• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
মঙ্গলবার, জুন 23, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

সাইমুম সিরিজ – আবুল আসাদ

যুগোশ্লাভ সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে বাস দ্রুতবেগে এগিয়ে চলছিল পূবে প্রিজরীন শহরের দিকে। প্রিজরীন যুগোশ্লাভিয়ার কসভো প্রদেশের পশ্চিম সীমান্তের ছোট সীমান্ত শহর। কসভো হাইওয়ে ধরে এগিয়ে চলছিল বাসটি।
আহমদ মুসা ও হাসান সেনজিক পেয়েছিল দরজার ঠিক পেছনের দু’টো সিট।
সীমান্ত ক্রস করতে তাদের কোন অসুবিধা হয়নি। এভরেন রমিজ ও লায়লা লিডিয়া সীমান্ত পর্যন্ত সাথে এসেছিল। যুগোশ্লাভ সীমান্ত ফাঁড়িতেও তারা এসেছিল। সুতরাং তাদের কোন ঝামেলাই পোহাতে হয়নি। বরং আলবেনীয় ও যুগোশ্লাভ সীমান্ত ফাঁড়িতে তারা যথেষ্ঠ খাতির-যত্ন লাভ করে। সকাল ৮টার বাসে কোন সিট খালি ছিলনা। সিটও তারা লাভ করে যুগোশ্লাভ ফাঁড়ি অফিসারদের সৌজন্যেই।
শুভযাত্রা দেখে আহমদ মুসার মনটা খুব প্রফুল্ল হয়ে উঠেছিল। কিন্তু যাত্রার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আহমদ মুসা দু’জন লোককে সীমান্তু ফাঁড়ির অফিসারদের সাথে আলাপ করতে দেখে। ওরা বার বার আহমদ মুসার দিকে তাকাচ্ছিল। এই দৃষ্টিপাতকে আহমদ মুসার ভালো মনে হয়নি। একটি অস্বস্তি নিয়েই আহমদ মুসা বাসে উঠেছিল। আহমদ মুসার এই অস্বস্তি উদ্বেগে রূপান্তরিত হোল যখন সে দেখল সেই দু’জন লোক ড্রাইভারের পিছনের সিট দুটো থেকে দু’জন লোক নামিয়ে দিয়ে সেখানে এসে বসল।
ওরা সিটে বসে মাথা ঘুরিয়ে চকিতে একবার আহমদ মুসাদের দেখে নিয়েছিল।
লোক দু’জনের পরনে কালো স্যুট। মাথায় বাদামী হ্যাট। নাকের নিচে হিটলারি ধাঁচের গোঁফ।
কসভো হাইওয়ে বেশ প্রশস্ত। প্রায় জনশূন্য রাজপথ। গাড়িরও কোন দেখা নেই। তীব্র বেগে এগিয়ে চলছিল বাসটি। নতুন বাস। সম্ভবত নতুন অকম্যুনিস্ট সরকারের নতুন ব্যবস্থার ফল।
আহমদ মুসা ভাবছিল লোক দু’টি কে? মিলেশ বাহিনীর লোক? না আগের মত তাদের লেলিয়ে দেয়া কোন ক্রিমিনাল? যেই হোক তারা, আহমদ মুসা মনে মনে প্রশংসা করল মিলেশ বাহিনীর। ওদের নেটওয়ার্ক ভালো। সব দিকেই ওরা চোখ রেখেছে। ওদের চোখ ফাঁকি দেয়া যাচ্ছেনা। বুঝা যাচ্ছে, হাসান সেনজিকের ফটো ওরা ব্যাপক ভাবে ছড়িয়েছে। সেই সাথে হাত করেছে স্থানীয় ক্রিমিনালদের। যদি তাই হয় তাহলে সামনেও তাদের যাত্রা নিরাপদ নয়, প্রতি পদেই বাধা পেতে হবে।
সকাল দশটায় প্রীজরীন শহরের বাস স্ট্যান্ডে গাড়ি গিয়ে থামল।
গাড়ি গিয়ে থামতেই আহমদ মুসা হাসান সেনজিককে ইশারা করে গাড়ি থেকে নেমে পড়ল। নেমে কন্ডাক্টর ছোকরাকে বলল, শহরে কাজ আছে আমরা আর যাচ্ছি না।
কথা শুনে ছোকরাটার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। নতুন যাত্রী নিয়ে বাড়তি আয় করতে পারবে এই আশায়।
প্রীজরীন বাস স্ট্যান্ডটি একেবারেই ছোট নয়। গোটা তিনেক বাস দাঁড়িয়ে আছে। আরো কয়েকটা ভাঙা বাস বাসস্ট্যান্ডের এক পাশে হুমড়ি খেয়ে পড়ে ছিল। বাসস্ট্যান্ডের এক প্রান্তে অফিস ভবন। আরেক প্রান্তে মোটামুটি বড় একটা ওয়ার্কশপ।
আহমদ মুসা খুশীতে উজ্জ্বল হওয়া কন্ডাক্টর ছোকরাকে জিজ্ঞেষ করল, বাস ছাড়া প্রিষ্টিনা যাওয়ার আর কি ব্যাবস্থা আছে?
প্রিষ্টিনা বেলগ্রেডগামী কসভো হাইওয়ের পরবর্তী বড় শহর এবং কসভোর রাজধানী।
কন্ডাক্টর ছোকরাটি বলল, আছে। প্রাইভেট ট্যাক্সি সার্ভিস। আগে ছিল না। অকম্যুনিষ্ট সরকার ক্ষমতায় আশার পর কম্যুনিষ্ট পার্টি সদস্যদের দখলে রাখা সরকারী গাড়িগুলো কেড়ে নিয়ে এই প্রাইভেট সার্ভিস চালু করেছে।
আহমদ মুসা চারদিকে চেয়ে দেখল, বাসস্ট্যান্ডের পাশের রোডটির ওপারেই একটা মার্কেট। আহমদ মুসা দ্রুত মার্কেটের দিকেই চলল। চলতে চলতে বলল, বাসটি স্টার্ট নেয়ার আগে পর্যন্ত ফেউ দু’জন সন্দেহ করবে না যে, আমরা কেটে পড়েছি। কিন্তু গাড়ি স্টার্ট নিলেই সে বুঝতে পারবে। তখনি বুঝা যাবে তার আসল পরিচয়।
মার্কেটের সামনে কার-পার্কিং লন।
তারা দ্রুত কার-পার্কিং লন পার হয়ে মার্কেটের ভেতর ঢুকে গেল। তারপর আড়ালে দাঁড়িয়ে তারা বাসটির দিকে নজর রাখল।
দুই মিনিটও গেল না। আহমদ মুসা দেখল সেই ফেউ দু’জন বাস থেকে নেমে এসেছে। আহমদ মুসার ধারণা মিথ্যা হলোনা। বাস ছাড়ার আগেই ওরা সন্দেহ করেছে, তাই খোঁজ নেবার জন্যে তারা বাস থেকে নেমে এসেছে।
বাস থেকে নেমে লোক দু’জন বাসের পেছন দিকে দাঁড়িয়ে নতুন যাত্রীর সন্ধানরত কন্ডাক্টর ছোকরাকে কি যেন জিজ্ঞেস করল। ছোকরাটার সাথে কথা বলার পরই লোক দু’জন চঞ্চল হয়ে উঠল। তারা প্রথমেই ছুটে গেল বাস টার্মিনালের অফিসের দিকে। কয়েক মুহূর্ত পরে সেখান থেকে ফিরে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলো দেখল। তারপর গেল ওয়ার্কশপের দিকে।
আহমদ মুসা বুঝল, ওয়ার্কশপ দেখা শেষ হলেই সে আসবে নিশ্চয়ই এই মার্কেটের দিকে।
আহমদ মুসা ভাবল, মার্কেট থেকে তাদের সরে যাওয়ারই চেষ্টা করতে হবে। ওদের মুখোমুখি হয়ে কোন ঘটনা সে সৃষ্টি করতে চায় না। ঘটনা যত এড়িয়ে চলা যায় ততই ভাল।
আহমদ মুসা দ্রুত মার্কেটের ভেতর দিয়ে মার্কেটের পূর্ব-প্রান্তের দিকে চলল।
মার্কেটের পূর্ব-প্রান্তে পৌঁছে আহমদ মুসা দেখল, কার পার্কটি ঘুরে পূর্ব দিকে এসেছে। সে আরও খুশী হলো সেখানে একটি ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। কিন্তু হতাশ হলো গাড়িতে ড্রাইভার না দেখে।
আহমদ মুসা লোক দুটি কোন দিকে যায় তা দেখার জন্যে উত্তর দিকে আরও সরে এল। সে মার্কেটের প্রান্তে এসে উকি দিয়ে দেখল, লোক দুটি দ্রুত রাস্তা পার হয়ে মার্কেটের দিকে আসছে। আরও দেখল সেই বাসটি চলে গেছে। অর্থাৎ লোক দু’টি গেল না। আর সন্দেহের কোন অবকাশ নেই, আহমদ মুসারাই তাদের টার্গেট।
এই সময় হাসান সেনজিক আহমদ মুসার পিঠে টোকা দিয়ে বলল, ট্যাক্সিটির ড্রাইভার এসেছে।
সঙ্গে সঙ্গে আহমদ মুসা ঘুরে দাড়িয়ে দ্রুত ট্যাক্সিটির কাছে গেল।
ট্যাক্সি ড্রাইভারটির সাদা-সিদা চেহারা ও সরল মুখ দেখে খুব খুশী হল। এ ধরনের লোকরা ক্রিমিনাল হয় না। আহমদ মুসা তাকে জিজ্ঞেস করল যে, সে প্রিষ্টিনা যাবে কিনা।
ড্রাইভারটি খুশী হয়ে বলল, যাব।
–তুমি প্রস্তুত? আহমদ মুসা বলল।
–জি, আমি প্রস্তুত। বিনয়ের সাথে বলল ড্রাইভারটি। তারপর ভাড়া চুকিয়ে আহমদ মুসা ও হাসান সেনজিক গাড়িতে উঠে বসল।
সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি স্টার্ট নিল।
গাড়ি চলতে শুরু করলে ড্রাইভারটি বলল, স্যাররা কি বিদেশী? কোত্থেকে আসছেন?
আহমদ মুসা জবাবে তারা আর্মেনিয়া থেকে আসছে জানাল।
গাড়ি তখন চলতে শুরু করেছে।
গাড়ি এসে রাস্তায় পড়ে যখন পূবমুখী হয়ে প্রিষ্টিনার দিকে চলতে শুরু করেছে, তখন আহমদ মুসা ডানদিকে চোখ ফিরিয়ে দেখল লোক দু’টি পূবের কার পার্কটি হতে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তাদের চোখ গাড়ির দিকে নয়।
আহমদ মুসা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। প্রিষ্টিনার দিকে ছুটে চলেছে তখন গাড়ি।

৬

লাল কার্পেটে মোড়া বিশাল কক্ষ। কক্ষের এক কোণে একটা সেক্রেটারিয়েট টেবিল। টেবিলের উপর বলকান অঞ্চলের একটা ম্যাপ মেলে রাখা। টেবিলের ওপাশে বিরাট একটা রিভলভিং চেয়ার। চেয়ারের পিছনে দেয়ালে বেশ উঁচুতে সম্রাট সার্লেম্যানের পূর্ণ দৈর্ঘ্য একটা ছবি। ছবিতে সার্লেম্যানের সঙ্গে আরেকজন রয়েছেন। তিনি পোপ তৃতীয় লিও। পোপ ‘সার্লেম্যানের মাথায় রোমান সম্রাটের মুকুট পরিয়ে তাকে খৃষ্টান জগতের সম্রাট হিসেবে বরণ করে নিচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটে ৮০০ খৃষ্টাব্দে রোমে। সার্লেম্যান ইউরোপ ও খৃষ্টান জগতের ঐক্য ও উত্থানের প্রতীক।
ঘরে মিলেশ বাহিনীর নেতা কনষ্টানটাইন অস্থিরভাবে পায়চারি করছিল। তার মুষ্ঠিবদ্ধ হাত দু’টি পেছনে। মাথা তার নিচু। কি এক অস্থিরতা, উদ্বেগে সে যেন বিপর্যস্ত।
শিথিল পায়ে পায়চারি করতে করতে একবার সে আসছিল টেবিলের কাছে, আবার যাচ্ছিল দরজার দিকে। তার মনে দুঃসহ চিন্তার জট।
হাসান সেনজিক একজন ব্যাক্তিমাত্র। অথচ সেই একজন ব্যাক্তিকে তারা বাগে আনতে পারছে না সকলে মিলে। তাদের সকলের ব্যর্থতার স্বাক্ষর হিসাবে এখনও বেঁচে আছে। হোয়াইট ওলফকে তারাই অনুরোধ করেছিল হাসান সেনজিককে ধরে দেয়ার জন্যে। বিনিময়ে বিরাট পুরস্কার। পোস্ট অফিস থেকে হাসান সেনজিকের মা’র চিঠির সেনসর রিপোর্ট পড়ে তারা জেনেছিল স্পেনে হাসান সেনজিকের ঠিকানা। এই ঠিকানা হোয়াইট ওলফকে দিয়ে তারা ঐ অনুরোধ করেছিল। তারা নিজেরাও এটা পারত, কিন্তু যেহেতু ইটালি ও স্পেন এলাকায় হোয়াইট ওলফের বন্ধু-বান্ধব বেশী তাই এ দায়িত্বটা তাদেরকে দিয়েছিল। কিন্তু এমন হবে কে জানত! তারাও শেষ হলো, আমাদেরও সর্বনাশ করে গেল। হাসান সেনজিক আবার হাতের মুঠোর বাইরে। উপরন্তু এখন সে ককেশাস ক্রিসেন্টের সাহায্য পাচ্ছে। আলবেনিয়া থেকে যে খবর এসেছে তা উদ্বেগজনক। জেমস জেংগার মত ভয়ংকর, ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে পরাজিত করে, হত্যা করে যারা হাসান সেনজিককে উদ্ধার করে এনেছে, তারা ছোট কেউ নয়। একজন মাত্র লোক নাকি জেমস জেংগার ঘাঁটিতে ঢুকে এই কান্ড ঘটিয়েছে। এই সাংঘাতিক লোকটি কে? এদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্যে আর্মেনিয়া ও আলবেনিয়ায় ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে। বড্ড দেরী হচ্ছে ওদের উত্তর আসতে। আজও কি আসবে না নাকি।
এই সময় ঘরে প্রবেশ করল একটি মেয়ে। মিস লিন্ডা। ইনফরমেশন ডেস্কের সহকারী। তার হাতে একটা কাগজের শিট।
মিস লিন্ডাকে দেখে কনস্টানটাইন থমকে দাঁড়াল। তার মুখটা উজ্জল হয়ে উঠল। সে তার ডান হাত বাড়িয়ে মেয়েটার গালে একটা টোকা দিয়ে বলল পেয়েছ তাহলে উত্তর, কোথেকে?
মিস লিন্ডা কাগজের শিটটি কনস্টানটাইনের হাতে তুলে দিতে দিতে বলল, আর্মেনিয়ায় হোয়াইট উলফের আমাদের জানা সব ঠিাকানায় আমরা ম্যাসেজ পাঠিয়েছিলাম কিন্তু জর্জিয়া সীমান্তের আলাভার্দি কেন্দ্র থেকে মাত্র এই জবাবটা এসেছে। বলে মিস লিন্ডা চলে গেল।
কনস্টানটাইন দাঁড়িয়ে ম্যাসেজটি পড়তে লাগল। লিখেছেঃ
“হাসান সেনজিককে উদ্ধার করেছে ককেশাস ক্রিসেন্ট কিন্তু ককেশাস ক্রিসেন্ট আসলে কিছু নয়। আসল ব্যক্তি আহমদ মুসা নামের একজন সাংঘাতিক লোক। সেই এসে আমাদের সর্বনাশ করেছে। আমরা শেষ হয়ে গেছি। আজকের দিনের পর এই আলাভার্দি ঘাটিতেও আমাদের পাবেন না। আমরা এখান থেকে সরে যাচ্ছি জর্জিয়ায়। আমরা আর্মেনিয়ায় নিরাপদ নই্ আমাদের ফটো, ঠিকানা সব কিছু ওরা টের পেয়ে গেছে। হাসান সেনজিকের সাথে কে গেছে, কে তাকে সাহায্য করছে জানতে চেয়েছেন। আমাদের পক্ষে তা জানা আপনাদের মতই সম্ভব নয়।”
ম্যাসেজটি পড়ে ‘কনস্টানটাইন কাগজটি হাতের মুঠোতে দলা পাকিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল মেঝেতে। বিরক্তি তার মুখে।
এই সময় মিস লিন্ডা আবার ঘরে প্রবেশ করল। তার হাতে আগের মতই একটা ম্যাসেজ ফ্যাক্সে আসা। কনস্টানটাইন গম্ভীরভাবে তার হাত বাড়িয়ে ম্যাসেজটি নিয়ে নিল।
মিস লিন্ডা কনস্টানটাইনের গম্ভীর মুখের দিকে একবার তাকিয়ে ভয়ে ভয়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। ম্যাসেজটি খুলল কনস্টানটাইন।
ম্যাসেজটি এসেছে আলবেনিয়া থেকে। জেমস জেংগার সহকারী টনি টমাস পাঠিয়েছে। এতে আগের ম্যাসেজের পুনরাবৃত্তি, হাসান সেনজিকের পেছনে কারা আছে, কে তাকে সাহায্য করছে তা তাদের জানা নেই। তারা আরও লিখেছে, যারাই তার পেছনে থাক, তারা বড় ঘড়েল লোক। জেমস জেংগার ঘাটিতে ঢোকার সাধ্য এবং সাহস আলবেনিয়ার কারো নেই। কিন্তু এ কাজটা তারা ছেলে-খেলার মতই করেছে।
ম্যাসেজটি পড়ে ক্রোধে, বিরক্তিতে কনস্টানটাইনের মুখটা বিকৃত হয়ে উঠল।
‘বেটারা নিজেরো কিছু পারেনি, আবার ওকালতি করছে ওদের’ বলে কনস্টানটাইন টুকরো টুকরো করে ম্যাসেজটি ছিড়ে ফেলে মেঝেই তা ছুড়ে মারল।
এদের গাল দিল ঠিকই, কিন্তু হৃদয়টা তার দুরু দুরু করছিল। হাসান সেনজিকের সাথে ঐ সাংঘাতিক ‘লোকটি‌ কে’? আহমদ মুসা কি হাসান সেনজিকের মত একজন ব্যক্তির পিছু পিছু বলকানে আসতে পারে!
কনস্টানটাইন ধীর পায়ে এগিয়ে এল টেবিলের দিকে। এসে দাঁড়াল একেবারে সার্লেম্যানের বিশাল ফটোটার নিচে। তারপর হাত জোড় করার মত দু’হাত তুলে বলতে লাগল, হে মহামহিম সম্রাট, হে গুরু, এক ইউরোপ, এক ধর্ম, এক রাজ্য গঠিত হবার আর কত দেরী। তোমার স্বপ্ন সার্থক হবে কবে‍! দুই জার্মানী এক হয়েছে, একক এক ইউরোপীয় পার্লামেন্ট হয়েছে যতই তা প্রতিকী হোক, ইউরোপের জন্য একক এক মুদ্রাও হচ্ছে, তবুও মনে হচ্ছে তোমার স্বপ্ন অনেক দূর। খৃস্টান ধর্মের অবসর এবং বেঈমান হিদেন মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অস্তিত্ব তোমার স্বপ্ন সফল করার পথে বড় বাধা। ওদের আহবান, ওদের কথা ইউরোপীয়দের সম্মোহিত করে ওদের দিকে ঠেলে যাচ্ছে। ওদের নির্মূল করা ছাড়া তোমার স্বপ্ন….
এই সময়ে কনস্টানটাইন তার পেছনে পায়ের শব্দ শুনে কথা শেষ না করেই পেছনে তাকাল। দেখল, সহকারী ইয়েলেস্কু ঘরে প্রবেশ করছে। তার হাতে কাগজ।
ইয়েলেস্কুর গলা শুকনো, মুখ বিষন্ন।
–কোন খারাপ খবর? জিজ্ঞাসা করল কনস্টানটাইন।
–হ্যাঁ, খারাপ। বলল ইয়েলেস্কু।
সংগে সংগে কাগজ দু’টি ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলল, বল কি ঘটেছে?
ইয়েলেস্কু বলল, কাকেজীতে ব্ল্যাকক্যাটের হাতে ওরা ধরা পড়েও আবার ফসকে গেছে। ব্ল্যাকক্যাটের তিনজন হাসান সেনজিকের সাথের সেই লোকটির হাতে খেলনার মত পরাজিত হয়েছে। প্রিজরীন থেকেও এ ধরণেরই খবর। সীমান্ত থেকে ওদের প্রিজরীনগামী বাসে উঠতে দেখে আমাদের টম ও টিটো ওদের চিনতে পারে তারাও বাসে ওঠে। কিন্তু প্রিজরীনে এসে ওরা হঠাৎ বাস থেকে কোথায় হারিয়ে যায়।
–আর তখন ঐ গর্দভ দু’টো ঘুমাচ্ছিল, না” চিৎকার করে উঠল কনস্টানটাইন।
–না, ওরা….
–চুপ, সাফাই গেয়োনা ইয়েলেস্কু। ওদের কাছে পেলে এখন গুলি করে মারতাম। ব্যাটারা পুতুল খেলা পেয়েছে। ওদের ঘুমিয়ে রেখে ব্যাটারা নিশ্চয় আরেক বাসে চড়ে চলে এসেছে।
একটু দম নিল কনস্টানটাইন। তারপর বলল, যাও ইয়েলেস্কু গাড়ি রেডি করতে বল। হাসান সেনজিকের মা’র ওখানে যাব। ওটাই এখন ষড়যন্ত্রের কেন্দ্র, সব খবর ওখানেই পাওয়া যাবে।
বলে কনস্টানটাইন ফিরে দাঁড়িয়ে চেয়ারে গিয়ে বসল। চেয়ারে গা এলিয়ে চোখ বুজল সে। বিষন্ন মুখে বেরিয়ে গেল ইয়েলেস্কু।
বেলগ্রেডের পুরতান এলাকায় হাসান সেনজিকদের বাড়ি। নগরীর একদম উত্তর প্রান্তে বিশাল এলাকা নিয়ে বাড়িটি। বাড়ির উত্তর পাশে বিরাট বাগান। বাগানের গা ছুঁইয়ে প্রবাহিত হচ্ছে দানিয়ুব।
বাড়ির বিশাল এলাকাটা প্রাচীর ঘেরা হাসান সেনজিকের গৌরবান্বিত পুর্বপুরুষ সার্বিয়া রাজ স্টিফেনের রাজবাড়ি এখানেই ছিল। কিন্তু তার কোন চিহ্ন এখন নেই। বিরান মাঠ পড়ে আছে, উঁচু-নিচু টিবিতে পূর্ণ।
যুগোশ্লাভিয়ার কম্যুনিষ্ট সরকার বাগান সমেত গোটা এলাকাকেই কম্যুনিষ্ট পার্টির সম্পত্তি হিসাবে ঘোষণা করেছিল। টিটোর পরিকল্পনা ছিল এখানে তিনি বলকান এলাকার কম্যুনিষ্ট পার্টির হেডকোয়ার্টার গড়ে তুলবেন। কিন্তু এ পরিকল্পনা তার সফল হয়নি। আলবেনিয়া, বুলগেরিয়াকে তিনি তাঁর সাথে একমত করতে পারেননি। নতুন অকম্যুনিষ্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কম্যুনিষ্ট পার্টির এ ধরনের দখলকে ছেড়ে দেয়। সুতরাং স্টিফেন পরিবার অর্থাৎ হাসান সেনজিকরা তাদের এই সম্পত্তি আবার ফিরে পেয়েছে।
প্রাচীর ঘেরা এলাকার একদম দক্ষিণ প্রান্তে হাসান সেনজিকদের বর্তমান বাড়ি। বাড়ির পেছনের অংশ প্রাচীরের ভেতরে পড়েছে এবং সামনের অংশ প্রাচীরের বাইরে। বাড়ীটি নতুন হলেও প্রায় দুই পুরুষ আগে তৈরী। হাসান সেনজিকের দাদা তৈরী করেছিলেন এ বাড়ী।
বাড়ীর সামনে গিয়ে শহীদ মসজিদ রোড। এ নামের পেছনে একটা ইতিহাস আছে। হাসান সেনজিকদের বাড়ীর পূর্ব দিকে এ রোডটির মাঝ বরাবর রোডটির পাশে একটা মসজিদ আছে। ১৯৪৬ সালের কথা। বেলগ্রেডসহ গোটা যুগোশ্লাভিয়া তখন বিজয়ী সোভিয়েত সৈন্যের পায়ের তলে। সোভিয়েত সৈন্যের ছত্রছায়ায় কম্যুনিষ্ট পার্টি গঠিত হয়েছে তখন। নতুন উৎসাহে তখন তারা বেপরোয়া। একদিন স্থানীয় কম্যুনিষ্ট পার্টির কর্মকর্তারা সেখানে এসে মসজিদের একটা অংশ তাদের অফিসের জন্য দাবী করে বসল। বলল, সেখানে তাদের একটা আলমারী থাকবে। কাগজ-পত্র থাকবে। সকাল-বিকেল তারা সেখানে বসবে। বসার জন্যে কয়েকটা চেয়ার, একটা, দু’টো টেবিল থাকবে এই যা।
মসজিদের লোকজন মসজিদের জায়গা ছেড়ে দিতে অপারগতা জানাল। মসজিদের লোকরা কম্যুনিষ্ট পার্টির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগকরে যুক্তি প্রদর্শন করলো। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। একদিন ভোর বেলা ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা তখন সবে বাসায় ফিরেছে। এই সময় রাস্তার দু’পাশের মহল্লায় অনেক মুসলমানের বাস ছিল। সেই দিন ভোর বেলা কম্যুনিষ্ট পার্টির কর্মীরা একটা ট্রাকে করে চেয়ার-টেবিল নিয়ে তাদের অফিসের জন্যে মসজিদ দখল করতে আসে। খবরটা চারপাশের মহল্লায় সংগে সংগে আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ে। চারদিক থেকে এল মানুষ। তারা কম্যুনিষ্ট পার্টির কর্মীদের অনুরোধ করল চেয়ার, টেবিল, আলমারী মসজিদে না প্রবেশ করাবার জন্যে। কিন্তু তারা শুনল না। তারা পিস্তল বের করে মুসলমানদের হুমকি দিল এবং বাঁধা দিতে নিষেধ করল। তারা মসজিদের দরজা ভেঙে চেয়ার-টেবিল মসজিদে তুলতে উদ্যোগ নিল।
নিরুপায় মুসলমানরা মসজিদের ভাঙা দরজার সামনে সার বেঁধে কম্যুনিষ্টদের গতিরোধ করে দাঁড়াল। তারা বলল, লড়াই করে বাধা দেয়ার সাধ্য আমাদের নেই, কিন্তু মসজিদে ঢুকতে হলে আমাদের বুক পদলিত করেই ঢুকতে হবে।
কম্যুনিষ্ট কর্মীদের কাছে এটা চরম ঔদ্ধত্য মনে হয়েছিল। তারা প্রতিশোধ নিতে বিলম্ব করেনি। তাদের হাতের পিস্তলগুলো গর্জে উঠেছিল। মরে লাশ হয়ে পড়ে ছিল নিরস্ত্র মুসলমানরা মসজিদের দরজায়। ৫০টি লাশের স্তূপ মসজিদের দরজায় বাধার দেয়াল রচনা করেছিল। প্রবাহিত রক্তে মসজিদের মেঝে ও পাশের রাস্তা ভেসে গিয়েছিল।
কম্যুনিষ্ট কর্মীরা ফার্নিচার ভর্তি ট্রাক নিয়ে ফিরে গিয়েছিল। আর কোন দিনই আসেনি। জীবন্ত মানুষের দেয়াল কম্যুনিষ্টদের ফিরিয়ে দিতে পারেনি। কিন্তু মৃত মানুষের লাশের দেয়াল তাদের ফিরিয়ে দিয়েছিল। জীবন্ত মানুষরা তাদের পরাজিত করতে পারেনি, কিন্তু তারা পরাজিত হয়েছিল মৃত মানুষের কাছে। শহীদের রক্ত বিজয় লাভ করেছিল অসীম শক্তিধর কম্যুনিষ্ট পার্টির বিরুদ্ধে।
সেই থেকে মসজিদটির নাম হয়েছে শহীদ মসজিদ এবং রোডটির নাম মুসলমানরা দিয়েছে শহীদ মসজিদ রোড। মুসলমানরা এখনও রোডটিকে এ নামেই ডাকে। কিন্তু কম্যুনিষ্ট সরকার এর নাম দিয়েছিল ‘টিটো স্মরণী –এক’।
শহীদ মসজিদ রোড ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে হাসান সেনজিকদের বিরাট বাড়ী। বাড়ীর সামনেটাও প্রাচীর ঘেরা। এ নতুন প্রাচীরটা দু’পাশ দিয়ে গিয়ে পুরাতন প্রাচীরের সাথে যুক্ত হয়েছে।
বাড়ীর সম্মুখভাগে প্রাচীরের সাথে বিরাট গেট। গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকলে একটা বড় চত্তর, তারপর বাড়ী। বাড়ীর সামনে গাড়ি বারান্দা। গাড়ি বারান্দা থেকে লম্বা করিডোরে উঠলেই একটা বড় দরজা। দরজা দিয়ে ঢুকলে বড় হলরুম। এটাই বাইরের বৈঠকখানা। কার্পেট মোড়া এবং সোফায় সাজানো। কিন্তু এক নজর দেখলেই মনে হয়,কার্পেট, সোফা ও ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্রের উপর দিয়ে অনেক সময়ের অনেক ঝড় বয়ে গেছে। সবগুলোকেই মনে হয় যেন তারা অতীতের কংকাল।
নিরব বাড়ীটি।
বাইরের গেটের সাথে লাগা গেটরুমে এক বৃদ্ধ। সেও যেন অতীতেরই এক কংকাল।
বিরাট বাড়ীর হেরেম অংশ বাইরের অংশথেকে আলাদাই বলা যায়। একটা দরজার সংযোগ পথ ছাড়া দুই অংশ বিচ্ছিন্নই বলা যায়। হেরেম এলাকা শুধু মেয়েদেরই জন্যে। এখানে পুরুষ চাকরদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ। এখন সে রাজাও নেই,রাজ্যও নেই। কিন্তু সে নিয়মটি এখনও আছে।
এতবড় বাড়ী যা একদিন আনন্দ কোলাহলে মুখরিত থাকত, তা আজ মৃতপুরীর মত নিরব। বাড়ীতে আছেন হাসান সেনজিকের মা বেগম আয়েশা খানম,হাসান সেনজিকের ফুফু বেগম নফিসা এবং বেগম নফিসার দশ বছরের মেয়ে নাজিয়া। এছাড়া রয়েছে দু’জন বয়স্কা আয়া। বাহির বাড়ীতে বাজার-ঘাট ও বাইরের কাজ দেখা-শুনা করার জন্যে কয়েকজন চাকর-বাকর।
সংসারের আয়ের উৎস কয়েকটা দোকান। বাড়ীর পূব পাশেই শহীদ মসজিদ রোডে কয়েকটা দোকান রয়েছে। চাকর-বাকররাই চালায়। এ সবের খোঁজ-খবর রাখেন বেগম নফিসা। চাকর-বাকররা ষ্টিফেন পরিবারের অংশ হয়ে গেছে। বংশ পরস্পরায় এরা এ পরিবারের খেদমত করে আসছে।
হাসান সেনজিকের মা বেগম আয়েশা খানমের বয়স হবে পঞ্চাশ। কিন্তু তাকে দেখলে মনে হবে বয়স তার ষাট পেরিয়ে গেছে। একের পর এক আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে তার হৃদয়। তারই প্রকাশ ঘটেছে দেহে। ভেঙে পড়েছে দেহ। অসুস্থ বেগম আজ দু’মাস থেকে শয্যাশায়ী। বেগম নফিসার বয়স তিরিশ। হাসান সেনজিকের পিতার সবচেয়ে ছোট বোন। বিয়ে হয়েছিল ষ্টিফেন পরিবারেরই এক ছেলের সাথে। পেশায় ছিল ডাক্তার। থাকত ওরা বসনিয়া প্রদেশের রাজধানী সারাজেভোতে। পাঁচ বছর আগের কথা। একদিন তাকে বুলেট বিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায় তার ডাক্তার খানায়। সবার কাছেই পরিষ্কার ছিল মিলেশ বাহিনীরই সে এক শিকার। এই ঘটনার পর পাঁচ বছরের সন্তান নাজিয়াকে নিয়ে এসে বাস করছে ভাবী হাসান সেনজিকের মার কাছে।
বাড়ির হেরেম অংশের পূব পাশের বড় একটি কক্ষ। কক্ষের গোটাটাই লাল কার্পেটে মোড়া। ঘরের উত্তর অংশে একটা বড় পালংক। পূব দেয়ালের সাথে কাঠের বড় একটা আলমারী। আর পশ্চিম দেয়ালের সাথেও একটা আলমারী। এক এক সারিতে জরির কুশনওয়ালা গোটা তিনেক চেয়ার। আর খাটের ওপাশে মাথার কাছে একটা টেবিল। টেবিলে পানির একটা বোতল। ঔষধের কয়েকটা শিশি।
পালংকে শুয়ে আছে একজন মহিলা। পা থেকে গলা পর্যন্ত চাদরে ঢাকা। মুখটাই শুধু দেখা যাচ্ছে। বনেদী সার্বিয়ানরা যেমন হয় সে রকম। কাগজের মত সাদা গায়ের রং। সাদা মুখে নীল চোখ। মহিলাটি দু’চোখমেলে উদ্দেশ্যহীনভাবে তাকিয়েছিল ছাদের দিকে। মাথায় কাঁচা-পাকা চুল। মুখে বয়সের ভাঁজ খুবই সুস্পষ্ট। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে উঠেছে মহিলাটির চেহারায় এক রাজকীয় আভিজাত্য। এই-ই হাসান সেনজিকের মা বেগম আয়েশা খানম।
বেগম খানম নিরবে উপরের দিকে তাকিয়ে ছিল। এই সময় ঘরে ঢুকল বেগম নাফিসা। সে টেবিল থেকে শূন্য পানির বোতলটা নিয়ে চলে যাচ্ছিল।
মুখ ঘুরিয়ে সেদিকে তাকিয়ে বেগম খানম ডাকল, নফিসা।
বেগম নফিসা ডাক শুনে ঘুরে দাঁড়িয়ে বেগম খানমের পালংকের পাশে এসে দাঁড়াল। বলল, কিছু বলবে ভাবী।
বেগম খানম বলল, একটু বস নফিসা।
বেগম নাফিসা পানির বোতলটা টেবিলে রেখে পালংকের উপর বেগম খানমের মাথার কাছে বসল।
বেগম খানম চোখ দু’টি তখন বন্ধ করেছে। ঐ অবস্থায় বলল, ডেসপিনা কবে এসেছিল নফিসা?
–সে তো সাতদিন আগে।
–আমার হাসান ছাড়া পেয়েছে, কার আশ্রয়ে আছে যেন বলেছিল?
–ককেশাস ক্রিসেন্টের হাতে।
–আরও কি যেন সে বলেছিল?
–বলেছিল, আর ভয় নেই। যাদের হাতে হাসান সেনজিক আছে, তারা একটা ব্যবস্থা করবেই।
–কিন্তু সাতদিন হয়ে গেল, আর কোন খবর দিচ্ছেনা কেন ডেসপিনা?
–নতুন কিছু জানতে পারলে অবশ্যই সে জানাত ভাবী। মাত্র সাতদিন তো হলো, এটা কতটুকুই বা আর সময়।
বেগম খানম হাসল। বলল, সাতদিন কম সময় নয় নফিসা। গোটা দুনিয়ায় একটা ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে এ সময়ে।
–কিন্তু সে শক্তি তো আমাদের নেই ভাবী।
–শক্তি আছে, শক্তির প্রকাশ নেই, প্রকাশের জন্যে যে জ্ঞান দরকার তা নেই।
–আপনি কি মনে করেন এ অন্ধকারে আলো জ্বলবে?
–একবার জ্বলেছিল, আবার জ্বলবেনা কেমন করে বলব?
–কিন্তু আমি তো কোন চিহ্ন দেখছি না ভাবী।
–কেন সেদিন ডেসপিনা ‘হোয়াইট ক্রিসেন্ট’ এর কথা বলল শুননি তুমি?
–শুনেছি, কিন্তু হতাশার অন্ধকার এত ঘনিভূত যে কোন কিছুতে আস্থা রাখতে ইচ্ছা হয়না ভাবী।
–তোমার কথা ঠিক। কিন্তু আশা নিয়েই তোমাকে বাঁচতে হবে নফিসা। আশার নামই জীবন। হাসানকে আমি দেখতে পাব, এ আশা যদি আমি হারিয়ে ফেলি তাহলে বাঁচার সব শক্তি আমার উবে যাবে।
বেগম নফিসা বেগম খানমের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল, তোমার আশা অবশ্যই সার্থক হবে ভাবী।
–জান নফিসা, সেদিন ডেসপিনার কথা শোনার পর আশায় আমার বুক ভরে গেছে।
এই সময় একজন আয়া দৌড়ে ঘরে ঢুকল। হাঁফাতে হাঁফাতে বলল,গেট দিয়ে কারা যেন ঢুকেছে, হাতে বন্ধুক,পিস্তল আছে।
শুনেই বেগম খানম বালিশ থেকে মাথা তুলল। দ্রুত বলল,নিশ্চয় ওরা মিলেশ বাহিনীর লোক। নাফিসা তুমি সরে যাও।
–ভাবী তোমাকে একা রেখে……
–আর কথা বলো না, কুকুরদের সামনে তোমাকে ফেলতে চাই না।
বেগম নফিসা আর কোন কথা বলল না। মিলেশ বাহিনীর লোকদের সন্বন্ধে সে জানে।
বেগম নফিসা দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে ঘরের বড় আলমারির দিকে এগুলো।
আলমারী খুলল। ভেতরে হাংগারের সারিসারি কাপড় টাঙানো। বেগম নফিসা দু’হাত দিয়ে কাপড়ের মধ্যে দিয়ে পথকরে নিয়ে আলমারিতে ঢুকে গেল। ভিতরে ঢুকে আলমারির তলার পাটাতনের বিশেষ এক জায়গায় চাপ দিতেই একপাশে তা সরে গেল। তার পরেই একটা সুড়ঙ্গ পথ। বেগম নফিসা নেমে গেল সে সুড়ঙ্গ পথে। সঙ্গে সঙ্গে পাটাতন আবার তার জায়গায় ফিরে এল। দরজাও আপনাতেই বন্ধ হয়ে গেল আলমারীর।
ঘরের এ সুড়ঙ্গ পথটি পাশেই বাড়ীর বাউন্ডারী দেওয়ালের ওপারে তাদেরই একটা দোকানের পিছনের কক্ষে গিয়ে উঠেছে। সেখানেও অনুরূপ একটা আলমারী আছে।
খবর দিয়েই আয়া ছুটে ঘরের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল।
বেগম নফিসা চলে যাবার পর বেগম খানম মাথার ওড়নাটা ঠিক করে নিয়ে ভালো করে শুয়ে পড়ল। চাদরটা মুখ পর্যন্ত টেনে নিল।
স্বয়ং কনষ্টানটাইন এবং মিলেশ বাহিনীর আরও সাত-আট জন লোক বাড়ীতে প্রবেশ করেছে। চাকর-বাকররা মুর্তির মত দাঁড়িয়েছিল। কেউ কোন বাধা দিলনা। বাধা না দেওয়ার নির্দেশ ছিল বেগম খানমের।
বাইরের বৈঠকখানার বারান্দায় দু’জনকে রেখে সবাই এসে দাঁড়াল হেরেমের দরজায়। হেরেমের দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিল দু’জন আয়া।
তাদের দিকে অগ্নিঝরা দৃষ্টিতে চেয়ে বলল, তোদের বেগম সাব কোথায়?
–উনি খুব অসুস্থ। শুয়ে আছেন। বলল একজন আয়া।
–নিয়ে চল, কোথায় সে রাজরাণী।
কোন কথা না বলে আয়া দু’জনে চলতে লাগল বেগম খানমের ঘরের দিকে।
ঘরে ঢুকে আয়া দু’জনের একজন বেগম খানমের মাথার কাছে, আরেকজন পায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। একজনের হাত বেগম খানমের মাথায়,আরেক জনের হাত বেগম খানমের পা ছুঁয়ে আছে। যেন তারাও অভয় পেতে চায়,আবার অভয় দিতেও চায়।
কনষ্টানটাইন এবং তার সহকারী ইয়েলেস্কু ঘরে প্রবেশ করল। অন্যেরা দাঁড়িয়ে থাকল দরজার বাইরে।
ঘরে ঢুকেই কনষ্টানটাইন ঘরের মেঝেতে এক খাবলা থুথু নিক্ষেপ করে বলল, গাদ্দার ষ্টিফেন তুমি আজ কোথায়। দেখে যাও,তোমার গৌরবের প্রাসাদ আজ আমাদের পায়ের তলে।
তারপর ঘরের চারদিকটা একবার দেখে নিয়ে চোখ রাখল বেগম খানমের দিকে।
বেগম খানম চোখ বন্ধ করে শুয়েছিল।
–শয়তানের বাচ্চা শয়তান,শয়তানের স্ত্রী শয়তানী,শয়তানের মা শয়তানী দেখেছ আমরা এসে গেছি? চিৎকার করে বলল কনষ্টানটাইন।
–দেখেছি। ধীর কন্ঠে বলল বেগম খানম।
–কি জন্যে এসেছি জান?
–জানিনা।
–তোমার সন্তান হাসান সেনজিককে কোথায় লুকিয়ে রেখছ?
হাসান সেনজিকের নাম শুনে চোখ খুলল বেগম খানম। তারপর মাথাটা কাত করে কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে কনষ্টানটাইনের দিকে চেয়ে বলল, কোথায় আমার ছেলে হাসান সেনজিক?
–সেটা তো আমিই জিজ্ঞেস করছি তোমাকে। কোথায় লুকিয়ে রেখেছ বল?
আবার চোখ বুজল বেগম খানম। বলল, আজ দেড় যুগ আমার ছেলেকে দেখিনি। কান্নায় ভেংগে পড়ল খানমের কথা।
–কান্না দিয়ে ভোলাতে পারবেনা। বল তোমার ছেলে কোথায়?
–আমি জানিনা। আমার কান্না তোমাদের প্রতারণা করার জন্যে নয়। মুসলমানরা প্রতারণা করেনা।
–চুপ বুড়ি। ঐনামটা আর মুখে আনবেনা। জিব কেটে দেব তাহলে।
বলে একটু দম নিল কনষ্টানটাইন। তারপর আবার বলল,তুমি তোমার সন্তানকে দেখনি, কিন্তু কোথায় আছে জান তুমি।
–আমি জানিনা।
কনষ্টানটাইন পাশে দাঁড়ানো ইয়েলুস্কুর দিকে চেয়ে বলল, তোমরা বসে আছ কেন, সবটা একবার খুঁজে দেখ।
বলে কনষ্টানটাইন নিজেই এগুলো বড় আলমারীটার দিকে। প্রচন্ড একটা লাথি মারল দরজায়।
লাথিটা লেগেছিল দুই পাল্লার সংযোগ স্থলে। দরজার মুখ বরাবর লম্বভাবে কাঠের যে বাড়তি কাঠামোটা ছিল, সেটা সমেত দরজাটা মচকে ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে গেল। লাথি মেরেই একটানে আলমারীটা খুলে ফেলল। তারপর টাঙানো কাপড়গুলো টেনে ছড়িয়ে দিল মেঝেয়। তারপর পশ্চিম দেয়ালের দিকে এক সারিতে রাখা চেয়ারের দিকে এগুল। একটা চেয়ার তুলে আরেকটা চেয়ারের উপর আছড়ে ফেলল। ভেঙে গেল দু’টি চেয়ারই।
কনষ্টানটাইন যেন পাগল হয়ে গেছে। তার রক্তবর্ণ চোখ দিয়ে যেন আগুন ছুটছে।
বেগম খানম শুয়েছিল নির্বিকার। তার চোখ দু’টি ওপর দিকে নিবদ্ধ। মুখে কোন ভাবান্তর নেই।
সেদিকে চেয়ে কনষ্টানটাইন আরও যেন আহত হলো। সে পাগলের মত পালংকের রেলিং এ একটা লাথি দিয়ে বলল,বুড়ি শয়তান,কথা কিভাবে বলাতে হয় আমরা জানি,আজ যাচ্ছি,ক’দিন পরে আবার আসব। ৭দিন সময় দিয়ে গেলাম। এর মধ্যে তোর সন্তানকে আমাদের হাতে দিতে হবে,নয়তো বলতে হবে কোথায় সে। না হলে তোকেই নিয়ে যাব। মনে রাখিস ৭দিন। বলে কনষ্টানটাইন হন হন করে বেরিয়ে গেল।
কনষ্টানটাইনের লাথিতে পালংকের রেলিং এর একটা অংশ ভেঙ্গে পড়েছিল।
ভয়ে কাঁপছিল আয়া দু’জন।
কনষ্টানটাইন বেরিয়ে গেলে তারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।
গোটা বাড়ীতে তখন চলছিল ভাঙার মহোৎসব। চেয়ার,টেবিল,বাক্স, আলমারী যা যেখানে পেল ভেঙ্গে তছনছ করল তারা। রান্না ঘর ভাঁড়ার ঘরও বাদ গেল না। বড্ড আরামের সাথে তারা ভাঙল। কেউ বাধা দিলনা। চাকর-বাকরা দাঁড়িয়ে ছিল পাথরের মত। তারাও লাথি ও কিল-থাপ্পড় অনেক খেল। হাসান সেনজিক এসেছে কিনা,কিংবা আর কে এখানে আসে,ইত্যাদি। কিন্তু তারা সকলে একই জবাব দিয়েছে, বেগম সাহেব ছাড়া কাউকে তারা দেখেনি, কেউ এখানে আসে না।
ভাঙার মহোৎসব শেষে গাড়ি বারান্দা দিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে কনষ্টানটাইন হো হো করে হাসতে হাসতে তার আগের সেই কথা উচ্চারণ করল,কোথায় সেই গাদ্দার ষ্টিফেন,কোথায় তার রাজত্ব।
গাড়ি বারান্দা থেকে বেরিয়ে কনষ্টানটাইনরা যখন গেটের দিকে এগুচ্ছিল, ঠিক তখনই ডেসপিনার ট্যাক্সিটি গেটের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল।
বৃদ্ধ গেটম্যান আলিস্কু ওসমান মাথা নিচু করে বন্ধ গেটের বাইরে একপাশে বসেছিল।
ডেসপিনা গাড়ি থেকে দৃশ্যটা দেখে অবাক হলো। অবাক হলো গেটে আরও দু’টো গাড়ি দেখে। তারপর ডাকল, চাচা ওভাবে বসে কেন,গেট খুলুন।
বৃদ্ধ ওসমান চমকে উঠে গাড়ির দিকে তাকাল। তার মুখে উদ্বেগ-আতঙ্ক এবং চোখে পানি।
বৃদ্ধ ডেসপিনাকে দেখেই তার শাহাদাৎ আঙুলি ঠোঁটে ঠেকিয়ে দ্রুত নেড়ে ইশারা করল চলে যাবার।
ডেসপিনা বৃদ্ধ ওসমানের মুখ দেখেই বুঝল বড় কিছু ঘটেছে। মন তার মোচড় দিয়ে উঠল। কিন্তু পা চাপ দিল গিয়ে একসেলেটারে। ডেসপিনা দ্রুত গাড়ি সরিয়ে আরও পূর্ব দিকে নিয়ে বাড়ীর পূর্ব পাশের দোকানগুলোর সামনে দাঁড় করাল। তারপর মাথাটা পেছনে ঘুরাতেই দেখল হাসান সেনজিকদের বাড়ীর গেট দিয়ে সাত আট জন বেরিয়ে দু’টি গাড়িতে গিয়ে উঠল। তাদের কাউকেই ডেসপিনা চিনলনা। কিন্তু মনের সন্দেহটা দানা বেঁধে উঠল।
এই সময় পাশেই যে দোকান তার সেলস গার্ল মধ্যবয়সী রাবেয়া এসে ডাকল,আপা,দোকানে আসুন।
মুখ ফিরিয়ে রাবেয়াকে দেখে প্রশ্ন করল, ব্যাপার কি রাবেয়া আপা? জবাব না দিয়ে রাবেয়া বলল, আপনি আসুন। ডেসপিনা গাড়ি থেকে নেমে গাড়ি বন্ধকরে দোকানে গিয়ে ঢুকল।
রাবেয়ার ইশারায় ডেসপিনা দোকানের ভেতরের কক্ষে গিয়ে প্রবেশ করল। ডেসপিনা সেখানে বেগম নাফিসাকে বসে থাকতে দেখে ভীষণ চমকে উঠল।
কিন্তু ডেসপিনা কিছু কথা বলার আগেই বেগম নাফিসা ডেসপিনাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠল। বলল, মা ডেসপিনা, মিলেশ বাহিনী বাড়িতে ঢুকেছে, ভাবিকে একা রেখে এসেছি।
বেগম নাফিসার কথা শুনে কেঁপে উঠল ডেসপিনা। কয়েক মুহূর্ত আগে হাসান সেনজিকদের গেট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া লোকদের চিত্র তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। ঠিকই তাহলে ওরা মিলেশ বাহিনীর লোক। ওরা ফুফু আম্মার কোন ক্ষতি করেনি তো? ওরা ক্ষ্যাপা কুকুরের মত পাগল হয়ে গেছে এখন। ডেসপিনা তাড়াতাড়ি বলল, ফুফু আম্মা ওরা চলে গেছে। তাড়াতাড়ি চলুন, ফুফু আম্মার যদি কিছু হয়। কান্নায় জড়িয়ে গেল ডেসপিনার কথা।
বেগম নাফিসা ও ডেসপিনা সেই আলমারীর ভিতর ঢুকে সুড়ঙ্গ পথে বেগম খানমের ঘরে গিয়ে উঠল। উঠবার সিঁড়ির মুখে আলমারী খোলা ও ভাঙ্গা দেখে বেগম নাফিসা ও ডেসপিনা দু’জনেরই হৃদয়টা কেঁপে উঠল।
প্রথমে ঘরে ঢুকল বেগম নাফিসা।
ঢুকেই ছুটে বেগম খানমের কাছে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, আপনি ভাল আছেন ভাবী?
বেগম খানম কিছু বলার আগেই ঘরে ঢুকল ডেসপিনা। বেগম খানম নাফিসার মাথায় হাত বুলিয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু ডেসপিনাকে দেখে তার কথা বন্ধ হয়ে গেল। প্রবল আনন্দ উচ্ছাসে মুখটি হেসে উঠল বেগম খানমের। রোদ ঝলসানো গাছ যেমন বৃষ্টির পানিতে জেগে ওঠে, বেগম খানম যেন তেমনি ডেসপিনাকে দেখেই সজিব হয়ে উঠল। মাথাটা একটু তুলে দু’হাত বাড়াল বেগম খানম। ডেসপিনা ঝাঁপিয়ে পড়ল তার দু’বাহুতে। বেগম খানম জড়িয়ে ধরল তাকে বুকে।
ডেসপিনা বেগম খানমের বুকে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল।
বেগম খানম বুক থেকে ডেসপিনার মুখ তুলে নিয়ে চুমু খেল। বলল, কেঁদনা মা। হাসান সেনজিক নেই। তোমার মধ্যে আমি হাসান সেনজিককে কল্পনা করি। তুমি কাঁদলে আমি বাঁচার সাহস হারিয়ে ফেলব।
ডেসপিনা চোখ মুছে বলল, আমি কাঁদব না ফুফু আম্মা, আমাদের বাঁচতে হবে…. বাঁচার মত করেই।
দৃঢ়কণ্ঠ ডেসপিনার।
বেগম খানম ডেসপিনার চিবুকে আরেকটা চুমু খেয়ে বলল, এই না উপযুক্ত কথা ষ্টিফেন পরিবারের মেয়ের।
–আমি তো শুধু ষ্টিফেন পরিবারের মেয়ে নই ফুফু আম্মা, আমি মুসলিম পরিবারের মুসলিম মেয়ে।
খুশীতে মুখটি উজ্জ্বল হয়ে উঠল বেগম খানমের। সে পাশেই বসা নাফিসাকে উদ্দেশ্য করে বলল, শুনেছ নাফিসা, আমার ডেসপিনার কথা।
–দোয়া করো ভাবি, আমরা কিন্তু এভাবে ভাবার সুযোগ পাইনি। আমরা বংশের ঐতিহ্যের কথা ভেবেছি, কিন্তু ঐতিহ্যের যেটা ভিত্তি, যেটা শক্তি তা নিয়ে কখনও মাথা ঘামাইনি।
এ সময় ঘরে ঢুকল আয়া। বলল, বেগম আম্মা আন্ডার গ্রাউণ্ড ঘরের খোঁজ ওরা পায়নি। ও ঘরটা অক্ষত আছে। আয়ার কথা শুনে মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল বেগম খানমের। ঐ আন্ডার গ্রাউণ্ড ঘরে ষ্টিফেন ও লেডি ডেসপিনা থেকে শুরুকরে সব পারিবারিক স্মৃতি-চিহ্নগুলো সংরক্ষিত আছে। বলা যায় ওটা একটা পারিবারিক মিউজিয়াম। আর ঐ ঘরেরই মেঝের এক কোণে মাটির তলায় লুকানো আছে একটা সিন্দুক। ওখানে গচ্ছিত আছে ষ্টিফেন রাজত্বের স্মৃতি, কয়েক কেজি সোনার মোহর। ষ্টিফেনের উত্তরাধিকার সূত্রে হাসান সেনজিকের আব্বা এর মালিক হয়েছিল। এখন বেগম খানম এ আমানত আগলে রেখেছেন হাসান সেনজিকের জন্যে।
কথা বলেই আয়া বেরিয়ে গিয়েছিল।
ভাঙ্গা দু’টো চেয়ারের দিকে চোখ বুলিয়ে ডেসপিনা বলল, ওরা গোটা বাড়ীই এভাবে তছনছ করেছে বুঝি?
–হ্যাঁ মা, বাড়ীতে ভাঙ্গার মত কিছুই আর বাদ রেখে যায় নি। বলল বেগম খানম।
–কি জঘন্য হিংস্রতা। বলল, বেগম নাফিসা।
–ওদের মনে হচ্ছিল জ্বলন্ত আগুন, বাড়ী ওরা পুড়িয়ে দিয়ে যায় নি এটাই বড়, নাফিসা। কিন্তু ৭ দিন পর ওরা আবার আসবে।
বেগম নাফিসা ও ডেসপিনা দু’জনেই চমকে উঠে তাকাল বেগম খানমের দিকে। তাদের চোখে নতুন আতংক।
–কেন ওরা আসবে? কথা বলল ডেসপিনা।
–ওরা বলে গেছে, সেদিন তাদের হাতে হাসান সেনজিককে তুলে দিতে হবে, না হলে খোঁজ দিতে হবে সে কোথায়। অন্যথায় সেদিন তারা আমাকে নিয়ে যাবে। আজ ওরা হাসান সেনজিকের খোঁজেই এসেছিল। ওদের ধারণা আমি জানি হাসান সেনজিক কোথায়।
উদ্বেগ-আতংকে বেগম নাফিসা প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর বুক কাঁপছিল ডেসপিনার। সে ওদের কথার অর্থ বুঝতে পারছে, ওদের ধারণা হাসান সেনজিক বেলগ্রেড পৌঁছেছে। অথবা মনে করতে পারে, না পৌঁছালেও হাসান সেনজিক এখন যুগোশ্লাভিয়ার কোথায় এ খবর তার মা অবশ্যই জানে। অতএব মিলেশ বাহিনী যে আবার আসবে এবং হাসান সেনজিককে তখন পর্যন্ত না পেলে যে বেগম খানমকে পণবন্দি হিসেবে নিয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কথাটা ভাবতেই বুক কেঁপে উঠছে ডেসপিনার।
ডেসপিনা অস্বস্তিকর নিরবতার মাঝে ধীরে ধীরে মুখ খুলল। বলল, ফুফু আম্মা হাসান ভাইয়ার আরও কিছু নতুন খবর আছে। মিলেশ বাহিনীর লোকদের এমন উম্মাদ হয়ে ওঠার কারণ বোধ হয় এ নতুন খবরগুলোই।
বেগম খানম বালিশ থেকে মাথা তুলল। অস্থিরভাবে বলল, এতক্ষণ বলছ না কেন, তুমি এত নিষ্ঠুর মা।
বেগম নাফিসার মুখেও একরাশ উম্মুখ জিজ্ঞাসা।
ডেসপিনা বলতে লাগল, আমি খবরগুলো শুনেছি আমার বান্ধবী নাদিয়া নূরের কাছ থেকে। নাদিয়া নূর জেনেছে ওর আব্বার কাছ থেকে।
একটু থামল ডেসপিনা।
‘ক’দিন আগে হাসান ভাইয়া’ শুরু করল ডেসপিনা আবার, ‘তিরানায় পৌঁছেছেন। মিলেশ বাহিনীর লোকরা তাকে চিনতে পারে। ভাইয়া ওদের হাতে আটক হন। কিন্তু ভাইয়ার সাথী যিনি এসেছেন, তিনি মিলেশ-এর লোকদের পরাভূত করে তাকে উদ্ধার করেন। তারপর যুগোশ্লাভ সীমান্তের ওপারে আলবেনিয়ার কাকেজী শহরে হাসান ভাইয়া আবার মিলেশ বাহিনীর হাতে পড়েন, কিন্তু ভাইয়ার সেই সাথীই আবার তাঁকে বাঁচান। যুগোশ্লাভিয়ার সীমান্ত ফাঁড়ি দারিনীতে আবার হাসান ভাইয়া মিলেশ বাহিনীর লোকদের চোখে ধরা পড়েন। ভাইয়া এবং ভাইয়ার সাথী প্রিষ্টিনার বাসে চড়েন। তাঁদের অনুসরণ করে মিলেশ বাহিনীর লোকরাও বাসে ওঠে। কিন্তু ভাইয়ারা নাকি তা টের পেয়ে যান। তারা প্রিজরীন শহরে বাস থামলে দু’জনেই হঠাৎ নেমে যান। তারা নেমে গেছে বুঝতে পেরে মিলেশ বাহিনীর লোকরাও বাস থেকে নেমে যায়। কিন্তু ভাইয়াদের তারা খুঁজে পায়নি।
বেগম খানম গোগ্রাসে ডেসপিনার কথা শুনছিল। তার চোখ দু’টি আনন্দের আলোতে উজ্জ্বল, কিন্তু চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু।
ডেসপিনার কথা শেষ হতেই বেগম খানম ‘আমার হাসান যুগোশ্লাভিয়ার মাটিতে পা দিয়েছে’ বলে অতি কষ্টে বসে সেজদায় পড়ে গেল।
অনেকক্ষণ পর সেজদা থেকে উঠে দু’টি হাত উপরে তুলে বলল, ‘হে সর্বশক্তিমান প্রভু, তুমি আমাদের দয়া কর, আমার সন্তানকে আমার কাছে পৌঁছে দাও মা’বুদ।
মোনাজাত শেষ করে বেগম খানম ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ল। শুয়ে চোখ দু’টি বন্ধ করে ক্লান্তিতে ধুঁকতে লাগল বেগম খানম।
মাথায় তখন হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল ডেসপিনা। বেগম খানম তার দুর্বল একটি হাত ডেসপিনার হাতের উপর রেখে ধীর কণ্ঠে বলল, ডেসপিনা সাথের লোকটি কে?
–আমরা জানিনা ফুফু আম্মা। তবে সন্দেহ হয় তিনি আহমেদ মুসা হতে পারেন। তিনি ছাড়া এমন দুঃসাহসী এবং দূর্ধর্ষ আর কে হতে পারেন।
–পরের জন্যে একজন এত করতে পারে?
–তিনি যদি আহমেদ মুসা হন, তাহলে বলতে হয় তিনি পরের জন্যেই বেঁচে আছেন ফুফু আম্মা। যেখানেই মুসলমানরা মজলুম, সেখানেই তিনি হাজির হন।
–আল্লাহ বাছার হায়াত দারাজ করুন, জাতির খেদমতে এমন লোকও আজ আছেন।
–জাতির জন্যে জীবন দেওয়ার জন্যে এমন হাজার হাজার তরুণ তৈরী হচ্ছে ফুফু আম্মা।
–নতুন কথা শুনছি ডেসপিনা, আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন।
–হাসানকে ওরা এভাবে চিনতে পারছে কেমন করে? বলল বেগম নাফিসা।
–মিলেশ বাহিনী হাসান ভাইয়ার ছবি সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে।
–তাহলে ওরা কি বেলগ্রেড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে, পৌঁছাতে পারলেও কি নিরাপদ থাকবে? মুখ শুকনা করে বলল বেগম নাফিসা।
–দোয়া করুন ফুফু আম্মা।
–হাসান বেলগ্রেড এলেই তো তুমি জানতে পারবে?
–বলতে পারছিনা ফুফু আম্মা, আমি চেষ্টা করব।
–হাসানকে চিনতে পারবে তুমি? বলল বেগম নাফিসা।
ডেসপিনা মুখ নিচু করে বলল, কি জানি। একটু থামল ডেসপিনা। তারপর মুখ নিচু রেখেই বলল, আমাকে তো উনি জানেনই না।
বেগম নাফিসা একটু হাসল। বলল, সব জানে। ভাবী তোমার কথাই বেশী লেখেন। ছবিও অনেক পাঠিয়েছেন।
ডেসপিনার মুখ লাল হয়ে উঠল লজ্জাই।
বেগম
এক দৃষ্টিতে ডেসপিনার রাঙ্গা মুখের দিকে তাকিয়ে দু’জনের কথা শুনছিল। তার ঠোঁটে মিষ্টি হাসি। নাফিসা থামলে বেগম খানম হেসে বলল, আমি বুঝি খালি লিখি। ডেসপিনার নাম ছাড়া হাসানের কোন চিঠি আছে?

Page 129 of 165
Prev1...128129130...165Next
Previous Post

পরী – আলাউদ্দিন আল আজাদ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা – আহমদ শরীফ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা - আহমদ শরীফ

বিচিত চিন্তা - সংস্কৃতি চিন্তা - আহমদ শরীফ

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In