• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
মঙ্গলবার, জুন 9, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

সাইমুম সিরিজ – আবুল আসাদ

আহমদ মুসা গভীর মনোযোগের সাথে মধ্য এশিয়ার একটি মানচিত্র দেখছিলেন। বেশ একটু রাত হয়েছে তখন। হারিকেনের হালকা আলো ঘরে। আহমদ মুসার হাতে একটি স্কেল। মাঝে মাঝে মেপে দেখছিলেন মানচিত্রের বিভিন্ন অংশ।
ফাতিমা ফারহানা একটা ট্রেতে এক গ্লাস গরম দুধ এবং কিছু ঔষধ নিয়ে ঘরে এসে দাঁড়িয়েছে। আহমদ মুসা টের পায়নি। মানচিত্রের ওপর ঝুঁকে আছে তাঁর মুখ। মুখটা হরিকেনে আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
আহমদ মুসার এই মনোযোগ ভাঙতে দ্বিধা করছিল ফাতিমা ফারহানা। কিন্তু আব্বা বলে গেছেন ঠিক সময়ে ঔষধ খাওয়াতে। ফাতিমা ফারহানা একটু শব্দ তুলে ট্রেটা টেবিলে রাখল। চমকে মুখ তুললেন আহমদ মূসা।
মাফ করবেন, বিরক্ত করলাম। ঔষধ খাওয়ার সময় হয়েছে। বলে দুধের গ্লাস এবং ঔষধ আহমদ মুসার দিকে এগিয়ে দিল ফারহানা।
আহমদ মুসা নিতে নিতে বললেন, ইকরামভ কোথায়?
বাইরে।
আপনার আব্বা?
জনাব, আপনি আমাকে ‘তুমি’ বললে খুশী হব। একটু থেমে ফারহানা বলল, কম্যুনিটি অফিস থেকে আব্বাকে ডেকে পাঠিয়েছে, তিনি সেখানেই গেছেন।
তারপর দু’জনেই চুপ। আহমদ মুসা ঔষধ খেয়ে নিলেন। আবার কথা বলল ফারহানা। বলল, মানিচত্র দেখেই কি আপনি এ অঞ্চলটা চিনে নিতে পারবেন?
যাতে পারি সে জন্যই দূরত্ব সম্পর্কে নতুন করে জানতে চেষ্টা করছি।
একটু প্রশ্ন করতে চাই।
কর।
আপনি তো ইচ্ছার বিরুদ্ধে এদেশে এসেছেন? কেমন বোধ করছেন?
কে বলল আমি ইচ্ছার বিরুদ্ধে এসেছি?
আপনি তো বন্দী হয়ে, এদেশে এসেছেন!
বন্দী হয়ে এসেছি বটে, কিন্তু হতে পারে তো তাদের দিয়ে আল্লাহ আমার মনের একান্ত আকাংখাই পূরণ করেছেন!
বুঝলাম না। আপনি কি তাহলে আপনার কর্মক্ষেত্র হিসাবে এদেশকে বেছে নিয়েছেন? গলাটা যেন একটু কেঁপে উঠল ফারহানার।
আল্লাহ রাববুল আলামীনের ইচ্ছা বোধ হয় তাই।
ফাতিমা ফারহানার গোটা শরীরে শিহরণ খেলে গেল। তার স্মরণ হলো ফিলিস্তিনের কাহিনী, মিন্দানাওয়ের কাহিনী, সেই সাথে চোখের সামনে ভেসে উঠল অতুল শক্তিধর এখানকার কম্যুনিস্ট বিশ্ব রেড সংস্থা ‘ফ্র’ এর বিশাল বীভৎস চেহারা। অন্তর কেঁপে উঠল ফারহানার। তার মুখে কোন কথা নেই।
আহমদ মুসা বলল, ভয়ের কিছু নেই ফারহানা। প্রতিটি কান্নার একদিন শেষ আছে। অনেক বছর ধরে এখানে মুসলমানরা কাঁদছে। কাঁদছে আর্তনাদ করছে এই পামির। আমুদরিয়া, শিরদরিয়ায় দেখবে তারই চোখের পানি। এ কান্নার ইতি হবে, হতেই হবে। নিরস্ত্র আফগানদের সাহস এবং সংগ্রাম আজ এরই শুভ বার্তা বয়ে এনেছে।
হাতের স্কেলটা দিয়ে মানচিত্রের ওপর আস্তে আস্তে টোকা দিচ্ছিলেন আর মাথা নিচু করে অনেকটা স্বগতঃ কন্ঠেই ঐ কথাগুলো বলছিলেন আহমদ মুসা। মনে হচ্ছিল হৃদয়ের কোন তলদেশ থেকে তার কথাগুলো উঠে আসছিল। ফারহানার কাছে কথাগুলো শুধু নতুন নয়, বিস্ময়কর নয়, যেন অপার্থিব একটা ব্যাপার। সে বলল, ভয়ের চেয়ে আমার কাছে বড় সম্ভাবনার ব্যাপারটা। সম্ভব কি আসলে?
তোমাদের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস আদালত, কলকারখানা ও কলেজগুলোতে মুসলিম তরুন, যুবক ও বৃদ্ধদের বুকে কান পেতে তাদের হৃদয়ের কথাগুলো শোন, তাহলে যাকে অসম্ভব মনে করছ তা অসম্ভব মনে হবে না।
আপনি এত সব জানেন কি করে? ফতিমা ফারহানার চোখে এক মুগ্ধ ঔজ্জ্বল্য।
আহমদ মুসা কিছু বলতে যাচ্ছিল। এমন সময় ঘরে ঢুকলেন আবদুল গফুর।
আব্বা, আপনি কম্যুনিটি অফিস থেকে আসছেন? জিজ্ঞেস করল ফারহানা।
‘হ্যাঁ’ বলে চেয়ারে এসে বসলেন। বসতে বললেন ফারহানাকেও। ‘হ্যাঁ, অফিস থেকে এলাম, বলে একটু থামলেন। তারপর শুরু করলেন, আবার খবর এসেছে ওরা আগামী কাল নদী ও আশপাশের গ্রামগুলো সার্চ করবে।
আবদুল গফুরের মুখ শুকনো। ফাতিমা ফারহানার মুখটাও মুহুর্তে অন্ধকার হয়ে গলে। ইকরামভও ঘরে ঢুকল এ সময়। সেও এসেই আব্বার কাছে জিজ্ঞেস করে ব্যাপারটা জানল।
আহমদ মুসা শান্ত স্বরে বলল, বাক্স অথবা বাক্সের মধ্যকার লাশ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তারা স্বস্তি পাবে না, এটা আমি জানি।
আহমদ মুসা মুহুর্ত থামল। সবার চিন্তাকাতর ও মলিন মুখের দিকে একবার চাইল, তারপর বলল, আমার উপস্থিতি আপনাদের ক্ষতি করবে, ক্ষতি করতে পারে এ মুসলিম জনপদেরও, আমার বোধ হয় এটা চাওয়া ঠিক নয়।
আহমদ মুসার এ কথা শুনে চমকে উঠলেন আবদুল গফুর। আরো অন্ধকার হয়ে গেল ফাতিমা ফারহানার মুখ।
আবদুল গফুর বললেন, তোমার কথা এখনও কেউ জানতে পারেনি। আর যা ঘটবার তাতো ঘটবেই। অতীতে অনেক কিছু ঘটেছে আমরা ঠেকাতে পারিনি বাবা।
না তা হয় না, মুসলমানদের জীবন ও সম্পদকে অত্যন্ত মূল্যবান মনে করি। এর ক্ষতি যতটা এড়ানো যায়, সেটাই আমাদের দেখা দরকার।
পরাধীনতার গ্লানি বহন ছাড়া এ জীবনের আর কি মূল্য আছে। এ জীবনের নিরাপত্তা চিন্তা করে কি হবে। আল্লাহ বকশের মত করে তোমাকে চলে যেতে আমি দেব না মনে রেখ।
আবদুল গফুরের শেষের কথাগুলো আবেগে রুদ্ধ হয়ে এল।
আপনার স্নেহ আমাকে অভিভুত করেছে জনাব। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, আমি চলে যাবার জন্য আসিনি। আমি স্থান পরিবর্তন করতে চাচ্ছি মাত্র।
এ কথা তুমি ঠিক বলছো বাবা?
জি হ্যাঁ।
আবদুল গফুর মাথায় জড়ানো রুমালের কোণা দিয়ে চোখের কোণ মুছে নিল। তারপর বললেন, এবার বল তোমার বৃদ্ধ পিতাকে কি করতে হবে।
আহমদ মুসা ভাবছিল। কিছুক্ষণ পর মুখ তুলে বলল, আমার কয়েকটি অনুরোধ। নদীর যেখানে আপনারা বাক্সটি ওপরে তুলেছেন, সেখানে নদীর নরম মাটির ওপর বাক্সের দাগটা মুছে ফেলবেন এবং সেখানে কিছু আবর্জনা ফেলে জায়গাটা ঢেকে দেবেন। আর আমি চলে যাবার পর এই ঘরে খাট, দরজা মেঝে ধুয়ে দেবেন যাতে কোথাও আমার হাত-পায়ের ছাপ না থাকে। বাক্সটা পুড়িয়ে দিয়েছেন, আমার পোষাকটাও পুড়িয়ে দেবেন। আমি জানি, এত কিছুর দরকার হবে না। ওদের উপগ্রহ ক্যামেরা যদি বাক্সের লোকেশন নির্দিষ্ট করতে পারতো, তাহলে এই সার্চ করার খবর গ্রামবাসীদের তারা জানাতো না, আকস্মিক এসে হানা দিত। তবু সাবধান হওয়া ভাল।
সবাই তাকিয়ে ছিল আহমদ মুসার দিকে। আবদুল গফুরের অন্তরের বেদনা তার চোখ দিয়ে ঠিকরে পড়ছে। ইকরামভ ভাবছে, ছোট খাট ব্যাপারেও কি অদ্ভুত দূরদৃষ্টি! অন্যের নিরাপত্তা প্রশ্নেও কত সতর্ক! তার চোখে সম্ভ্রম ও শ্রদ্ধার একটা আমেজ। দরজার চৌকাঠে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ফাতিমা ফারহানা। বাতাসে এক গোছা চুল এসে তার বাঁ চোখের একাংশ ঢেকে দিয়েছে। তার একটা আঙুল অস্থিরভাবে ওড়নার কোণাটা পেঁচাচ্ছিল, আবার খুলছিল।
আহমদ মুসা আবার কথা বলল, আজ রাতেই আমি যেতে চাই।
আজ রাতেই? শুষ্ক কন্ঠে বললেন আবদুল গফুর।
জি হ্যাঁ, আজ রাতেই।
কিন্তু তুমি তো অসুস্থ।
ও কিছু না, ভাববেন না আপনি। ঈষৎ হেসে বললো আহমদ মুসা।
মাথা নিচু হয়ে গিয়েছিল আবদুল গফুরের। বোঝা গেল ভাবছেন তিনি। কিছুক্ষণ পর মুখ তুলে স্বগত বললেন, কোথায় যাওয়া যায়। ইকরামভের দিকে ফিরে বললেন, পিয়ান্দজ নদীর উপত্যকায় আমাদের পুরোনো বসতিতে যাওয়া যায়, কি মনে কর?
যাওয়া যায়, কিন্তু ওখানে সরকারী চোখ বড় বেশী সক্রিয় আব্বা।
ঠিক বলেছ- বলে আবার ভাবনায় ডুবে গেলেন আবদুল গফুর।
এবার নিরবতা ভাঙলো আহমদ মুসা। আহমদ মুসা বললো, হোজা ওবি কাম মাজার এবং হিসার দুর্গের পবিত্র স্থানে আপনারা কখনো গেছেন?
চমকে মাথা তুললেন আবদুল গফুর! বললেন, তুমি চেন কেমন করে?
চিনি না, জানি মাত্র।
তুমি ভাল কথা মনে করিয়ে দিয়েছ। হিসার দুর্গের মোতাওয়াল্লী মোল্লা আমীর সুলাইমান আমার পরিচিত। আমি ওখানে গেছি। ওখানকার মুসলিম জনপদটা বেশ বড়। বেচারা আমীর সুলাইমান বছর খানেক আগে ছ’মাস জেল খেটেছেন। স্থানীয় কলখজই অনেক বলে কয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে এনেছে। ওখানে যাওয়া যায়।
কথাগুলো লুফে নিচ্ছিল আহমদ মুসা। আবদুল গফুরের কথা শেষ হতেই বলল, কেন জেল খেটেছেন? সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্য?
হ্যাঁ, তাই।
ঠিক আছে, ওখানেই যাওয়া ঠিক হলো।
আবদুল গফুর ইকরামভের দিকে চেয়ে বললেন, তুমি গিয়ে দুটো ইয়াক তৈরী রাখতে বল, আমরা রাত ১২টায় যাত্রা করব।
আহমদ মুসা মুহুর্ত দ্বিধা করল তারপর বলল, দুটো ইয়াক কেন?
একটা আমার ও একটা তোমার জন্য।
কিন্তু আমাকে একাই যেতে হবে তো।
বিস্ময়ে হা হয়ে গেল আবদুল গফুরের মুখ। একাই যাবে? রাস্তা চিনবে কি করে? তার ওপর রাতে। আর আমরা একা তোমায় ছাড়ব কেন?
অসুবিধা হবে না। পামির পথ ধরে আমাকে ৫০ মাইল পূর্বে যেতে হবে, তারপর নিচে উপত্যাকার দিকে মাইল পঞ্চাশেক।
আবদুল গফুর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন আহমদ মুসার দিকে। ধীরে ধীরে বললেন, ভুলেই গিয়েছিলাম তুমি আহমদ মুসা। তুমি আর দশজনের মত নও। কিন্তু আমরা তোমাকে একা ছাড়ব কেমন করে, কিভাবে বুঝাব মনকে?
আবদুল গফুরের চোখে অশ্রু টলমল করে উঠল।
আহমদ মুসা আবদুল গফুরের হাত ধরে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি আজ যে কারণে গ্রাম থেকে সরে যাচ্ছি, ঠিক সে কারণেই আপনাদের কাউকে আমি সাথে নিচ্ছি না। আগামী কয়েকদিন ওরা পাহাড় এলাকা ঘিরে রাখবে, যাতে কেউ কিংবা কিছু বাইরে যেতে না পারে। আমার সাথে যদি আপনারাও তাদের চোখে পড়ে যান, তাহলে আপনার গোটা বসতির ওপরই বিপদ আসবে।
আবুদল গফুর রুমাল দিয়ে চোখ মুছে বললেন, বুঝতে পারছি, তুমি কত বড়, বাবা। আল্লাহ তোমাকে বিজয়ী করবেনই। কিন্তু বাবা তুমি আমাদের নিরাপত্তার কথা যতটা ভাবছ নিজের কথা কিন্তু ততটা ভাবছ না।
আহমদ মুসার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। বলল, আমি বড় কিছু নই, আমি মুসলিম সমাজের সেবক মাত্র। দোয়া করুন আমার জন্য। আর নিরাপত্তার কথা? আমার জ্ঞান ও বিবেক অনুসারে কাজ করব, বাকিটা আল্লাহ দেখবেন।
ফাতিমা ফারহানা দু’হাতে চৌকাঠ ধরে যেন তার সাথে মিশে গেছে। স্বপ্নের সম্মোহনকারী এক দৃশ্য দেখছে যেন সে। রুপকথার এক নায়ক যেন সামনে উপস্থিত।
মেহমানখানার পাশে আবদুল গফুর ও ইকরামভ ইয়াক সাজিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। গ্রাম তখন গভীর ঘুমে অচেতন। কোন আলো নেই কোথাও। কেবল আবদুল গফুরের মেহমান খানায় আলো জ্বলছে। ফাতিমা ফারহানা একটা ব্যাগে রুটি, অনেকগুলো পনির ও ফলমূল সাজিয়ে নিয়ে মেহমান খানায় ঢুকল। আহমদ মুসা তৈরী। তিনি ঐতিহ্য বাহী তাজিক পোষাক পরেছেন। মাথায় তাজিকদের কাজকার ঐতিহ্যবাহী টুপি। টুপিটা ব্যান্ডেজকে অনেকখানি ঢেকে দিয়েছে।
ফাতিমা ফারহান তাকে বলল, চলুন। দু’জনে মেহমান খানার বাইরের দরজা দিয়ে বেরিয়ে অন্ধকারের মধ্য দিয়ে পথ চলছিল।
ফারহানা বলল, একটা প্রশ্ন করতে পারি?
কর। বলল আহমদ মুসা।
আপনার কে কে আছে, পিতামাতা ভাই বোন কিংবা…..
একট আড়ষ্টতা এসে ফাতিমা ফারহানাকে কথা শেষ করতে দিল না। অন্ধকার না হলে দেখা যেত তার মুখ লাল হয়ে উঠেছে।
আহমদ মুসা বুঝল, ফারহানার পরবর্তী শব্দটা কি যা উচ্চারণ করতে পারল না। আহমদ মুাসর ভ্রুটা কুঞ্চিত হয়ে উঠল। জবাব দিল, নেই।
একটা অনুরোধ করতে পারি?
কর।
আপনার পোষাকটা আমি না পুড়িয়ে রেখে দিতে চাই।
কেন? আগের মত ভ্রুটা কুঁচকে গেল আহমদ মুসার।
এটা একটা স্মৃতি, একটা ঐতিহাসিক মূল্য আছে পিসিডার অধিনায়কের এই পোষাকের।
যারা নেতাদের যাদুঘরে সংরক্ষন করে, তাদের জন্য এটা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা ইসলামের অনুসারীরা ভিন্ন পথের যাত্রী। এখানে ব্যক্তির কোন মূল্য নেই, আসল হলো তার কাজ এবং শিক্ষা। তাই এখানে ব্যক্তি সংরক্ষিত হয় না, অব্যাহত রাখা হয় তার ভালো কাজ ও শিক্ষাকে।
অন্ধকারেই একবার চোখ তুলে চাইল ফাতিমা ফারহানা আহমদ মুসার দিকে। ভাবল, এই ব্যক্তি যে কত বড় তার ক্ষুদ্র জ্ঞান তা আন্দাজই করতে পারে না। একটা আনন্দ, তারই পাশে একটা অপরিচিত বেদনাও টন টন করে উঠল তার হৃদয়ে।
দুজনে অন্ধকারে পথ চলছিল আবদুল গফুর ও ইকরামভ যেখানে ইয়াক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে দিকে। কিছুক্ষণ দু’জনেই নিরব। এই নিরবতা ভেঙে ফাতিমা ফারহানাই আবার জিজ্ঞেস করল, আমার জন্য আপনার কোন নির্দেশ আছে?
হঠাৎ এ প্রশ্নে বিব্রত বোধ করল আহমদ মুাসা। কাউকে কোন নির্দেশের চিন্তাই সে করেনি। ফাতিমা ফারহানাকে কি বলবে আহমদ মুসা? অথচ প্রশ্নটা তার সঙ্গত। এতে খুশিই হল আহমদ মুসা। বলল, খুশী হলাম ফারহানা এদেশে প্রথম তুমিই পাশে এসে দাঁড়ালে। তবে নির্দেশ দেয়ার সময় এখনও আসেনি।
আনন্দে-গর্বে ফাতিমা ফারহানার ছোট্ট হৃদয়টি যেন ফুলে উঠল। শুকরিয়া জানাতে ইচ্ছা হল তার। কিন্তু মুখ খুলতে পারলো না হঠাৎ করে। আরো কিছুক্ষণ পর ফাতিমা ফারহানা বলল, ছুটি শেষ হলে আমাকে মস্কো যেতে হবে, তারপর আপনাকে কোথায় পাব?
এর উত্তরে আমি এখন দিতে পারবো না। তবে এটুকু বলতে পারি, আমার কথা তোমাদের কাছে পৌঁছবে।
দু’জনেই এসে পৌঁছল ইয়াকের কাছে। তারপর ইয়াকসহ চারজন এগিয়ে চলল গ্রামের প্রান্ত সীমায়। দাঁড়াল সেই সরু পথটির মুখে যা গিয়ে মিশেছে পামির সড়কের সাথে।
তাঁবু-কম্বলসহ একজনের জন্য যা প্রয়োজন তা দিয়ে ইয়াক সাজানো। ইয়াকের লাগাম আহমদ মুসার হাতে তুলে দিতে দিতে আবদুল গফুর বললেন, আমাদের ভুলে থেকো না। এই বাড়ি, এই বাড়ির সবকিছু তোমার নিজের মনে করবে। কাঁপছিল বৃদ্ধের কথাগুলো।
আহমদ মুসা বলল, আমি আপনাদের কথা, এই নিরাপদ আশ্রয়ের কথা ভুলবো না। আমি সুযোগ পেলেই আসব। আমার জন্য দোয়া করুন। তারপর আহমদ মুসা ইকরামভের দিকে একটু এগিয়ে তার কাঁধে একটা হাত রেখে বলল, ভাই ইকরামভ, তোমাদের কাছে জাতির অনেক দাবী। জাতির এ দাবীর কথা কখনও ভুলো না।
কেঁদে ফেলল ইকরামভ। বলল, আল্লাহ বকশের ভাই আমি, আমাকে আপনার সাথে নিন।
ইকরামভের কপাল চুম্বন করে বলল আহমদ মুসা, ভেব না ভাই, আল্লাহ আমার সাথে আছেন।
ফারহানা তার পিতার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল। সেদিকে একটু এগিয়ে আহমদ মুসা বলল, আসি ফারহানা। বলে আহমদ মুসা ইয়াকে উঠে বসল। লাগাম টেনে ইশারা করল ইয়াককে। দুলে দুলে ধীরে যাত্রা শুরু হল ইয়াকের। অল্পক্ষণই কালো অন্ধকারের বুকে হারিয়ে গেল ইয়াক।
সবারই চোখে পানি। ফাতিমা ফারহানা বসে পড়েছিল মাটিতে। আবুদল গফুর গিয়ে তার মাথায় হাত রাখতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল সে। আবদুল গফুর তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, কাঁদিস না মা, আমাদের চেয়ে তুই তো তাকে বেশী জানিস?

৭

হাসান তারিক এখন ছোট্ট একটা সেলে। একটা দরজা এবং অনেক ওপরে একটা ছোট্ট জানালা ছাড়া আর ফুটো নেই ঘরে। মেঝেতে পাতা এক কম্বল ছাড়া আর কোন উপকরণ নেই! সেদিন লাইব্রেরী থেকে ফিরে আসার পর তাকে এখানে সরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি জানেন সর্বোচ্চ শাস্তি যাদের বরাদ্দ করা হয়, তারাই এসব সেলে আসে। ভিকটরের সাথে আগের মত কথা আর হয় না। দরজার গায়ের ছোট্ট জানালা খুলে সে খাবার দিয়ে যায়। মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করে, শরীর ভাল তো স্যার! ভিকটরের চোখটাকে তখন বড় বিষন্ন দেখায়। শুকনো রুটি, শুকনো কয়েক টুকরো গোশত তার দু’বেলার জন্য বরাদ্দ। নাস্তা তিনি আর পান না। গোশত হালাল হতে নাও পারে মনে করে গোশত তিনি নেন না, শুধু রুটিই খান। ভিকটর সেই ফুটো দিয়ে চোখে একরাশ মিনতি নিয়ে বলে, স্যার এভাবে খেলে তো আপনার শরীর থাকবে না।
কম্বলে বসে একটি চিঠি পড়ছিলেন হাসান তারিক। চিঠিটা কয়েক বার পড়েছেন। আবারও পড়ছেন। আজ দুপুরে খাবারের প্যাকেটে এই চিঠি পেয়েছেন। দুই রুটির মাঝখানে অতি সাবধোনে চিঠিটি লুকিয়ে রাখা ছিল। চিঠির নিচে কারো নাম নেই। তবে সম্বোধন ও সব মিলিয়ে বুঝা যায় চিঠিটি ভিকটরের কাছ থেকেই এসেছে।
চিঠি পড়ে প্রথমে স্তম্ভিত হয়েছেন, তারপর আনন্দিত হয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে আজ রাত আটটায় আপনার দরজা খুলে যাবে। যাকে সামনে পাবেন অনুসরণ করবেন। সব ব্যবস্থাই হয়ে গেছে, এর পরও কোন বাধা আসলে তা মুকাবিলা করেই পেছনের অফিসার্স গেট দিয়ে কারাগার থেকে বেরুতে হবে। বেরিয়ে রাস্তার ওপাশে স্টার্ট নিয়ে থাকা ৭৮৬৭ নং গাড়িতে উঠে বসতে হবে।
অন্ধকার কুঠরীতে বসে সময় বুঝার উপায় নেই। তবে সময়টা আটটার কাছাকাছিই হবে। বহুদিন পর একটা এ্যাকশনের গন্ধে হাসান তারিকের মাংসপেশীগুলো যেন সজীব হয়ে উঠেছে। এর মাঝেও একটা জিজ্ঞাসা মাঝে মাঝেই মনের কোণে উঁকি মারছে। কারা এটা করছে? আজিমভ ফায়ারিং স্কোয়াডে যাবার পর ভিকটর হাসান তারিকের দেয়া খাবার জনৈক খাদি ইসমাইলকে দিত। ভিকটরের কাছে হাসান তারিক শুনেছিলেন আজিমভকে গ্রেপ্তারের সূত্র ধরেই খাদি ইসমাইল ও আরও তিনজনেক গ্রেপ্তার করে এনেছে। অর্থাৎ তারা একই দলের লোক।
হাসান তারিক দু’রাকাত নামায পড়ে নিয়ে প্রস্ত্তত হয়েই বসেছিলেন। দরজার তালা খোলার শব্দ কানে এল। সবগুলো ইন্দ্রীয় সজাগ হয়ে উঠল হাসান তারিকের। ধীরে ধীরে দরজা খুলে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে ভিকটর। হাতে সেই সার্ভিস ট্রে। তাতে চায়ের কাপ সাজানো। চোখাচোখি হতেই ইশারা করে হাঁটতে শুরু করল।
দরজাটা টেনে দিয়ে তার পিছনে হাঁটতে শুরু করলেন হাসান তারিক। একটা করিডোর দিয়ে চলছিলেন তারা। করিডোরের মুখেই একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে। মুষ্টিবদ্ধ হলো হাসান তারিকের হাত। কিন্তু না, কিছু হলো না। পুলিশকে হাসান তারিকের দিকে তাকাতে দেখেই ভিকটর বলল, হুকুম আছে। আর কিছু বলল না পুলিশ। এবার তারা ডাইনে মোড় নিয়ে আরেকটা বিল্ডিংয়ের ছায়া ধরে এগিয় চলল। দ্রুত হাঁটছে ভিকটর। হাসান তারিকও তার সাথেই আছেন।
বড় ফটক ওয়ালা একটা ঘরের সামেন গিয়ে পৌঁছলেন তাঁরা। ফটকের ওপরে লাল অক্ষরে লেখা আছেঃ ‘অফিসার্স প্যাসেজ’’। এখানে জানালা দিয়ে প্রথমে আইডেনটিটি কার্ড দেখাতে হয়, তারপর এখান থেকে গেট পাশ পাওয়া যায়। গেট পাশ নিয়ে ফটক দিয়ে ঘরে ঢুকতে হয়। দরজাটা ইলেকট্রনিকের। যিনি গেট পাশ দেন, তিনিই তার বাঁ পাশের কি বোর্ডে লাল বোতামটা টিপে দেন, দরজা খুলে যায়। এ ঘর পেরুলেই একটুখানি খালি জায়গা। তারপরই গেটের সাথে লাগানো গার্ড রুম। গার্ড রুমে গেট পাশ দেখালেই বোতাম টিপে গেট খুলে দেয়া হয়। ভিকটর এবং হাসান তারিক সেই ফটক ওয়ালা ঘরের সামেন পৌঁছতেই ফটকের ইলেকট্রনিক দরজা খুলে গেল। তাঁরা ঢুকতেই আবার তা বন্ধ হয়ে গেল। হাসান তারিক দেখলেন ভেতের তিনজন লোক। হাসান তারিককে দেখে একজন এগিয়ে এল। ভিকটর পরিচয় করিয়ে দিল, ইনি খাদি ইসমাইল।
গেট পাশ দেয়া অফিসারকে হাসান তারিক তার চেয়ারের পাশেই অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলেন। তার ডান হাতের কাছে পড়ে আছে আধ পোড়া সিগারেট। বুঝলেন, সিগারেটের সাথে কিছু খাইয়ে ভিকটর তাকে আগেই কাবু করেছে।
এতক্ষণ বহন করে আনা চায়ের ট্রেটা মেঝেয় রেখে দিয়ে ভিকটর টেবিল থেকে ৪টা পাশ তুলে নিয়ে খাদি ইসমাইলের হাতে দিতে দিতে দ্রুত বলল, তুমি চা নিয়ে গার্ড রুমে ঢোকার পর একজন গেট পাশগুলো জানালা দিয়ে গার্ডকে দেবেন। গার্ড যখন ওগুলো চেক করতে শুরু করবে, তখন দু’জনে মিলে গাডরুমের গার্ড দু’জনকে কাবু করতে হবে। গেট খোলার জন্য বোতাম টেপার দায়িত্ব আমার। ওদেরকে এ্যালার্ম বাজাবার সুযোগ দেয়া যাবে না।
ভিকটর চলতে শুরু করেছে। হাসান তারিক চলতে গিয়ে হঠাৎ ফিরে এলেন অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা অফিসারের টেবিলে। টান দিয়ে তার ডান পাশের ড্রয়ারটা খুলে ফেললেন। চোখটা হাসান তারিকের উজ্জ্বল হয়ে উঠল। হ্যাঁ, আছে রিভলভর। লোডেড। রিভলভরটি পকেটে পুরলেন হাসান তারিক। খুলে ফেললেন বাঁ পাশের ড্রয়ারও। নিকশ সাদা রংয়ের আরেকটা রিভলভর। অপেক্ষাকৃত ছোট। হাতে তুলে নিলেন। অস্বাভাবিক ভারী। ব্যারেল ও ট্রিগারের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন হাসান তারিক। এ তো ল্যাসার রিভলভর। ট্রিগার বোতামটি লাল। অর্থাৎ রিভলভরটি লোডেড। রিভলভারটি পকেটে রাখতে যাবেন এমন সময় জানালার ওপাশ থেকে পায়ের শব্দ এল। চোখ তুলতেই চোখাচোখি হলো এক পুলিশ অফিসারের সাথে। অফিসারটি চোখে বিস্ময় বিমূড়তা, কিন্তু তা মুহুর্তের জন্য। পরক্ষনেই সে হাত দিল পকেটে। এর অর্থ হাসান তারিক বুঝেন। সাদা রিভলভর ধরা ডান হাতটি হাসান তারিক ওপরে তুললেন। পরের অবস্থাটা চিন্তা করে নিজেই শিউরে উঠলেন হাসান তারিক। কিন্তু উপায় নেই। পুলিশ অফিসারটির চোখ ভয়ে বিস্ফারিত দেখা গেল। হাসান তারিক চোখ বন্ধ করে শাহাদাৎ আঙুল দিয়ে চাপ দিলেন লাল বোতামটায়। মাত্র দু’তিন সেকেন্ড। চোখ খুললেন হাসান তারিক। পুলিশ অফিসারের দেহটা গড়াগড়ি যাচ্ছে। কিন্তু মাথাটা নেই। আরেকবার গোটা শরীর শির শির করে উঠল হাসান তারিকের।
মিনিটের মধ্যেই ঘটে গেল গোটা ব্যাপারটা। ভিকটর বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে ছিল এদিকে। রিভলভরটা পকেটে রেখে হাসান তারিক বললেন, ভিকটর তাড়াতাড়ি। এক্ষণি সব জানাজানি হয়ে যাবে।
ভিকটর চা নিয়ে গার্ডরুমের দিকে এগুল দ্রুত। করিডোরের মত বেশ লম্বা ঘর। কিন্তু আর কেউ নেই ঘরে। আজ উজবেকিস্তানে নতুন ফসল উঠার উৎসব। ঈদের বিকল্প আনন্দ অনুষ্ঠান হিসাবে কম্যুনিস্টরা একে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তাই সরকারী ভাবে বিভিন্ন প্রকার আনন্দানুষ্ঠানের ব্যাপক ব্যবস্থা করা হয় এদিনে। আজ উজবেকিস্তানে সাধারণ ছুটির দিন। তাই কারাগারের অফিসেও অপরিহার্য কিছু কর্মচারী ছাড়া আর কেউ নেই। ভিকটর ঘর পেরিয়ে ফাঁকা চত্বরটায় গিয়ে নেমেছে। হাসান তারিকরা দরজা থেকে উঁকি মেরে দেখলেন, ভিকটর চায়ের ট্রে নিয়ে গার্ডরুমে প্রবেশ করছে।
হাসান তারিক খাদি ইসমাইলকে বললেন, আপনি এদের নিয়ে গার্ডরুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ান অমি গার্ডরুমে ঢুকব।
হাসান তারিক পকেটে হাত পুরে গার্ডরুমের দিকে এগুলেন। নির্লপ্ত গতি। গার্ডরুমের জানালা দিয়ে একজন গার্ডকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন। ভিতরে তাকিয়ে কার সাথে যেন আলাপ করছে। ভিকটরের সাথে কি? এই তো সুযোগ। হাসান তারিক গার্ডরুমের পাশ ঘুরে দ্রুত গার্ডরুমে প্রবেশ করলেন। গার্ডরুমের দরজায় পা দিয়েছেন এমন সময় তীব্র সুরে বিপজ্জনক বিউগল বেজে উঠল। চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল দুজন গার্ড। ভয়াবহ ধরনের অটোমেটিক কারবাইন টেনে নিল ওরা। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। হাসান তারিকের রিভলভর দ্রুত গতিতে দু’বার অগ্নি বৃষ্টি করল। গুঁড়িয়ে গেল দুটি মাথা। ভিকটর মুহুর্তের হন্য হতচকিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু পরক্ষণেই ছুটে গেল জানালার পাশের কি বোর্ডে। চেপে ধরল নির্দিষ্ট বোতাম।
দরজা খুলে গেল। দ্রুত গতিতেই গেট থেকে বেরিয়ে এল তারা পাঁচজন। রাস্তার ওপারে স্টার্ট নেয়া একটা জীপ। লাল রিয়ার লাইটের উপরে জ্বলছে নাম্বার-৭৮৬৮। তারা গাড়ীর কাছে যেতেই দরজা খুলে গেল। দ্রুত গাড়ীতে উঠে বসলেন।
বিউগল কেঁপে কেঁপে তখনো বেজেই চলেছে। ভিকটর বলল, এদিকে আসার ইলেকট্রনিকের দরজা বন্ধ। এ গেটে আসার জন্য ওদের ঘুরে আসতে হবে। ততক্ষনে গাড়ীটি চলতে শুরু করেছে। মাত্র পঞ্চাশ গজ সামনেই একটা রাস্তা পশ্চিমে বেরিয়ে গেছে এ জেল রাস্তা থেকে। দ্রুত জীপটি জেলখানার পাশের এ বিপজ্জনক রাস্তা ছেড়ে ঐ রাস্তায় গিয়ে পড়ল। জেলখানার দিকে থেকে তখন অনেকগুলো পুলিশের গাড়ীর একটানা ইমারজেন্সী সাইরেন ভেসে আসছে। বিউগলের তীব্র চিৎকার ইতিমধ্যে অনেকটা নেমে গেছে।
হাসান তারিকের পাশেই বসেছিল আমির উসমান। সে বলল, ভাই হাসান তারিক, মুবারকবাদ আপনাকে। আমি অভিভূত হয়েছি। তার কথা শেষ না হতেই ভিকটর বলে উঠল, আমি স্যারকে গোবেচারা ভদ্রলোক মনে করতাম, কিন্তু তিনি তো আগুন।
হাসান তারিক এদিকে কান না দিয়ে বললেন, ওরা অয়্যারলেসে গোটা পুলিশ নেটওয়ার্ককে জানিয়ে দেবে। গাড়ি সার্চ করা শুরু করবে ওরা। আমাদরে গাড়ি ওরা দেখেনি, গাড়ীতে আমরা আছি তাও জানে না। কিন্তু তার আগেই সরে পড়তে হবে।
এবার ড্রাইভার কথা বলল। বলল সে, সামনের ব্রীজটা পার হলেই আর কোন ভয় নেই ইনশাআল্লাহ। পরের যে পুলিশ পোস্ট তার আগেই মেইন রোড ছেড়ে দিয়ে আমরা পাশে চলে যাব।
সামনে দুরে একটা লাল আলো জ্বলছে। ড্রাইভার বলল, ওটাই ব্রীজের মুখ। লাল আলো দেখে মুখটা বিষন্ন হয়ে উঠল হাসান তারিকের। চেকিং কি শুরু হয়েছে? না ওটা রুটিন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের আলো? হেড লাইটের আলোতে ব্রীজটা এবার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। স্টিল হেলমেটওয়ালা দু’জন পুলিশ। হাতে তাদের সাব মেশিনগান। ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে হাসান তারিক বললেন থামতে বললে থামানই উচিত হবে।
কিন্তু….. কিছু বলতে শুরু করল ড্রাইভার।
হাসান তারিক তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, তাদের থামানোটা রুটিন চেকও হতে পারে, না থামলে তারা সন্দেহ করবে। তাতে ব্রাশ ফায়ারের মুখোমুখি হতে পারি আমরা।
আর যদি রুটিন চেক না হয়? বললড্রাইভার।
তাহলে পুলিশ দুটোর দায়িত্ব আমার। বললেন হাসান তারিক।
গাড়িটি ব্রীজের মুখে এসে পৌঁছেছে। ততক্ষণে ব্রীজের মুখের সবুজ আলো আবার জ্বলে উঠেছে। গাড়ীর ভীড় নেই বললেই চলে। চলতে শুরু করেছে গাড়ীগুলো। একজন পুলিশ অয়্যারলেসে কথা শুরু করল। আরেকজন পুলিশ ধীর গতি গাড়ীগুলোর দিকে একনজর চেয়েই চলে যেতে ইশারা করছে। হাসান তারিকদের গাড়ীও ঐভাবে চলে যাবার ইশারা পেল। ততক্ষণ প্রায় রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিল একটা কোন কিছুর। এবার হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। সাদা রিভলভরটা পকেটে চালান করে দিলেন হাসান তারিক।
হাসান তারিকদের গাড়ি ব্রীজে প্রবেশ করেছে। এমন সময় অয়ারলেসে কথা বলা পুলিশটি উত্তেজিতভাবে অন্য পুলিশকে কি যেন বলল। তারপর তারা রাস্তায় ছুটে এল, বন্ধ করে দিল গাড়ীর অগ্রসরমান গতি। জানালা দিয়ে সেদিকে তাকিয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন হাসান তারিক।
শুকরিয়া আদায় করলেন সকলেই।
মাইল খানেক যাবার পর গাড়ীটি হাইওয়ে ছেড়ে দিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি রাস্তা ধরে শহরের পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তের দিকে এগিয়ে চলল। পেছনের বহুদূর পর্যন্ত দেখা যায়। হাসান তারিক কিছুক্ষণ পেছনের দিকটা পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হলেন, না কেউ অনুসরণ করছে না।
গাড়িটি দক্ষিণ পূর্বে প্রায় মিনিট দশেক চলার পর দক্ষিণ দিকে আরেকটা বাঁক নিয়ে একটা সরু গলির মধ্যে ঢুকে গেল। একটা গ্যারেজের গেটে দাঁড়িয়ে পড়ল গাড়িটা। সংগে সংগে খুলে গেল গ্যারেজের গেট। ভেতরে ঢুকল গাড়ি।
গাড়ি থামতেই ছুটে এল কয়েকজন। এদিকে গাড়ি থেকে সবাই নেমে পড়লেন। প্রথমেই ড্রাইভার জড়িয়ে ধরল হাসান তারিককে।
ড্রাইভারের নাম আনোয়ার ইব্রাহিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাতায় সে ইব্রাহিমভ। দু’বছর আগে তাসখন্দ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সে ইতিহাসে ডিগ্রী নিয়ে বেরিয়েছে। পেশা হিসাবে নিয়েছে শিক্ষকতা। সে একটি বিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক। ড্রাইভিং লাইসেন্সও তার আছে। সাইমুমের তাসখন্দ ব্রাঞ্চের প্রধান।
আনোয়ার ইব্রাহিম হাসান তারিককে নিজের পরিচয় দেবার পর পরিচয় করিয়ে দিল খাদি ইসমাইলের সাথে। খাদি ইসমাইল উজবেকিস্তান সাইমুমের অপারেশন স্কোয়াডের আমুদরিয়া সেক্টরের একজন কমান্ডার। আজিমভের কমান্ডেই সে কাজ করত। আজিমভ ধরা পড়ার ১৫দিন পর সেও ধরা পড়ে যায় একজন কর্মীর সামান্য ভুলের কারণে।
হাসান তারিককে পরিচয় করিয়ে দেয়া হলে উজবেকিস্তান সাইমুমের গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বশীল আমির উসামনের সাথে। আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, ভিকটরের সাথে যোগাযোগ করা এবং আজকের অপারেশনের প্ল্যানটা তারই তৈরী। আমির উসমানের বয়স ৪৫ এর মত। উজবেক পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একজন ডাইরেক্টর হিসাবে কাজ করেছে প্রায় ১৫ বছর। স্বাস্থ্যগত কারণে অব্যাহতি নিয়েছে চাকুরী থেকে। চাকুরীর সময় থেকেই জাতীয় মুক্তি আন্দোলনকে সহায়তা দিয়ে আসছে। সরকারী চাকুরীতে যারা আছে তাদের সাথে যোগাযোগের সে একটি বড় সূত্র।
হাসান তারিক আমির উসমানকে বুকে জড়িয়ে ধরে মোবারকবাদ জানিয়ে বললেন, আল্লাহ আপনাকে আরও কাজের শক্তি দান করুন। আমির উসমান বলল, আপনার দোয়া আল্লাহ আমাদের সবার জন্য কবুল করুন।
গ্যারেজের সাথেই একটা বড় তিনতলা বাড়ি। বাড়ি এবং গ্যারেজ দুটোরই মালিক আনোয়ার ইব্রাহিম। কম্যুনিস্ট পার্টির ক্যাডারের বাইরে যে দু’চারজন ভাগ্যবান লোকের তাসখন্দে বাড়ি আছে, আনোয়ার ইব্রাহিম তাদেরই একজন। এর পেছনে একটা ইতিহাস আছে। যে ইতিহাস স্মরণ করতে লজ্জা পায়, দুঃখ পায় আনোয়ার ইব্রাহিম।
আনোয়ার ইব্রাহিমের পিতামহ আবদুল্লাহ কম্যুনিস্ট প্রলোভনে ভূলে লাল ফৌজের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। ১৯৩০ সালে উজবেকিস্তানের এ অঞ্চলে যৌথ খামারের প্রতিষ্ঠা হয়। মুসলিম জনসাধারণ তাদের ধ্বংসাবশিষ্ট শক্তি নিয়েই কম্যুনিস্ট অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিরোধের চেষ্টা করে। তখন কম্যুনিষ্ট লৌহ শাসনের স্থানীয় লাঠিয়ালের ভূমিকা পালন করে আবদুল্লাহ। অবর্ণনীয় অত্যাচার চলে মুসলিম কৃষকদের ওপর। তাদের বাড়ি-ঘর, ঘোড়া এবং কৃষি জমিই শুধু কেড়ে নেয়া হয় না, তাদের স্ত্রী- কন্যাকেও দখল করা হয়। সে সময় পরাজিত অবস্থায় একজন মুসলমানের প্রতি একজন কম্যুনিস্টের বিদ্রুপ উক্তি ছিল এই রকম-
‘আল্লাহর সাহায্যে আমরা তোমাদের থেকে জীবন ধারণের সব সামগ্রী নিয়েছি। এখন তোমাদের স্ত্রীদের পর্যন্ত আমরা যৌথ ব্যবস্থাধীনে আনব। এভাবে আমরা তাদের শয্যা শায়িনী করব। এভাবে পরস্পরে আমরা প্রীতি বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারব’। আবদুল্লাহকে তার কাজের পুরস্কার হিসাবে কম্যুনিস্ট সরকার এই জমি দান করে এবং বাড়ি তৈরীরও ব্যবস্থা করে দেয়। বাড়ীর এই ইতিহাস কখনও আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে তুললে সে বলে, দাদার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার কাজ আব্বা থেকেই শুরু হয়েছে। তিনি প্রায়ই বলতেন, আমার নাম তিনি রেখেছেন লাল ফৌজের বিরুদ্ধে মুসলমানদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর আনোয়ার পাশা ও ইব্রাহীম বাকেরের নাম অনুসারে। আনোয়ার পাশা লাল ফৌজের সাথে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শহীদ হন এবং ইব্রাহিম বাকের উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের পাহাড়ে প্রান্তরে দীর্ঘদিন প্রতিরোধ যুদ্ধ চালানোর পর ১৯৩৫ সালে ধরা পড়েন এবং লাল ফৌজের হাতে শাহাদাৎ বরণ করেন। এই নাম রাখা দাদার কাজের বিরুদ্ধে আব্বার নিরব, কিন্তু অত্যন্ত শক্ত প্রতিবাদ। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারী ইতিহাস পড়েছি, কিন্তু তার পাশাপাশি আব্বার কাছে সত্যিকার ইতিহাসও পড়েছি। আব্বা গোপনে লাহোর থেকে এসব আনিয়ে নিয়েছিলেন।
গ্যারেজ এবং বাড়ীটি এখনও সরকারীভাবে আনোয়ার ইব্রাহিমের বটে, কিন্তু এর সব কিছুই আনোয়ার ইব্রাহিম সাইমুমকে দান করেছে। তিন তলার দুটি কক্ষ নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বাস করেন। এ দুটি কক্ষের উপযুক্ত ভাড়া ইব্রাহিম সাইমুমকে দেয়।
আমির উসমান হাসান তারিক সহ সবাইকে নিয়ে গ্যারেজের মধ্য দিয়ে ঢুকে পেছনের দরজা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করল। আমির উসমানের অফিস কক্ষে হাসান তারিক ও আমির উসমান গিয়ে বসলেন। অফিসটি দোতলায়। ঘরের বাইরে রুশ ভাষায় বিরাট একটা সাইনবোর্ড- ‘অফিস অফ দি লিগাল কনসালট্যান্ট (প্রাইভেট)’।
হাসান তারিক ও আমির উসমান টেবিলে মুখোমুখি বসে। কথা বলল প্রথম আমির উসমান। বলল, আপনাকে ওরা ধরে এনেছে এটা শুরু থেকেই আমরা জানি। এদেশে আমাদের সব কর্মীই এটা জানে। কিন্তু কোথায় কিভাবে যে আছেন এটা আমাদের জানা ছিল না। অতি সম্প্রতি আমরা এ ব্যাপারে জানতে পারি।
ভিকটরের সাথে কিভাবে আপনাদের যোগাযোগ হলো?
সে একটা ইতিহাস। ‘ফ্র’-এর গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিও’র তাসখন্দের অভ্যন্তর বিভাগের প্রধান উমর জামিলভ আপনার সন্ধান ইসলামিক স্টেট অব ফিলিস্তিনের মস্কোস্থ এ্যামবাসীকে জানায়। সেই সাথে জানায় সহজ শিকার হিসাবে ভিকটরের নাম। এ খবর আমরা পাওয়ার পরেই ভিকটরের সাথে যোগাযোগ করি।
‘রিও’-এর একজন অফিসার এটা করল? তাঁকে আপনারা জানেন? অপার বিস্ময় হাসান তারিকের চোখে।
আমরা তাঁকে জানি না, এখনো খোঁজ নিতেও পারিনি।
আমির উসমান থামল। হাসান তারিক কোন কথা বললেন না। তার ভাবনা এখন অন্য জায়গায়। আয়িশা আলিয়েভার কথা মনে পড়ল তার। উমর জামিলভ তাসখন্দ ‘রিও’ও অভ্যন্তর বিভাগের প্রধান হলে সেই তো ওখানে আলিয়েভার টপ ‘বস’ হবার কথা। তাহলে উমর জামিলভের হাতে কি আয়িশা আলিয়েভার ক্ষতি হতে পারে? আশার একটা আলো জেগে উঠতে চাইলো তার মনে। হাসান তারিকের কাছে আলিয়েভার লেখা চিঠি যে মুহূর্তে ওদের হস্তগত হয়ে যায়, তখন থেকেই হাসান তারিক আলিয়েভার জীবনের আশা পরিত্যাগ করেছিলেন।
হাসান তারিকের চিন্তাজাল ছিন্ন করে আমির উসমানই আবার কথা বলল। বলল সে, আজ রাতের মধ্যেই আমাদের পাহাড়ের ঘাঁটিতে পৌঁছতে হবে। গাড়ীর পথ এখন একটুও নিরাপদ নয়। পাহাড়-মালভুমির দুর্গম পথে আমাদের ঘোড়ায় চড়ে যেতে হবে। সময়ও লাগবে এর জন্য প্রচুর। আমির উসমানের কথা শেষ হতেই ঘরে ঢুকল আনোয়ার ইব্রাহিম। বলল, চলুন খাবার তৈরী।
এই মুহুর্তে এর চেয়ে বড় সুখবর আমার জন্য কিছু নেই, বলে হেসে উঠে দাঁড়ালেন হাসান তারিক। উঠে দাঁড়াল আমির উসমানও।

Page 70 of 165
Prev1...697071...165Next
Previous Post

পরী – আলাউদ্দিন আল আজাদ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা – আহমদ শরীফ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা - আহমদ শরীফ

বিচিত চিন্তা - সংস্কৃতি চিন্তা - আহমদ শরীফ

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In