–সুরেন্দ্রনাথ
১২২. আঁধার হারেমে বন্দিনী হলো
সহসা আলোর মেয়ে
সেই দিন হতে ইসলাম গেল
গ্লানির কালিতে ছেয়ে।
কাজী নজরুল ইসলাম
১২৩. নারীর বচনে শুধু হৃদয়েতে হলাহল,
অধরে পিয়ার সুধা চিত্তে দাবানল।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১২৪. নারী বিধাতার ছায়া,
সে নহে কামিনী।
নহে সে যে, সৃষ্টি,
তারে স্রষ্টা অনুমানী।
–মওলানা রুমি
১২৫. এ রাজ্যেতে
যত সৈন্য, যত দুর্গ, যত কারাগার
যত লোহার শৃঙ্খল আছে, সব দিয়ে
পারে নাকি বাঁধিয়া লইতে দৃঢ়বলে
ক্ষুদ্র নারীর হৃদয়?
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১২৬. ওগো নারী, শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি তুমি অবনীর,
গোলাপে গঠিত যেন ভিতর বাহির।
মাঝে মাঝে সবিস্ময়ে তাই মনে হয়
তুমি তো গোলাপ ছাড়া অন্য কিছু নয়।
–ওমর খৈয়াম
১২৭. বলে না কোরআন, বলে না হাদিস, ইসলামী ইতিহাস,
নারী নয় দাসী, বন্দিনী রবে হেরেমেতে বারো মাস।
হাদিস-কোরআন লয়ে যারা করিছে ব্যবসাদারী,
মানে নাকো তারা কোরআনের বাণী সমান নর ও নারী।
শাস্ত্ৰ ছাঁকিয়া নিজেদের যত সুবিধা বাছাই করে
নারীদের বেলা গুম হয়ে রয় গুমরাহ যত চোরে।
কাজী নজরুল ইসলাম
১২৮. সাবধান ভাই সাবধান তোমাদের পুরনারী
পূর্ণ শপথে বরিয়া লয়েছে মহাদান বিধাতারই
তাহাদের ‘পরে তোমা সবাকার দিয়েছে বিধাতা
যেই অধিকার,
তোমাদের পরে সেই অধিকারে তাহারাও অধিকারী।
–আল-হাদিস
১২৯. এ কথা হয়নি মনে আগে, আমি বীর
পুরুষ পুরুষসিংহ, জয়-লক্ষ্মী শ্রীর
স্নেহের দুলাল আমি; আমারেও নারী
ভালবাসে, ভালবাসে রক্ত তরবারি
ফুল মালা চেয়ে। চাহে তারা নর
অটল পৌরুষ বীর্যন্ত শক্তিধর।
অজ্ঞাত
১৩০. বাল্যবয়সের বান্ধবীর সঙ্গে দেখা হলে মেয়েদের আর স্বামীপুত্র সংসার কিছুই খেয়াল থাকে না।
–শংকর
১৩১. মেয়েদের মধ্যে অনেক সুন্দরী মেয়েলোক পাওয়া যায়, কিন্তু নির্ভুল মেয়েমানুষ পাওয়া কঠিন।
–ভিক্টর হুগো
১৩২. দুটি বস্তু মেয়েদের দ্বিতীয় জন্ম দেয়, একটি সুন্দর পোশাক আর অন্যটি হল প্রেমপত্র।
বালজাক
১৩৩. তোমরা পুরুষমানুষ দুঃখের সঙ্গে লড়াই কর, মেয়েরা যুগে যুগে দুঃখ কেবল সহ্যই করে। চোখের জল আর ধৈর্য এ ছাড়া আর তো কিছু সম্বল নেই তাদের।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৩৪. তোমাকে দেখার আগে তুমি আলো ছিলে। প্রেম আসার আগে তুমি ভালোবাসা ছিলে। যখন আমার চুমু তোমায় অভিভূত করল? তখনই তুমি হলে নারী।
–ওডেসিউস এলিটিস
১৩৫. পৃথিবীতে বা সমুদ্রে যত হিংস্র প্রাণী আছে সবচেয়ে বৃহত্তম প্রাণী হল মেয়েরা।
–মেনানডার
১৩৬. কমবয়েসী মেয়েমানুষ হলো রসগোল্লার মতো, যেখানে রাখবে সেখানেই পিঁপড়ে ধরবে।
–শংকর
১৩৭. মেয়েমানুষ যদি ভক্তিতে কেঁদে গড়াগড়ি দেয়, তবুও কোনোমতে তাকে বিশ্বাস করবে না।
রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
১৩৮. সেন্টের মতো মেয়েদের আকর্ষণও ততক্ষণই থাকে যতক্ষণ তাদের রাখা হয় আত্মমর্যাদার আঁধারে আবদ্ধ করে। শিশির মুখ খুলে দিলেই সেন্ট উড়ে যায়। এটা পুরুষের পৃথিবী। এখানে সেন্ট আর মেয়েমানুষের এক মূল্য।
কৃষণ চন্দর
১৩৯. কর্তব্যবোধকে যারা অত্যন্ত সামলে চলে, মেয়েরা তাদের পায়ের ধুলো নেয়। আর যে সব দুর্দম দুরন্তের কোনো বালাই নেই ন্যায়-অন্যায়ের, মেয়েরা তাদের বাহুবন্ধনে বাঁধে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৪০. মেয়েরা হচ্ছে বিধাতার এক আজব সৃষ্টি।
–অবধূত
১৪১. মানুষের জীবনের মধ্যবয়সটা সেই সময় যখন তার দিবাস্বপ্ন আবর্তিত হয় কোনো মেয়েকে ঘিরে নয়, কোনো ব্যাঙ্কারকে ঘিরে।
–জেন ফন্ডা
১৪২. আদমের (পুরুষ) আছে দৃষ্টি, আর হাওয়ার (নারী) আছে অন্তদৃষ্টি।
ভিক্টর হুগো
১৪৩. যে-মহিলা খুব বেশি ফ্যাশনদুরস্ত ও ফ্যাশনপ্রিয় তিনি সর্বদা নিজের প্রেমে মত্ত।
–না রোচি ফুসকো
১৪৪. পলায়নেই প্রেমের বিজয়।
নেপোলিয়ন
১৪৫. ধর্মপরায়ণা নারী সাংসারিক পদার্থ নহে, পারলৌকিক সৌভাগ্যের একটি উপকরণ।
হযরত আবু সোলায়মান দারাজি (রা.)
১৪৬. ইহা খোদার আদেশ যে তোমরা রমণীজাতিকে সম্মান করবে। কারণ তাহারাই তোমাদের জননী, ভগ্নি এবং ফুপু।
–আল-হাদিস
১৪৭. নারীবুদ্ধি ভয়ংকরী।
–শংকর
১৪৮. আমরা নারী, এতটুকুতেই যত কেঁদে ভাসিয়ে দিতে পারি, পুরুষরা তো তা পারে না। তাদের বুকে যেন সব সময়ে কিসের পাথর চাপা। তাই যখন অনেক বেদনায় এই সংযমী পুরুষদের দুটি ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে তখন তা দেখে না কেঁদে থাকতে পারে এমন নারী তো আমি দেখি না।
–কাজী নজরুল ইসলাম
১৪৯. ঈশ্বর নারীর প্রতিভাকে স্থাপন করেছেন তার হৃদয়ে, কারণ এই প্রতিভার সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে সর্বদাই প্রেমেরই সৃষ্টিকর্ম।
–লা মারর্টিন
১৫০. গুণে গরিমায় আমাদের নারী
আদর্শ দুনিয়ায়
রূপলাবণ্য মাধুরী ও শ্রীতে
হুর-পরী লাজ পায়।
কাজী নজরুল ইসলাম
১৫১. মাথার ঘোমটা ছিঁড়ে ফেল নারী
ভেঙ্গে ফেল ও শিকল।
যে ঘোমটা তোমা করিয়াছে ভীরু,
ওড়াও সে আবরণ,
দূর করে দাও দাসীর চিহ্ন
যেথা যত আভরণ।
কাজী নজরুল ইসলাম
১৫২. নারীর মধ্যে রয়েছে একটি রসের প্রকৃতি, হলাদিনী শক্তি, সে শক্তি পুরুষের মধ্যে স্কুরিত করে আনন্দ, অনুপ্রেরণা, মন্দিরের নিদ্রিত দেবতার কানে কানে বলে জাগরণী গান। যেমন–নদীপথে নামে বর্ষার ঢল, তার সর্বাঙ্গে আনে বেগ, তোলে জোয়ার, তাকে সক্রিয় করে, ছুটিয়ে নিয়ে চলে পরম লক্ষ্যের দিকে।
