• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
মঙ্গলবার, জুন 23, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

সাইমুম সিরিজ – আবুল আসাদ

ইয়েরেভেনে আহমদ মুসার দু’টো দিন খুব ব্যস্ত কাটল। হোয়াইট ওলফের প্রতিরোধের যে পকেটগুলো অবশিষ্ট ছিল, তাও ধ্বংস করা হলো।
আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের ককেশাস ক্রিসেন্টকে পুনর্গঠিত ও পুনর্বিন্যস্ত করা হলো। আবার প্রয়োজন না হলে অস্ত্র হাতে নেয়াকে পরিহার করা হলো। ঠিক করা হলো, রাজনৈতিক পথেই সামনে এগুতে হবে। আর যে টুকু বাকি আজাদীর, তা রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমেই শেষ করা যাবে।
এক ঘন্টার ব্যবধানে ‘তিরানা’ ও ‘রোম’ এর বিমান দু’টি ছাড়বে। আলবেনিয়ার রাজধানী ‘তিরানা’য় যাওয়ার বিমানটি ছাড়বে ৮টা ২৫ মিনিটে আর রোমের বিমানটি ছাড়বে সোয়া ন’টায়।
সিষ্টার মেরীর মা লেডী জোসিফাইন কে নিয়ে সোফিয়া এ্যাঞ্জেলার মা, সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা এবং সালমান শামিল যাচ্ছে রোম। আহমদ মুসা এবং হাসান সেনজিক যাচ্ছে ‘তিরানা’। বহু চিন্তা করে আহমদ মুসা তিরানা যাওয়াই যুক্তি যুক্ত মনে করেছে। সোজা বেলগ্রেডে গেলে সহজেই মিলেশ বাহিনী’র চোখে পড়ার সম্ভবনা আছে। হাসান সেনজিকের ফটো নিশ্চয় ওরা এতদিনে যেগাড় করেছে। আর তিরানা গিয়ে যদি সড়ক পথে বেলগ্রেড যাওয়া যায় তাহলে ওদের চোখকে ফাঁকি দেয়া অনেক খানিই সহজ হবে।
তিরানাগামী বিমান টারমাকে রেডি। যাত্রীরা উঠতে শুরু করেছে।
আহমদ মুসা ও হাসান সেনজিক উঠে দাঁড়াল।
সিষ্টার মেরীর মা, লেডি জোসেফাইন, সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা, সালমান শামিল, ওসামন এফেন্দী, আলি আজিমভ এবং আরও যারা বিদায় জানাতে এসেছিল সবাই উঠে দাঁড়াল।
সিষ্টার মেরীর মা ও লেডি জোসেফাইন দুজনেই পাশাপাশি দাঁড়িয়েছিল।
আহমদ মুসা ওদের সামনে গিয়ে মাথা নিচু করে বলল, আসি আম্মা। আপনাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, আল্লাহ তার জাযাহ আপনাদেরকে দিন।
-এসব কথা বলোনা বাবা, অনেক হারিয়েই তো তোমাদের মত অনেক ছেলেকে পেয়েছি।
দু’জনেই একবাক্যে কথাগুলো বলল।
একটু থেমে লেডি জোজেফাইন বলল, কি বলব বাবা, চাইলেই তো হবেনা, তোমাদের মত ছেলেদের কোন মা’ই তার কাছে ধরে রাখতে পারে না।
সোফিয়া এ্যাঞ্জেলার মা বলল, যাও বাবা, দোয়া করি, তাড়াতাড়ি আবার আমাদের মাঝে ফিরে এস।
সালমান শামিল, ওসমান এফেন্দীর চোখে পানি টল টল করছিল।
আহমদ মুসা সালমান শামিল ও ওসামান এফেন্দীর পিঠ চাপড়ে বলল, পাগল, আল্লাহর সৈনিকরা তো কাঁদেনা এভাবে, গোটা দুনিয়ায় তাদের ঘর।
গায়ে-মাথায় ওড়না জড়িয়ে এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা। তার মাথার ওড়নার প্রান্ত কপালের নিচ পর্যন্ত নেমে এসেছে। সেদিকে তাকিয়ে খুশী হল আহমদ মুসা। সোফিয়া তাহলে আপনা থেকেই পর্দা করা শুরু করেছে। আসলে মানুষের মনই সব। মন থেকে মানুষ যখন কোন আদর্শ গ্রহন করে তখন তার বাহিরটাও সেই আদর্শের দাবী অনুসারে আপনাতেই পরিবর্তিত হয়ে যায়।
আহমদ মুসা তার কাছে গিয়ে বলল, আসি বোন।
-আমাদের জন্যে দোয়া করবেন। আর সাবধানে থাকবেন, নিজের যত্ন নিবেন। আপনার আঘাত এখনও সারেনি।
সোফিয় এ্যাঞ্জেলার শেষের কথা গুলো ভারী হয়ে উঠল। মুখ নিচু রেখেই কথা বলছিল সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা।
‘শুকরিয়া বোন, আল্লাহ তোমাদের ভাল রাখুন’ বলে আহমদ মুসা অন্য সবাই এর কাছে বিদায় নিয়ে লাউঞ্জ থেকে বেরিয়ে এল।
আহমদ মুসা এবং হাসান সেনজিক হেটে হেটেই এগুচ্ছিল বিমানের দিকে।
‘মুসা ভাই’ হঠাৎ পেছন থেকে সালমান শামিলের ডাক শুনতে পেল আহমদ মুসা। থমকে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকাল সে। তাকিয়েই দেখতে পেল, ডঃ পল জনসন এবং তার মেয়ে মারিয়া জনসন দ্রুত এগিয়ে আসছে। তাদের সাথে সালমান শামিল এবং সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা।
আহমদ মুসাও পেছন ফিরে তাদের দিকে হাটা শুরু করল।
ডঃ পল জনসন কাছাকাছি হতেই আহমদ মুসা অত্যন্ত বিনীতভাবে বলল, আমাকে মাফ করবেন জনাব, আপনার সাথে দেখা না করে অন্যায় হয়েছে।
ডঃ পল জনসন এসে আহমদ মুসাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। বলল, তোমরা যুদ্ধের ময়দানে আছ, তোমার কিছুই অন্যায় হয়নি বৎস।
কয়েক মুহুর্তবাদ আহমদ মুসাকে আলিঙ্গন থেকে ছেড়ে দিয়ে বলল, যুদ্ধ বিজয়ী বীরকে আমি স্বাগত জানাতে এসেছি, আমি আজ উচ্চস্বরে বলতে পারি বৎস, তোমরা যে বুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও গতি দিয়ে হোয়াইট ওলফকে জয় করেছ, তার কাছে গোটা বিশ্বই পদানত হবে। অন্যের কাছে অস্ত্র ও শক্তি আছে, কিন্তু তোমাদের বাড়তি আছে উদ্দেশ্যের মহত্ব ও চরিত্র, যা আর কারো কাছে নেই।
-আপনার কথাকে আল্লাহ সত্য করুন। মাথা নিচু করে বিনীত কন্ঠে বলল আহমদ মুসা। একটু থেমে আহমদ মুসা বলল, জনাব আমরা রাজ্য ও সম্পদের জন্যে লড়াই করছিনা। ইসলামের লড়াই আল্লাহর বান্দাদেরকে মানুষের দাসত্ব, শোষণ ও নীপিড়ন থেকে মুক্তি করার জন্যে এবং আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে মানুষের অধিকার মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যে।
-এ লড়াই তোমাদের সফল হোক বৎস।
-এ লড়াই কি আপনারও হতে পারেনা? মাথা তুলে ডঃ পল জসসনের মুখের দিকে চেয়ে প্রশ্ন করল আহমদ মুসা। মুহূর্তকাল নিরব থাকল ডঃ পল জনসন।
তারপর ডঃ পল জনসন তার ডান হাত বাড়িয়ে আহমদ মুসার হাত চেপে ধরে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোন মা’বুদ নেই, মোহাম্মদ (স:) তাঁর প্রেরিত রসূল।
আহমদ মুসা বুকে জড়িয়ে ধরল ডঃ পল জনসনকে। বলল, জনাব আপনার এই ঘোষণা আর্মেনীয়া-আজারবাইজানের নতুন দিনের বার্তাবহ হোক।
ডঃ পল জনসন্ন আলিংগন মুক্ত হয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল, দোয়া কর বৎস।
পাশেই দাঁড়িয়েছিল মারিয়া জনসন। তার চোখে আনন্দোর ঝিলিক।
আহমদ মুসা তার দিকে চাইতেই সে বলল, আমি সোফিয়া আপার কাছে কালেমা আগেই পড়ে নিয়েছি ভাইজান।
-সোফিয়া এখন বুঝি গুরুর ভূমিকায়? হেসে বলল আহমদ মুসা।
-হবে না? জানেন না আপনি, সোফিয়া আপা অনেক জানেন।
এই সময় বিমানরে এক অফিসারের কাছ থেকে আহবান এল সময় আর নেই।
আহমদ মুসা দ্রুত সবার কাছ থেকে বিদায় নিল। বিদায় দিতে গিয়ে চপলা চঞ্চলা মারিয়া জনসন ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলল। বলল, ভাইজান আবার আপনাকে দেখতে পাব?
আহমদ মুসা কোন জবাব দিলনা, দিতে পারল না। কি জবাব দেবে। এর জবাব তো তারও জানা নেই।
আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়িয়ে পা চালান বিমানের সিড়ির দিকে।
সিড়ির গোড়ায় গিয়ে পেছন ফিরে তাকাল আহমদ মুসা। সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা এবং মারিয়া জনসন দু’জনেই চোখ মুছছিল।
ঘুরে দাঁড়িয়ে বিমানের সিড়িতে পা রাখল আহমদ মুসা। মনে পড়ল সিংকিয়াং এর উরুমুচি বিমান বন্দরে আমিনার এমন সজল চোখই সে দেখে এসেছিল। গতকালও টেলিফোনে আমিনা কান্নায় কথা বলতে পারেনি। ওর সে কান্নার কাছে নিজেকে বড় হৃদয়হীন মনে হয়েছে আহমদ মুসার। ওরা এত কোমল বলেই পুরুষরা এতটা কঠোর।
আহমদ মুসা বিমানের শেষ সিড়ি পেরিয়ে প্রবেশ করল বিমানে।
দু’জনের পাশাপাশি সিট। বসে পড়ল আহমদ মুসা এবং হাসান সেনজিক দু’জনেই।
ওরা দু’জনেই আর্মেনিয়ার নাগরিক হিসেবে আলবেনিয়ার ভিসা নিয়ে প্রবেশ করেছে আলবেনিয়ায়।
সিট বেল্ট বাঁধছিল হাসান সেনজিক। বাঁধতে বাঁধতে বলল, মুসা ভাই, মনে হচ্ছে আমি স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নে যেমন ১০ বছরের ঘটনা ১০ মিনিটেও দেখা যায়, তেমনি বহু বছরের জানা যেন আমার দু’দিনেই জানা হয়ে গেল। আমার সমাজ, আমর ধর্ম, আমার আদর্শকে যেন আমি প্রথমবারের মত উপলব্ধি করছি, জানছি, বুঝছি, দু’দিনে আমার নতুন জন্ম হয়েছে মুসা ভাই।
থামল হাসান সেনজিক।
আহমদ মুসা হাসান সেনজিকের পিঠ চাপড়ে বলল, এই তো চাই। বলকানকে জাগাবার দায়িত্ব যে তোমাদেরই নিতে হবে।
-নেতার আনুগত্য, নেতার প্রতি ভালবাসা কেমন হতে হয় তাও শিখলাম মুসা ভাই। বলল, হাসান সেনজিক।
-ইসলামে নেতা-কর্মী কোন ভেদাভেদ নেই হাসান সেনজিক, সবাই এখানে ভাই ভাই।
মুসা ভাই, আমি আলী আজিমভ ভাই এর কাছে সব শুনেছি। আপনার যাত্রা শুরু ফিলিস্তিনে। সেখান থেকে মিন্দানাওয়ে তারপর মধ্য এশিয়ায়। সেখান থেকে চীনে, চীন থেকে আর্মেনিয়ায়। এখন বলকানের পথে। আপনি এক বিস্ময় মুসা ভাই।
-এমনভাবে বলনা হাসান সেনজিক। আমরা সাবই আল্লাহর বান্দাহ। কাজ তো তিনিই করান। সব প্রশংসা তো তাঁরই।
একটু থামল আহমদ মুসা। তারপর আবার শুরু করল, মুসলমানরা সুখ-সম্পদ নিয়ে বসে থেকে জীবন কাটানোর মত কোন জাতি নয়। মুসলমানরা মিশনারী এক জাতি। এক মহা মিশন দিয়ে আল্লাহ তাদের দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাকে হতে হয় এক অস্থির বিপ্লবী। যেখানেই আল্লাহর বান্দারা শোষণ অত্যাচারে জর্জরিত, যেখানেই তাদের স্বাধীনতা বিপর্যস্ত, সেখানেই ঐ বিপ্লবীদের ছুটে যেতে হয় মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে। কোন দেশের সীমার মাঝে তারা বাধ্য থাকবে কেমন করে?
থামল আহমদ মুসা।
শান্ত কন্ঠে ধীরে ধীরে শুরু করল হাসান সেনজিক, কিছু মনে করবেন না মুসা ভাই, আপনি আমার ম’র চোখের জল মুছাবার জন্যে আমাকে নিয়ে যাচ্ছেন আমার মা’র কাছে। কিন্তু আপনি কি আরেকজনের কান্নাকে পদদলিত করছেন না?
সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল না আহমদ মুসা।
একটু ধীর কন্ঠে বলল, হয়তো করছি হাসান সেনজিক। কিন্তু সেটা একজনের ব্যক্তিগত কান্না। কিন্তু তোমার মা’র কান্না শুধু তোমার মা’র নয়। গোটা বলকানের অসংখ্য মুসলিম জনপদের লাখো হৃদয়ের কান্না আমি শুনতে পেয়েছি তোমার মায়ের কান্নায়।
থামল আহমদ মুসা।
হাসান সেনজিক পলকহীন দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আহমদ মুসার দিকে। বিহব্বল তার দৃষ্টি।
অনেকক্ষণ পর ধীর কন্ঠে বলল হাসান সেনজিক, মুসা ভাই, আমার বলকানকে তো এভাবে কখনও ভাবিনি, কখনও তো দেখিনি বলকানকে এভাবে। কি জাদু জানেন আপনি মুসা ভাই, কি শোনালেন আপনি। বলকানের যুগোশ্লাভিয়া,বুলগেরিয়া, আলবেনিয়া এবং গ্রীসের লাখো মজলুম মুসলিমের কান্না যে আমি চোখ দিয়ে দেখতে পাচ্ছি। এতদিন তো বুঝিনি আমার কান্না, আমার মা’র কান্না তাদের কান্নারই একটা অংশ।
থামল হাসান সেনজিক।
তার দু’চোখের পাতা ভিজে উঠেছে অব্যক্ত এক বেদনার দুঃসহ ভারে।
আহমদ মুসা কোন কথা বলল না। শুধু সস্নেহে তার পিঠে হাত বুলাল।
বিমান তখন টেক-অফ পর্যায়ে। ভীষণ চাপা শব্দতুলে অস্থির ভাবে কেঁপে চলেছে বিমানটি। এগুচ্ছে ধীরে ধীরে সামনে।
এক সময় মাটির স্পর্শ ছিন্ন করে বিমানটি পাখা মেলল আকাশে।

২

নতুন বেলগ্রেডের এক অভিজাত এলাকা। রাত তখন ৮ টা।
প্রশস্ত রাজপথ। তুষার পড়ছে। কনকনে শীত। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া বেশ কম।
তবু ট্রাফিক সিগন্যালের সামনে বেশ ভিড় জমে উঠেছে। নীল সিগন্যালের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে পড়েছে গাড়ির এক লম্বা সারি।
মাথায় কালো হ্যাট এবং গায়ে কালো ওভার কোট জড়ানো একজন লোক এই সুযোগে দ্রুত গাড়ি গুলোর ড্রাইভিং সিটের খোলা জানালাগুলো দিয়ে কি কাগজ দিয়ে যাচ্ছে। গাড়ির লম্বা লাইনটির প্রায় পেছনের প্রান্তে মাঝারি সাইজের একটা মাইক্রোবাস। ঐ গাড়ির ড্রাইভারটিও তার জানালা দিয়ে ঐ কাগজটি পেল।
কাগজটির উপর এক পলক নজর বুলিয়েই পেছনে তাকিয়ে বলল,জর্জ তোমরা শয়তানটাকে পাকড়াও করো।
পেছনে সিটে ওরা তিনজন বসেছিল।
বলার সঙ্গে সঙ্গেই দরজার সামনে বসা লোকটি দরজা খুলে লাফিয়ে পড়ল নিচে, তার সাথে আরেকজন।
কাগজ বিলি করা কালো ওভার কোট জড়ানো সেই লোকটি তখন ফুটপাতে উঠে গেছে।
গাড়ি থেকে নেমে যাওয়া দু’জন লোক অদ্ভুত দ্রুততার সাথে সেই লোকটিকে প্রায় ছোঁ মেরে ধরে এনে গাড়িতে তুলল। লোকটি চিৎকার করারও সুযোগ পায়নি। বুঝে উঠার আগেই সে গাড়ির ভেতরে এসে আছড়ে পড়েছে।
হাইজাকের এই তৎপরতা দেখে মনে হয় এরা এই কাজে অত্যন্ত দক্ষ। যেমন গায়ের শক্তি, তেমনি কৌশলও রপ্ত।
মাইক্রোবাসটি দানিয়ুব এভেনিউ এর মাঝামাঝি জায়গায় একটা বড় লোহার গেটের সামনে এসে দাঁড়াল। গাড়ি দাঁড়াবার শব্দ পেয়ে গেট রুমের ক্ষুদ্র জানালা দিয়ে একটা মুখ বেরিয়ে এল। মাইক্রোবাসটির দিকে একবার নজর বুলিয়ে সরে গেল জানালা থেকে। পরক্ষণেই লোহার গেটটি আস্তে আস্তে খুলে গেল।
মাইক্রোবাসটি ভেতরে প্রবেশ করল।
ভেতরে একটি বিরাট বাগান। ফুলের বাগান। বাগানের মাঝখানে পানির একটা ফোয়ারা। ফোয়ারার ঠিক মাঝখানে শ্বেত পাথরের একটা মূর্তি। মূর্তিটি বলকান অঞ্চলের জাতীয় বীর বলে কথিত ‘মিলেশ’ এর। বিশেষ করে ‘মিলেশ বাহিনী’র খৃষ্টান জাতীয়তাবাদিরা ‘মিলেশ’কে গুরু হিসেবে বরণ করে নিয়েছে।
১৩৮৯ সালে কসভোর যুদ্ধে তুরস্কের সুলতান মুরাদ দক্ষিণ ইউরোপের খৃষ্টান বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করে। কিন্তু যুদ্ধের পর পরই খৃষ্টান পক্ষের একজন সৈনিক ‘মিলেশ’ গোপনে মুরাদকে আক্রমন করে ও আহত করে এবং আহত সুলতান যুদ্ধক্ষেত্রেই মৃত্যুবরণ করেন। সেই থেকে ‘মিলেশ’ ইউরোপের খৃষ্টানদের কাছে শক্তি ও সাহসের প্রতীক হয়ে আছে।
মাইক্রোবাসটি বাগান পেরিয়ে একটি বড় বহুতল গাড়ির বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল।
গাড়ি থেকে সবাই নামল। মোট চারজন। সকলে নামার পর সেই ওভার কোট পরা লোকটিকে হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নামাল গাড়ি থেকে। ঐভাবে টেনে নামানোর ফলে লোকটি পড়ে গেল।
যে লোকটি ড্রাইভিং সিট থেকে নামল সে সঙ্গে সঙ্গে লোকটির পাঁজরে লাথি মেরে বলল, ব্যাটা, হিদেন, উঠ।
লোকটি উঠে দাঁড়াল।
উঠে দাঁড়াতেই একজন সামনের দিকে লোকটিকে ধাক্কা দিয়ে বলল চল মজা দেখবি, ইস হ্যান্ডবিল ছড়ানো হচ্ছে।
গ্রাউন্ড ফ্লোরের এক কোনে একটা অন্ধকার ঘরে লোকটিকে ঠেলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে ওরা চারজন উপরে উঠে গেল।
ঘণ্টা তিনেক পরে ওরা দশ বারোজন ফিরে এল। দরজা খুলে ওরা প্রবেশ করল রুমে।
আলো জ্বালাল।
লোকটি কার্পেটের উপর বসেছিল।
ঘরের মেঝেতে কার্পেট ছাড়া ঘরে আর বসার কিছু নেই।
ওরা ঘরে ঢোকার পর লোকটি উঠে দাঁড়াল। লোকটির মাথায় সেই হ্যাট।
ঘরে প্রবেশ করা লোকদের মধ্যে দীর্ঘ ও স্থুলদেহী একজন একটু এগিয়ে লোকটির মাথা থেকে হ্যাটটি টেনে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলল, ইয়েলেস্কু সেই হ্যান্ডবিলটি কোথায়, দাও তো দেখি।
ইয়েলেস্কু এগিয়ে এল। এই লোকটিই মাইক্রোবাস ড্রাইভ করছিল।
সে এগিয়ে এসে দীর্ঘ সেই লোকটির হাতে হ্যান্ডবিলটি তুলে দিতে দিতে বলল, স্যার সমাজতন্ত্রের বিপর্যয়কে এরা এদের সুদিন মনে করে দারুণ বাড়বাড়ি শুরু করেছে।
এই ‘স্যার’ লোকটি বিল কনষ্টাইনটাইন, বলকানের ‘মিলেশ বাহিনীর’ নেতা। নিজেকে সে ইউরোপের ধর্মসম্রাজের অধিনায়ক সম্রাট সার্লেম্যানের বংশধর বলে প্রচার করে।
‘পিপিলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে, কিছু ভেবনা ইয়েলেস্কু’ বলে কনষ্টানটাইন হ্যান্ডবিলটি নিয়ে ধরে আনা সেই লোকটির দিকে ঘুরে দাঁড়াল।
লোকটি বয়সে যুবক। মাথায় ঘন কালো চুল। কিন্তু গায়ের রং সাদা, স্লাভদের মতই অর্থাৎ তার দেহে তুর্কি ও স্লাভ দুই রক্তধারাই রয়েছে।
যুবকটির চেহারা বুদ্ধিদীপ্ত। ভাবলেশহীন তার দৃষ্টি। সেখানে ভয়ের কোন চিহ্ন নেই। যেন অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটেনি তার।
বিল কনষ্টানটাইন যুবকটির দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার নাম কি? যুবকটি দেরী না করে বিনা দ্বিধায় বলল, সালেহ বাহমন।
নামের উচ্চারণ শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে কনষ্টানটাইনের প্রচন্ড থাপ্পড় গিয়ে পড়ল যুবকটির গালে। বলল, কুত্তা ঐ নাম আমি শুনতে চাইনি, যুগোশ্লাভিয়ার নাগরিক হিসেবে তোর নাম কি তাই বল।
আকস্মিক থাপ্পড়ে যুবকটি মুহূর্তের জন্যে চমকে উঠেছিল মাত্র। কিন্তু শীঘ্রই নিজেকে সামলে নিল। বলল, আমার এখন এই একটাই না……।
এবার কথা শেষ হলো না। কনষ্টানটাইনের আরেকটি থাপ্পড় গিয়ে পড়ল যুবকটির অন্য গালটিতে। সেই সাথে সে চিৎকার করে উঠল, চুপ শয়তানের বাচ্চা। তোর নাম বল।
যুবকটি এবার আর চমকে উঠেনি। স্পষ্ট কণ্ঠে সে বলল, মুসলিম নাম গ্রহণ এখন আর বেআইনি নয়। এ অধিকার মুসলমানদের দেয়া হয়েছে।
–আইনের নিকুচি করি। গোলযোগ-অবস্থা ও সরকারের দূর্বলতার সুযোগে তোরা এটা আদায় করে নিয়েছিস। কেউ মানেনা এটা। যুগোশ্লাভ নাম তোকে বলতে হবে। বল বলছি।
–বলেছি, আমার নাম সালেহ বাহমন।
কনষ্টানটাইনের চোখ দু’টি জ্বলে উঠল।
সে ইয়েলেস্কুর দিকে চেয়ে বলল, চাবুক লাগাও ইয়েলেস্কু। হারামজাদা পাকা শয়তান।
‘ইয়েলেস্কু চাবুক নিয়ে এসে সালেহ বাহমনের গা থেকে ওভার’ কোট খুলে ফেলে দিল।
চামড়ার চাবুক।
ইয়েলেস্কু সালেহ বাহমনকে টেনে নিয়ে দেয়ালে বুক ঠেকিয়ে দাঁড় করাল।
ইয়েলেস্কুই চাবুক মারা শুরু করল সালেহ বাহমনের পিঠে।
এক-দুই-তিন……পাঁচটি চাবুক লাগাল এক নিঃশ্বাসে।
চাবুকের নির্দয় ছোবলে প্রথমে কেঁপে উঠেছিল বাহমন। পরে সে স্থির হয়ে গিয়েছিল। তাজা লাল রক্তে ভিজে উঠেছিল পিঠের সাদা সার্ট। দু’হাত ও মাথা দেয়ালে ঠেকিয়ে স্থির দাঁড়িয়েছিল সালেহ বাহমন।
পাঁচটি চাবুক শেষ করে ইয়েলেস্কু থামল।
কনষ্টানটাইন তার হাতের হ্যান্ডবিলটি ইয়েলেস্কুর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, ওকে পড়তে দাও।
ইয়েলেস্কু সালেহ বাহমনকে ঘুরিয়ে নেবার জন্য হাত ধরে টান দিল। সালেহ বাহমন ঘুরে দাঁড়াল, কিন্তু কাঁপতে কাঁপতে বসে পড়ল। ইয়েলেস্কু সালেহ বাহমনের পাঁজরে একটি লাথি দিয়ে বলল, এখনি এই অবস্থা।
বলে ইয়েলেস্কু হ্যান্ডবিলটি সালেহ বাহমনের দিকে ছুড়ে দিয়ে বলল, কি লিখেছিস পড়। তোর মুখেই আমরা শুনব।
সালেহ বাহমনের চোখে-মুখে প্রচণ্ড ক্লান্তি। হাতি পেটানো চাবুকের আঘাতে সে উঃ আঃ করেনি সত্য, কিন্তু বেদনা চাপতে গিয়ে বেদনায় জর্জরিত হয়েছে সে। চোখে-মুখে তার প্রকাশ স্পষ্ট।
প্রথমটায় সালেহ বাহমন হ্যান্ডবিলটি হাতে নিলনা। পড়ে গেল তা কার্পেটের উপরে।কিন্তু পরক্ষণেই হ্যান্ডবিলটি কুড়িয়ে নিয়ে সে বলল, আমাদের কথা আমি অবশ্যই পড়ব। বলে সে হ্যান্ডবিলটি চোখের সামনে তুলে ধরল। হ্যান্ডবিলটির শিরনামঃ ‘যুগোশ্লাভ সর্ব সাধারণের কাছে মজলুম মুসলিমদের আবেদন’।
‘মুসলমানরা যুগোশ্লাভিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতি গোষ্ঠি। যুগোশ্লাভিয়ার অন্যান্য ধর্ম সম্প্রদায়ের মত তারাও সমান অধিকার ভোগ করার কথা। কিন্তু বহু বছরের স্বৈরশাসন আমলে সুপরিকল্পিতভাবে এক এক করে তাদের অধিকার হরণ করা হয়েছে। এমনকি অবশেষে মুসলিম নাম রাখার অধিকারও হরণ করা হয়। স্বৈরাচারের ভিত্তি ধ্বসে পড়ার পর অনেক দাবীর পর মুসলিম নাম রাখার অধিকার টুকু ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু আর সব অধিকার থেকে আমরা বঞ্চিত। ক্ষুদ্র একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর মনোরঞ্জনের জন্য লাখো মুসলমানের স্বার্থ নিয়ে ফুটবল খেলা………
পড়ায় বাধা দিয়ে চিৎকার করে কনষ্টানটাইন, ‘চুপ কর কুত্তার বাচ্চা।’
বলেই ইয়েলেঙ্কুর হাত থেকে চাবুকটি নিয়ে গায়ের সব শক্তি দিয়ে প্রচণ্ড এক আঘাত করল সালেহ বাহমনকে। চাবুকটি গিয়ে বাম কাঁধ ও পিঠে যেন কেটে বসে গেল। কেঁপে উঠল সালেহ বাহমনের দেহ।
চাবুকটি টেনে নিল কনষ্টানটাইন। সংগে সংগে কাঁধের জামা ভিজে উঠল রক্তে।
দ্বিতীয় আঘাতের জন্যে কনষ্টানটাইন চাবুকটি মাথার উপরে তুলেছিল, কিন্তু কি ভেবে চাবুকটি নামিয়ে নিয়ে সালেহ বাহমানকে লক্ষ্য করে বলল, তোর সাথে আর কারা আছে, কারা এ হ্যান্ডবিল ছেপেছে, কোত্থেকে ছেপেছে, আমাদের বলতে হবে তোকে। মিথ্যা বলবি না।
–মুসলমানরা মিথ্যা কথা বলে না। কনষ্টানটাইনের দিকে সোজা তাকিয়ে বলল সালেহ বাহমন।
–ঐ জাতের বড়াই করবি না আর, চাবুকে পিঠের ছাল তুলে দেব। একটু থেমেই কনষ্টানটাইন আবার শুরু করল, যে প্রশ্ন জিজ্ঞাস করেছি তার উত্তর দে।
–প্রশ্নগুলোর উত্তর আমি দেব না। দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিল সালেহ বাহমন।
–কি বললি উত্তর দিবি না? মূহূর্তকাল সালেহ বাহমনের দিকে তাকিয়ে থেকে কনষ্টানটাইন বলল, জানিস তোর এ কথার পরিণতি কি? তোর জীবনের ভয় নেই?
–জীবনকে যে আঁকড়ে ধরে থাকতে চায়, পরকাল যাদের জন্যে ভীতির, তারাই মৃত্যুকে ভয় করে।
চোখ দু’টি জ্বলে উঠল কনষ্টানটাইনের। বলল, আবার সেই বড়াই? অমন বড়াই অনেক দেখেছি।
কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কনষ্টানটাইনের চাবুক উপরে উঠল, তারপর নির্মম গতিতে তা গিয়ে আঘাত করল সালেহ বাহমনের পিঠে।
একটার পর আরেকটা, চলতেই থাকল একের পর এক। কনষ্টানটাইন যেন পাগল হয়ে গেছে।
সালেহ বাহমনের রক্তাক্ত দেহ ঢলে পড়ে গেল কার্পেটের উপর। জ্ঞান হারিয়েছে সে।
থামল কনষ্টানটাইন। রক্তাভ চোখ দু’টি তার।
সে ইয়েলেস্কুর হাতে চাবুকটি দিল এবং বলল, একে দানিয়ুবে ফেলে দিয়ে এস ইয়েলেস্কু, পানিতে ডুবে মরুক।
বলে কনষ্টানটাইন ঘর থেকে বের হয়ে গেল। অন্যরা সবাই বের হয়ে গিয়েছিল আগেই। শুধু ইয়েলেস্কুর সাথে জর্জ নামের লোকটি দাঁড়িয়েছিল। ইয়েলেস্কু মিলেশ বাহিনীর এই হেডকোয়ার্টারে যে, ‘নির্মূল স্কোয়াড’ গুলো রয়েছে তার প্রধান। জর্জ তার দক্ষিণ হস্ত।
কনষ্টানটাইন বেরিয়ে গেলে ইয়েলেস্কু এবং জর্জ দু’জনে ধরাধরি করে সংজ্ঞাহীন সালেহ বাহমনকে একটা খোলা জীপে তুলে নিল।
রাত তখন সাড়ে এগারটা। তীব্র শীতের রাত।
রাস্তায় গাড়ি ও যান চলাচল নেই বললেই চলে। দানিয়ুব এভিনিউ উত্তর পূর্বে দানিয়ুব নদী পর্যন্ত এগিয়ে গেছে।
সুন্দর, সুপ্রশস্ত দানিয়ুব এভিনিউ বেলগ্রড নগরীর উত্তর-পূর্ব প্রান্ত ছুয়ে পুর্ব-দক্ষিণে এগিয়ে গেছে।
জীপটি তীর গতিতে এগিয়ে চলছিল দানিয়ুব নদীর দিকে।
শহর পেরুলেই দানিয়ুব। সুন্দর, সুপ্রশস্ত ব্রীজ দানিয়ুবের উপর দিয়ে।
এলাকাটি নির্জন।
মাঝে মাঝে দু’একটি গাড়ি তীব্র গতিতে আসছে, যাচ্ছে।
ইয়েলেস্কু গাড়ি চালাচ্ছিল। পেছনে জর্জ এবং তার পাশে সালেহ বাহমনের সংজ্ঞাহীন দেহ।
জীপটি দানিয়ুব ব্রীজে উঠে মাঝ বরাবর এগিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। ফুটপাতের একেবারে গা ঘেষে।
সংগে সংগে জর্জ সালেহ বাহমনকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়ল। দ্রুত এগুলো সে রেলিং এর দিকে। সালেহ বাহমনকে রেলিং এর উপরে তুলে একটু দম নিয়ে দু’হাত বাড়িয়ে নিচে অন্ধকার নদী বক্ষের দিকে একবার তাকিয়ে সালেহ বাহমনের দেহ হাত থেকে ছেড়ে দিল।
তারপর দেরী না করেই ঘুরে দাঁড়িয়ে উঠে এল জীপে।
ইয়েলেস্কু জীপ ঘুরিয়ে নিয়েছিল। জর্জ উঠে বসতেই জীপ ছেড়ে দিল। ফিরে চলল তারা নগরীর দিকে।

Page 122 of 165
Prev1...121122123...165Next
Previous Post

পরী – আলাউদ্দিন আল আজাদ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা – আহমদ শরীফ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা - আহমদ শরীফ

বিচিত চিন্তা - সংস্কৃতি চিন্তা - আহমদ শরীফ

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In