• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
সোমবার, জুন 22, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

সাইমুম সিরিজ – আবুল আসাদ

আহমদ মুসারা এখন মাইকেল পিটারের বাড়ির সেই গেটের সামনেই আবার দাঁড়িয়ে।
আহমদ মুসা গেটে চাপ দিয়ে দেখল, গেট ভেতর থেকে বন্ধ।
দরজায় সেই প্রথমবারের মত করেই নক করল আহমদ মুসা।
পরপর তিনবার নক করল। না, কোন সাড়া নেই।
আহমদ মুসা পকেট থেকে লেসার কাটার বের করে তার বাঁটের লাল বোতামটা চেপে ধরে দরজার উপর থেকে নিচ পর্যন্ত একবার টেনে নিল। দরজার একটা পাল্লা খুলে গেল। ভেতরে ঢুকল তিনজন।
নীরব-নিস্তব্ধ বাড়ী।
প্রাচীরের দিকে যাবার আগে সামনের রুমটির দরজা খোলা দেখে সেদিকে এগুলো। আগেই দেখেছিল, ঘরটা ড্রইংরুম। ড্রইংরুম খোলা। আলো নেই, কেউ নেই।
গোটা বাড়িটাতেই কাউকে পাওয়া গেল না। সবগুলো দরজাই খোলা।
সালমান শামিল বলল, দেখছি মেরীদের মতই ঘটনা।
–আকৃতি এক রকম, কিন্তু প্রকৃতি এক নয়। বলল আহমদ মুসা।
–অর্থাৎ? বলল সালমান শামিল।
–অর্থাৎ মেরীদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু এরা গেছে স্বেচ্ছায়।
–ঠিক বলেছেন, তখন সুটকেস, ব্যাগ, কাপড়-চোপড় যা দেখেছিলাম, তার অনেক কিছুই নেই।
ঘর থেকে বেরিয়ে ওরা দুর্গের প্রাচীরের দিকে চলল।
বেশি খুঁজতে হল না।
প্রাচীরের কাছে যেতেই চোখে পড়ল, প্রাচীরের ভিত্তির দুই ফুট উপরে তিনফুট বর্গাকৃতির একটা দরজা। স্টিলের গরাদটা খোলা।
আহমদ মুসা দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে অন্ধকার। চোখে ইনফ্রা রেড দূরবীন লাগিয়ে দরজা দিয়ে প্রাচীরের ওপারে গেল আহমদ মুসা। ওপারে দাঁড়াবার মত একটা সোপান আছে। বেশ প্রশস্ত।
আহমদ মুসা দেখল, সোপানের পাশে পোঁতা একটি স্টিলের পিলারে নাইলনের একটা মোটা দড়ি বাঁধা। দড়িটা পাহাড়ী নদী ক্রস করে ওপারের দিকে চলে গেছে। বুঝল, ওপারেও আছে এমনি একটি পিলার।
আহমদ মুসা খুঁজতে লাগল এবার একটি রাবারের নৌকা। রাবারের নৌকা করেই ওরা দড়ি টেনে ওপারে পার হয়ে পালিয়েছে।
আহমদ মুসা ওপারের তীরে চোখ ফেলল। খুঁজতে হলো না। পানির কিনারা থেকে একটু উপরেই পাথরের উপর একটা নৌকা।
আহমদ মুসা তাকাল ওপারের পাহাড়ের দিকে। পাহাড়ের ওখানে অপেক্ষাকৃত নিচু। নিশ্চয় এই পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে ওপারে এক উপত্যকায় নামার নিরাপদ কোন পথ আছে।
আহমদ মুসা পুনরায় প্রাচীরের সেই দরজা দিয়ে চলে এল দুর্গের ভেতরে। সালমান শামিল এবং সোফিয়া উন্মুখ হয়েছিল। আহমদ মুসা আসতেই জিজ্ঞাসা করল, কি দেখলেন মুসা ভাই?
–সবই দেখলাম। দড়ি টেনে রাবারের নৌকা করে ওরা নদী পার হয়েছে।
–এই ভীষণ স্রোত ঠেলে? বলল সালমান শামিল।
–ওপার—এপার মোটা দড়ি টানা দিয়ে বাঁধা আছে। ঐ দড়ি ধরে থাকলে স্রোতে ভেসে যাবার ভয় নেই।
–ওপারের পাহাড় থেকে সমভূমিতে নামবার তাহলে কোন পথ আছে।
–অবশ্যই।
–না ওপারের পাহাড়ে কোন ঘাঁটি আছে আবার?
–না নেই। থাকলে ওরা দরজা এইভাবে খোলা রেখে যেত না এবং পার হবার ঐ ব্যবস্থাও ঐ ভাবে তারা রেখে দিত না।
–ঠিক বলেছেন মুসা ভাই।
কন্ট্রোল রুমের দিকে ওরা পা চালাল। আহমদ মুসা এবং সালমান শামিল পাশাপাশি হাঁটছিল। তাদের পেছনেই সোফিয়া।
আহমদ মুসা ধীর কণ্ঠে বলল, আমবার্ড দুর্গের কাজ শেষ। এখনি বেরুতে হবে আরেক অভিযানে।
–কোথায়?
–মেরী এবং তার মা, লেডি জোসেফাইনের সন্ধানে। আমার মনে হচ্ছে, সোফিয়ার যে বিচার হোয়াইট ওলফ করেছিল, মেরীর ক্ষেত্রেও সে একই বিচার অপেক্ষা করছে। জর্জ জ্যাকব এখন ক্ষ্যাপা কুকুরের চেয়েও ভয়াল। সুতরাং তাকে কোন সুযোগ দেয়া যাবে না।
–কিন্তু খুঁজবেন কোথায় ওদের মুসা ভাই?
–এ সমস্যাটার সমাধান এখনো হয়নি। তবে আমি অনুমান করেছি, তাদেরকে আর্মেনিয়ার অন্যতম পুরনো ও শ্রেষ্ঠ ধর্মকেন্দ্র এজমেয়াদজিন নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
–আপনার এ অনুমানের যুক্তি কি মুসা ভাই?
–মাইকেল পিটারের নোটবুকে একটা স্কেচম্যাপ পেয়েছি। স্কেচম্যাপটি এজমেয়াদজিনের রিপ সাইম গীর্জার পার্শ্ববর্তী একটি স্থাপনার। ম্যাপের বিবরণ দেখে আমার মনে হয়েছে, এজমেয়াদজিনে হোয়াইট ওলফের দ্বিতীয় হেডকোয়ার্টার নির্মিত হয়েছে। কিন্তু একটা মজার ব্যাপার হলো, হোয়াইট ওলফের নেটওয়ার্কের যে লগ পাওয়া গেছে তাতে এজমেয়াদজিনের নাম নেই। এ থেকে আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে, সেখানে হোয়াইট ওলফের একটা বিশেষ ঘাঁটি আছে যাকে সবার চোখ থেকে সযতনে গোপন রাখা হয়েছে। আমার এ অনুমান ঠিক নাও হতে পারে। কিন্তু আমাদের প্রথম অভিযান হবে সেখানেই।
–আপনার অনুমান সত্য হোক মুসা ভাই। কিন্তু নতুন অবস্থা, ওদের সব ঘাঁটির উপর আমাদের আক্রমণ থেকে জর্জ জ্যাকব নতুন চিন্তা করবে না তো?
–যে চিন্তাই করুক, যেখানেই যাক তাকে ইনশাআল্লাহ খুঁজে বের করবই।
–এজমেয়াদজিনে আমরা কখন যাচ্ছি মুসা ভাই?
–এই তো যাত্রা শুরু করেছি। কন্ট্রোল রুমে যাব। ডিনামাইট দিয়ে কন্ট্রোল রুম উড়িয়ে দেব, তারপর তোমাদের নিয়ে যাত্রা করব। ইয়েরেভেনে গিয়ে তুমি সোফিয়াকে নিয়ে যাবে সোফিয়াদের বাড়ি, আর উত্তরমুখী এজমেয়াদজিন হাইওয়ে ধরে আমরা চলব এজমেয়াদজিনে।
–মুসা ভাই আমি যেতে পারি না?
–পারবে না কেন? কিন্তু দু’টো কারণে তোমাকে রেখে যেতে চাই। তুমি পুরোপুরি সুস্থ হওনি, তোমার একটু বিশ্রাম প্রয়োজন। তাছাড়া সারারাত ধরে আমাদের ঘাঁটিগুলো কি কি কাজ করল, আরও কি করণীয় এসব ব্যাপারে তোমাকে একটু খোঁজ-খবর নিতে হবে। এটা অত্যন্ত জরুরি।
সালমান শামিল আর কিছু বলল না। ভাবল, আহমদ মুসার পরিকল্পনার উপর হাত দেয়া তার ঠিক হবে না। কিন্তু মনটা তার খচ খচ করতে লাগল। মেরী, লেডী জোসেফাইন কি ভাববে! আমার জন্যেই তাদের দুঃখ-দুর্দশা, অথচ আমি তাদের কাছ থেকে দূরে থাকছি! আর, মেরী কি ভাববে! কান্না চেপে টলতে টলতে মেরীর ছুটে পালানোর দৃশ্য সালমান শামিলের চোখে ভেসে উঠল।
কন্ট্রোল রুমে এসে পড়ল ওরা, উদগ্রীবভাবে অপেক্ষমান আলী আজিমভ, ওসমান এফেন্দীর সাথে সালাম বিনিময় করে ওরা ঢুকে পড়ল কন্ট্রোল রুমে।

৭

বেলা তখন আটটা।
লেডি জোসেফাইন অনেকক্ষণ বিছানা থেকে উঠে বসেছে। রাত ৪টায় ওরা এজমেয়াদজিনে এসেছে। তাদের দু’জনের জন্যে দিয়েছে এই ছোট্ট ঘর। এক খানা খাটিয়া। কোন রকমে দু’জন শোয়া যায়। ঘরে কোন আসবাবপত্র নেই। বদলাবার মত কাপড়ও নেই। তাদেরকে কিছুই নিতে দেয়নি জর্জ জ্যাকব। খালি হাতে বের হয়ে আসতে হয়েছে ঘর থেকে। লেডি জোসেফাইন জেলখানা দেখেনি। কিন্তু এ ঘরটাকে তার জেলখানাই মনে হচ্ছে। ঘুমাবার জন্যে একটু শুয়েছিল, কিন্তু ঘুম একটুও আসেনি। তার নিজের জন্যে কোন চিন্তা নেই, চিন্তা তার মেরীকে নিয়ে।
মেরী পাশেই শুয়েছিল। আপাদমস্তক কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে সে। একটুও নড়া চড়া নেই। ঘুমোচ্ছে। ছেলে-মানুষ তো, স্ংসারের ঘোরপ্যাঁচ এবং ভবিষ্যত চিন্তা কিছুই ওদের মাথায় আসেনি। ছোট বেলা থেকেই খুব সরল মেরী মেয়েটি। অন্তরটা কাগজের মত সাদা। কাউকেও রাগ করে দুটো কথা বলতে জানে না। কিন্তু অভিমান খুব। সে অভিমান কাউকে আঘাত করে না, নিজের কষ্টটা নিজের মনেই পুষে রাখে। আমার এই মেয়ের ভাগ্যেই এই ছিল! চোখ দু’টি ভারি হয়ে উঠল জোসেফাইনের।
লেডি জোসেফাইন ধীরে ধীরে মেরীর মুখ থেকে কম্বল সরিয়ে ফেলল। কম্বল সরিয়ে বিস্মিত হলো সে। দেখল, মেরীর দু’চোখ দিয়ে অবিরল ধারায় অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। বালিশ ভিজে গেছে। মেরী ঘুমোয়নি। চোখ বন্ধ করে আছে।
লেডি জোসেফাইনের বুক তোলপাড় করে উঠল বেদনায়। তারও চোখ থেকে অশ্রু নেমে এল।
মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, মা খুব কষ্ট হচ্ছে?
মেরী চোখ খুলে চোখ মুছে বলল, না মা।
–এমন করে কাঁদছিস যে?
–কিছু না মা, ভালো লাগছে না তাই। অনেকক্ষণ পর জবাব দিল মেরী।
–আমি তোর মা, আমার চেয়ে তোকে কে বুঝে।
একটু থেমে লেডি জোসেফাইনই আবার কিছু বলতে যাচ্ছিল, এমন সময় ঘরে প্রবেশ করল জর্জ জ্যাকব। তার হাতে রিভলভার, চোখ দু’টি লাল।
তাকে ঐভাবে দেখে অন্তরটা কেঁপে উঠল লেডি জোসেফাইনের। হোয়াইট ওলফের নৃশংসতার কথা সে জানে। ভয়ে তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
লেডি জোসেফাইনের দিকে তাকিয়ে ক্রুর হেসে বলল, ভয় পাবেন না, আমি গুলি করতে আসিনি। আমি কয়েকটা কথা জানতে এসেছি।
–কি কথা? বলল লেডি জোসেফাইন।
–আপনারা সালমান শামিলকে বন্দীখানা থেকে বের হতে সাহায্য করেছেন।
–না, এ কথা ঠিক নয়। সালমান শামিল বন্দী আছে-একথাই আমরা জানতাম না। আর সালমান শামিলকে সাহায্য করব কেন, তাকে তো আমরা চিনি না।
–মিথ্যা বলছেন আপনি। সালমান শামিল সোফিয়া এ্যাঞ্জেলারও বন্ধু, মেরীরও বন্ধু। মেরী সোফিয়াদের ওখানে যেত।
–সোফিয়া সেখানে গেছে দু’এক সময় কিন্তু সালমানের সাথে কোনদিনই দেখা হয়নি।
–আমি মেরীর মুখে এ প্রশ্নের উত্তর শুনতে চাই।
মেরী উঠে বসল। জর্জ জ্যাকবের দিকে না তাকিয়েই বলল, যেদিন সালমানকে অজ্ঞান অবস্থায় লেন থেকে আমরা তুলে নিয়ে যাই, তার আগে সালমানকে কোন দিন দেখিনি। আর শুনুন, আমরা মিথ্যা কথা বলি না।
–ষড়যন্ত্রকারীরা মিথ্যা কথা বলে না। বাঃ সুন্দর কথা।
বলে হো হো করে হেসে উঠল জর্জ জ্যাকব। বলল, সালমান শামিলকে বন্দীখানা থেকে উদ্ধার করে তাকে আমাদের মারার হাত থেকে বাঁচানোর পর আপনারাই ভেতর থেকে আহমদ মুসাকে খবর দিয়েছেন এবং কিভাবে ঢুকতে হবে তারও গোপন তথ্য তাকে জানিয়েছেন।
–মিথ্যা কথা জর্জ। ‘আহমদ মুসা’ না কি নাম বললে সে নাম এই প্রথম তোমার কাছ থেকে শুনলাম।
–আমি জানি, সোজাভাবে সত্য কথা আপনারা বলবেন না। জিজ্ঞেস করি, আপনার বাসা থেকে সালমানকে সরিয়ে দেবার কি কারণ ছিল, হোয়াইট ওলফের হাত থেকে তাকে বাঁচানো নয় কি? এরপরও বলবেন কোন ষড়যন্ত্র আপনাদের নেই?
–সবার উপর মানবতা বলে একটা জিনিস কি নেই? আমরা অসুস্থ সালমানকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম, তার কি পরিচয় সে হিসেবে নয়। সে একজন মানুষ এই হিসেবে।
–আপনার কাহিনী কেউ বিশ্বাস করবে না, বিশ্বাসযোগ্য নয়। আপনারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই এ ব্যাপারে আমাদের।
একটু থামল জর্জ জ্যাকব। তারপর আবার বলতে শুরু করল, আপনাদের বিচার হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা অপেক্ষা করছি ফাদার পলের। তাকেই বিচারের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি তিনি পারেন তার মঙ্গল। না হলে তাকেও মরতে হবে।
বলে রিভলভার পকেটে ফেলে হন হন করে বেরিয়ে গেল জর্জ জ্যাকব।
জর্জ জ্যাকব কি বলে গেল তা কারও কাছেই অস্পষ্ট নয়। জর্জ জ্যাকব বেরিয়ে যেতেই কেঁদে উঠল লেডি জোসেফাইন।
কিন্তু মেরীর চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। তার চোখে-মুখে একটা দৃঢ়তা। মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি কেঁদ না মা, কাঁদলে ওরা খুশিই হবে। মৃত্যু তো একদিন আসবেই। ভয় পাব কেন মৃত্যুকে? আমার একটুও ভয় লাগছে না।
ঘরে এ সময় প্রবেশ করল সভেতলানা, পিটারের স্ত্রী। মেরীদের ঘর থেকে একটা ব্লক ওপারে বৃহৎ বিলাসবহুল এক ফ্ল্যাটে আশ্রয় পেয়েছে।
সে ঘরে প্রবেশ করেই চারদিকে তাকিয়ে বলল, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না খালাম্মা। আপনাদের উপর এমন অভিযোগ এল কেমন করে?
–অপরাধ একটাই, আমরা আহত, অজ্ঞান একজন মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিলাম, চিকিৎসা ও শুশ্রুষা করে তাকে বাঁচিয়ে তুলেছিলাম।
–কাকে?
–সালমান শামিলকে। একদিন গভীর রাতে আমাদের লনে তাকে আহত ও অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। আমরা তাকে তুলে নিয়ে যাই। পরে তার মুখেই শুনেছিলাম তার নাম শামিল। কিন্তু সে ককেশাস ক্রিসেন্টের লোক তা জানতাম না। জর্জের কাছেই তা শুনলাম।
সভেতলানার মনে পড়ল গত রাতের কথা। যে তিনজন তাদের বাড়ি সার্চ করতে গিয়েছিল তাদের মধ্যে সালমানও ছিল। মনে পড়ল নেতা লোকটির (আহমদ মুসার) কথা। সেই থেকেই তার মনে এক অপার বিস্ময় সৃষ্টি হয়ে আছে। শত্রু আবার অত সুন্দর হয়! জানের দুশমন শত্রুর স্ত্রীকে কেউ বোন বলে ডাকে!
শত্রুকে হত্যা করার সাথে সাথে তার স্ত্রীকে হত্যা করা অথবা শত্রুর সম্পদের সাথে শত্রুর স্ত্রীকে দখল করাই তো নিয়ম। বিশেষ করে হোয়াইট ওলফ তো এটাই করছে, এর উত্তরে ককেশাস ক্রিসেন্ট এ কি আচরণ করল! শত্রুর কেউ ঐভাবে আদর করে কাছে টেনে নেয়!
সভেতলানা তার চিন্তায় ছেদ টেনে বলল, জর্জের এটা বাড়াবাড়ি খালাম্মা। পরাজয় তাকে পাগল করে দিয়েছে।
একটু থামল সভেতলানা, তারপর আবার শুরু করল, আমি সারারাত কেঁদেছি খালাম্মা। কিন্তু একটা বিস্ময়কর জিনিসের কথা আমি ভুলতে পারছি না, যে শত্রুরা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, তারাই আমার স্বামীর মৃত্যুর খবর আমাকে দিয়েছে। কিন্তু এই শত্রুদের দেখে আমি অবাক হয়েছি।
–কার কথা বলছ সভেতলানা?
–সালমান শামিলদের কথা বলছি। সালমান শামিল, সোফিয়া এবং আর একজন নেতামত গত রাতে আমার বাড়িতে গিয়েছিল। তারা পিটারের কাগজপত্র সার্চ করেছে।
–সালমান শামিল, সোফিয়া তোমার বাড়ি গিয়েছিল? তারা পিটারকে হত্যা করেছে?
–কে হত্যা করেছে বলতে পারবো না, তাদের সাথের নেতামত লোকটিই পিটারের মৃত্যুর খবর আমাকে দিয়েছে।
মেরী কথা বলে উঠল এ সময়। বলল, নেতামত ঐ লোকটির নাম আহমদ মুসা। মধ্য এশিয়া, ফিলিস্তিন বিপ্লবের নায়ক হিসেবে যার নাম শুনেছেন তিনিই এ আহমদ মুসা। ককেশাস ক্রিসেন্টকে নেতৃত্ব দেবার জন্যে আর্মেনিয়ায় এসেছেন। আসল ব্যাপার হলো, আহমদ মুসার নেতৃত্বে ককেশাস ক্রিসেন্টের লোকেরা গত রাতে আমবার্ড দুর্গে অভিযান চালিয়েছিল বন্দী সোফিয়া ও সালমান শামিলকে উদ্ধারের জন্যে। এ অভিযানেই মারা যান চাচা পিটারসহ হোয়াইট ওলফের আরো লোকেরা। অভিযান শেষে মুক্ত হবার পর সোফিয়া ও সালমান সার্চ করার কাজে সহায়তা করেছে।
–তুমি এ কথা জান কি করে মেরী? বিস্মিত চোখে প্রশ্ন করল সভেতলানা।
–আমি সালমানকে গীর্জায় লুকিয়ে রাখতে গিয়েছিলাম। আমরা যাওয়ার অল্পক্ষণ পরেই আহমদ মুসা ওখানে আসে সালমানকে উদ্ধার করার জন্যে।
–জানল কি করে?
–ওরা কন্ট্রোল রুম দখল করে নেয়। টেলিভিশন ক্যামেরার মাধ্যমেই ওরা জানতে পারে।
একটু থেমে মেরী বলল, আমি যা বলছিলাম। গীর্জায় এসে আহমদ মুসা যখন সালমানকে নিয়ে যায় তখনই তাদের কথোপকথনে আমি তাদের অভিযানের কথা জানতে পারি।
–তোকে ওরা তো কিছু বলেনি মেরী? বলল লেডী জোসেফাইন।
–কি বলবে মা, আহমদ মুসা আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে চেয়েছে, তোমাকে না বলে সালমানকে নিয়ে যেতে চায়নি। আমিই তো তাদের আসতে বাঁধা দিয়েছি কোন গন্ডগোল হয় এই ভয়ে।
–আমিও তো এই কথাই বলতে চাচ্ছিলাম খালাম্মা। এমন বিস্ময়কর শত্রু থাকতে পারে কোন দিন শুনিনি।
বলে একটু থামল সভেতলানা। তারপর কাঁদতে শুরু করলঃ জানেন খালাম্মা, পিটারের নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি জ্ঞান হারালাম। তারাই আমার জ্ঞান ফিরিয়ে আনল।
নেতা লোকটি মানে আহমদ মুসা জ্ঞান ফিরলে আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, আপনার দুঃখের সাথে আমরাও দুঃখবোধ করছি বোন, কিন্তু আপনি জানেন কি জন্যে কি হয়েছে। তারপর আমার বাড়ি সার্চ করার জন্যে আমার অনুমতি চেয়েছে। আমি যখন বলেছি, পিটার থাকলে এ হুকুম যেমন দিত না, আমিও তা দিতে পারিনা; উত্তরে বলেছে, আপনার মতকে আমি শ্রদ্ধা করি, কিন্তু সার্চ আমাদের করতেই হবে। সার্চ করে ফিরে আসার সময় বলেছে, আমার কোন ভয় নেই, সবদিক থেকেই আমি স্বাধীন ও নিরাপদ। মেয়েটিকেও আদর করেছে। অদ্ভুতভাবে জানিয়েও দিয়েছে, তার পিতা ফিরে না আসতে পারে যেমন হাজারো শিশুর পিতা ফিরে আসেনি। আমার মেয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যেতে যেতে সুন্দর এই স্বগতোক্তি করেছেঃ দুনিয়ার সব মানুষ যদি শিশুদের মতো সুন্দর, সরল-সহজ হতো! আমি প্রথমে ওদের দেখে ভয় পেয়েছিলাম, পিটার নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর আমার ও আমার মেয়ের পরিণতি ভেবে আঁতকে উঠেছিলাম। কিন্তু ব্যবহারে মনে হল, আমি আগের চেয়েও বেশি নিরুদ্বেগ। জর্জ চলে আসার জন্যে জেদ না ধরলে আমি আসতাম না। এমন সুন্দর শত্রুর কথা কোন দিন আমি শুনিনি।
–সত্যিকার মুসলমানদের আচরণ তো এমন। আপনি ক্রুসেডের কাহিনীতে গাজী সালাহউদ্দিনের অদ্ভুত সুন্দর ব্যবহারের কথা পড়েননি? বলল মেরী।
–ঠিক বলেছ মেরী, গাজী সালাহউদ্দিন শত্রু রিচার্ডকে নিরস্ত্র অবস্থায় আঘাত করেননি। নিজের ঘোড়া, তলোয়ার তাকে দিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর অসুস্থ রিচার্ড এর চিকিৎসা করেছিলেন নিজের হেকিম পাঠিয়ে। বলল সভেতলানা।
–খৃস্টান রাজ্য ছেড়ে খৃস্টান প্রজারা পার্শ্ববর্তী মুসলমান রাজ্যে আশ্রয় নেয়ার কথাও তো আমরা পড়েছি। তারপর দেখুন, খৃস্টান বাহিনী জেরুসালেম দখল করার পর সেখানকার ৭০ হাজার বাসিন্দাকে হত্যা করে। অথচ মুসলিম বাহিনী যখন জেরুসালেম দখল করল তখন একজন মানুষেরও রক্তপাত হয়নি ক্রুসেডের ঘোর অরাজকতার সময়েও। বলল মেরী।
–তোমাদের আলোচনা কোথায় যাচ্ছে জান? বলল লেডি জাসেফাইন।
–জানি, ভালোকে আমরা ভালো বলছি। বলল মেরী।
–এ ভালো বলার অর্থ কি জান? ইসলাম ভালো হয়ে যাচ্ছে তোমাদের কাছে। বলল লেডি জোসেফাইন।
–হতে পারে। মেরী বলল।
–তাহলে তোর অবস্থানটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে?
–মানুষ ভালোকেই তো গ্রহণ করবে।
–চুপ কর মেরী, ছেলে মানুষ তুই।
–ঠিক আছে খালাম্মা, ওটা ওর আবেগের কথা বলেছে। আমিও ওর সাথে একমত। গত রাতে শত্রুর যে চরিত্র দেখলাম, তার স্রষ্টা যদি ইসলাম হয় তাহলে সে ধর্ম অবশ্যই স্বাগত জানানোর যোগ্য। বলল সভেতলানা।
বলে সভেতলানা উঠে দাঁড়ালো। বলল, আসি খালাম্মা।
মেরীদের রুম থেকে একটা ব্লক পরেই সভেতলানার এপার্টমেন্ট। দু’টি শোবার ঘর, দু’টি বাথরুম, একটা রান্নাঘর ও একটা ড্রইংরুম নিয়ে এই এপার্টমেন্ট। সভেতলানার শোবার ঘরের পাশেই আরেকটি শোবার ঘর। সেখানে ঘুমোচ্ছে সভেতলানার মেয়ে। সভেতলানা এসে তার ঘরের ভেজানো দরজা ঠেলে ঘরে প্রবেশ করেই চমকে উঠলো। তার বিছানায় শুয়ে জর্জ জ্যাকব।
সভেতলানা ঘরে ঢুকতেই জর্জ জ্যাকব উঠে বসল। তার ঠোঁটে হাসি, চোখে চকচকে দৃষ্টি।
সে চোখের দিকে তাকিয়ে শিউরে উঠলো সভেতলানা। তবু সাহস করে বলল, আপনি এখানে কেন?
নির্লজ্জ হেসে জ্যাকব বলল, অনুমতি না নিয়ে তোমার বিছানায় শুয়েছি। অন্যায় হয়েছে। এবার অনুমতি দাও।
ঘৃণায় সর্বাঙ্গ রি রি করে উঠলো সভেতলানার। ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার জন্যে ঘুরে দাঁড়াল সভেতলানা।
সংগে সংগেই লাফ দিয়ে নামলো জর্জ জ্যাকব বিছানা থেকে। দরজার দিকে ছুটলো সভেতলানাকে ধরার জন্যে।
সভেতলানা ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটলো মেরীদের ঘরের দিকে। তার পেছনে ছুটলো জ্যাকব। সভেতলানা দৌঁড়ে জ্যাকবের সাথে পারবে কেন। উভয়ের দূরত্বটা তাড়াতাড়িই কমে এলো।
আহমদ মুসার জীপ এজমেয়াদজিন শহরের উপকণ্ঠে যখন পৌঁছল, তখন সকাল পৌনে আটটা।
মাইকেল পিটারের ডায়রী থেকে পাওয়া এজমেয়াদজিনে তৈরি হোয়াইট ওলফের ঘাঁটির স্কেচ চোখের সামনে মেলে ধরল। দেখল, ম্যাটেনাদারান রোডের উত্তর পার্শ্বে ঘাঁটিটি তৈরি হয়েছে। কিন্তু ঘাঁটির মুখ দক্ষিণমুখী অর্থাৎ রাস্তার দিকে নয়। ঘাঁটির সামনের দিকটা পশ্চিমে।
ম্যাটেনাদারান রোডের নাম বিশ্ববিখ্যাত ম‌্যাটেনাদারান লাইব্রেরীর নাম থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
ম্যাটেনাদারান লাইব্রেরী এবং রিপ সাইম গীর্জা ৭ম শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত। এজমেয়াদজিন শহরের পত্তনও তখনি। পাহাড়ের উঁচু এক উপত্যকায় শহরটি অবস্থিত।
আহমদ মুসার জীপ আবার ছুটে চললো। নগরীর ভেতরে প্রবেশ করেছে জীপ। ড্রাইভিং সিটে ওসমান এফেন্দী। তার পাশে আলী আজিমভ। পেছনের সিটে আহমদ মুসা।
ম্যাটেনাদারান রাস্তা খুঁজে পেতে কষ্ট হলো না। প্রায় সব রাস্তার মোড়ে ম্যাটেনাদারান লাইব্রেরীর দিক নির্দেশিকা আছে। আর্মেনিয়ায় আসা কোন পর্যটকই ম্যাটেনাদারান লাইব্রেরী না দেখে ঘরে ফেরে না।
ম্যাটেনাদারান রোডে তারা পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবেশ করলো। অতএব হোয়াইট ওলফের ঘাঁটি পড়বে বাম পাশে। আহমদ মুসা ওসমান এফেন্দীকে গাড়ি ধীরে চালাতে বলল।
আহমদ মুসা মনে মনে হিসাব করছিল, এজমেয়াদজিন আসলে সদ্য নির্মিত ঘাঁটি। এখানে প্রতিরোধের ভালো ব্যবস্থা থাকা স্বাভাবিক নয়। সুযোগ পেলেই তারা এখন এ ঘাঁটিটিকে সংহত করবে, শক্তিশালী করবে সন্দেহ নেই। কিন্তু সুযোগ তারা পায় নি এবং তারা এত দ্রুত আক্রান্ত হবে এমন ধারণা করা তাদের জন্যে স্বাভাবিক নয়। আমরা সোফিয়া ও সালমান শামিলকে মুক্ত করেই দু’একদিন ব্যস্ত থাকবো এ চিন্তা তারা করতে পারে।
ম্যাটেনাদারান রোডের মাঝামাঝি আসতেই প্রাচীর ঘেরা একটা বিশাল বাড়ির উপর তার চোখ আটকে গেল। স্কেচম্যাপের সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে বাড়িটি। এটাই তাহলে হোয়াইট ওলফের গোপন নতুন ঘাঁটি।
বাড়ির সামনে বাউন্ডারী ওয়ালের সাথে বিশাল গেট। ভেতরে গেটের সামনে বড় গেটরুম। গেটরুমটাও গেটের মতো উঁচু।
আর্মেনিয়ায় সকাল ৮টা মানে খুবই সকাল। রাস্তা প্রায় জনশূন্য। কদাচিত দু’একজন লোক চোখে পড়ে যারা দ্রুত হাঁটছে তাদের জরুরি কাজের তাড়ায়। অতি জরুরি কাজ না থাকলে এই সাত-সকালে কেউই ঘরের বাহির হয় না।
ঘাঁটির সীমানা পেরিয়ে অনেক দূর যাওয়ার পর গাড়ি আবার ঘুরলো। ঘাঁটি থেকে একটু আগে আহমদ মুসা নেমে গেল। বলল, আমি বাড়ির পেছন দিয়ে ঢুকবো। তোমরা ঠিক এখন থেকে পনের মিনিট পরে গেটে গিয়ে হাজির হবে।
গাড়ি চলে গেল।
আহমদ মুসা হেঁটে গিয়ে বাড়ির উত্তর দেয়ালের গোড়ায় গিয়ে দাঁড়ালো।
বাড়ি থেকে উত্তর দিকে গজ পঞ্চাশেক দূরে একটি গীর্জা। এদিকটি গীর্জার পেছন দিক।
আহমদ মুসা উত্তর প্রাচীরের পূর্বাংশে একটা জায়গা বেছে নিয়ে দাঁড়াল। প্রাচীরটি প্রায় ১৫ফিটের মতো উঁচু। আহমদ মুসা পকেট থেকে নাইলন কর্ড বের করে হুক লাগানো মাথা ছুঁড়লো প্রাচীরের মাথা লক্ষ্যে। অব্যর্থ লক্ষ্য। প্রাচীরের মাথার সাথে গেঁথে গেল হুক।
আহমদ মুসা দড়ি বেয়ে তর তর করে উঠে গেল প্রাচীরের মাথায়। কিন্তু মাথায় উঠেই তার মাথা ঘুরে গেল নিচের দিকে তাকিয়ে। নিচে প্রাচীর বরাবর গভীর খাদ। ছোট-খাট খালের মতই। কিন্তু শুকনো! মনে হয়, সময়ে এটা পানিতে পূর্ণ করে রাখা হবে। খাদের ওপার বরাবর অনুরূপ আরেকটা প্রাচীরের প্রতিবন্ধক।
আহমদ মুসা নিচে নামার চাইতে সামনের প্রাচীরে আরেকটা হুক লাগিয়ে দড়ির ব্রীজ তৈরি করে পার হওয়াই সহজ ও দ্রুততর হবে মনে করলো।
সংগে সংগে পিঠের ব্যাগ থেকে অপেক্ষাকৃত মোটা নাইলন কর্ড বের করে তার হুক ছুঁড়ে দিল ওপারের প্রাচীরের মাথায়। গেঁথে গেল হুক। তারপর নাইলন দড়ির মাথাটি এ প্রাচীরের হুকের সাথে বেঁধে ঝুলে পড়লো দড়িতে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ওপারের প্রাচীরের মাথায় উঠে বসলো আহমদ মুসা। তারপর নাইলন কর্ড গুছিয়ে নিয়ে ব্যাগে রেখে লাফিয়ে পড়ল নিচে মাটিতে।
লাফিয়ে পড়ে নিচে মাটির উপর চোখ পড়তেই চমকে উঠল আহমদ মুসা। বিদ্যুৎবাহী সূক্ষ্ম তামার তার নগ্নভাবে মুখ ব্যাদান করে আছে।
গায়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল আহমদ মুসার। পায়ে রাবার জুতা এবং হাতে রাবারের গ্লোভস না থাকলে কিংবা লাফ দিয়ে পড়ে গেলেই তার সব শেষ হয়ে যেত এতক্ষণে।
আহমদ মুসা একটু সরে গিয়ে দাঁড়াতেই আবার তার খেয়াল হলো, এই বিদ্যুৎবাহী তারের সাথে কোনো এলার্মের সংযোজন নেই তো!
আহমদ মুসা চঞ্চলভাবে চারদিকে তাকালো। দেখল, দক্ষিণ এবং পশ্চিমে সারিবদ্ধ বিল্ডিং। তবে সামনেই প্রাচীরঘেরা ছোট একটি একতলা বাড়ি। সে প্রাচীরের পাশেই দ্রাক্ষা লতার ছোট্ট একটা ঝোপ।
আহমদ মুসা দৌঁড় দিয়ে গিয়ে সেই দ্রাক্ষার ঝোপের আড়ালে লুকাল।
আহমদ মুসার অনুমান মিথ্যা হলো না। মিনিটখানেকের মধ্যেই বিল্ডিং এর সারির পেছন দিক দিয়ে তিনজন লোক স্টেনগান বাগিয়ে বেড়ালের মতো নিঃশব্দ পায়ে ছুটে এলো এবং তারা আহমদ মুসা যেখানে লাফ দিয়ে পড়েছিল, সেখানে ঝুঁকে পড়ে সম্ভবত মাটি পরীক্ষা করেই উঠে দাঁড়াল। চঞ্চল ও সন্ধানী চোখ তাদের চারদিকে ঘুরতে লাগল।
আহমদ মুসা বিস্মিত হলো, যেখানে সে লাফ দিয়ে পড়েছিল ঠিক সেখানে এসে তারা ঝুঁকে পড়ল কেন, জায়গাটা তারা চিহ্নিত করল কেমন করে? ওদের সিগন্যালিং সিস্টেম কি কম্পিউটারাইজড!
লোক তিনজন কয়েক মুহূর্ত এদিক-ওদিক দেখার পর ছুটে এল দ্রাক্ষার সেই ঝোপের দিকে।
আহমদ মুসা তৈরি ছিল। সাইলেন্সার লাগানো এম-১০ এর মুখ সে তুলে ধরল লোক তিনটির দিকে। তর্জনী দিয়ে চাপ দিল ট্রিগারে। হালকা একটা শিষ দিয়ে ছুটে গেল বুলেটের ঝাঁক। দ্রাক্ষার ঝোপ থেকে গজতিনেক দূরে তিনজনই মুখ থুবড়ে পড়ে গেল।
আহমদ মুসা এম-১০ এর নল নামাতে যাচ্ছে, এমন সময় দক্ষিণ থেকে আরও তিনজন ছুটে এল। ওরা তিনটি লাশের দিকে তাকিয়ে মুহূর্তের জন্যে থমকে দাঁড়াল।
আহমদ মুসা ওদের আর সুযোগ দিল না।
তার এম-১০ এর মাথা পুনরায় উঁচু হল। বেরিয়ে গেল নিঃশব্দে একরাশ গুলি। ওরা তিনজন যেখানে দাঁড়িয়েছিল সেখানেই পড়ে গেল।
আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। উঠে দাঁড়িয়ে একটু উৎকর্ণ হল। কোত্থেকে মাঝে মাঝে যেন পুরুষ কণ্ঠে একটা আল্লাহ শব্দ ভেসে আসছে। কিছুক্ষণ উৎকর্ণ হয়ে থেকে বুঝল, শব্দটি আসছে প্রাচীর ঘেরা একতলা বাড়িটা থেকে।
বাড়িটা মনে হয় হোয়াইট ওলফের একটা বন্দীখানা হবে।
কিন্তু এদিকে এখন নজর দেয়ার সময় নেই। আগে ঘাঁটির প্রতিরোধকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে।
আহমদ মুসা ছুটতে যাচ্ছিল প্রাচীর ও বিল্ডিং এর সারির মাঝখান দিয়ে পশ্চিম দিকে গেট লক্ষ্য করে। এমন সময় নারী কণ্ঠের একটা চিৎকার ভেসে এল, বাঁচাও, বাঁচাও—-।
আহমদ মুসা থমকে দাঁড়াল। তারপর শব্দ লক্ষ্য করে ঘুরে সেদিকে ছুটল। কিছুদূর এগিয়ে দুই ফ্ল্যাটের মাঝখান দিয়ে ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। দেখল, একজন পুরুষ একটি মেয়েকে করিডোর দিয়ে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে আসছে। মেয়েটিকে চিনতে পারল আহমদ মুসা, পিটারের স্ত্রী।
আহমদ মুসা থেকে ওরা পাঁচ-ছয় গজ দূরে। পুরুষটিকে লক্ষ্য করে আহমদ মুসা ধীর, কিন্তু কঠোর কণ্ঠে নির্দেশ দিল, ছেড়ে দাও মেয়েটিকে।
লোকটি মেয়েটিকে ধরে রেখেই আহমদ মুসার দিকে মুখ ফিরাল। বিস্ময় তার চোখে-মুখে। পরক্ষণেই মেয়েটিকে ছেড়ে দিয়ে চোখের পলকে লোকটি পকেট থেকে রিভলভার বের করল। মেয়েটি ছুটে সরে গেল।
আহমদ মুসার এম-১০ মুখ উঁচু করেই ছিল। যখন আহমদ মুসা দেখল, বেপরোয়া লোকটি গুলি করবেই, তখন আহমদ মুসা তার ট্রিগারে চাপ না দিয়ে পারল না।
লোকটি গুলিবিদ্ধ ঝাঁঝরা দেহ নিয়ে লুটিয়ে পড়ল করিডোরে।
লোকটি গুলিবিদ্ধ হবার আগেই সম্ভবত তার রিভলভারের ট্রিগার টিপেছিল। কিন্তু রিভলভারের নলটি তখনও আহমদ মুসা পর্যন্ত উঁচু হতে পারেনি। তার রিভলবারের গুলি গিয়ে বিদ্ধ করল করিডোরের মেঝেকে।
লোকটি যে ফ্ল্যাটের করিডোরে নিহত হলো, তার দক্ষিণ পাশের ছোট ফ্ল্যাটটিই মেরীদের। ভীত-সন্ত্রস্ত মেরীরা দরজায় দাঁড়িয়েছিল। ওখানেই গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁপছিল মাইকেল পিটারের স্ত্রী সভেতলানা।
গুলি করেই আহমদ মুসা ওদিকে তাকাল। মেরীকে দেখে তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। দ্রুত এগিয়ে গেল তাদের দিকে।
–মেরী, এই যে লোকটি মারা গেল, তাকে চেন? দ্রুত কণ্ঠে বলল আহমদ মুসা।
–চিনি, জর্জ জ্যাকব। উজ্জ্বল চোখে বলল মেরী।
–জর্জ জ্যাকব?
বলেই আহমদ মুসা জর্জ জ্যাকবের লাশের দিকে একবার তাকাল।
তারপর মুখ ফিরিয়েই বলল, মেরী তোমরা ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে থাক, আমি না ফেরা পর্যন্ত।
বলে আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়াল। ঘুরে দাঁড়িয়েই দেখল, সামনের পূর্ব-পশ্চিম লম্বা বিল্ডিং-এর করিডোর দিয়ে চারজন লোক ছুটে আসছে স্টেনগান উঁচিয়ে।
আহমদ মুসা চিৎকার করে মেরীদের আবার সরে যেতে বলেই শুয়ে পড়ল মাটিতে। তারপর দ্রুত গড়িয়ে একটি পিলারের আড়ালে চলে গেল এবং সংগে সংগেই শুয়ে থেকেই এম-১০ এর ট্রিগার চেপে ধরল তাদের লক্ষ্য করে।
ছুটে আসা লোকদের স্টেনগানের প্রথম এক ঝাঁক গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আহমদ মুসা শুয়ে পড়ায় গুলির ঝাঁক তার মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। কিন্তু দ্বিতীয়বার আহমদ মুসাকে টার্গেট করার আগেই আহমদ মুসার এম-১০ এর বৃষ্টির মত গুলির ঝাঁক তাদেরকে ছেঁকে ধরল। কিন্তু তাদের অব্যাহত এলোপাথাড়ি গুলির একটি আহমদ মুসার বাম কাঁধের নিচে বাহুর এক খাবলা গোশত তুলে নিয়ে গেল।
আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। দেখল, স্টেনগানের গুলি মেরীরা যে ঘরে ঢুকেছে তার দরজা, দেয়াল ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছে। আহমদ মুসা আরও কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়াল। না, কোন দিক থেকে কেউ আসছে না। আহমদ মুসা ঘড়ির দিকে তাকাল বেলা আটটা পনের মিনিট।
আহমদ মুসা পকেট থেকে মিনি ওয়াকি টকি বের করে বলল, আলী আজিমভ, তোমরা গেটে? আচ্ছা শোন। এদিকে ওদের এগার জন বিদায় হয়েছে, আমি গেটের দিকে আসছি।
মেরী ও সভেতলানা আস্তে আস্তে দরজা খুলে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিল। তারা দেখল, আহমদ মুসার বামবাহুর সোয়েটার রক্তে ভিজে গেছে। হাত দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
আহমদ মুসা ওয়াকি টকি পকেটে রেখে চলতে উদ্যত হল। এই সময় মেরী ও সভেতলানা সামনে এসে দাঁড়াল। বলল, কি সর্বনাশ, আপনার গুলি লেগেছে তো!
আহমদ মুসা থমকে দাঁড়িয়ে একটু হেসে বাম বাহুর দিকে তাকিয়ে ডান হাত দিয়ে বাম বাহুটা চেপে ধরে বলল, এখন দাঁড়াবার সময় নেই মেরী, আসছি। তোমরা ঘরে দরজা বন্ধ করে থাক। বলে আহমদ মুসা দ্রুত পা বাড়াল সামনে।
পেছনে তার দিকে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকল মেরী ও সভেতলানা। সভেতলানা স্বগতঃ কণ্ঠে বলল, আশ্চর্য মানুষ, গত রাতে আমার দেখা আহমদ মুসা এবং আজকের রণাঙ্গনের আহমদ মুসার মধ্যে কত পার্থক্য! সময়ে মোমের মত নরম, আবার বজ্রের মত কঠোর।
গেট পর্যন্ত আহমদ মুসাকে আর কোন বাঁধার মুখোমুখি হতে হলো না। গেটে যাওয়ার আগে আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখল, গেটরুমের এদিকের দরজার দু’জন লোক স্টেনগানের ট্রিগারে হাত রেখে অস্থিরভাবে পায়চারি করছে। মাঝে মাঝে ওয়াকি টকিতে অস্থিরভাবে কাকে যেন ডাকছে। ভাল করে শুনে বুঝল, জর্জ জ্যাকবকে কল করছে। থামল আহমদ মুসা। বেচারারা জানে না, জর্জ জ্যাকব আর এ আহবানে সাড়া দেবার জন্যে দুনিয়াতে নেই।
আহমদ মুসা এম-১০ এর স্থির লক্ষ্য তাদের দিকে তুলে ধরে আড়াল থেকে বেরিয়ে এল।
আহমদ মুসাকে দেখেই প্রহরী দু’জন বিদ্যুৎ বেগে তাদের স্টেনগান উপরে তুলল। তাদের চোখে চমকে উঠা বা ভয়ের লেশমাত্র নেই।
কিন্তু আহমদ মুসার লক্ষ্য আগে থেকেই স্থির ছিল। তারা তাদের স্টেনগান যখন উপরে তুলছিল, আহমদ মুসার এম-১০ থেকে তখন গুলির ঝাঁক বেরিয়ে গেল। তারা ট্রিগার চাপার আর সময় পেল না, লুটিয়ে পড়ল মাটিতে।
আহমদ মুসা লোক দু’টির দিকে সপ্রশংস দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল। অন্যায়ের জন্যে এত আন্তরিকভাবে, এমন নির্ভীকভাবে জীবন দিতে আর কাউকেই সে দেখেনি। সার্থক হোয়াইট ওলফের ট্রেনিং এবং মোটিভেশন।
আহমদ মুসা গেটরুমের ভেতরে গিয়ে সুইচ টিপে গেট খুলে দিল। গেটে দাঁড়িয়ে ছিল আলী আজিমভ ও ওসমান এফেন্দী। তারা ভেতরে ঢুকল।
আবার গেট বন্ধ হয়ে গেল।
আলী আজিমভ ও ওসমান এফেন্দী আহমদ মুসার বাম বাহুর দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠল।
মুসা ভাই আপনি আহত? দু’জনের স্বর একসংগেই কঁকিয়ে উঠল।
‘ও তেমন কিছু নয়, এস তোমরা ভেতরে’–বলে আহমদ মুসা ভেতরে হাঁটা দিল।
তার পেছনে পেছনে আলী আজিমভ ও ওসমান এফেন্দী। হাঁটতে হাঁটতে আহমদ মুসার মনে পড়ল বন্দীখানার সেই বন্দীর কথা যে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ বলে বিলাপ করে চলেছে।
তার কথা মনে হতেই আহমদ মুসা তার হাঁটা দ্রুততর করে দিল।

 ১০. বলকানের কান্না

আহমদ মুসা, আলি আজিমভ ও ওসমান এফেন্দী মেরীদের ঘরের সামনে আসতেই মেরী, মেরীর মা এবং সভেৎলানা দরজা খুলে বেরিয়ে এল।
ওদের চোখে-মুখে আনন্দ।
আহমদ মুসা মেরীদের দিকে তাকিয়ে বলল, হোয়াইট ওলফের কেউ আর এ ঘাটিতে বেঁচে নেই। এখন নিরাপদ তোমরা। তোমরা আর একটু অপেক্ষা কর এখানে। আলি আজিমভ ও ওসমান এফেন্দী ঘাটিটা একবার সার্চ করে আসুক। আমার বন্দীখানায় একটু কাজ আছে।
বলে আহমদ মুসা পা তুলল যাবার জন্যে।
সভেৎলানা আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে বলল, একটু দাঁড়ান জনাব, ফাষ্ট এইডের ব্যাগ একটা পেয়েছি। আপনার আহত স্থানটা বেধে দেবে, এখনও রক্ত ঝরছে ওখান থেকে।
সভেৎলানা ফাষ্ট এইডের ব্যাগটি তুলে দিল আলি আজিমভের হাতে।
আলি আজিমভ সভেৎলানার হাত থেকে ব্যাগটি নিয়ে তাকে শুকরিয়া জানাল। তারপর আহমদ মুসাকে টেনে পাশের বিল্ডিং এর আড়ালে নিয়ে গেল। খুলে ফেলল তার সোয়েটার, জামা। দেড় ইঞ্চি পরিমাণ গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে কাঁধের নিচে বাম বাহুর সামনের উপর।
ব্যান্ডেজ হয়ে গেলে আহমদ মুসা ছুটল সেই দেয়াল ঘেরা একতলা বন্দীখানার দিকে।
বন্দীখানার চারিদিক দিয়ে দেওয়াল। উঁচু দেয়ালের উপর কাটাতারের বেড়া। বন্দীখানায় ঢোকার উঁচু গেট। ইস্পাতের দরজা।
আহমদ মুসা দরজার সামনে দাড়িয়ে প্রথমে পরীক্ষা করল দরজা বিদ্যূতায়িত কিনা? বিদ্যূতায়িত নয় নিশ্চিত হবার পর দরজা খোলার চেষ্টা করল। বুঝল দরজা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার অধীন। কন্ট্রোল রুম থেকেই দরজা খোলা-বন্ধ করা হয়। কিন্তু কন্ট্রোল রুমে যাবার এখন সময় নেই আহমদ মুসার। সে পকেট থেকে লেসার কাটার বের করল। কাটারের লাল সুইচটি চেপে তা দরজার চারদিকে একবার ঘুরিয়ে নিল। ইস্পাতের ভারি পাল্লাটি পড়ে গেল সশব্দে।
ভেতরে প্রবেশ করল আহমদ মুসা। তিন দিকে ঘুরানো একতলা বিল্ডিং।
উত্তরদিকের একটা কক্ষ থেকে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ শব্দ শুনতে পেয়েছিল আহমদ মুসা।
আহমদ মুসা এগিয়ে গেল উত্তর দিকের ঘর গুলোর দিকে। সবগুলো ঘরের দরজা বন্ধ, মাত্র একটা ঘরের দরজা দেখতে পেল আধ-খোলা অবস্থায়। সে দরজার দিকে এগুলো আহমদ মুসা।
দরজা ঠেলে ধীরে ধীরে ঘরে প্রবেশ করল সে।
ছোট্ট ঘর। কোন আসবাব পত্র নেই। ঘরের এককোণে একটা প্লাষ্টিক বেদির উপর বড় ধরনের একটা পানির ফ্লাক্স। আর ঘরের এক পাশে ষ্টিলের খাটিয়া।
ঘরে ঢোকার পরেই খাটিয়ার উপর নজর পড়ল আহমদ মুসার। একজন যুবক কম্বল মুড়ি দিয়ে পড়ে আছে খাটিয়ার উপর।
আহমদ মুসা কাছে এগিয়ে গেল।
যুবকটির গলা পর্যন্ত কম্বলে ঢাকা। চোখ বন্ধ তার। ঘুমিয়ে পড়েছে। একেবারে তরুণ যুবক। সাদা ইউরোপীয় চেহারা। কিন্তু ঘন কালো কোকড়ানো চুল দেখতে এশিয়ানদের মত। গভীর কালো ভ্রু। মুখে প্রচন্ড ক্লান্তির ছাপ। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে উঠেছে তার মুখের আকর্ষণীয় আভিজাত্য।
দেখেই আহমদ মুসা বুঝল, দেহে কিছু তুর্কি বৈশিষ্ট থাকলেও লোকটা ইউরোপীয়। আগে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ শব্দ শুনেছে, এখন তার কপালে সিজদার চিহ্ন দেকে বুঝল লোকটা মুসলমান।
আহমদ মুসা কিছুটা বিস্মিতই হলো। বিশ-বাইশ বছরের ইউরোপীয় মুসলিম যুবক আর্মেনীয় হোয়াইট ওলফের হাতে কেন?
আহমদ মুসা আরও কাছে এগিয়ে গেল।
যুবকটির সরল-নিষ্পাপ মুখচ্ছবি আহমদ মুসার মনে মায়ার সৃষ্টি করল।
আহমদ মুসা আস্তে আস্তে হাত রাখল তার মাথায়। কপালে হাত ঠেকতেই চমকে উঠল আহমদ মুসা’- কপাল ভীষণ গরম, যুবকটির গায়ে জ্বর। মাথায় হাত রাখতেই যুবকটি চমকে উঠে চোখ মেলল।
যুবকটির চোখ থেকে চমকে ওঠা ভাব কেটে যেতেই তাতে বিস্ময় ফুটে উঠল।
-আসসালামু আলাইকুম। আহমদ মুসা সালাম দিল যুবকটিকে।
-ওয়া আলায়কুম। অস্ফুটে ঠোট নেড়ে বলল যুবকটি।
যুবকটির চোখে তখনও বিস্ময়ের ঘোর।
-তোমাকে যারা আটকে রেখেছিল, তারা এখন কেউ নেই, তাদের পতন ঘটেছে। আমরা তোমার শুভাকাঙ্খী।
কথাটা শুনে যুবকটির চোখে একটা পলক পড়ল মাত্র। ঠোটে শুষ্ক হাসির একটা ক্ষীণ রেখা ফুটে উঠতেও দেখা গেল।
আহমদ মুসা বিস্মিত হলেন। যে সংবাদে যুবকটির আনন্দে উজ্জ্বল হবার কথা ছিল, তাকে এমন নির্লিপ্তভাবে যুবকটি গ্রহণ করল কেন? এমনটি তো সাধারণত হয় না!
কি কথা বলছ না যে, খুশী হওনি? বলল আহমদ মুসা।
যুবকটির ঠোটে এবার ম্লান হাসি ফুটে উঠল। বলল জি খুশী হয়েছি। শুকরিয়া। পরিষ্কার ইংরেজিতে বলল যুবকটি। বলে যুবকটি উঠে বসল।
গা থকে কম্বল পড়ে গেল। দেখা গেল দুই হাত শিকল দিয়ে বাধা। এক ফুট লম্বা শিকল।
আহমদ মুসা পকেট থেকে লেসার কাটার বের করে লেসার বীম দিয়ে শিকলের মাঝখানটা কেটে দিল।
দু’’হাতে দু’’প্রান্তের অবশিষ্ট অংশ ঝুলতে লাগল।
আহমদ মুসা সেদিকে তাকিয়ে বলল, ওগুলো পরে কেটে ফেলা যাবে।
‘’আরেকটি শিকল আছে’’ বলে যুবকটি পা বের করল। দেখা গেল আগের মত করেই ১ ফুট লম্বা শিকল দিয়ে পা’’দুটি বাধা। যা দিয়ে এক পা দু’পা করে হাটা যায় মাত্র।
আহমদ মুসা লেসার কাটারের লেসার বীম দিয়ে পায়ের শিকলটিও ঐভাবে কেটে দিল।
যুবকটি বিস্ময় বিষ্ফারিত চোখে দেখছিল লেসার বীমের অলৌকিক কাজ। বলল, লেসার পিস্তল, লেসার কাটারের কথা শুনেছিলাম। আজ দেখলাম।
যুবকটির চোখে এই প্রথমবারের মত একটা ঔজ্জল্য দেখা গেল। আহমদ মুসা খাটিয়ায় যুবকটির পাশে বসল। বলল, তুমি কে ভাই?
-লোকে আমাকে ‘পল’ বলে জানে।
-‘পল’ কেন?
-বাইরে সবার কাছে আমি খৃষ্টান নামে এবং খৃষ্টান বলেই পরিচিত।
-কিন্তু তোমার নাম?
-হাসান সেনজিক।
-কিন্তু তুমি কে? হোয়াইট ওলফের হাতে তুমি বন্দী কেন?
প্রশ্নটির তৎক্ষণাৎ কোন উত্তর দিলনা হাসান সেনজিক। উদাস চোখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আহমদ মুসার দিকে।
আহমদ মুসা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিল যুবকটিকে। ইউরোপীয় চেহারা। দেখতে স্লাভদের মত। বুলগেরিয়া, যুগোশ্লোভিয়ার মত কোন বলকান দেশের সে মানুষ হবে।
এক সময় যুবকটি ধীরে ধীরে চোখ নামিয়ে নিয়ে বলল, ‘’আমি এক হতভাগা’’। কথার সাথে সাথে মুখটা তার আরও মলিন হয়ে উঠল।
একটু থেমে যুবকটি আবার বলতে শুরু করল, আমার বাড়ি আছে, দেশ আছে, কিন্তু আমি যাযাবর। বলা যায়, হোয়াইট ওলফের হাতে আমি পণবন্দী। এরা আমাকে বন্দী করে রেখেছে টাকার বিনিময়ে বলকানের ‘’মিলেশ বাহিনী’র’ হাতে তুলে দেবার জন্যে।
-তোমার অপরাধ?
-অপরাধ আমি সার্ভিয়া-রাজ ষ্টিফেনের বংশধর, দ্বিতীয় অপরাধ আমি মুসলমান।
-সার্ভিয়ার রাজা লাজারাসের পুত্র রাজা ষ্টিফেন?
-মুসলমান হওয়া অপরাধ বুঝলাম,কিন্তু ষ্টিফেনের বংশধর হওয়া অপরাধ হলো কেন?
-ষ্টিফেন যেহেতু অপরাধী,তার বংশধরাও অপরাধী।
-ষ্টিফেনের কোনটাকে তারা এত বড় অপরাধ ধরে?
সবটাকেই -সার্ভিয়া-রাজষ্টিফেন তুরস্কের সুলতান বায়েজিদের সাথে মৈত্রী স্থাপন করেছিলেন,তার বোন লেডী ডেসপিনাকে সুলতানের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন,সমগ্র ইউরোপ যখন সুলতান বায়েজিদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষনা করেছিলো, খৃষ্টান হওয়া সত্বেও ষ্টিফেন সে ‘ক্রুসেডে যোগ দেননি’,লেডী ডেসপিনার প্রভাব ও চেষ্টায় শুধু ষ্টিফেন পরিবার নয়,সার্ভিয়া,বসনিয়া, কসোভো,আলবেনিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে ইসলাম আসন গেড়ে বসে।
সুলতান বায়েজিদ তুরস্কের খলিফা সুলতান মুরাদের ছেলে। সুলতান মুরাদ ১৩৮৯ খৃষ্টাব্দে কসভোর যুদ্ধে মধ্য ও পুর্ব ইউরোপের মিলিত শক্তিকে পরাভূত ও পর্যুদস্ত করলে সার্ভিয়ার রাজা ষ্টিফেনের মত আনেকেই তুর্কি সুলতানের আনুগত্য স্বীকার করে এবং মিত্র হয়। ষ্টিফেন ছাড়া সকলেই বিশ্বাস ঘাতকতা করে। ষ্টিফেন যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন শত প্রতিকুলতাও সমগ্র খৃষ্টান ইউরোপের ক্রোধ বহ্নির শিকার হওয়া সত্বেও সুলতানকে দেয়া ওয়াদার প্রতি তিনি বিশ্বস্ত থেকেছেন। ১৩৯৪ খৃষ্টাব্দে পোপ নবম বেনিফেসের নির্দেশে তুর্কি খিলাফাতের বিরুদ্ধে যে ক্রুসেড ঘোষিত হয়, ষ্টিফেন তাতে যোগদান না করায় ইউরোপের খৃষ্টান মিলিত শক্তি লুন্ঠন ও হত্যার মাধ্যমে ষ্টিফেনের রাজ্য উৎসন্ন করে ছাড়ে।
-শত শত বছর পার হলেও ষ্টিফেনের সেই ‘পাপ’ এখনো মোচন হয়নি? বলল আহমদ মুসা।
-না হয়নি। তবে হিংসাত্নক এ বিষয়টা ১৯৩০ সাল থেকে নতুন রূপ নিয়েছে। এ সময় সার্ভিয়াকে কেন্দ্র করে বলকান অঞ্চলে ‘মিলেশ বাহিনি’গঠিত হয়। তারা-‘ফাইনাল সলিউশন’ অর্থাৎ ‘নির্মূল অভিযান’পরিকল্পনা গ্রহন করে। হত্যা উচ্ছেদের মাধ্যমে বলকান অঞ্চল থেকে মুসলমানদের উচ্ছেদ এর লক্ষ্য। আর এরই একটা অংশ ষ্টিফেন পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য ষ্টিফেন- পরিবারের পুরুষ সদস্যদের তারা হত্যা করে আসছে। বংশের গুরুত্বপূর্ন পুরুষ শিশুরা তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। ‘মিলেশ বাহিনি’এ পর্যন্ত-ষ্টিফেন পরিবারের বিরাশি জন পুরুষ সদস্যকে হত্যা করেছে। বিশৃঙ্খল-বিপর্যস্ত ষ্টিফেন পরিবার আজ চোখের জলে ভাসছে,আতংক আর আহাজারিতে নিষ্পেষিত হচ্ছে।
থামল হাসান সেনজিক।
আহমদ মুসা গভীর মনোযোগের সাথে হাসান সেনজিকের কথা শুনছিল। তার চোখ দু’টি হাসান সেনজিকের মুখের উপর নিবন্ধ।
-ষ্টিফেন পরিবারে তোমার অবস্থান কোথায় হাসান? প্রশ্ন করল আহমদ মুসা।
-ষ্টিফেনের বড় ছেলের ছেলে মুহাম্মাদের সাথে লেডি ডেসপিনার নাতনির বিয়ে হয়। তাঁরা আমার উত্তম পুরুষ। এই বংশ ধারার পুরুষ,শিশু ও যুবকের মধ্যে আমিই একমাত্র জীবিত আছি। বংশের অন্যধারা গুলোরও অবস্থা এই রকম।
-তুমি এতদিন বাঁচলে কেমন করে?
ম্লান হাসল হাসান সেনজিক। বলল বাঁচার মত বাঁচা নয়। প্রান ভয়ে দেশ ছাড়া। যুগোশস্নাভিয়ার রাজধানী এবং আমার পুর্ব-পুরুষের রাজধানী শহর বেলগ্রেডে আমার জন্ম। জন্মের পরদিনই মা আমাকে বাঁচানোর জন্য আমাকে নিয়ে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়া চলে যান আমার এক খালার বাড়ীতে। খালার বাড়ীতে থেকেই আমি কৈশোরে পৌছলাম। কিন্তু মিলেশ বাহিনীর চোখ অবশেষে এড়ানো গেলোনা। তারা আঁচ করতে পেরেছিল,মরিয়া হয়ে খুঁজছিল তারা আমাকে। আমার দাদার আব্বা ডঃ মুহাম্মাদ ছিলেন বলকান মুসলমানদের বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতা। মুসলমানদের আজাদী আন্দোলন ‘যুগোশস্নাভেনস্কামুসলিমানাস্কা অর্গানাইজেসিয়া’র তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা। এই কারনে মিলেশ বাহিনী আমাদের পরিবারের উপর আরো বেশি ক্ষ্যাপা। তারা আমার দাদাকে মেরেছে,আব্বাও সবশেষে তাদের হাত থেকে বাঁচতে পারেননি। আমাকেও তারা এখন হন্যে হয়ে খুঁজছে। তারা যখন সোফিয়াতে আমার সন্ধান পেল,সোফিয়া থেকেও পালালাম। বুলগেরিয়া থেকে গেলাম স্পেনে। সেখানে আমারএক দুরসম্পর্কীয় আত্নীয় থাকতেন। লেখাপড়া আমোরকায় করেছি,সেখান থেকে ফিরে স্পেনেই থাকতাম।
থামল হাসান সেনজিক।
-তারপর কেমন করে তুমি হোয়াইট ওলফের হাতে পড়লে? প্রশ্ন করল আহমদ মুসা।
সংগে সংগে কোন উত্তর দিল না হাসান সেনজিক। সে মুখ নামিয়ে নিল। মুখটা তার আরও মলিন হয়ে উঠল। চোখের কোণ দু’টি তার ভিজে উঠল।
এই সময় আলি আজিমভ,ওসমান এফেন্দী,সিষ্টার মেরী,মেরীর মা লেডী জোসেফাইন এবং সভেৎলানা এসে দরজার সামনে দাঁড়াল। হাসান সেনজিক পশ্চিম মূখী হয়ে বসে ছিলো,সে তাদের দেখতে পেল না।
আহমদ মুসা সেদিকে একবার তাকিয়ে মনোযোগ দিলো হাসান সেনজিকের দিকে।
হাসান সেনজিক মুখ তুলল। বলল,পনের বছর হলো মাকে দেখিনি। দিন সাতেক আগে চিঠি পেলাম,মা ভয়ানক অসুস্থ,মুমূর্ষ। মা লিখেছেন,আমি যেন যাই। সব সময় মা যেতে নিষেধ করছেন,এই প্রথম লিখলেন যেতে। চিঠি পেয়ে আমি অস্থির হয়ে গেলাম। পরদিনই ইস্তাম্বুলে আসার জন্যে স্পেনের মালাগা বন্দরে এলাম। বন্দরের এক হোটেলের রুম থেকে হোয়াইট ওলফ আমাকে কিডন্যাপ করে। কিডন্যাপ করে হোটেলের অন্য একটি কক্ষে নিয়ে আমাকে একটি ইনজেকশন দেয়। তারপর আর কিছু মনে নেই আমার। চোখ মেলে এই ঘরেই আমি আমাকে দেখছি।
–হোয়াইট ওলফ কেন কিডন্যাপ করল? তার স্বার্থ কি?
–মিলেশ বাহিনী ও হোয়াইট ওলফ একই মিশন নিয়ে কাজ করছে। তাছাড়া টাকার লোভ। মিলেশ বাহিনী এ কাজের জন্য ৫০ হাজার ডলার দিতে চাচ্ছে। কিন্তু হোয়াইট ওলফ বলছে এক লাখ ডলার না পেলে আমাকে ওদের হাতে দেবে না।
–হোয়াইট ওলফ এখন আর নেই। বেচারারা ৫০ হাজার ডলারও হারাল।
একটু থামলো আহমদ মুসা। তারপর আবার বলল,তুমি এখন মুক্ত,তোমার মাকে দেখতে যাবে তুমি এখন?
মুখ তুলল হাসান সেনজিক। বলল,যাব। আর পালিয়ে থাকতে চাইনা। কি লাভ! যে ভাগ্য আমার দাদা,আমার আব্বা বরণ করছেন,যদি আসেই আমিও তা বরন করে নেব।
আহমদ মুসা হাসান সেনজিকের পিঠ চাপড়ে বলল,সাবাস হাসান,এমন ফাইটিং মনোভাবই তো চাই।
তারপর আহমদ মুসা দরজার দিকে মুখ ফিরিয়ে ডাকল, আলি আজিমভ, ওসমান তোমরা এদিকে এস।
ওরা দরজার ওপারে চুপ করে দাড়িয়ে ছিল। দেরি দেখে আহমদ মুসার খোঁজ নিতে ওরা এসেছিল। আহমদ মুসা ভেতরে একজন যুবকের সাথে গল্প করতে দেখে তারা বাইরেই দাড়িয়েছিলো।
ডাক শুনে আলি আজিমভ এবং ওসমান এফেন্দি ঘরে ঢুকে আহমদ মুসার পাশে এসে দাড়াল। আর সিষ্টার মেরী,মেরীর মা, সভেৎলানা এবং সভেৎলানার মেয়ে ঘরে ঢুকে দরজার সামনেই দাড়িয়ে থাকল।
হাসান সেনজিক আলি আজিমভদের উপর চোখ বুলিয়ে নিয়ে তাকাল মেরীদের দিকে। মেয়েদের উপর চোখ পড়তেই হাসান সেনজিক সলজ্জ চোখদু’টি সামিয়ে নিলো। মনে হলো হাসান সেনজিক খুবেই লাজুক প্রকৃতির।
আহমদ মুসা হাসান সেনজিকের দিকে ইংগিত করে বলল,এ হাসান সেনজিক,আমাদের একজন ভাই,জন্ম যুগোশস্নাভিয়ায়,আত্নগোপন করে মানুষ হয়েছে বুলগেরিয়ায় আর পালিয়ে ছিলো স্পেনে। অবশেষে হোয়াইট ওলফের হাতে পণবন্দি হয়ে এসেছে আর্মেনিয়ায়।
আলি আজিমভ ও মেরীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে আহমদ মুসা বলল,চল এবার উঠা যাক।
তারা ঘাটি থেকে বেরিয়ে এলো। এসে প্রধান গেটে দাড়ালো। গেটে এখনো দু’টি লাশ রক্তে ভাসছে। হাসান সেনজিকের চোখ দু’টি ভয়-বিষ্ফারিত। ঘাটির ভেতরে এমনি আরও অনেকগুলো লাশ সে দেখে এসেছে।
গেটে পৌছেই ঘুরে দাড়ালো আহমদ মুসা। পেছনেই দাড়িয়েছিল সিষ্টার মেরীরা। আহমদ মুসা সভেৎলানার দিকে তাকিয়ে বলল,আপনি এখন কি ভাবছেন?
প্রশ্ন শুনে একটু চিন্তা করল সভেৎলানা। তারপর বলল, আমি আপাততঃ লেলিনাকান যেতে চাই আমার বাবার কাছে!
-ইয়েরেভেনে ফিরে যাবেন, না এখান থেকেই?
-এখান থেকে লেলিনাকান নিকটে, আপনি যদি অন্য রকম মনে না রাখেন……
-নানা আপনি যা চাইবেন তাই হবে।
বলে আহমদ মুসা আলি আজিমভের দিকে চেয়ে বলল, তুমি এবং ওসমান এফেন্দী সভেৎলানাকে নিয়ে এখন লেলিনাকান যাবে।
সভেৎলানাকে মেরিদের কাছে বিদায় নিয়ে গাড়িতে গিয়ে উঠল। মিনিবাসের সামনের দু’’সিটে আলি আজিমভ ও ওসমান এফেন্দী আগেই উঠে বসেছিল।
আহমদ মুসা সভেৎলানার ছোট্ট মেয়ে এলিনার কপালে একটা চুমু খেয়ে গাড়িতে তুলে দিয়ে বলল, তোমার তো কোন কষ্ট হচ্ছে না মা, ক্ষুদা লেগছে?
এলিনা মাথা ঝাকিয়ে বলল, না, একটুও না।
আহমেদ মুসা সভেৎলানার দিকে এক পলক চেয়ে বলল, বোন আপনাকে বলার মত আমার কিছু নেই। শুধু প্রার্থনা করব, আল্লাহ্‌ আপনাদের ভাল রাখুন।
সভেৎলানা মুখ নিচু করে বসে ছিল। মুখ তুলে আহমদ মুসার দিকে তাকিয়ে বলল, আমার গত রাতের ব্যবহারের জন্যে আমি মাফ চাচ্ছি। যে শত্রু বন্ধুর চেয়ে বড় আপনি এমনই এক শত্রু। আপনি আমাকে নতুন জীবনের সন্ধান দিয়েছেন। আমি সে নতুন পথ যেন গ্রহণ করতে পারি, প্রার্থনা করবেন। সভেৎলানার কণ্ঠ শেষের দিকে ভারি হয়ে উঠল।
গাড়ি স্টার্ট নিল সভেৎলানার। চলতে শুরু করল গাড়ি। এলিনা হাত তুলে বলল, চাচ্চু তুমি যাবে না?
আসব মা, তুমি কি তোমার চাচ্চুকে মনে রাখবে? বলল আহমদ মুসা
–বারে তুমি তো আসবেই, ভুলব কেন? বলল এলিনা।
গাড়ি ততক্ষণে সামনে এগিয়ে গেছে।
গাড়ি থেকে মুখ বাড়িয়ে হাত নাড়ছে এলিনা।
আহমদ মুসা সেদিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। তার চোখ যেন সেদিক থেকে সরিয়ে নিতে-পারছেনা। জগতের সকল ভাল-মন্দ, লাভ-ক্ষতির কত উর্ধ্বে শিশুরা। এমন যদি হত মানুষের সমাজ।
আহমদ মুসা ঘুরে দাড়াতেই সিষ্টার মেরী এগিয়ে গেল। বলল, ভাইয়া আমরা কি করব?
–ভাইয়ার উপর ছেড়ে দিলে হয় না? ঈষৎ হেসে আহমদ মুসা বলল।
–হয়।’ বলল সিষ্টার মেরী।
–তাহলে চল সোফিয়া এ্যাঞ্জেলার ওখানে যাই। সালমানও সেখানে আছে। সব চিন্তা সেখানে গিয়েই করব।
-বোনেরও যে কিছু কথা আছে।’ মুখ নিচু করে বলল সিষ্টার মেরী। হঠাৎ বেদনার একটা ছায়া নামল সিষ্টার মেরীর মুখে।
-বল, মেরীর মুখের দিকে চেয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল আহমদ মুসা।
-আমরা সোজা ইয়েরেভেন ইয়ারপোর্টে যেতে চাই।
-কোথায় যাবে?
-রোম। আমি কিছুক্ষণ আগে আমবার্ড দুর্গে ভাইয়ার সহকরী ফাদার জনসনের কাছে টেলিফোন করেছি। তিনি বাসা থেকে আমার লাগেজপত্র ও টিকিট ইয়ারপোর্টে পাঠিয়ে দিবেন। আমার টিকিট ইয়ারপোর্টে গেলে পাব জেনে নিয়েছি।
মুখ নিচু করে রেখেই কথাগুলো বলল সিষ্টার মেরী।
সঙ্গে সঙ্গে কিছু বলল না আহমদ মুসা। চিন্তা করল কিছুক্ষণ। তারপর মেরীর মা লেডি জোসেফাইনের দিকে চেয়ে বলল, আপনারও মত কি এটাই আম্মা?
-মেরী ওখানে পড়ে, আর আমার ছেলেও এখন রোমে। সুতরাং সেখানে যাওয়াটাই বোধ হয় ভাল। বলল মেরীর আম্মা।
ম্লান হাসল আহমদ মুসা। তারপর বলল, ঠিক আছে যাওয়া যাক। গাড়িতে উঠুন।
বেলা তখন ১১ টা। আহমদ মুসার গাড়ি ইয়েরেভেন ইয়ারপোর্টে বহিঃ লাউঞ্জের সিঁড়ির গোড়ায় গিয়ে দাঁড়াল।
গাড়ি দাঁড়াতেই মেরী নেমে পড়ল। নেমে হাত ধরে তার মাকে নামাল।
আহমদ মুসাও গাড়ি থেকে নেমেছিল। মেরী তার কাছে এসে বলল, আপনার আর এগুনো ঠিক হবে না ভাইয়া, আপনার জ্যাকেটের হাতটা রক্তে ভেজা।
আহমদ মুসা হাসল। বলল, ধন্যবাদ মেরী, তুমি ঠিকই বলেছ।
তারপর দু’’জনই নিরব।
মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে মেরী। পাশেই তার মা।
এ অবস্থাই কি বলতে হবে, আহমদ মুসা তা যেন খুঁজে পেল না।
কথা বলল মেরীই প্রথমে । বলল, কিছু বলবেন না ভাইয়া?
আহমদ মুসা মুখ তুলে মেরীর গম্ভীর বিষণ্ণ মুখের দিকে চেয়ে বলল, সালমানকে মাফ করে দিও মেরী। তোমরা তার অশেষ উপকার করেছ, বিনিময়ে অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে তোমাদের।
তৎক্ষণাৎ কোন কথা বলল না মেরী। তার শুকনো ও বেদনায় নীল হয়ে যাওয়া ঠোঁট কাঁপতে লাগল। তার দু’’গণ্ড বেয়ে নেমে এল নিরষ অশ্রুর দু’’টি ধারা।
নিজেকে সামলে নেবার চেষ্টা করে মেরী বলল, ওঁর কোন অপরাধ নেই ভাইয়া, আমিই না বুঝে ওঁকে কষ্ট দিয়েছি। আমাকে যেন ও . . . .
কথা শেষ করতে পারল না মেরী। দু’’হাতে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল।
মেরীর মা লেডি জোসেফাইন এগিয়ে এসে কাঁধে হাত রাখল মেরীর।
মেরী মায়ের কাঁধে মুখ গুজল।
আহমদ মুসা মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। বেদনার একটা নিল ছায়াতারও মুখ ঢেকে দিয়েছে। কি বলবে সে মেরীকে ভেবে পেল না।
লেডি জোসেফাইনেরও চোখ ভিজা। তারও মুখে কোন কথা নেই। নিরবে মেয়ের পিঠে সে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল।
অসহনীয় এক নিরবতা। নিরবতা ভাঙ্গল সিষ্টার মেরীই।
রুমাল দিয়ে দু’’চোখ মুছে বলল, ভাইয়া আপনি যান, আপনি আহত।
-ভাইয়ার কিছু করার থাকলে বল মেরী।
-হোয়াইট ওলফের হাত থেকে বাঁচিয়ে ভাইয়া আমাদের নতুন জীবন দিয়েছেন। আমি জানি, আমরা যেখানেই থাকি ভাইয়া আমাদের খোজ নিবেন। মেরী থামল। একটা ঢোক গিলল মেরী। তারপর বলল, আমি পালাচ্ছি, কিন্তু সালমান আমাকে যে নতুন জীবন পথের সন্ধান দিয়েছে তা থেকে আমি পালাতে পারব না।
-খুশী হলাম মেরী। জীবনের ঐ পথ জীবনের সব ব্যথাই ভুলিয়ে দিতে পারে।
-না ভাইয়া, মানুষ সব ব্যথা ভুলতে চায়না। অনেক ব্যথা আছে যা জীবনের সঞ্চয়, জীবনের শক্তি। তা হারালে যে জীবনের সব হারিয়ে যায়।
কান্নায় রুদ্ধ হয়ে গেল মেরীর কণ্ঠ।
মেরী মুখ না তুলেই আহমদ মুসাকে ‘সালাম’ দিয়ে দ্রুত টলতে টলতে লাউঞ্জের সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠতে লাগল। লেডি জোসেফাইন ও পেছনে পেছনে ছুটল।
আহমদ মুসা কিছুক্ষণ মেরীর পথের দিকে তাকিয়ে বিমূঢ়ের মত দাঁড়িয়ে রইল। এমন অসহায় নিজেকে যেন আর কোন দিনই মনে হয়নি।
আহমেদ মুসা ধীরে ধীরে এসে ড্রাইভিং সিটে বসল। পাশের সিটে মূর্তির মত বসেছিল হাসান সেনজিক।
চাবি ঘুরিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল। চলতে শুরু করল গাড়ি।
হাসান সেনজিক বলল, সালমান কে মুসা ভাই?
-ককেশাস ক্রিসেন্টের প্রধান।
-কিন্তু মিস মেরীকে এভাবে যেতে হল কেন, উনিতো দেখছি ইসলামও গ্রহণ করেছেন।
-দুঃখটাতো এখানেই হাসান। সব বলব তোমাকে। তার আগে এইটুকু জেনে রাখ মহান আল্লাহ নর-নারীর মেলামেশায় যে সীমারেখা বেধে দিয়েছেন, যেভাবেই হোক তার ব্যতিক্রম হলে হৃদয় বিদারক এ্যাকসিডেন্ট ঘটতে পারে। মানুষ তো তার প্রকৃতিকে অস্বীকার করতে পারে না।

Page 120 of 165
Prev1...119120121...165Next
Previous Post

পরী – আলাউদ্দিন আল আজাদ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা – আহমদ শরীফ

Next Post

বিচিত চিন্তা – সাহিত্য চিন্তা - আহমদ শরীফ

বিচিত চিন্তা - সংস্কৃতি চিন্তা - আহমদ শরীফ

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In