দক্ষিণ মাদ্রিদের বুক চিরে বয়ে গেছে ছোট নদী তাগুনা।
নদীর প্রায় তীরেই ‘কার্ডিনাল হাউজ’। ৫শ’ বছরের পুরোনো বাড়ি। মাঝে মধ্যে সংস্কার হলেও বাড়ির কাঠামোতে হুবহু একই রাখা হয়েছে। বাড়িটি স্পেনের খৃষ্ট ধর্মীয় মহলের কাছে একটা সম্মানিত তীর্থক্ষেত্র।
বাড়িটি কার্ডিনাল ফ্রান্সিসকো জিমেনিজ সিসনা রোজ তার দরবার গৃহ হিসেবে তৈরি করে ১৪৯৯ সালে। কার্ডিনাল ফ্রান্সিসকো ছিলেন মুসলিম শাষনোত্তর খৃষ্টান স্পেনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রাণী ইসাবেলার ধর্মগুরু। ইনি মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রতিষ্ঠাতা। সে সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল ইউনিভার্সিটি অব আলফালা। কিন্তু কার্ডিনাল ফ্রান্সিসকো যে কারনে খৃষ্টান মহলে প্রাতঃস্মরনীয়, সেটা হলো তারই উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে স্পেন থেকে মুসলিম উচ্ছেদ শুরু হয়। তার এই দরবার গৃহ, কার্ডিনাল হাউজ ছিল তার এই উচ্ছেদ অফিযানের একটা কেন্দ্রবিন্দু।
কার্ডিনাল পরিবারই এখনও বাড়িটির মালিক। সেই সূত্রে কার্ডিনাল পরিবারের বর্তমান উত্তর পুরুষ ফ্রান্সিসকো জিমেনিজ, জেনের আব্বা, এই কার্ডিনাল হাউজের মালিক। বাড়িটি ৩ তলা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নিয়ে গড়ে উঠেছে একটা লাইব্রেরি। এখানে দুর্লভ বইয়ের সংগ্রহ আছে, যার একটা অংশ মুসলিম লাইব্রেরি থেকে লুট করে আনা। এই লাইব্রেরি সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত নয়। শিক্ষক, ছাত্র ও গবেষকরা অনুমতি নিয়ে লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারে। ৪টি তলার প্রথম তলাটির মাটির নিচে আরেকটা ফ্লোর আছে। আন্ডারগ্রাউন্ড ও প্রথম তলা স্পেনের কেন্দ্রীয় চার্চকে ব্যবহারের জন্যে দেয়া হয়েছে। কার্যত ক্লু-ক্ল্যক্স-ক্ল্যান এই ফ্লোরে। কারও সেখানে প্রবেশ অধিকার নেই। প্রধান গেটে চবিবশ ঘন্টা প্রহরী থাকে।
কার্ডিনাল হাউজের সামনেথেকে শুরু করে নদীর তীর পর্যন্ত একটা সুন্দর বোটানিক্যাল গার্ডেন ও পার্ক তৈরি করা হয়েছে। এই পার্ককে দক্ষিণ মাদ্রিদের নার্ভ বলেও অভিহিত করা যায়। দর্শক ও ভ্রমণকারীদের পদভারে সব সময় গমগম করে গার্ডেনটি।
বোটানিক্যাল গার্ডেনকে সামনে রেখে দাঁড়িয়ে আছে কার্ডিনাল হাউজ। বাড়িটির পূর্ব ও পশ্চিম দিকে দেয়াল ঘেরা বাগান। এখানে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
কার্ডিনাল হাউজের উত্তর পাশে সবুজ ঘাসে ঢাকা সুন্দর একটি চত্বর। সে চত্বর পেরোলেই বোটানিক্যাল গার্ডেন। মাঝখান দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে লাল ইটের একটা রাস্তা।
বোটানিক্যাল গার্ডেনের দিক থেকে কার্ডিনাল হাউজের দ্বিতলে ওঠার সিঁড়ি সবুজ চত্বরের মাঝখান থেকে সোজা উঠে গেছে দু’তলার বারান্দায়।
আর বেশ উঁচুতে দাঁড়ানো একতলায় ওঠার সিঁড়ি পুব দিকে থেকে। পুব দিকের বাগানের উত্তর দেয়ালে একটা দরজা। সে দরজা পেরুলে পাওয়া যাবে লাল ইটের একটা রাস্তা। রাস্তাটি সিঁড়িমুখে গিয়ে শেষ হয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে উঠলে সিঁড়ির মাথায় একটা দরজা। দরজাটা স্টীলের। এ দরজা ছাড়া একতলায় ওঠার কোন দ্বিতীয় পথ নেই।
বাড়ির পুব পাশের বাগানের উত্তর দেয়ালের গেটে সর্বক্ষণ পাহারা থাকে। বাগানের ভেতরে দরজা সংলগ্ন একটা গেট রুম। গেট রুমের ঘুলঘুলি দিয়ে দেখা যায় বাইরে দরজায কে এসেছে।
কার্ডিনাল হাউজের আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোরের প্রশস্ত একটি কক্ষ। সম্পূর্ণ এয়ারকন্ডিশন করা। মেঝেয় ব্রাউন রংয়ের কার্পেট। ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা স্টিলের খাট পাতা। মেঝের সাথে ফিক্সড করা। ঘরে একটি দরজা, কোন জানালা নেই। ঘরে একটা বাথরুম। বাথরুমের কোন জানালা নেই।
বাথরুমের দরজার দক্ষিণ পাশে ঘরের পশ্চিম দেয়ালের সাথে বেসিন। বেসিন একটা ট্যাপ। ওটা থেকে খাবার পানি পাওয়া যায়। বেসিন থেকে ঠিক ওপরে মাথা বরাবর উঁচুতে দেয়ালের সাথে লাগানো একটা তাক। তাকের সাথে ফিক্সড করা স্টিলের একটা বাক্স মতো কনটেইনার। ছাদ থেকে বেশ মোটা পাইপ ক্রমে সেই কনটেইনারের পেটে ঢুকে গেছে। এই পাইপ দিয়ে বাক্সের মধ্যে আসে খাবার। ঠিক সময়ে খাবার আসে। কনটেইনারের পাশের ছোট দরজাটা খুলে খাবার খেতে হয়। খাবার কিছু উচ্ছিষ্ট থাকলে কনটেইনারের নির্দিষ্ট পটে রাখলে সেটা তুলে নেয়া হয়।
প্রথম দিনেই এসব কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছে আহমদ মুসাকে।
অদ্ভুত এ বন্দীখানা! বিছানায় শুয়ে সাদা ছাদটার দিকে চোখ নিবদ্ধ করে ভাবছিল আহমদ মুসা। একটা শব্দও কোথাও থেকে কানে আসছে না। মৃতপুরীর মতোই অখন্ড নিরবতা। মৌনতা যে কত ভয়ংকর এ ক’দিনে আহমদ মুসা হাড়ে হাড়ে উপলদ্ধি করেছে। মানুষের কন্ঠ, পাখির কিচির-মিচির, গাড়ির ভেঁপু মনে হচ্ছে কতদিন শোনেনি। এখানে প্রবেশের পর মাঝখানে একদিন ভাসকুয়েজ এসেছিল বৃটিশ ক্লু-ক্ল্যক্স-ক্ল্যান-এর প্রধান মি. টমাসকে সাথে নিয়ে। টমাস দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরার পথে মাদ্রিদে যাত্রা বিরতি করেছিল। ভাসকুয়েজের কাছ থেকে খবরটা শুনে সে ছুটে এসেছিল আহমদ মুসাকে দেখতে।
তার প্রথম প্রশ্নট ছিল, ‘যুগোশস্নাভিয়ায় আপনার কাজ শেষ?’
আমি তো যুগোশস্নাভিয়ায় কোন কাজ নিয়ে যাইনি! গিয়েছিলাম একজন বিপদগ্রস্ত লোককে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে।’ বলল আহমদ মুসা।
‘কিন্তু সেখানে তো বড় কাজ করেছেন!’
‘কি কাজ করেছেন?’ বলল ভাসকুয়েজ।
‘মিলেশ বাহিনীকে শেষ করেছেন। মিলেশ বাহিনীর নেতা কনস্টেনটাইন নিহত, দলের মাথা বলতে কেউ বেঁচে নেই।’
‘কি বলছ টমাস? মিলেশ তো আমাদের বন্ধু-সংগঠন ছিল!’ বলে ভাসকুয়েজ বিষদৃষ্টিতে তাকায় আহমদ মুসার দিকে। তারপর বলে আবার, ‘মি. আহমদ মুসা, আপনার অপরাধ ক্রমশই বাড়ছে। বন্ধু সংগঠনের পক্ষে প্রতিশোধ নেয়ার দায়িত্ব আমাদের।’
‘ভাসকুয়েজ ছোট প্রতিশোধের পণ্য বানিয়ে এ সম্পদকে শেষ করো না।’ বলল মি. টমাস।
‘না, তা করছি না। আমেরিকার বেঞ্জামিন এ সপ্তাহের শেষে আসছেন।’
‘বেঞ্জামিন কিবলে?’
‘বিনিময়ে যা চাই তাই দেবে বলেছে।’
‘এ পণ্য হাতে পেলে শুধু মূল্যবান তথ্য উদ্ধার নয়, কিছু মুসলিম দেশের যে সুবিধা আদায় করতে পাবে তার মূল্য টাকার অংকে হিসেব করা যাবে না। আমেরিকান ক্লু-ক্ল্যক্স-ক্ল্যান-এর অনেক স্বার্থ আছে আরব ও ইসলামিক দেশে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ফিলিস্তিনে আমেরিকান ইহুদি মাইগ্রশনের অধিকার লাভ। আমেরিকান ক্লু-ক্ল্যক্স-ক্ল্যান আমেরিকান ইহুদিদের আমেরিকা থেকে তাড়াতে চাচ্ছে, কিন্তু জায়গা পাচ্ছে না।’ বলল টমাস।
মি. টমাস কথা শেষ করে আহমদ মুসার দিকে তাকায় ও জিজ্ঞেস করে, ‘স্পেনে আপনি কি মিশনে আহমদ মুসা?’
‘কেন বেড়াতে আসতে বারণ আছে?’
‘আমি যতদূর জানি, আহমদ মুসা কোথাও বেড়াতে যায় না।’
‘ঠিক বলেছেন মি. টমাস। প্রশ্নটা তো আমাদের মাথায় আসেনি। বলল মি. ভাসকুয়েজ। তারপর মি. ভাসকুয়েজ আহমদ মুসার দিকে চেয়ে বলল, ‘ওঁর সাথে আমিও একমত, আহমদ মুসা শুধুই সফরে আসে না।’
‘আমি সময় কাটাবার মতো কোন সফরে আসিনি। এখানকার মুসলমানদের অবস্থা জানা এবং মুসলিম স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখা আমার জন্যে ছোট ব্যাপার নয়।’ বলল আহমদ মুসা।
‘এখানে মুসলমান কোথায়, কি অবস্থা দেখবেন?’
‘সংখ্যা যাই হোক, আছে তো কিছু।’
‘তাদের সাথে যোগাযোগ আছে বুঝি?’
‘যোগাযোগ দূরের কথা, তাদের ঠিকানাও আমার জানা নেই।’
আহমদ মুসা কথাগুলো বলার পরেও ভাসকুয়েজের মুখ থেকে সন্দেহের চিহ্ন যায়নি। বলে ওঠে, ‘ষড়যন্ত্র হতে পারে, এমন আশঙ্কা আমরা আগেই করেছিলাম। সরকারকে আমরা বলেছিলাম, একজন মুসলমানকেও মুসলমান পরিচয় নিয়ে জায়গা দেয়া যাবে না। সরকার আমাদের কথা শোনেনি। সউদি আরবের পেট্রোডলারকেই বেশি মূল্য দিয়েছে। তাদের চাপে শুধু মুসলমানদেরকে একটা মাইনরিটি কম্যুনিটি হিসেবে সরকারী স্বীকৃতি দেয়াই নয়, তাদেরকে মাদ্রিদের বুকের ওপর বিশাল একটা মসজিদ কমপ্লেক্স গড়ারও অনুমতি দিয়েছে। আমাদের কথাই সত্য হয়েছে। ওরা এখন দেশের দুষ্টক্ষত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে।’
‘দেখুন মি. ভাসকুয়েজ, দেশজোড়া সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্যে যে শক্তি, সামর্থ্যের দরকার হয়, স্পেনের অতি ক্ষুদ্র মুসলিম কম্যুনিটির তার কিছুই নেই। এমন একটি মাইনরিটি গ্রুপের বিরুদ্ধে অহেতুক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনলে বুঝতে হবে সে মাইনরিটিরাই তা’হলে ষড়যন্ত্রের শিকার।’ বলল আহমদ মুসা।
আহমদ মুসার কথা শুনে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল ভাসকুয়েজ। বলল, ‘দেখুন আহমদ মুসা, মুখ সামলে কথা বলবেন। আপনার বিচারের জন্যে আপনাকে সঠিক ব্যবহারের জন্যে আপনার সবচেয়ে বড় শত্রুর হাতে আপনাকে তুলে দিতে চাই বলেই আপনি এখনও বেঁচে আছেন। আপনাকে টুকরো টুকরো করে কুকুর দিয়ে খাওয়ালেও আপনার অপরাধ শেষ হবে না।’
সেদিন ভাসকুয়েজ ও টমাস আরও অনেক কথা বলে। শেষে ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার সময় ভাসকুয়েজ বলেছিল, ‘বেশি নয়, আর মাত্র ক’টা দিন মি. আহমদ মুসা। শনিবারেই হয় আপনি উড়বেন আমেরিকার পথে, হয়তো ……।’
কথা শেষ না করেই ভাসকুয়েজ বেরিয়ে গেল। কথা শেষ না করলেও ভাসকুয়েজের না বলা কথাটা আহমদ মুসা বুঝেছে। আমেরিকান ক্লু-ক্ল্যক্স-ক্ল্যানের কাছ থেকে বিলিয়ন ডলার পেলে আহমদ মুসাকে তাদের হাতে তুলে দেবে, তা না হলে এরা আহমদ মুসাকে হত্যা করবে। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।
আহমদ মুসা পাশ ফিরে শু’ল। তার চোখটা গিয়ে দরজার ওপর পড়ল। অন্যদিকে ধাবিত হলো আহমদ মুসার চিন্তা। বিস্ময়কর সিকুরিটি সিস্টেম এই বন্দীখানার! সম্ভবত রাতে অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকার সময়টা ছাড়া সর্বক্ষণ টেলিভিশন ক্যামেরা তাকে পাহারা দিচ্ছে, তার সব গতিবিধি রেকর্ড করছে। ঘর থেকে বেরুবার একমাত্র দরজাটি কনট্রোল রুম থেকে নিয়ন্ত্রিত। দরজার সামনে দাঁড়ালে টেলিভিশন ক্যামেরায় তা তারা দেখে, তারপর দরজা খুলে দেয়। বাইরের গেট ছাড়া আর কোথাও যে পাহারাদার দেখেনি। সিঁড়ি দিয়ে উঠে দোতলার মুখে যে দরজা তাও দূর নিয়ন্ত্রিত। কনট্রোল রুম থেকে টেলিভিশন ক্যামেরা দেখে দরজা বন্ধ কিংবা খুলে দেয়া হয়। দোতলা থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোরে নামার পথে সিঁড়ির মুখে আরেকটা দরজা আছে সেটাও ঐভাবে দূর নিয়ন্ত্রিত।
সেদিন দোতলা থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোরে নামবার সময় আহমদ মুসা সিনাত্রা সেন্ডোকে বলেছিল, ‘আপনাদের সেই দানবকে তো দেখছি না?’
‘দেখতে চান?’
‘অমন আশ্চর্য জিনিস কে না দেখতে চায়?’
‘এখন ও ঘুমিয়ে আছে। পাহারায় নিয়োগ করা হয়নি ওকে। ও যখন পাহারায় থাকবে, সেই হবে গোটা আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোরের মালিক। চলন্ত সব জিনিসই তার শত্রু।’
‘আপনাদের লোকদের ওপর আপনাদের আস্থা বোধ হয় খুব কম। তাই না?’
‘কেন?’
‘রোবটকে রেখেছেন পাহারায়।’
হেসেছিল মি. সেন্ডো। বলেছিল, ‘রোবটটা আমাদের অগ্রবাহিনী। সে সক্রিয় হবার সাথে সাথে মানুষ প্রহরীরাও ছুটে আসবে। ওরা ষ্ট্যান্ডবাই থাকে ওদের ডিউটি রুমে।’
‘একজন বা দু’জন বন্দীর জন্যে আপনাদের এত আয়োজন!’
‘যুদ্ধের আশংকা না থাকলেও সৈন্য রাখা কেউ বাদ দেয় না।’
‘তাছাড়া বন্দী পালাতেও তো পারে না?’
‘পারে। কিন্তু আমাদের এখান থেকে সম্ভব নয়। অতীতে কয়েকজন পালাবার চেষ্টা করেছিল, যারা খাবার নিয়ে যেত তাদের পরাভূত করে। কিন্তু এখন সে সুযোগও নেই।’
একটু থেমেই মি. সেন্ডো আবার বলল, ‘তবে যারা পালাবার চেষ্টা করেছিল সবাই মারা পড়েছিল আমাদের যন্ত্র দানবের হাতে।’
যন্ত্র দানব তো নয়, আপনারা মেরেছেন। আপনারা তার গুলী করা বন্ধ করতে পারতেন।’
‘কেমন করে জানলেন?’
‘কেন, ওর কমান্ড কম্পিউটার আপনাদের হাতে ছিল, এতো সবারই জানা!’
‘ঠিক বলেছেন, আমরা পলাতককে বাঁচাই না, তার প্রাপ্যই হলো মৃত্যুদন্ড।’
কথা বলতে বলতে তারা এই ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল। কথা আর হয়নি তারপর। কিন্তু আহমদ মুসার বুঝার আর বাকি ছিল না, তারা অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
আহমদ মুসা জানে, রোবটের চোখ রোবট দেখে না, দেখে কমান্ডো কম্পিউটারের পরিচালক। তাছাড়া বন্দীখানার সব কক্ষ ও করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে টেলিভিশন ক্যামেরার চোখ। কমান্ডো কম্পিউটারের পরিচালক তার চারদিকে টিভি স্ক্রীনে সবটাই দেখতে পায় এবং সব দেখেই রোবটকে নির্দেশ দেয়। ওদের টিভি স্ক্রিনে এ ঘরের প্রতিটি কাজ ধরা পড়ছে। রাতেও ইচ্ছামত আলো জ্বালিয়ে তাকে ওরা দেখে। ঘুমের ভান করে সে দেখেছে, ঘুমাচ্ছে জেনেও ওরা মাঝে মাঝে আলো জ্বালিয়ে দেখেছে। অতএব, ঘর থেকে বেরুবার যে কোন চেষ্টা ওদের চোখে ধরা পড়ার আশংকা আছে। আর ঘর থেকে কোনমতে বেরুলেও করিডোরে পা রাখার সাথে সাথে রোবটের বন্দুকের মুখে পড়তে হবে। সুতরাং সব বিচারেই বড় কঠিন জায়গা এটা, স্বীকার করল আহমদ মুসা।
আবার পাশ ফিরল আহমদ মুসা। আবার সেই ভাবনা, বড় কঠিন জায়গা হলেও কিছ একটা করতে হবে তাকে। কাল শনিবার, এ বন্দীখানার শেষ দিন তার, সে কথা ভাসকুয়েজ বলেই গেছে। হয় কাল সকালে বিক্রি হয়ে তাকে আমেরিকার ক্লু-ক্ল্যক্স-ক্ল্যানের নতুন বন্দী হিসেবে উড়তে হবে, নয়তো তাকে এরাই হত্যা করবে। এ বিকেল ও আজকের রাতটাই তার হাতে মাত্র কিছু চিন্তা করার। কিন্তু কী চিন্তা করবে সে?
পুনরায় পাশ ফিরল আহমদ মুসা। চোখ বুঝল সে। কপাল তার কুঞ্চিত হযে উঠিল।
বুঝা গেল কোন গুরুতর চিন্তা তাকে আচ্ছন্ন করেছে।
