আব্দুর রহমান শাদাব
৮৬. যে আদর্শ অন্য আদর্শের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ, তাহা আদর্শই নহে।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৮৭. কারও বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা সবচেয়ে খারাপ কাজ।
চার্লস ল্যাম
৮৮. রাগ করা অর্থাৎ সাময়িকভাবে পাগল হওয়া, তাই তোমার ক্রোধকে আয়ত্তে রাখো। নচেৎ ক্রোধই তোমাকে আয়ত্ত করবে।
হোরেস
৮৯. যুদ্ধ একান্ত পাশবিক। অথচ পশুর চেয়ে মানুষই যুদ্ধ করে সশি। আবার মানুষই যুদ্ধকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে।
৯০. যুদ্ধ একটি ধ্বংসের বিজ্ঞান।
জন. এম. সি. অ্যাবট
৯১. মানুষ মানুষকে যে ঘৃণা করে, তার কারণ কি? যার মধ্যে মনুষ্যত্ব নেই, যে মিথ্যাবাদী ও ভণ্ড, নিষ্ঠুর ও স্বার্থপর, যার ব্যবহার মিথ্যার সঙ্গে জড়িত–বল দেখি লোকে যদি তাকে ঘৃণা করে, তা হলে কি তাদের দোষ দেওয়া যায়?
–ডা. লুৎফর রহমান
৯২. যুদ্ধ-বিষদাঁত দিয়ে রাজনীতির গেরো খোলার পদ্ধতি যা কখনো জিহ্বা পর্যন্ত পৌঁছায় না।
অ্যামব্রোস বিয়ার্স
৯৩. যুদ্ধ ঠিক প্রেমের মতো, সবসময় ছুতো খোঁজে।
–বের্টোল্ড ব্রেখট
৯৪. শেষ বিচারে সৈনিকের বোঝা বন্দির শিকলের মতো অতটা ভারী নয়।
আইসেন হাওয়ার
৯৫. প্রতিটি জাতির ফুল ঝরিয়ে দেয় বলেই যে যুদ্ধকে আমি ঘৃণা করি, তা নয়। করি এজন্যে যে এটি আত্মিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গে বস্তুগত মূল্যবোধও ধ্বংস করে ফেলে।
ইলিয়া এরেনবুর্গ
৯৬. বন থেকে এসে মানুষ মরুর দিকে এগোয়।
-ফরাসি ছাত্র বিদ্রোহীদের দেয়াল-লিখন
৯৭. ক্ষমতা না থাকিলে শত্রুর সম্মুখীন হইও না।
–হযরত আলি (রা.)
৯৮. বিধাতার নিকট আমার প্রার্থনা এই যে, আমাকে শুধু তুমি বন্ধু দিও না, শক্রও দিও, যাতে আমি আমার ভুলভ্রান্তিগুলো ধরতে পারি।
–জন ম্যাক
৯৯. দুই শত্রুর মধ্যে এমনভাবে কথাবার্তা বলো, তারা পরস্পরে মিলে গেলেও যেন তোমাকে লজ্জিত হতে না হয়।
শেখ সাদি
১০০. অপরিচিত লোক অপেক্ষা আত্মীয়ের শক্রতা অধিক দুঃখজনক।
–ডেমোক্রিটাস
১০১. মানুষকে ঘৃণা করাটা হল ইঁদুর তাড়ানোর জন্য নিজের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো।
হ্যারি ইমারন
১০২. যে ঘৃণা করতে জানে না, সে ভালোবাসতেও জানে না।
কনজাভ
১০৩. ঘৃণার সাহায্যে ঘৃণা কখনো মুছে ফেলা যায় না।
বুদ্ধদেব
১০৪. আল্লাহর এবং মা-কালীর ‘প্রেস্টিজ’ রক্ষার জন্য যাহারা এতক্ষণ মাতাল হইয়া চিৎকার করিতেছিল তাহারাই যখন মার খাইয়া পড়িয়া যাইতে লাগিল, দেখিলাম–তখন আর তাহারা আল্লা মিঞা বা কালী ঠাকুরাণীর নাম লইতেছে না। হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি পড়িয়া থাকিয়া এক ভাষায় আর্তনাদ করিতেছে—’বাবা গো, মা গো’–মাতৃপরিত্যক্ত দুটি বিভিন্ন ধর্মের শিশু যেমন করিয়া একস্বরে কাঁদিয়া তাদের মাকে ডাকে।
কাজী নজরুল ইসলাম
১০৫. প্রতিশোধ নেবার কাজটি শক্রমিত্র উভয়কেই সমপর্যায়ে আনে, আর প্রতিশোধ নেয়ার কথা ভুলে গেলে, প্রতিশোধগ্রহণকারী উন্নত ও মহত্তর আদর্শের পরিচয় দেন।
–বেকন
১০৬. সদুপদেশ গ্রহণ করার জন্য অন্তরে আগ্রহ সৃষ্টি না হওয়া এবং নিজের অভিমত খণ্ডিত হতে দেখেই অন্তরে ক্রোধের সৃষ্টি হওয়ার নামই অহংকার। আত্মপ্রশস্তি ও অহংকার মানুষকে নিম্নস্তরে নিয়ে যায়।
ইমাম গাজ্জালি (রহ.)
১০৭, পৃথিবীতে ভালো যুদ্ধ বা খারাপ শান্তি বলে কিছু নেই।
বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
১০৮. যুদ্ধের সময় দোজখের ভেতরে শয়তান আরও বেশি বেশি করে ঘর তোলে।
জার্মান প্রবাদ
১০৯. যুবকেরা যুদ্ধের প্রথম বলি; শান্তির প্রথম কদম ফুল। একটি মানুষ গড়তে লাগে বিশ বা তারও চেয়ে বেশি বছর; মাত্র বিশ সেকেণ্ডের যুদ্ধ খুঁড়িয়ে দিতে পারে
বলডুইন
১১০. পৃথিবীর লোকের কাছে একথা প্রচারিত যে আমরা হিন্দু-মুসলমান কাটাকাটি মারামারি করি; অতএব ইত্যাদি। কিন্তু ইউরোপেও একটা সম্প্রদায়ে কাটাকাটি মারামাটি চলত–গেল কী উপায়ে। কেবলমাত্র শিক্ষা বিস্তারের দ্বারা। আমাদের দেশেও সেই উপায়েই যেত। কিন্তু শতাধিক বৎসরের ইংরেজ শাসনের পরে দেশে শতকরা পাঁচজনের কপালে শিক্ষা জুটেছে, সে শিক্ষাও শিক্ষার বিড়ম্বনা।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১১১. শাস্তি দেয়ার জন্য যারা যুদ্ধ করে আর যুদ্ধের ক্লেশ যারা ভোগ করে যুদ্ধটা তাদের উভয়ের জন্যই শাস্তিস্বরূপ।
জেফারসন
১১২. হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবী
নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব;
ঘোর কুটিল পন্থ তাহার;
লোভে জটিল বন্ধ।
নতুন তব জন্ম লাগি,
কাতর যত প্রাণী,
কর ত্রাণ মহপ্রাণ,
আন অমৃত বাণী।
–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১১৩. যে মানব! তুমি বৃহস্পতিতুল্য পণ্ডিত হও, ব্রহ্মের ন্যায় কবি হও, জনকের ন্যায় জ্ঞানী হও, কুবেরের ন্যায় ধনী, বারির ন্যায় দাতা হও, ভীমের ন্যায় বীর হও এবং শশাগড়া পৃথিবীর অধিপতি হও; কিন্তু মনে কিঞ্চিত্মাত্র অভিমান ও অহংকার থাকিলে সকলই বৃথা হইবে, তোমার সেই বিদ্যা, বুদ্ধি, পাণ্ডিত্য, সভ্যতা, বল, বিক্রম, বিভব, রাজত্ব, প্রভুত্ব কিছুতেই কিছু করিবে না। তুমি পৰ্বৰ্ততুল্য উচ্চ হইলেও গর্বদোষে খর্ব হইবে, ইহা বিচিত্র নহে।
১১৪. অহংকারী ও উদ্ধত ব্যক্তিগণ কখনো বেহেশতে প্রবেশাধিকার পাইবে না।
–আল হাদিস
১১৫. হিংসা তোমাকে ধ্বসের শেষ ধাপে নিয়ে যাবে।
–এইচ, জি ওয়েলস
১১৬. এমনকি মহৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যও আমি হিংসার আশ্রয় গ্রহণ করার ঘোর বিরোধী।
