শিক্ষকদের ট্রেইনিং নেওয়া উচিত যেন তারা কখনও এমনটা না বলেন যে, তমুক স্টুডেন্টটা অলস। বরং বলা উচিত, তমুক স্টুডেন্টটা এখনও বিষয়টাতে আগ্রহী না কিংবা মোটিভেটেড না। পার্থক্য কী?
আপনি যখন কাউকে অলস বলছেন, তখন আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে মানুষটা এমনই। এখানে আর করার কিছু নেই। কিন্তু, আপনি যদি বলেন যে কোনো স্টুডেন্ট এখনও বিষয়টাতে আগ্রহী হয়নি; তাহলে তাকে উৎসাহ পেয়ার, কিংবা নতুনভাবে শেখানোর অনেক কিছু করার আছে। অলস বলে আমরা উপসংহার টেনে হাল ছেড়ে দেই। অন্যদিকে, অনাগ্রহী বললে শেখানোর কায়দায় উন্নতি করার উদ্যোগ নেই আমরা।
আপনার হয়তোবা মনে হচ্ছে শব্দ দিয়ে আর কীই বা হবে। কিন্তু আমাদের চিন্তা-ভাবনার জগত এই শব্দগুলো দিয়েই তৈরি। চিন্তার বিল্ডিং ব্লক শব্দ-কে যদি আমরা সঠিকভাবে নিজের মাইন্ড প্রোগ্রামিং করতে ব্যবহার না করতে পারি তাহলে আমরা আমাদের অজান্তেই অদৃশ্য মানসিক কারাগারে আটকে থাকবো।
শেষে আমার প্রিয় একটা উদাহরণ দিচ্ছি। এটা আমার মানসিকতায় অনেক বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। উক্তিটা রবার্ট কিয়োসাকির রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড বই থেকে নেয়া।
সাধ্যের বাইরে কোনো জিনিস দেখলে অসচ্ছল মাইন্ড বলে– এটা অর্জন করার সামর্থ্য আমার নেই। আর অন্যদিক সচ্ছল মাইন্ড নিজেকে প্রশ্ন করে। আমি কীভাবে এটা অর্জন করার সামর্থ্য তৈরি করতে পারি?
*
শুনতে ঠিক, আসলেই ঠিক
আপনি যদি আপনার কমিউনিকেশন এবং চিন্তায় আরও বেশি যৌক্তিক হতে চান, তাহলে নিচের প্রশ্নটি সবসময় আপনার মাথায় রাখবেন যখনই আপনার সামনে নতুন কোনো তথ্য আসবে।
কেবলমাত্র আমার পূর্ব ধারণার সাথে নতুন কথাটা মিলে যাচ্ছে জন্যই কি কথাটা সঠিক মনে হচ্ছে নাকি কথাটা আসলেও যৌক্তিকভাবে সঠিক?
কোনো একটা তথ্য সত্য হওয়ার সাথে আমাদের মতের সাথে মিল থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, আমাদের পূর্ব ধারণার সাথে মিললেই যেন আমরা কোনো তথ্য গ্রহণ করে না নেই আর পূর্বধারণার সাথে সাংঘর্ষিক হলেই যে এড়িয়ে যাবো, এমন যেন না হয়।
*
চোখে চোখে কমিউনিকেশন
মানুষের সাথে কথা বলার সময় তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। তাই বলে পুরোটা সময় পেঁচার মত তাকিয়ে থাকতে হবে এমন না। কিছুক্ষণ। পরপর একটু আই কন্ট্যাক্ট করুন; চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। আরও সহজ অভ্যাস করতে হলে, হয় খালি ডান চোখের দিকে, অথবা খালি বাম। চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন।
এমন অনেকে আছে যারা অন্যের মুখের দিকে তাকিয়ে কথাই বলতে পারে না। এতে সমস্যা কী?
১. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আমাদের কমিউনিকেশনের মাত্র ২০/৩০% হচ্ছে আমরা কথায় যা বলছি। বাকিটা মুখের ভাবভঙ্গি এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজে থাকে। আপনার যদি মানুষের দিকে তাকিয়ে কথা। বলার অভ্যাস না থাকে, তাহলে আপনি অনেক ইশারা মিস করে। যাবেন। একটা উদাহরণ দেই। এমন বিরক্তিকর অবস্থায় পড়েছেন না, যেখানে আপনার তাড়া আছে, কিন্তু কেউ আপনাকে আটকে তার বাচ্চা কেন ঢ্যাঁড়স খায় না–এই গল্প শোনাচ্ছে। আপনি হয়তোবা মুখের অভিব্যক্তি ও শরীরের চঞ্চলতা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, ভাই আমাকে ছেড়ে দেন! আমাকে দৌড়াতে হবে এখন! কিন্তু, তারা আপনার অভিব্যক্তি না বুঝে আপনাকে চূড়ান্ত বিরক্ত করছে। এমন মানুষকে কেউই পছন্দ করে না। তাই, আপনি যেন এমন না হয়ে যান, তাই অন্য মানুষটার দিকে কথা বলার সময় খেয়াল রাখবেন।
২. অনেকে ভাবতে পারে আপনি তাদেরকে ইগনোর করছেন।
৩. মানুষ আপনাকে গম্ভীর বা অহংকারী ভাবতে পারে যে, আপনার এতই ভাব যে আপনি তাকানই না।
তাছাড়া, চোখ হচ্ছে মনের আয়না। চোখ এমন অনেক কিছু বলে যেটা শব্দে কখনই আসে না। মানুষ চোখের দিকে তাকিয়ে অনেক সময় মিথ্যা বলতে পারে না। তাই, কেবল রোম্যান্টিক কথাবার্তার জন্য নয়; ইমোশনাল কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কমিউনিকেশনের জন্যও আই কন্ট্যাক্ট করাটা খুবই জরুরি। মুখের দিকে না তাকিয়ে কথা বলা আর চোখ বন্ধ করে মিস্টার বিনের কমেডি দেখা একই জিনিস!
*
যেই কথাগুলো না বললেও চলে
অনেকে নিজেরাই জানে যে তারা অনেক বেশি কথা বলে। কিংবা অহেতুক কথা বেশি বলে। কিংবা এমন কথা বলে যেটা অন্যদের মুডটাই খারাপ করে দেয়। যেটাকে এখন ব্যাডবাজ (BadBuzz) বলে। এক্ষেত্রে একটা সিম্পল হ্যাক অনুশীলন করার অভ্যাস গড়ে তুললেই আপনার কথা অনেক নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে।
হ্যাকটা হল : আমি এখন যেই কথাটা বলতে যাচ্ছি, সেটা কি পৃথিবীতে দুঃখের পরিমাণ বাড়াবে?
অথবা, আমি এখন যেই কথাটা বলতে যাচ্ছি, সেটাতে কি পৃথিবী কিছু বদলাবে?
রাস্তার পাশে আজকে দেখলাম একটা পাপি মরে পড়ে আছে–এটা বললে যাকে কথাটা বলছেন, তার শুনে খারাপ লাগবে। এক আপনার খালি কষ্ট লাগছিল, এখন আরেকজনের কষ্ট লাগছে। আপনার শেয়ার করার কারণে কি কিছু বদলাবে? পাপি মারা গেছে তো গেছে। হয়তোবা কেউ ওটাকে সরিয়ে ফেলেছে। কথাগুলো বলে কি কোনো দংখা বাড়ানোর দরকার আছে?
অবশ্য হ্যাঁ, এই কথা শেয়ার করে যদি পশুর প্রতি সচেতনতা বাড়াতে চান। কিংবা কেবল মনের বোঝা হালকা করতে চান তাহলে করতে পারেন। কিন্তু এমন কিছু জিনিস যেগুলো বলার কোনো ইতিবাচক দিকই নেই, সেগুলো আমরা কেন বলতে যাবো?
