উপরোক্ত ব্যাপারটা ছাড়াও বেলুনটার গঠন প্রকৃতি, আকৃতি আর সেটার ব্যাপারে মৌলিক যাবতীয় তথ্যের জন্য এস সি-র এজেন্ট মি. চার্লস্টন, মি. হ্যারিসন আর মি. মংক জ্যাকসনের অমায়িক আচরণের জন্য তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ ঋণী।
আসল পাণ্ডুলিপিতে যা-কিছু লিখিত আছে তার একটামাত্র দিকের কিছু পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। এরও কারণ যথেষ্টই রয়েছে। কারণটা সাধারণ হলেও অবশ্যই খুবই সঙ্গত। আমাদের এজেন্ট মি. ফরসাই বিবরণীটাকে অর্থপূর্ণ ও মনোজ্ঞ করে তোলার জন্যই কম-বেশি রদবদল করতে বাধ্য হয়েছেন।
দ্য মার্ডার্স ইন দ্য রু মার্গ
আমরা যে-সব মানসিক অবস্থাকে বিশ্লেষণাত্মক বলে চিহ্নিত করি প্রকৃতপক্ষে কিন্তু সেগুলো আদৌ বিশ্লেষণের আওতায় পড়ে না। কেন? এমন কথা কেন বলছি? হ্যাঁ, কারণ তো কিছু-না-কিছু অবশ্যই আছে। কারণ, তাদের ফলাফলই আমাদের এ-কথা ভাবতে উৎসাহি করে।
একটা কথা কি জানেন? আসলে সে সব মানসিক পরিস্থিতির অধিকারীদের কাছে। সেগুলো যারপরনাই আনন্দবর্ধক ব্যাপার হয়ে ওঠে।
একজন অমিত শক্তিধর যেমন শক্তি কসরতের খেল ও কেরামতি দেখাতে পারলে খুশিতে ডগমগ হয়ে ওঠে, ঠিক তেমনই একজন বিশ্লেষণধ্যক্ষ জটিলতা নাশকারীর বুক নৈতিক কাজকর্মের ব্যাপারে গর্বে রীতিমত ফুলে ওঠে। আর এটা মোটেই অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। আশা করি, এ-যুক্তিটাতে সবাই আমার সঙ্গে অবশ্যই একমত হবেন।
একজন বিশ্লেষণধর্মী মানুষ নিজের ধী-শক্তি আর জ্ঞান-বুদ্ধিকে প্রয়োগ করার একটু-আধটু সুযোগ পেলেও যেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ার যোগাড় হয়। সাংকেতিক লিপি, ধাঁধা আর হেঁয়ালির প্রতি তার খুবই প্রবণতা। সে সব সমস্যার সমাধান করতে যতটুকু প্রতিভা আর বুদ্ধি প্রয়োগ করার প্রয়োজনবোধ করে অন্য পাঁচজন সাধারণ মানুষ সেটাকে অত্যাশ্চর্য ব্যাপার জ্ঞান করে। নিতান্ত অসাধারণ ভেবে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়ে। রহস্যভেদি সে-সব সমস্যার সমাধান যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করে, তাতে বোধির প্রকাশটাই প্রকৃতপক্ষে বেশি গুরুত্ব পায়।
একটা কথা হচ্ছে, সমস্যার জটিলতার সমাধানের এ-ক্ষমতা হয়তো বা গণিতচর্চার মাধ্যমে যথেষ্ট বৃদ্ধি করা যেতে পারে। গণিতের যে সর্বোচ্চ শাখা বিশ্লেষণ নামে যাকে অভিহিত করা হয় তার কথাই এখানে বিশেষভাবে বলা হচ্ছে। অতএব বলা যেতে পারে বিশ্লেষণ ক্ষমতাকে প্রয়োগ করে হয়তো বা সমস্যা সমাধান সম্ভব।
তবে আর একটা কথা কিন্তু খুবই সত্য যে, গনামাত্রই বিশ্লেষণ নয়। যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, একজন দাবাড় কিন্তু বহু হিসাব-নিকাশ করে তবেই দাবার চাল দেয়। এক্ষেত্রে সে কিন্তু বিশ্লেষণ-টিশ্লেণের ধারের কাছ দিয়েও যায় না। এ ব্যাপারটা থেকে এটাই ভেবে নেওয়া যেতে পারে যে, দাবা খেলা দাবাড়ুর মনের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করে তাকে খুব বেশি করে ভুলের মাপকাঠি দিয়ে বিচার করা হয়। খুবই ভুল বোঝা হয়।
কোনো প্রবন্ধ রচনা করা বর্তমানে আমার উদ্দেশ্য নয়। সে চেষ্টা আমি করবও না। অনিয়মিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে চাক্ষুষ করা একটা কাহিনীর ভুমিকা রচনা করছি, ব্যস, এর বেশি কিছু নয়। তাই এ সুযোগে এ-কথাটাই বলতে চাইছি যে, আনাড়ি দাবা খেলার চেয়ে আড়ম্বরহীন ড্রাফট চিন্তা-ভাবনা ও বুদ্ধি খরচের দরকার ঢের বেশি।
দাবাড়ুরা জানেন, এ খেলায় বিভিন্ন গুটিকে বিভিন্নভাবে চলতে হয় বলে, আর তাদের শক্তিও বিভিন্ন রকম হওয়ার জন্য তার জটিল পদ্ধতিকেই প্রতিভা, পাণ্ডিত্বের মর্যাদা দিয়ে ভুল করা হয়।
সত্যি কথা বলতে কি, দাবাড়রাও অবশ্যই এক বাক্যে স্বীকার করবেন, এ-খেলার সবচেয়ে বেশি যেটার দরকার তা হচ্ছে, গভীর মনঃসংযোগ।
এক মুহূর্তের জন্যও যদি খেলোয়াড়ের মন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে, চিন্তা ছিন্ন হয়ে যায়, একটা চাল কোনোক্রমে নজর এড়িয়ে গেলেই সর্বনাশের চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তাকে পরাজয়ের গ্লানি গায়ে মাখতে হবেই হবে।
প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য চালগুলো যে কেবলমাত্র একাধিক তাই নয়, অতিমাত্রায় জটিলও অবশ্যই। আর এ কারণে অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশিই থাকে। সে দাবাড়ই প্রখর বুদ্ধিমত্তা আর মনংসযোগ সম্বল করে জয়মাল্য ছি নিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে ড্রাফট খেলার কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলতেই হয়, এ খেলায় প্রতিটা চাল খুব বেশি একক, যার ফলে অন্যমনষ্ক হয়ে পড়ার সম্ভাবনা এতে খুবই কম, নেই বললেও অত্যুক্তি হয় না। আর মনোযোগের পরিবর্তে খেলার নৈপুণ্যই জয়মাল্য এনে দেয়।
এবার যা বলতে চাইছি তা হচ্ছে, এমন একটা ড্রাকট খেলার প্রসঙ্গে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে, যেখানে রাজার আকাঙ্খ চালে কমানো হলো। সে ক্ষেত্রে তা দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়ার তিলমাত্রও সম্ভাবনা নেই। এক্ষেত্রে জয়-পরাজয় নির্ধারণটা কিভাবে হবে, তাই না? আমি বলব, অবশ্যই হেরফেরের জন্যই জয় বা পরাজয়ের দিকে পাল্লা ঝুঁকবে।
হুইস্ট খেলার প্রভাবের খ্যাতি দীর্ঘদিন ধরেই বিচার শক্তির ওপর প্রচলিত রয়েছে। যারা তীক্ষ্মতম প্রতিভার অধিকারী, তারা এ-খেলায় অহেতুক আনন্দ উপভোগ করে। তাদের মতে দাবা খেলা নিছকই একটা তুচ্ছাতিতুচ্ছ খেলা।
নিঃসন্দেহে বলা চলে, হুইস্ট খেলার মতো অন্য আর কোনো খেলায় বিশ্লেষণ ক্ষমতার কিছুমাত্রও হয় না।
