–আল-কোরআন
২৩৮. ব্যাভিচারী হইতে ইমান দূরে পলায়ন করে। কিন্তু সে ব্যাভিচার ত্যাগ করিলেই ইমান আবার তাহার নিকট প্রত্যাবর্তন করিবে।
–আল-হাদিস
২৩৯. যে-কাজ দিয়ে তুমি নিজে তাপগ্রস্ত হও অথবা তোমার সমাজকে তাপগ্রস্ত কর সেটাই পাপকার্য।
–শ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী
২৪০. সুষ্টি রয়েছে তোমা পানে চেয়ে
তুমি আছ চোখ বুজে,
স্রষ্টারে খুঁজে-আপনারে তুমি
আপনি ফিরিছ খুঁজে,
ইচ্ছা অন্ধ! আখি খোল,
দেখ দর্পণে নিজ কায়া,
দেখিবে তোমারি সব অবয়বে
পড়েছে তাহার ছায়া।
কাজী নজরুল ইসলাম
২৪১. মানবমনের মহত্তর কল্যাণ হচ্ছে ঈশ্বর সম্পর্কে জ্ঞান।
সেনেকা
২৪২. অন্তর দিয়া সত্য উপলব্ধি করা, মুখ দিয়া প্রকাশ করা এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারফত সেই অনুযায়ী কাজ করার নামই ইমান।
–আল-হাদিস
২৪৩. ঈসা-মুসাকে যেসব ধর্ম-মাতাল প্রহার করিয়াছিল, তাহাদেরই বংশধর আবার মারিতেছে মানুষকে।
–কাজী নজরুল ইসলাম
২৪৪. যারা নিজেদের সাহায্য করে, ঈশ্বর তাদের সাহায্য করে।
এলজারমন সিডনি
২৪৫. কোরআন শরিফের পাঁচটি অবয়ব আছে প্রথম বৈধ জিনিস, দ্বিতীয় অবৈধ জিনিস, তৃতীয় স্পষ্ট আদেশসমূহ, চতুর্থ রহস্যময় বাক্যসমূহ, পঞ্চম দৃষ্টান্তসমূহ। যেইগুলি বৈধ বলিয়া বলা হইয়াছে, সে সমুদয় বৈধ বলিয়া জানিও এবং যেগুলি অবৈধ বলা হইয়াছে তাহা অবৈধ বলিয়া জানিও। আজ্ঞাসমূহ পালন করিও। রহস্যসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করিও এবং দৃষ্টান্তসমূহ পড়িয়া সতর্কতা অবলম্বন করিও।
–আল-হাদিস
২৪৬. কোরআনের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে মানুষ। কিসে মানুষের কল্যাণ, কিসে অকল্যাণ বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন ভঙ্গিতে তারই আলোচনা করা হয়েছে কোরআনে।
মাওলানা আব্দুল মতিন জালালাবাদী
২৪৭. খোদাভীতি, খোদভক্তি সম্পর্কে অন্তরের সঙ্গে বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং কার্যকলাপের কোনো সম্পর্ক নাই।
হজরত ওমর (রা.)
২৪৮. টিকিত্ব হিন্দুত্ব নয়, ওটা পাণ্ডিত্য। তেমনি দাড়ি ইসলামত্ব নয়, ওটা মোল্লাত্ব।
কাজী নজরুল ইসলাম ২৪৯. মানুষের ভিতরে যে দেবত্ব আছে তারই প্রকাশ সাধনাকে বলে ধর্ম।
–স্বামী বিবেকানন্দ
২৫০. মানুষের কল্যাণের জন্য ঐসব ভজনালয়ের সৃষ্টি, ভজনালয়ের মঙ্গলের জন্য মানুষ সৃষ্টি হয় নাই। আজ যদি আমাদের মাতলামির দরুন ঐ ভজনালয়ই মানুষের অকল্যাণের হেতু হইয়া উঠে–যাহার হওয়া উচিত ছিল স্বৰ্গৰ্মতের সেতু–তবে ভাঙিয়া ফেল ঐ মন্দির মসজিদ। সকল মানুষ আসিয়া দাঁড়াইয়া বাঁচুক এক আকাশের ছত্রতলে, এক চন্দ্র-সূর্য-তারা-জ্বলা মহামন্দিরের আঙিনাতলে।
কাজী নজরুল ইসলাম
২৫১. মুহম্মদকে যাহারা মারিয়াছিল, ঈসা-মুসাকে যে-সব ধর্মমাতাল প্রহার করিয়াছিল, তাহাদেরই বংশধর আবার মারিয়াছে মানুষকে ঈসা-মূসা-মুহম্মদের মতো মানুষকে।
কাজী নজরুল ইসলাম
২৫২. এমনি করিয়া যুগে যুগে ইহারা মানুষে অবহেলা করিয়া ইট-পাথর লইয়া মাতামাতি করিয়াছে। মানুষ মারিয়া ইট-পাথর বাঁচাইছে। ইহারা মানুষের চাইতে ইট পাথরকে বেশি পবিত্র মনে করে। ইহারা ইট পূজা করে। ইহারা পাথর পূজারী।
কাজী নজরুল ইসলাম
২৫৩. অবতার পয়গম্বর কেউ বলেননি আমি হিন্দুর জন্য এসেছি, মুসলমানের জন্য এসেছি, ক্রীশ্চানের জন্য এসেছি–তাঁরা বলেছেন আমরা মানুষের জন্য এসেছি–আলোর মত সকলের জন্য। কিন্তু কৃষ্ণের ভক্তেরা বললে কৃষ্ণ হিন্দুর, মুহম্মদের ভক্তেরা বললে মুহম্মদ মুসলমানের, খ্রীষ্টের শিষ্যেরা বললে খ্রীষ্ট ক্রীশ্চানদের, কৃষ্ণ মুহম্মদ খ্রীষ্ট হয়ে উঠলেন জাতির সম্পত্তি। আর এই সম্পত্তি নিয়েই যত বিপত্তি। আলো নিয়ে কখনও ঝগড়া করে না মানুষ, কিন্তু গরু-ছাগল নিয়ে করে।
কাজী নজরুল ইসলাম
২৫৪. মানুষ তাহার পবিত্র পায়ে-দলা মাটি দিয়া তৈরি করিল ইট, রচনা করিল মন্দির মসজিদ। সেই মন্দির মসজিদের দুটো ইট খসিয়া পড়িল বলিয়া তাহার জন্য দুইশত মানুষের মাথা খসিয়া পড়িবে? যে এ কথা বলে, আগে তাহার বিচার হউক।
কাজী নজরুল ইসলাম
২৫৫. দাসত্ব যদি অন্যায় না হয় তবে পৃথিবীতে অন্যায় বলে কিছু নেই।
–আব্রাহাম লিঙ্কন
২৫৬. স্বর্গে দাসত্ব করার চাইতে নরকে রাজত্ব করা শতগুণে শ্রেয়।
–মিল্টন
২৫৭. ধর্মের মূল কথাই হচ্ছে মানুষ হিসাবে মানুষের সেবা করা।
–টমাস ফুলার
২৫৮. ধর্ম হচ্ছে জীবন, দর্শন হচ্ছে চিন্তন। ধর্ম নেত্রপাত করে উর্ধ্বে, সৌন্দর্য নেত্রপাত করে অন্তরে। চিন্তন জীবন উভয়ই আমাদের প্রয়োজন এবং আমাদের প্রয়োজন উভয়ের মধ্যে সুসামঞ্জস্যতা।
জেমস ফ্রিমান ক্লার্ক
২৫৯. প্রেম, আশা ও নির্ভর এই তিনটি ধার্মিকদিগের নিত্যসম্বল। যাহার অন্তর মৃত, যাহার হৃদয়ে প্রেম, আশা বা নির্ভর নাই, সে কখনও ধর্মপথে অবিচল থাকিতে পারে না। সুতরাং তাহার পতন অবশ্যম্ভাবী।
–শেখ ফজলল করিম
২৬০. ধর্মানুভূতির দ্বারাই মানবের সহজাত বৃত্তিসমূহ লাভ করে কোমলতা, মধুরতা, গভীরতা আর ব্যাপকতা। মানুষ লাভ করে অন্তদৃষ্টি।
–আগস্ত কোমত্রে
২৬১. যদি নিজের ধর্মকে নিজেই সৃষ্টি করে নিতে পারেন, তা হলে কোনো মার্কা দেয়া ধর্মই আপনার কোনো উপকারে আসবে না, উপকার করতে পারবে না, এটাই ঠিক। আপনি নিজেই সমস্ত জ্ঞান এবং কদর্যতার উৎস, নিজেই দেবতা এবং কন্টে। সুতরাং নিজের সৃষ্টি ভিন্ন আর কিছু কী করে আপনি স্বীকার করে গ্রহণ করতে পারেন? বিধাতাকে মানুষ গড়েছে নিজেরই অনুরূপ করে, নিজের মনের রূদ্ধ স্ফুর্ততার অনুপানে, আর একথা যে জাগতিক সত্য।
