-হ্যালো , আহমদ মুসা বলছি।
-আচ্ছালামু আলায়কুম, আবুল হিশাম বলছি।
-ওয়াআলায়কুম ছালাম। জনাব কি আমার খোঁজ করেছিলেন?
-জি, হাঁ। আপনার পাঠানো মেসেজ পেয়েছি। মারাত্মক সংবাদ। শাহ সউদ মিসরের আনোয়ার রশিদ
-জ্বি হাঁ। সব আরব রাষ্ট্র প্রধানের কাছে মেসেজটি পাঠানোর নির্দেশ আমি সংগে সংগে দিয়েছি।
-যাক, আমার ভার লাঘব করেছেন। আচ্ছা জনফ্রন্ট সম্বন্ধে কি চিন্তা করছেন?
-সংযুক্ত জনফ্রন্টের হেড কোয়াটার থেকে এইমাত্র এলাম। জর্জ বাহাশ ছাড়া জনফ্রন্টের কার্যকরী পরিষদের সবাইকে বন্দী করেছি। তাদের হেড কোয়ার্টারের অন্যান্য লোকজনও ধরা পড়েছে। যথসম্ভব দ্রুত জনফ্রন্টের লোকদের গ্রেপ্তার করার জন্য সাইমুমের সব ঘাঁটিতে নির্দেশ পাঠিয়েছে।
-আবদুর রহমান বাজাজ ও আবদুল করিম হাসুনার খবর কি? হাঁ, ওরা ধরা পড়েছে।
আলহামদুলিল্লাহ্ আল্লাহ আপনানের হাত কে আরো শক্তি শালী করুন।
-দোয়া করুন জনাব, ফিলিস্তিনের মুক্তি যেন আল্লাহ ত্বরান্বিত করেন এবং বিশ্বের মজলুম মানুষের মুক্তির যেন এটা হয় শুভ পদক্ষেপ।
-আল্লাহ সহায়। তিনি সর্বশক্তিমান।
-জনাব, সংযুক্ত আরব কমান্ড এবং নিখিল আরব নিরাপত্তা কাউন্সিলের শীর্ষ বৈঠকের কতদূর?
-সব ঠিকঠাক, তারিখ নির্দিষ্ট করার বাকী আছে।
-আসছে পবিত্র রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখের মধ্যে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে ভালো হয়।
-দোয়া করুন। রাখি এখন।
-আচ্ছা, খোদা হাফেজ।
-খোদা হাফেজ। টেলিফোন রেখে রিভলভিং চেয়ারেটিতে গা এলিয়ে দিল আহমদ মুসা। ক্লান্তিতে গোটা শরীর ভেঙ্গে আসছে। পূর্বের জানালা দিয়ে আসা স্নিন্ধ বাতাস খু্ব ভালো লাগছে তার। ঘুমে জড়িয়ে আসতে চাইছে চোখ। হঠাৎ চারদিকের নীরবতা ভেঙ্গে মোয়াজ্জিনের কণ্ঠ শোনা গেল। আম্মানের শাহী মসজিদের উঁচু মিনার থেকে ভেসে আসছে আজান। আজানের মধুর ধ্বনি কেঁপে কেঁপে মিলিয়ে যাচ্ছে নিঃসীম নভোমন্ডলের ইথার কণায়। মোয়াজ্জিন ডাকল, হায়া আলাচ্ছালাহ। আহমদ মুসার মন মুহূর্ত ছুটে গেল জেরুজালেমের মুসলিম জনপদে। ওরা কি এই ধ্বনি এমনি করে শুনতে পাচ্ছে? মসজিদুল আকসার মিানার থেকে মোয়াজ্জিন কি এ আহবান জানাতে পারছে নিরুদ্বেগ চিত্তে? চোখের কোণ ভিজে উঠল আহমদ মুসার। ফিলিস্তিনী মজলুম ভাইদের মুক্তির সোনালী দিগন্ত আর কত দূরে? তেলআবিব, হাইফা, জেরুজালেম, ইলাত হেব্রন, গাজা প্রভৃতি শহরের মসজিদের মিনার শীর্ষ থেকে কবে মোয়াজ্জিনের এমনি স্বাধীন কণ্ঠ শোনা যাবে? সুবেহ সাদেরকের স্বর্গীয় স্পর্শে পূর্ব দিগন্ত শুভ্র হয়ে উঠেছে। আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল অজু করার জন্য।
৯
জেবেল আলনুর। সাইমুমের হেড কোয়ার্টারের বিচার কক্ষ। প্রধান কাজী শেখ আলী কুতুব কাজীর আসনে সমাসীন। জনফ্রন্টের সদস্যদের বিচার আজ। জনফ্রন্টের মোট পাঁচ হাজার সদস্য ধরা পড়েছে এবং নেতৃবৃন্দের মধ্যে জর্জ বাহাশ ছাড়া সকলেই বন্দী হয়েছে।
আবদুর রহমান বাজাজ এবং আবদুল করিম হাসুনাসহ ২৭ জন জনফ্রন্ট কর্মকর্তা আসামীর কাঠগড়ায় দন্ডায়মান। বাদী মুসলিম জনগণের পক্ষে সাইমুম প্রধান আহমদ মুসা। বাদীর পক্ষ থেকে আরজি পেশ করতে এলেন আহমদ খলিল। তিনি বললেন, আসামী জনফ্রন্টের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বাদী পক্ষের আরজ এই যে,
১। আসামীরা মুসলিম মিল্লাত থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে সম্পূর্ণ ভিন্ন মতাদর্শের দুশমনদের আনুগত্য স্বীকার করেছে;
২। আসামীরা তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও আরব রাষ্ট্র সমূহের সাথে সম্পাদিত চুক্তির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ;
৩। আসামীরা মুসলিম জনগণের শত্রু ইসরাইলের সাথে আঁতাত করে নিম্নলিখিত বিশ্বাসঘাতকতার কাজ করেছে;
(ক) ফিলিস্তিনী জনগণের আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামরত সাইমুমের ইসরাইলস্থ গোপন আস্তানাগুলোর ঠিকানা ইসরাইলকে সরবরাহ করেছে ;
(খ) সাইমুম ইসরাইলের গোপন সামরিক তথ্যাদি সংগ্রহ করছে, এই খবর ইসরাইলকে জানিয়েছে;
(গ) মুসলিম নরনারীর ছদ্মবেশে যে সমস্ত ইহুদী মুসলিম পরিবারে জড়িত থেকে ইসরাইলের জন্য গোয়েন্দাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, সাইমুম তাদের খুঁজে বের করছে, একথা ইসরাইলকে জানিয়েছে এবং নতুন করে গোয়েন্দা চক্র স্থাপনের জন্য সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
৪। আরবের মুসলিম জনগণ, আরব রাষ্ট্র এবং সাইমুমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও ষড়যন্ত্রমূলক কাজের সিদ্ধান্ত আসামীরা গ্রহণ করেছে। পরিশেষে আহমদ খলিল বলল বাদী পক্ষের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আপনার কাছে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ও নথিপত্র পেশ করা হয়েছে।
কাজীর পক্ষ থেকে আসামীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হলো, বাদীর অভিযোগ তারা স্বীকার করে কিনা। আবদুর রহমান বাজাজ কাজীর প্রশ্নের জবাব না দিয়ে জানাল, আমাদের বিচার করবার কোন ক্ষমতা আপনাদের আইনের নেই।
-‘আপনাদের আইন’ বলতে আসামী মুসলিম আইন বুঝিয়েছেন কি? কাজী আলী কুতুব জিজ্ঞাসা করলেন।
কাজীর প্রশ্নটির কোন জবাব আবদুর রহমান বাজাজ দিল না।
আবদুর রহমান বাজাজের কথাই উপস্থিত সকল আসামীর কথা কিনা কাজী সাহেব জানতে চাইলেন। আসামীরা সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল।
কাজী আলী কুতুব গভীর অভিনিবেশ সহকারে কিছুক্ষণ সম্মুখের নথিপত্র নাড়াচাড়া করলেন। তারপর কলম তুলে নিলেন হাতে।
