তিনি ঘোষণা করলেনঃ আসামীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এবং প্রমাণিত অভিযোগ অনুযায়ী আসামীগণ দুই ধরনের অপরাধে অপরাধী। প্রথমতঃ মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শত্রুদের সাথে যোগ দিয়েছে। অপরাধের প্রকৃতি হিসাবে প্রথম অপরাধটি প্রধান এবং দ্বিতীয় অপরাধ প্রথম অপরাধের অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়া মাত্র। এই দিক দিয়ে আসামীদের একটিই মূল অপরাধ এবং তা হলো, ইসলামের আনুগত্যের অস্বীকৃতি এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের বিরুদ্ধে কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, ইসলামের ইতিহাসে তার জলন্ত প্রমাণ রয়েছে। রসূলুল্লাহ (সঃ) এর মৃত্যুর পর আরবের কতিপয় সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি ইসলামের আনুগত্য অস্বীকার এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ধ্বজা উত্তোলন করে। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি স্বত্ত্বেও আমিরুল মোমিনিন হযরত আবুবকর (রাঃ) ইসলামের প্রশ্নে কোন আপোস কনসেশনের বিষয় নীতি বিরুদ্ধ ঘোষণা করে বিদ্রোহী মুরতাদদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ইসলামের আনুগত্যে পুনরায় ফিরে না এসেছ এমন প্রতিটি বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ মৃত্যুদন্ডই হলো ইসলামের আনুগত্য অস্বীকারকারী বিদ্রোহীদের একমাত্র শাস্তি। ইসলামী সংবিধানের নির্দেশও তাই। আমাদের বর্তমান আসামী অর্থাৎ জনফ্রন্টের বিদ্রোহী আসামীদের বেলায়ও এই আইনই প্রযোজ্য। তারা অনুতপ্ত হয়ে যদি ইসলামের আনুগত্যে পুনরায় ফিরে আসে, তাহলে তাদের প্রথম অপরাধ ক্ষমার যোগ্য। এক্ষেত্রে তাদের দ্বিতীয় অপরাধের শাস্তি হিসেবে ফিলিস্তিনের সার্বিক মুক্তি না আসা পর্যন্ত তাদেরকে কারাগারে আটক থাকতে হবে। আর যদি ইসলামের আনুগত্যে ফিরে আসতে অস্বীকার করে তাহলে মৃত্যুই হবে তাদের শাস্তি। রায় ঘোষণা শেষ হতেই আসামীর কাঠগড়া থেকে সংযুক্ত জনফ্রন্টের ওয়ার্কিং কাউন্সিলের সদস্য আবদুল্লাহ ওয়াসিম এবং হাসান তালাত উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আমরা আমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি। আমরা ইহুদীরের অর্থের প্রলোভনে পড়ে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা ও মজলুম ফিলিস্তিনীদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকাতা করেছিলাম। আমারা মার্কসের সমাজ দর্শনকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার বিকল্প মনে করতে পারি না। আমরা আমাদের পদস্থলনের জন্য রাববুল আলামিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থী। তিনি দয়া করে আমাদের ক্ষমা করুন।
কাঠগড়ার অপর পঁচিশ জন আসামী মাথা নত করে দাঁড়িয়ে রইল। আসামীদেরকে কাঠ গড়া থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। পরে জনফ্রন্টের পাঁচ হাচার আসামী মুজাহিদের বিশজন প্রতিনিধিকে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হলো। তাদের বিরুদ্ধেও ঐ একই অভিযোগ এবং কাজী আলী কুতুব ঐ একই রায় ঘোষণা করলেন। জনফ্রন্টের সদস্যরা শান্তচিত্তে ও নতমস্তকে অভিযোগ ও রায় শ্রবণ করলো। রায় ঘোষণা শেষ হলে, আসামী পক্ষ থেকে এক জন বলল, বাদী পক্ষ থেকে যে অভিযোগ সমূহ উত্থাপন করা হছেয়ে, আমরা বন্দী দশায় এসে তা জানতে পারলাম। এ সম্বন্ধে আমাদের বক্তব্য হলো, বিভিন্ন ভালো দিকের কথা আমাদের বলা হতো। কিন্তু আমাদের কর্তৃপক্ষ যে ইসলামের গন্ডী থেকে বেরিয়ে গিয়ে মার্কসের দর্শন গ্রহণ করেছেন, আমরা তা অবহিত নই। আমাদের নেতৃবৃন্দ যে আমাদের শত্রুদেশ ইসরাইলের সাথে আতাঁত করেছেন আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিষ্ঠান সাইমুম এবং আমাদের সাহায্যকারী আরব রাষ্ট্র সম্পর্কে বিভিন্ন গোপন তথ্য সরবরাহ করেছেন, আরব রাষ্ট্রসমূহ ও সাইমুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্রস্ততি নিচ্ছেন, আমরা সে সম্পর্কে ঘূনাক্ষরেও কিছু জানি না। এমন কি ইসরাইলস্থ জনফ্রন্টের ঘাঁটি সমূহের কর্মকর্তারাও সংস্থার নেতৃবৃন্দের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত নয়। নেতৃবৃন্দ সরাসরি ইসরাইল রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। সাইমুমের আস্তানা সমূহের ঠিকানাও আমাদের নেতৃবৃন্দ সরাসরি ইসরাইল নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন। আমরা সজ্ঞানে কোন অপরাধ করিনি। ষোল তারিখ রাতে এক জরুরী বার্তায় আমাদেরকে জানানো হয় যে, সাইমুমের সাথে আমাদের মতান্তর দেখা দিতে পারে, বিভিন্ন স্থানে ওদের অবস্থান, ওদের সংখ্যা ওদের কার্যকলাপ ও কার্যপদ্ধতির বিশদ বিবরণ হেড কোয়ার্টারে পৌঁছাও এবং কোন কাজে ওদের সহযোগিতা করো না। এ নির্দেশ ছাড়া ইসরাইলসস্থ আমাদের সহকর্মীদেরকে অতিরিক্ত আর একটি নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তা হলো – ষোল তারিখ রাতেই তারা যেন সমস্ত পুরাতন ঘাঁটি ছেড়ে দেয়। এ নির্দেশ আমাদের প্রতিও ছিল, আমাদের জন্য পুরাতন ঘাঁটি ছেড়ে দেবার সময় নির্দিষ্টি ছিল ১৮ তারিখ সন্ধ্যায় জেবেল আল-শামছের আমাদের হেড কোয়ার্টারও অন্যত্র স্থানান্তরিত হতো। কিন্তু এ পরিকল্পনার ১২ ঘন্টা আগেই সাইমুম তাদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে এগিয়ে যায়। আমাদের এই বক্তব্যের আলোকে মহামান্য আদালত সমীপে বন্দী ৫ হাজার মুজাহিদের তরফ থেকে আমাদের আরজ, আমরা নির্দোষ। আমরা জ্ঞানতঃ আমাদের রসূল (সঃ) এবং আমাদের ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে কোন বিদ্রোহ করিনি এবং এ ধরনের কোন পরিকল্পনাও করিনি। আমরা আমাদের ভ্রাতৃ প্রতিষ্ঠান সাইমুম এবং কোন আরব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জ্ঞানতঃ কোন ষড়যন্ত্রে যোগ দেইনি কিংবা এ ধরনের কোন ইচ্ছাও পোষণ করিনি।
