওজন ঝেড়ে ফেলবো বলা হয়। এখন আপনি বলতে পারেন, লুস করবো আর ঝেড়ে ফেলবো– এই দুটোর মধ্যে এমন কী তফাত? অনেক!
এবং তফাতটা বাহ্যিক নয়। তফাতটা অবচেতন মনে। আপনি যখন কোনো জিনিস লুস করেন, তখন আপনি কী করেন? হারিয়ে যাওয়া জিনিসটা খুঁজেন। আমাদের অবচেতন মনে প্রোগ্রাম করা আছে যে আমরা যখন কোনো জিনিস লুস করি, সাথে সাথে যেন সেটা আমরা খোঁজা শুরু করি। আপনি মুখে বলছেন, ওয়েইট লুস করবো। কিন্তু পেছনে আপনার অবচেতন মন (Subconscious Mind) সেটা আবার ফেরত আনার ফন্দি করছে! এমন অনেককেই দেখবেন কয়েকদিন সেই ব্যায়াম করে ওজন কমিয়ে আবার সেই মিষ্টিকুমড়ো হয়ে বসে আছে (কিংবা সোফায় শুয়ে আছে!) শব্দের প্রভাব অবচেতন মনে অনেক বেশি। এমনই আরেকটা উদাহরণ দেই।
