আহমেদ মুসার গাড়ি যখন সোফিয়া এঞ্জেলাদের গেটে গিয়ে পৌছালো, ঠিক তখনই সোফিয়াদের গেট দিয়ে সালমান শামিল বের হয়ে এল হন্তদন্ত হয়ে।
আহমদ মুসাকে দেখে সালমান শামিল দ্রুত ছুটে এল। সালমান শামিলের দিকে একবার তাকিয়ে এক রাশ উদ্বেগ নিয়ে আহমদ মুসা গাড়ি থেকে নামল।
-সর্বনাশ হয়ে গেছে মুসা ভাই।
-কি হয়েছে?
-সোফিয়া এ্যাঞ্জেলাকে ওরা কিডন্যাপ করেছে।
-কখন?
-আমি পাশেই ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। এসেই শুনলাম। বিশ মিনিট হবে।
আহমদ মুসার মনে হঠাৎ একটা দৃশ্য ঝিলিক দিয়ে উঠল। আহমদ মুসার গাড়ি যখন এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে মেইন রোডে পড়ছিল, তখন একটা গাড়ি তাকে রং সাইড থেকে দ্রুত ক্রস করে। আহমদ মুসা চকিতে একবার তাকিয়েছিল গাড়িটির দিকে। তার মনে হয়েছিল, গাড়িটির পিছনের সিটে মুখ বাধা একটা মেয়ে আর তার পাশে ভীমাকৃতি একজন লোক। মুহূর্ত কালের দেখা এ দৃশ্যটাকে আহমদ মুসা দৃষ্টি ভ্রম বলে আমল দেয়নি। কিন্তু এখন দৃষ্টি ভ্রম বলে মনে হচ্ছে না।
গাড়িটির কি রং ছিল? জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা।
সোফিয়ার মা এসে গেটে দাঁড়িয়েছিল। সেই উত্তর দিল। নীল রংয়ের কার।
আহমদ মুসার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে গাড়িটিও নীল ছিল।
আহমদ মুসা দ্রুত বলল, সালমান শিগগীর গাড়িতে উঠ।
তারপর সোফিয়ার মা’র দিকে তাকিয়ে বলল, চিন্তা করবেন না আম্মা, আল্লাহ সহায়। আমরা শিগগীরই ফিরে আসছি।
আহমদ মুসা দ্রুত গাড়ি ঘুরিয়ে রাস্তায় নামল। তারপর তীরের মত গাড়ি ছুটে চলল ইয়েরেভেন ইয়ারপোর্ট এর দিকে।
ইয়ারপোর্টের বহির্গমন কারপার্কিং এ প্রবেশ করেই আহমদ মুসা দেখল,হাঁ, সেই নীল গাড়িটি দাড়িয়ে আছে।
আহমদ মুসার জিপটি নীল গাড়িটির গা ঘেঁষে গিয়ে দাড়াল।
গাড়ি থেকে নামল আহমদ মুসারা তিনজন।
নীল গাড়িটা খালি। পেছনের সিটের উপর একটা কুঁচকানো রুমাল পাওয়া গেল। সম্ভবতঃ এই রুমাল দিয়ে সোফিয়া এ্যাঞ্জেলার মুখ বাধা ছিল।
লাউঞ্জে প্রবেশ করল আহমদ মুসারা তিনজন।
লাউঞ্জে তখন লোকজন নেই বললেই চলে। সতর্কভাবে একবার চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখল, না সোফিয়ারা লাউঞ্জে নেই। উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠল আহমদ। কুঞ্চিত হয়ে উঠল তার কপাল।
আহমদ মুসা দ্রুত কম্পিউটার স্ক্রীনে ফ্লাইট সিডিউলের দিকে নজর করে দেখল, ৮টা ২৫ মিনিটে একটা বিমান আলবেনিয়াতে যাচ্ছে।
আহমদ মুসা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল ৮টা১০ বাজে। চঞ্চল হয়ে উঠল আহমদ মুসা।। তাহলে এই বিমানেই ওরা সোফিয়াকে নিয়ে পালাচ্ছে?
আর একবার চারিদিকে তাকাল আহমদ মুসা অসহায়ের মত। লাউঞ্জের একপ্রান্তে নজর পড়ল সিকুরিটি কাউন্টার।
আহমদ মুসা ছুটল সেদিকে।
সিকুরিটি কাউন্টারের কাছাকাছি যেতেই ভীতা চকিতা হরিণীর মত শিথিল পায়ে সামনে এসে দাঁড়াল সিস্টার মেরী।
সে সিকুরিটি বক্সের আড়ালেই দাঁড়িয়েছিল।
সিস্টার মেরীর মুখ ফেকাসে। চোখে তার একরাশ ভয়। ঠোট তার কাঁপছে।
কি ব্যাপার মেরী, তোমার কি হয়েছে, চোখে একরাশ বিস্ময় নিয়ে বলল আহমদ মুসা।
-ওরা সোফিয়া আপাকে ধরে নিয়ে গেছে।
-ওরা কি এই বিমানে উঠেছে?
-হাঁ, তাই মনে হল।
-সোফিয়া বাধা দেয়নি, কিছু বলেনি?
-কি বলবে, পিস্তল বাগিয়ে দু’জন তার সাথেই ছিল।
-সিকুরিটির লোকেরা সে সব দেখেনি? কিছু বলেনি তারা?
-ওরা লাউঞ্জে ঢুকেই একটি ফাঁকা ফায়ার করে বলেছে, আমরা হোয়াইট ওলফের লোক। আমরা বিমানে তিনটা সিট চাই।
থামল সিস্টার মেরী।
-তারপর কি ঘটল? কেউ কিছু বলল না?
-হোয়াইট ওলফকে কিছু বলার মত কেউ নেই। তাদেরকে বোর্ডিং কার্ড দিয়ে ভিতরে পাঠিয়ে দিল।
আহমদ মুসা আর কোন কথা না বলে ছুটল সিকুরিটি বক্সের দিকে।
সিস্টার মেরী মুখ নিচু করে দাড়িয়েছিল।
সালমান শামিল তার সামনে এসে দাঁড়াল।
সিস্টার মেরী দু’হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল, সালমান, কেমন করে এটা ঘটল?
-ওর দুর্ভাগ্য মেরী। শুকনো কন্ঠে বলল সালমান শামিল।
তারপর একটু থেমেই বলল, তুমি ইয়ারপোর্টে কেন? আম্মা কোথায়?
সিস্টার মেরী মুখ না তুলেই বলল, ওঁকে আড়ালে বসিয়ে রেখেছি।
তারপর সিস্টার মেরী তার ভেজা চোখটি সালমান শামিলের দিকে তুলে ধরে বলল, আমরা রোম যাচ্ছি।
-রোম যাচ্ছ? কেন? আমি তো জানি না।
সিস্টার মেরী চোখ নামিয়ে নিল। কিছু বলল না।
এই সময় সিকুরিটি কাউন্টারের দিক থেকে গরম কথা কাটাকাটির শব্দ এল।
সালমান শামিল সেদিকে ছুটল।
সালমান শামিল যখন পৌছল, তখন আহমদ মুসা বলছিল, একজন নাগরিককে দূর্বৃত্তরা ধরে নিয়ে যাচ্ছে আপনারা বাধা দিলেন না?
-ওরা দূর্বৃত্ত নয়। ওরা হোয়াইট ওলফের লোক।
-ওদের যা ইচ্ছা তাই করার অধিকার আপনারা দিয়েছেন?
-না তা আমরা দেইনি। তবে কোন কাজে ওদের সহযোগিতা আমরা যেমন করি না, তেমনি বাধা দেওয়ারও হুকুম নেই।
-ঠিক আছে তাহলে বিমান দেরি করানোর ব্যাবস্থা করুন। আমরাই ব্যাপারটা দেখছি।
বিমানবন্দরের সিকুরিটি প্রধান লোকটি মুহূর্তকাল চুপ করে থাকল। তারপর বলল, আমরা জানি, মেয়েটি জর্জ সাইমনের। তাঁর প্রতি আমার সমবেদনা আছে, কিন্তু কোন সাহায্য আপনাকে করতে পারব না। তবে আপনাকে কোন কাজে বাধা দেবনা। ব্যস।
বলে লোকটি কাউন্টার থেকে সরে গেল ভেতরের দিকে। তারপর ওয়াকিটকিটা মুখের কাছে তুলে নিচু স্বরে কি যেন নির্দেশ দিল।
আহমদ মুসা দ্রুত ছুটল ভেতরের লাউঞ্জের দিকে। পথেই পেল সে ফ্লাইট ইনফরমেশন কাউন্টার।
আহমদ মুসা কাউন্টারের অফিসারকে দ্রুত বলল আলবেনিয়ার ফ্লাইট কিছু দেরী করাতে, অপারেশন ডাইরেক্টরকে কোথায় পাব?
-এক বিশেষ যাত্রী আসবেন, ফ্লাইট দেরী করানো হয়েছে ৯ টা পর্যন্ত। অফিসারটি হেসে জবাব দিল।
‘ধন্যবাদ’ বলে আহমদ মুসা এবার বিমানের গ্যাং ওয়েতে ঢোকার জন্য দ্রুত পায়ে যাত্রী প্রবেশের দরজার দিকে ছুটল।
দরজায় দু’জন অফিসার দাঁড়িয়েছিল বোর্ডিং কার্ড চেক করার জন্য। আহমদ মুসাদেরকে ওরা বাধা দিল না। ভেতরে ঢুকেই আহমদ মুসা বিমানবন্দরের সেই সিকুরিটি চীফকে দেখতে পেল।
আহমদ মুসা তাকে কিছু বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু বাধা দিয়ে সেই সিকুরিটি অফিসার নিচু গলায় বলল। ওরা গাংওয়ে লাউঞ্জে বসে আছে, ওদের আরেকজন কে আসবে, তারপর বিমানে উঠবে ওরা।
বলেই সে দরজা দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেল। আহমদ মুসা তাকে ধন্যবাদ জানানোরও সুযোগ পেল না।
আহমদ মুসা এবার প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে নিঃশব্দে বিড়ালের মত সামনে এগুতে লাগল। তাঁর পিছনে সালমান শামিল, হাসান সেনজিক এবং সিস্টার মেরী।
আহমদ মুসা গাংওয়ে লাউঞ্জে ঢোকার সিকুরিটি প্যাসেজের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দেখল নিরাপত্তা প্রহরী কেউ নেই। আহম্মদ মুসা বুঝল, সিকুরিটি চিফ সবাইকে সরিয়ে নিয়েছে।
আহমদ মুসা পেছন ফিরে সালমান শামিলকে বলল, তোমরা সবাই এখানে দাঁড়াও, প্রয়োজন না হলে লাউঞ্জে ঢুকবে না।
সালমান শামিল কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু আহমদ মুসার শক্ত হয়ে উঠা চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে সাহস পেল না। শুধু মাথা নেড়ে তার সম্মতি জানাল।
আহমদ মুসা ধীর পায়ে লাউঞ্জের ভেতরে ঢুকে গেল। সালমান শামিল হাত দিয়ে পকেটের রিভলভারটা একবার স্পর্শ করে শুকনো মুখে লাউঞ্জের দরজার দিকে নজর রাখল।
আহমদ মুসা ডান হাতটি পকেটে ঢুকিয়ে স্বচ্ছন্দে হেটে প্রবেশ করল লাউঞ্জে।
লাউঞ্জে প্রবেশ করেই তার চোখে পড়ল, লাউঞ্জের এ দরজার দিকে মুখ করেই কিছু দুরে সোফায় বসে আছে সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা। তার মুখ নিচু। তার পাশেই হোয়াইট ওলফের একজন লোক। হাতে তার পিস্তল। তার চোখটা ছিল ওপাশে গ্যাংওয়ের দিকে।
আহমদ মুসা অনেক পথ সামনে এগিয়েছে। হঠাৎ তার খেয়াল হলো, ও একা কেন? হোয়াইট ওলফের ওরা দু’জন তো। তার মাথায় ঝিলিক দিয়ে উঠল, ওকি আশে-পাশে কোথাও কিংবা টয়লেটে?
ঠিক এই সময়েই মুখ তুলেছে সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা। আহমদ মুসাকে সামনে দেখেই আর্তস্বরে বলে উঠল, মুসা ভাই আপনি……
আহমদ মুসা মুখে আঙ্গুল তুলে তাকে চুপ করানোর আগেই তার কথা অর্ধেক বলা হয়ে গেছে।
হোয়াইট ওলফের লোকটি সোফিয়ার মুখে শব্দ উচ্চারিত হবার সাথে সাথেই বিদ্যুৎ বেগে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। সাথে সাথে উঁচু হয়েছে তার পিস্তল।
কিন্তু তার পিস্তলটি উঠে আসার আগেই আহমদ মুসার রিভলভারটি লোকটির কপাল বরাবর উঠে গেছে। আহমদ মুসা কঠোর কন্ঠে বলল, রিভলভার ফেলে দাও।
ঠিক এই সময়েই আহমদ মুসা তার পেছনে অস্পষ্ট পায়ের শব্দ পেল। কে তার পেছনে এমন চিন্তা যখন সে করছে সেই সময়ই রিভলভারের একটা শক্ত নল ক্রমে তার মাথায় ঠেকল। পেছন থেকে কে ভারি গলায় বলে উঠল, আহ! আহমদ মুসা তোমাকে এভাবে পেয়ে যাব তা ভাবিনি। ফেলে দাও রিভলভার।
আহমদ মুসা হোয়াইট ওলফকে চেনে। কোন কাজে বিলম্ব করা ওদের অভিধানে নেই।
আহমদ মুসা রিভলভার ফেলে দিল।
ওদিকে মুসার মাথায় পিস্তল ঠেকাতে দেখেই উদ্বিগ্ন, উত্তেজিত সালমান শামিল পিস্তল বাগিয়ে লাউঞ্জে প্রবেশ করল। তার পিস্তলটি উঠে এল আহমদ মুসার পেছনে দাড়ানো লোকটির মাথা লক্ষ্য করে। কিন্তু সে দেখতে পাইনি তাকে লক্ষ্য করে সোফায় বসা হোয়াইট উলফের প্রথম লোকটির পিস্তল উঁচু হয়েছে।
সালমান শামিলের পেছনে পেছনে সিষ্টার মেরীও লাউঞ্জে প্রবেশ করেছিল। সে সোফায় বসা লোকটির পিস্তল তাক করা দেখতে পেয়েছে। সে মুহূর্তে পাগলের মত ছুটে গিয়ে সে লোকটির পিস্তলের সামনে দাঁড়াল। সংগে সংগেই গুলির শব্দ।
একই সময় সালমান শামিলের পিস্তলও অগ্নি উদগীরণ করেছে।
একই সংগে দু’টি দেহ লাউঞ্জের মেঝেয় গড়িয়ে পড়ল।
সোফার লোকটির পিস্তলের গুলিতে সিষ্টার মেরীর বুক ভেদ করেছে, আর সালমান শামিলের গুলি আহমদ মুসার পেছনের লোকটির মাথা গুড়িয়ে দিয়েছে।
আহমদ মুসা গুলির শব্দ শোনার সংগে সংগেই বসে পড়েছিল। বসে পড়েই তুলে নিয়েছিল তার পিস্তল।
সোফায় বসা লোকটি তখন উঠে দাঁড়িয়েছিল, সে পিস্তল ঘুরিয়ে নিচ্ছিল আহমদ মুসার দিকে।
কিন্তু হোয়াইট ওলফের লোকটি দ্বিতীয় গুলি করার সুযোগ আর পেলনা। আহমদ মুসা শুয়ে থেকেই গুলি করল। মাথা গুড়ো হয়ে গেল লোকটির। সোফার উপরই গড়িয়ে পড়ল তার দেহ।
এদিকে সালমান শামিল সিষ্টার মেরীকে গুলি খেয়ে পড়ে যেতে দেখেই পিস্তল ফেলে দিয়ে ছুটে এসেছিল সিষ্টার মেরীর কাছে।
সিষ্টার মেরীর বুকে গুলি লেগেছিল। সর্বাঙ্গ কাঁপছিল সিষ্টার মেরীর।
সালমান শামিল পাশে বসে সিষ্টার মেরীর মাথা হাতে তুলে নিল।
চোখ মেলল সিষ্টার মেরী। সালমান শামিলের দিকে চোখ পড়তেই বলল, ভাল আছ তুমি? তোমার কিছু হয়নি তো?
সিষ্টার মেরীর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সালমান শামিল রুদ্ধ কন্ঠে বলল, তুমি এ কি করলে মেরী?
-আমার খুব আনন্দ সালমান, জীবনের চেয়ে শতগুন ভাল লাগছে আমার এ মৃত্যু।
সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা এসে সালমান শামিলের পাশে বসেছিল।
সে সিষ্টার মেরীর মুখের উপর মুখ রেখে কেঁদে উঠল, এ কি হল মেরী?
এই সময় সিষ্টার মেরীর মা ছুটে এসে মেরীর বুকে লুটিয়ে পড়ল।
সিষ্টার মেরী তার দূর্বল হাত দিয়ে মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। দূর্বল হয়ে পড়েছে সিষ্টার মেরী। জীবনী শক্তি তার নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। দুর্বল কন্ঠে সে ডাকল, মা।
সিষ্টার মেরীর মা লেডি জোসেফাইন মাথা তুলে তাকাল মেয়ের দিকে।
সিষ্টার মেরী মুখ তুলে তাকাল সালমান শামিলের দিকে। বলল, মা এ তোমার ছেলে। তারপর সোফিয়া এ্যাঞ্জেলার দিকে চোখ তুলে বলল, এ তোমার মেয়ে মা। আমি এঁদের মাঝেই বেঁচে থাকব।
কথা শেষ করেই চোখ বন্ধ করে ঝিমিয়ে পড়ল। মুহূর্ত পরেই চোখ খুলে আহমদ মুসার দিকে তাকাল। আহমদ মুসা পাশেই পাথরের মত স্থির হয়ে বসেছিল। সিষ্টার মেরী তার দুর্বল দৃষ্টি জোর করে তার দিকে মেলে ধরে বলল, মুসা ভাই সাক্ষি থেকো আমি মুসলমান, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মা–দুর রাসূ–লু–ল্লা–হ।
চোখ দু’টি বন্ধ হয়ে গেল সিষ্টার মেরীর। যেন ঘুমিয়ে পড়ল সে।
সিষ্টার মেরীর মা মেরীর বুকের উপর আছড়ে পড়ে ডুকরে কেঁদে উঠল।
আহমদ মুসা উঠে দাড়াল। তার দু’চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়েছে দু’ফোটা অশ্রু।
দু’হাতে মুখ ঢেকে ফুঁফিয়ে কাঁদছে সোফিয়া এ্যাঞ্জেলা। অশ্রু সালমান শামিলের চোখে। যেন এ জগতে নেই সে।
পাশেই দাড়িয়েছিল হাসান সেনজিক। বিমুঢ়-বেদনায় বিধ্বস্ত তার চোখ-মুখ।
আহমদ মুসা হাসান সেনজিককে বলল, তুমি এখানে দাড়াও, আমি ওদের দেখি।
বলে আহমদ মুসা লাউঞ্জের দরজা দিয়ে ওদিকে চলে গেল।
দরজা পেরুতেই দেখল, চিফ সিকুরিটি অফিসার কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আসছে।
সেই প্রথম কথা বলল, সব জেনেছি আমি। এখন এয়ারপোর্ট থানায় আপনি অথবা আপনাদের অন্য কেউ ডাইরী করে আসুন। সাক্ষি হিসেবে আমাকে রাখবেন।
-অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। বলে আহমদ মুসা আবার লাউঞ্জে ফিরে এল।
ধীরে ধীরে আহমদ মুসা সালমান শামিলের কাধে হাত রেখে বলল, সালমান তুমি এস জরুরী কাজ। তোমাকে থানায় যেতে হবে। তারপর তাকে সব কথা বুঝিয়ে বলল।
চলে গেল সালমান শামিল। তার সাথে গেল চিফ সিকুরিটি অফিসার।
