জনফ্রন্টের ৫ হাজার মুজাহিদ বেকসুর খালাস হয়ে গেল। পরে তারা সাইমুমের সঙ্গে এক সাথে কাজ করার জন্য শপথ গ্রহণ করল। আহমদ মুসা তাদেরকে রাজনৈতিক শিক্ষা ও সামরিক ট্রেনিং গ্রহণের জন্য সউদী আরবের আল-আসির এলাকার একটি পাঠিয়ে দিল। সাইমুমের রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে ইসলামী শিক্ষা, ইসলামী জীবন দর্শনের সার্বজনীনতা এবং জগতের অন্যান্য মতাদর্শের পরিচয় শামিল রয়েছে। সাইমুমের সদস্য হওয়ার জন্য এই জ্ঞানলাভ অপরিহার্য। এই কড়াকড়ি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলে আহমদ মুসা বলেন, এই জ্ঞানটুকু ছাড়া এক জন মুসলমান তার আত্ম পরিচয় লাভ করতে পারে না। আত্ম পরিচয়ই যে পেলো না, সে নিজের এবং দুনিয়ার অপর কারও কোন উপকার করতে পারে না।
১০
তেলআবিব সেক্রেটারীয়েট ভবনের প্রতিরক্ষা বিভাগ। বিরাট সিটিং রুম। কাল কার্পেটে মোড়া মেঝে। সোফা দিয়ে সুন্দর করে সাজানো ঘর। মাঝখানের সোফাটিতে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী স্যামুয়েল শার্লটক, তাঁর ডান পাশের সোফাটিতে রয়েছে ডেভিড বেঞ্জামিন এবং বাম পাশে আছেন এস্কোল। তারপর একে একে বসেছেন নিরাপত্তা ও কাউন্টার ইনটোলিজেন্স কার্যক্রমের জন্য দায়ীত্বশীল ‘সিনবেথ’ এর প্রধান জেনারেল শামিল এরফান,বিদেশে গোয়েন্দা কর্ম পরিচালসার প্রতিষ্ঠান ‘মোসাদ’ প্রধান মেজর জেনারেল লুইস কোহেন,মিলিটারী ইনটেলিজেন্স বিভাগ‘শোরুত মোদিন’এর প্রাধন জেনারেল মরদেশাই হড, রাজনৈতিক তথ্যাদির গোয়েন্দা কর্ম পরিচালনার প্রতিষ্ঠান ‘রিসুত’ এর প্রধান ইসাক রিজোক। ডেভিড বেঞ্জামিনের ডান পাশে বসেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে হায়ান এবং ইসরাইল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল ইসরাইল তাল। এ ছাড়া উপস্থিত আছেন ইসরাইল পার্লামেন্টের তিনজন প্রতিনিধি সদস্য।
ইসরাইলের সুপ্রীম সিকিউরিটি কাউন্সিলের এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী স্যামুয়েল শার্লটক। তিনি ধীরে ধীরে বললেন, ‘‘ইসরাইলের সুসন্তান উপস্থিত ভদ্রমহোদয়গণ, বিগত কিছু দিনের ঘটনা প্রবাহ আমাদের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তেলআবিবের নিরাপত্তা প্রধান মিঃ চেচিনের মৃত্যু, ওসেয়ান কিং জাহাজের ভয়াবহ র্দুঘটনা এবং জেরুজালেম ও ইলাতের ক্ষেপনাস্ত্র ঘাঁটির সর্বাত্মক ক্ষতি সাধন শুধু সামরিক দিক দিয়ে উদ্বেগের নয়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিকে ও দুর্বল করে দিয়েছে। দেশের ভিতরে এবং বাইরে আমরা তীব্র সমালোচনা সম্মুখীন হয়েছি। ইসরাইলের সুমান ক্ষুণ্ণ হয়েছে অনেকখানি। এখানেই শেষ নয়, এক দুর্যোগের কালো মেঘ আমাদের পৃতিভূমিকে গ্রাস করতে আসছে। আমাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করবেন। মোশে হায়ান নড়ে চড়ে বসলেন। ফাইলটি নেড়ে চেড়ে সামনে ধরলেন। তাঁর গম্ভীর কন্ঠে ধ্বনিত হলো ‘‘ভদ্রমহোদয়গণ, আমাদের তথ্য সরবরাহকারী এজেন্সি সমূহ যে সব তথ্য সরবরাহ করছেন, যা আমার সামনে উপস্থিত আছে তার আলোকে বলতে হচ্ছে, সম্প্রতি পরিস্থিতির বিরাট পরিবর্তন হয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড়া নিয়েছে। আপনারা জানেন, ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বহুপূর্ব থেকে একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থার অধীনে ইহুদী তরুণ তরুণীরা আরব রাষ্ট্রসমূহে মুসলিম নামের ছদ্মবেশ নিয়ে মুসলমান হিসেবে বাস করছিল। আরব রাষ্ট্রসমূহের সামরিক ও বেসামরিক তথ্য সরবরাহের এরাই ছিল উৎস। এরা
নিজের জীবন বিপন্ন করে হলে ও দায়িত্বপালন থেকে পিছ পা হয়নি। ‘কামাল আমিন তাবিজ’ নামের ছদ্মবেশে এলিস কোহেন সিরীয় সেনা বাহিনীর যে তথ্যাদি সরবরাহ করেছিল, আপনারা তা জানেন। স্বীকার করতে হয়, তারই দেয়া তথ্যের উপর নির্ভর করে আমাদের সেনাবাহিনী ১৯৬৭ সালে গোলান হাইট দখল করতে পেরেছিল। এলিস কোহেনের মত হাজার হাজার ইসরাইল সন্তান পিতৃভূমির জন্য তথ্যাদি সরবরাহ করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু গভীর দুঃখ ও বেদাসান সাথে আমি আপনাদের জানাচ্ছি যে, মিসর থেকে জর্দান ও সিরীয়ার মধ্য দিয়ে লেবানন পর্যন্ত আমাদের যে স্পাই রিং ছিল, তা আজ ধবংসহয়ে গেছে। এই স্পাই রিং এ কার্য্যরত তিন হাজার ইহুদী যুবক, তিন হাজার পাঁচশত ছাব্বিশ জন ইহুদী নারী নিখোঁজ হয়েছে। এদের অনেকের লাশ পরে পাওয়া গেছে কিন্তু অধিকাংশের লাশ ও পাওয়া যায়নি। এছাড়া ‘মোসাদ’ এবং ‘শেরুত মোদিন’ এর ৫১ জন সুদক্ষ গোয়েন্দা কমী গত দু’বছরে প্রাণ দিয়েছে সীমান্তের ওপারে। সীমান্তের ওপারের এলাকা আমাদের জন্য অন্ধকার হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় আমরা WRF (World Red Forces) এর সহযোগিতায় ফিলিস্তিন সংযুক্ত জনফ্রন্ট ও গণতন্ত্রী জনফ্রন্টের বন্ধুত্ব অর্জন করতে পেরেছিলাম এবং তাদের সহযোগিতায় নতুন ‘স্পাই রিং প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলাম, কিন্তু সে প্রচেষ্টা ও আমাদের ব্যর্থ হয়েছে। সংযুক্ত জনফ্রন্টের চেয়ারম্যান জর্জ বাহাশ ছাড়া ফ্রন্টের সব নেতৃবৃন্দই ধরা পড়েছেন এবং তাদের ৫ হাজার মুজাহিদ বন্দী হয়েছে। আমরা সংবাদ পেয়েছি, নেতৃবৃন্দের দু’ জন ছাড়া সকলেরই মৃত্যুদন্ড হয়েছে এবং বন্দী মুজাহিদরা ক্ষমা লাভ করে সবাই সাইমুমে যোগ দিয়েছে।
