৯২. আজকের যুগে আমেরিকান বা রাশিয়ান আর্মির গোপনতম খবর সংগ্রহ করা সম্ভব, কিন্তু পুরুষের মাইনে বা মেয়েদের বয়স জানা প্রায় অসম্ভবই থেকে গেছে। যে পুরুষ বিন্দুমাত্র সংকোচ না করে নিজের মাইনে বলতে পারে, তার চাইতে সরল পাওয়া দুষ্কর।
নিমাই ভট্টাচার্য
৯৩. কোনো পুরুষের সহায়তা ব্যতিরেকে কোনো নারী বিপথে যায় না।
–আব্রাহাম লিঙ্কন
৯৪. যে-নারী পুরুষের, যে-পুরুষ নারীর সঙ্গ-সাহচর্য-সহবাস থেকে বঞ্চিত, সেই নারী বা পুরুষের জীবন ও বেঁচে থাকা অর্থহীন।
–এলিস
৯৫. মেয়েরা তাত্ত্বিক হয় পুরুষ-সংসর্গের ঠিক আগে। পুরুষ তাত্ত্বিক হয় নারী সংসর্গের ঠিক পরে। মেয়েদের চরিত্রের মাধুর্য পাওয়া যায় কুমারী অবস্থায়।
–প্রবোধকুমার সান্যাল
৯৬. দেহ ছাড়া মেয়েদের যে আর কিছু আছে, এই জ্ঞান কমবয়সি বাঙালি পুরুষদের আগেও ছিল না, এখনও হচ্ছে না।
–শংকর
৯৭. পুরুষের বিবর্তন হয়েছে সমাজ-বিকাশের পথ ধরে। নারীর বিবর্তন ঘটেছে। বিবর্তিত পুরুষের প্রয়োজনের অনুষঙ্গ হিসেবে। তাই ধর্মশাস্ত্র-সাহিত্য-শিল্পকলা কোথাও নারীর নিজস্ব কোনো চরিত্র নেই।
সমীরণ মজুমদার
৯৮. প্রাণ বিনা দেহ যেমন, জল বিনা নদী যেমন, নারী ছাড়া পুরুষও তেমনি।
–তুলসীদাস
৯৯. নারী ছাড়া পুরুষের জীবন মরুভূমি, পুরষ ছাড়া নারীজীবন অচল অসহায়, অথচ এদের দুদলের লড়াই চিরকালীন! একে অপরের বিরুদ্ধে সদা খড়গহস্ত। জীবনের কী বিচিত্র পরিহাস! কী বিচিত্র বৈপরীত্য!
–শিবরাম চক্রবর্তী
১০০. মেয়েদের মুখে অসভ্য কথাটার মতো এত বড় কমপ্লিমেন্ট আর হয় না।
বুদ্ধদেব গুহ
১০১. অসাধারণের প্রতি নারী চিরকাল পক্ষপাতিত্ব দেখিয়ে এসেছে।
–প্রবোধকুমার সান্যাল
১০২. অলংকারমাত্রই অত্যুক্তি। সে তো বিধাতার তৈরি নয়। মানুষের বানানো। পশুর চেয়ে মানুষের এইখানে শ্রেষ্ঠত্ব, আবার পুরুষের চেয়ে মেয়েদের শ্রেষ্ঠতাও এইখানে–মেয়েদেরই বিস্তর অলংকার সাজে এবং বিস্তর মিথ্যাও মানায়।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১০৩. বললে স্ত্রীদের কাছে তারা পদে পদে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হতো।
–এলিসি
১০৪. পুরুষমানুষ পরিবেশের দাস নয়, পরিবেশই পুরুষের দাস।
–ডিজরেইলি
১০৫. পুরুষমানুষ বড় অতৃপ্ত। এই পৃথিবীর সমস্ত নারীকে পেলেও তার তৃষ্ণা মেটে।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
১০৬. পুরুষ যেখানে অসাধারণ সেখানে সে নিরতিশয় একলা, নিদারুণ তার নিঃসঙ্গতা, কেননা তাকে যেতে হয় যেখানে কেউ পৌঁছায় নি।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১০৭. যাহা দুরূহ তাহা অসাধ্য নহে, এই বিশ্বাসে কাজ করিয়া যাওয়াই পৌরুষ।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১০৮. আমি পারব, পারি, প্রমাণও উপস্থিত করতে সমর্থ–সেটাই তো পৌরুষ।
–শচীন ভৌমিক
১০৯. মেয়েরা ব্যয় এবং অপব্যয় দুটোতেই সিদ্ধহস্ত।
ফ্রান্সিস বেকন
১১০. নারীর প্রসাধনের প্রয়োজন আছে সত্যি, কিন্তু প্রসাধনের পিছনে তারা যে-সময় ও অর্থ ব্যয় করে, তা বাঁচানো গেলে পৃথিবীর অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।
বালজাক
১১১. একমাত্র নারী ছাড়া জগতে সকলেরই আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আছে। নারীর স্বাধীনতার পুরুষ কখনোই অনুমোদন করতে চায় না।
সমীরণ মজুমদার
১১২. নারী পুরুষের ভোগের জিনিস নহে, তাহার আদরের পুতুল নহে, পুরুষ কায়ার ছায়া নহে। জীবনযুদ্ধে নারী পুরুষের সহযোগিনী, জীবনের লক্ষ্যপথে নারী পুরুষের সহযাত্রিণী। নারী যদি পুরষের দাসী হয়, পুরুষও নারীর দাস। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর এইরূপ সম্পর্ক স্বীকার করে। পুরুষের আত্মগ্রাসী নীতির ফলে নারীর স্বত্ব খর্বীকৃত হইয়াছে।
–ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
১১৩. গালে কবিতার রং মাখা, ঠোঁটের রেখায় পুরুষের বুকের রক্তমাখা, মুখে মাখা মদনভষ্ম, কাঁধকাটা জামা, গলার কাছে তিন কাঠা জমি অনাবৃত রাখা, রঙিন পেটিকোট ব্যবহারের দ্বারা কলেজের ছাত্রের দৃষ্টি উত্তম অধম বাদ দিয়ে মধ্যমে আনা, সকল প্রসাধনে আধুনিক তরুণীরা পতিতাগণকে পরাজিত করেছেন।
প্রবোধকুমার সান্যাল
১১৪. সব পুরুষই একরকম। কেবল তাদের মুখের ভূগোল আলাদা, তাই তাদের পৃথক করে চেনা যায়।
–অজ্ঞাত
১১৫. বাঙালি পুরুষের আদর কেবল আপন অন্তঃপুরের মধ্যে। সেখানে তিনি কেবলমাত্র প্রভু নহেন, দেবতা।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১১৬. নারীচরিত্রের একটা বৈশিষ্ট্য হল এই যে, তার যদি কখনো দোষ হয়, হলে পরে বরং হাজার রকমের আদর দিয়ে সে-দোষলন করতে সে রাজি থাকবে। তবুও ধরিয়ে দিলে সেই মুহূর্তে দোষ স্বীকার করে কখনো মাপ চাইবে না।
দস্তয়েভস্কি
১১৭. একমাত্র নারীই বিধাতার অন্যতম রহস্যময় কীর্তি।
–এম. নাথ
১১৮. শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী
পুরুষ গড়েছে তোমা সৌন্দর্য সঞ্চারী
আপন অন্তর হতে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১১৯. পুরুষ এনেছে দিবসের জ্বালা তপ্ত রৌদ্র দাহ
কামিনী এনেছে যামিনী শান্তি, সমীরণ বারিবাহ।
দিবসে দিয়াছে শক্তি-সাহস, নিশীথে হয়েছে বধূ
পুরুষ এসেছে মরুতৃষ্ণা লয়ে,
নারী যোগায়েছে মধু।
কাজী নজরুল ইসলাম
১২০. কোনকাল একা হয়নিকো জয়ী
পুরুষের তরবারি
প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়াছে,
বিজয়লক্ষ্মী নারী।
কাজী নজরুল ইসলাম
১২১. একনারী নানরূপে করে বিরচিত
সংসার সুখে সমুদয়;
সৃষ্টি পুষ্টি জননীর,
প্রিয় চিন্তা ভগিনীর,
কন্যার সেবা, জায়ার বিহার,
অতুলতা দান যাঁর কুমারী কুমার।
